• ই-পেপার

আজ সেলফ-কেয়ার ডে: সুস্থ থাকতে যেসব পরীক্ষা করানো জরুরি

পিএসএ কী, এটি মারণব্যাধি ক্যান্সারের লক্ষণ?

অনলাইন ডেস্ক
পিএসএ কী, এটি মারণব্যাধি ক্যান্সারের লক্ষণ?
সংগৃহীত ছবি

প্রোস্টেট-স্পেসিফিক অ্যান্টিজেনের (পিএসএ) মাত্রা বেশির খবর ভীতিকর হতে পারে। বিশেষ করে যখন পরীক্ষাটি সাধারণত প্রোস্টেট ক্যান্সার নির্ণয়ে স্ক্রিনিং হিসেবে ব্যবহৃত হয়। খবর হিন্দুস্থান টাইমস

আবার উচ্চমাত্রার পিএসএ থাকার অর্থ নিশ্চিত ক্যান্সারও নয়। যদিও পিএসএ হচ্ছে পুরুষদের প্রোস্টেট গ্রন্থি দ্বারা উৎপাদিত একটি বিশেষ প্রোটিন। তবে এটি দেখে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নেওয়া বা ডায়াগনসিস করা হলে উপকারের থেকে বরং ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আবার উচ্চমাত্রার পিএসএকে উপেক্ষা করা ঠিক নয়। কারণ, ক্যান্সার ছাড়াও বিভিন্ন কারণে হতে পারে এটি।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের গাজিয়াবাদের নেহেরু নগরে অবস্থিত যশোদা হাসপাতালের ইউরোলজি, ইউরো-আনকোলজি ও রোবোটিক সার্জন বিভাগের পরিচালক ডা. প্রদীপ প্রকাশ পিএসএর মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, পিএসএর মাত্রা বেশি হলেই তা ক্যান্সার নয়।

  • পিএসএর স্বাভাবিক মাত্রা

পিএসএ পরীক্ষা হলো একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষা, এর মাধ্যমে প্রোস্টেট গ্ল্যান্ড বা গ্রন্থি থেকে তৈরি হওয়া প্রোটিনের মাত্রা পরিমাপ করা হয়। প্রোস্টেট ক্যানসার স্ক্রিনিং ও সার্বিক প্রোস্টেটের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করতে ব্যবহার হয় এটি।

ডা. প্রদীপ ব্যাখ্যা করেন, পিএসএর মাত্রা যত বেশি হবে, ক্যান্সারের ঝুঁকিও তত বাড়তে থাকবে। সাধারণত, পিএসএর স্বাভাবিক মাত্রা শূন্য থেকে ৪ ন্যানোগ্রাম পার মিলিলিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। কিন্তু এই মাত্রা যখন ৪ থেকে ১০-এর মধ্যে থাকে, তখন এর পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে।

  • পিএসএর মাত্রা বাড়ার কারণ

নানা কারণে পিএসএর মাত্রা বাড়তে পারে। যেমন-

  • প্রোস্টেটের ইনফেকশন বা সংক্রমণ,
  • ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বা মূত্রনালির সংক্রমণ (ইউটিআই),
  • প্রস্রাব আটকে থাকা বা বাধাগ্রস্ত হওয়া,
  • সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া কোনো ইউরিনারি প্রসিডিউর বা ক্যাথেটার ব্যবহার এবং
  • প্রোস্টেট গ্ল্যান্ড বা গ্রন্থি বৃদ্ধি পাওয়া।

পিএসএর মাত্রা বেশি হলে করণীয়

ডা. প্রদীপ বলেছেন, পিএসএর মাত্রা বেশি হলে আতঙ্ক না হয়ে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। নানা কারণেই পিএসএর মাত্রা বাড়তে পারে। এ জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা ও চিকিৎসাগত মূল্যায়নের মাধ্যমে পেছনের কারণ জানতে হবে এবং প্রোস্টেট ক্যান্সার না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়াও জরুরি।

এ চিকিৎসক উল্লেখ করেন, যদিও ৪ থেকে ১০-এর মধ্যে থাকা পিএসএর মাত্রা ক্যান্সার নয়, তবে কিছু শারীরিক জটিলতার কারণেও হতে পারে। এ কারণে অবহেলা করা যাবে না। সঠিক কারণ নির্ধারণ ও প্রোস্টেট ক্যান্সার না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিতের জন্য একজন অভিজ্ঞ ইউরোলজিস্টের মাধ্যমে চিকিৎসা নিতে হবে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, মানুষের মধ্যে প্রচলিত ভুল ধারণা রয়েছে। তা হলো, পিএসএর মাত্রা বাড়লেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রোস্টেট ক্যান্সার হয়েছে! এটি শুধুই ভুল ধারণা। তবে এ জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সবশেষ ডা. প্রদীপ পরামর্শ দেন, উচ্চমাত্রার পিএসএর সঙ্গে যদি প্রস্রাব করতে কষ্ট হয়, ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ পায়, প্রস্রাবের দুর্বল ধারা বা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত পড়ার মতো লক্ষণ থাকে, তাহলে চিকিৎসকের দ্বারস্থ হতে হবে।

মানুষ ঠাণ্ডা করার ‘ফ্রিজ’ বানাল জাপান

জীবনযাপন ডেস্ক
মানুষ ঠাণ্ডা করার ‘ফ্রিজ’ বানাল জাপান
সংগৃহীত ছবি

তীব্র গরমে বাইরে বের হলেই শরীর ঘামে ভিজে যায়, নেমে আসে ক্লান্তি। রোদ থেকে একটু স্বস্তি পেতে মানুষ খোঁজে ঠাণ্ডা জায়গা। এবার সেই গরম থেকে সাময়িক আরাম দিতে জাপান তৈরি করেছে এক অভিনব যন্ত্র—যেখানে মানুষই ঢুকতে পারবে ফ্রিজের মতো একটি কেবিনে!

নতুন এই প্রযুক্তির নাম ‘ডো হিয়েমন বক্স’। দেখতে অনেকটা কাচের দরজাওয়ালা ধাতব কেবিনের মতো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একজন মানুষ এই কেবিনের ভেতরে ঢুকে বসছেন, আর কিছুক্ষণের মধ্যেই শরীরে লাগছে ঠাণ্ডা বাতাস।

এই ‘মানুষের ফ্রিজ’ তৈরি করেছে জাপানের দুটি প্রতিষ্ঠান—এসডিআরএস এবং ট্রাসকো নাকায়ামা। নির্মাতাদের ধারণা, জাপানের রাস্তায় থাকা ঠাণ্ডা পানীয়ের স্বয়ংক্রিয় বিক্রয়যন্ত্র থেকেই এই প্রযুক্তির ভাবনা এসেছে। যেমন দ্রুত একটি পানীয় নিয়ে মানুষ স্বস্তি পায়, তেমনি এই যন্ত্রেও কয়েক মিনিটের মধ্যে শরীর ঠাণ্ডা করার ব্যবস্থা থাকবে।

যন্ত্রটির ভেতরের তাপমাত্রা সাধারণ অবস্থায় রাখা হবে প্রায় ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে কেউ ভেতরে প্রবেশ করলেই তাপমাত্রা নেমে আসবে প্রায় ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। মাথার ওপর থেকে নামবে ঠাণ্ডা বাতাস, যা শরীরের অতিরিক্ত গরম কমাতে সাহায্য করবে।

নির্মাতাদের দাবি, মাত্র ৫ মিনিটের মধ্যেই শরীরের গরম কমতে শুরু করবে। প্রায় ১০ মিনিট এই কেবিনের ভেতরে থাকলে গরমের কারণে তৈরি হওয়া ক্লান্তিও অনেকটা কমে যাবে। তবে অতিরিক্ত ঠাণ্ডার ঝুঁকি এড়াতে ২০ মিনিট পর যন্ত্রটি নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যাবে।

বর্তমানে এই প্রযুক্তি মূলত কারখানা, অফিস, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও রাস্তার মতো জায়গায় ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বাইরে কাজ করা মানুষদের জন্য এটি কাজে লাগতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

তবে এই প্রযুক্তি কিনতে খরচও কম নয়। ‘ডো হিয়েমন বক্স’-এর দাম প্রায় ৮ লাখ ৮৬ হাজার ভারতীয় রুপি। বাংলাদেশি টাকায় এর দাম দাঁড়ায় আনুমানিক ১২ লাখ থেকে ১৩ লাখ টাকা। মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তনের কারণে দামের কিছুটা পার্থক্য হতে পারে।

তবে নতুন এই আবিষ্কার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা। কেউ বলছেন, প্রচণ্ড গরমের সময়ে এমন প্রযুক্তি মানুষের জন্য বড় স্বস্তি এনে দিতে পারে। আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন, পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ার মূল সমস্যার সমাধান না করে শুধু মানুষকে ঠাণ্ডা করার প্রযুক্তি কতটা কার্যকর হবে।

গরমের সঙ্গে লড়াই করতে প্রযুক্তি কতটা এগিয়ে যেতে পারে, জাপানের এই আবিষ্কার তারই একটি উদাহরণ। এখন দেখার বিষয়, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মতো গরমপ্রবণ দেশগুলোতেও এমন ‘মানুষের ফ্রিজ’ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে কি না।

ভালোবাসা নাকি শুধুই অভ্যাস? ইমোশনাল অ্যাটাচমেন্ট চিনবেন যেভাবে

অনলাইন ডেস্ক
ভালোবাসা নাকি শুধুই অভ্যাস? ইমোশনাল অ্যাটাচমেন্ট চিনবেন যেভাবে
সংগৃহীত ছবি

সকালে ঘুম ভাঙতেই কারো মুখ মনে পড়া, একটু দেরিতে মেসেজের উত্তর এলে বুক ঢিপঢিপ করা, কিংবা তাকে ছাড়া পুরো জীবনটাকেই অসম্পূর্ণ মনে হওয়া—এই অনুভূতির সাথে আমরা অনেকেই পরিচিত। একেই কি ভালোবাসা বলে? রিলেশনশিপ বিশেষজ্ঞদের মতে, আমরা প্রায়ই ভালোবাসা ও ইমোশনাল অ্যাটাচমেন্ট (আবেগীয় নির্ভরশীলতা)—এই দুটিকে এক করে ফেলি। কিন্তু দুইটির মধ্যে রয়েছে সূক্ষ্ম ও বড় পার্থক্য। ভালোবাসা গড়ে ওঠে বিশ্বাস আর স্বাধীনতার ওপর, আর ইমোশনাল অ্যাটাচমেন্ট অনেক সময় জন্ম নেয় একা হয়ে যাওয়া বা কাউকে হারানোর ভয় থেকে। ভালোবাসা যেখানে আপনাকে মানসিক শান্তি দেয়, সেখানে শুধুমাত্র অ্যাটাচমেন্ট অনেক সময় নিয়ে আসে উদ্বেগ ও মানসিক চাপ।

ইমোশনাল অ্যাটাচমেন্ট কিভাবে তৈরি হয়?
ছোটবেলা থেকেই আমাদের কারো না কারো ওপর আবেগীয় নির্ভরতা তৈরি হয়—তিনি হতে পারেন বাবা-মা কিংবা কোনো কাছের বন্ধু। তবে প্রেমের সম্পর্কে সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন এই বন্ধনটি ভালোবাসা নয় বরং অনিরাপত্তাবোধ থেকে তৈরি হয়। দীর্ঘদিন কারো সাথে সময় কাটানো, একই অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে পড়া এবং একজনকে ঘিরেই নিজের জগত গড়ে তোলার কারণে এই অ্যাটাচমেন্ট তৈরি হয়। ফলে সম্পর্কটা যদি বিষাক্তও হয়ে পড়ে, তবুও অভ্যাসের কারণে সেখান থেকে বের হয়ে আসা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

যেভাবে বুঝবেন এটি ভালোবাসা নাকি শুধুই অ্যাটাচমেন্ট?
সম্পর্কে থাকা মানুষটি আসলে আপনার ভালোবাসা, নাকি আপনি শুধুই তার ওপর আবেগীয়ভাবে নির্ভরশীল—তা বোঝা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। রিলেশনশিপ বিশেষজ্ঞদের মতে, বাহ্যিকভাবে দুটিকে একই রকম মনে হলেও এদের মূল ভিত্তি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ভালোবাসা মানুষকে মানসিকভাবে পরিপক্ব ও স্বাধীন করে, অন্যদিকে অ্যাটাচমেন্ট অনেক সময় তৈরি করে ভয় ও মানসিক চাপ। সহজ কিছু বিষয়ে নজর দিলেই পার্থক্যটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

ভীতি বনাম ভরসার লড়াই
ইমোশনাল অ্যাটাচমেন্টের মূল ভিত্তি হলো অনিরাপত্তাবোধ, একা হয়ে যাওয়ার ভয় এবং কাউকে হারানোর আশঙ্কা। এখানে মানুষ সম্পর্কের স্বস্তির চেয়ে হারিয়ে ফেলার ভয়কে বেশি অনুভব করে। অন্যদিকে, সত্যিকারের ভালোবাসার মূল ভিত্তি হলো গভীর ভরসা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও স্বাধীনতা। সেখানে হারানোর ভয়ের চেয়ে একঝাঁক স্বস্তি আর নিরাপত্তা কাজ করে।

যোগাযোগ ও মানসিক অস্থিরতা
অ্যাটাচমেন্টে সামান্য যোগাযোগ কমলেই বা মেসেজের উত্তর পেতে দেরি হলেই শুরু হয় অতিরিক্ত উদ্বেগ, অস্থিরতা ও ভুল বোঝাবুঝি। মনে হতে থাকে সঙ্গীকে না পেলে জীবন অসম্পূর্ণ। কিন্তু সত্যিকারের ভালোবাসায় সারাক্ষণ কথা না হলেও বা কিছুটা দূরত্ব তৈরি হলেও পরস্পরের প্রতি নিবিড় ও অবিচল আস্থা বজায় থাকে। মানসিক অশান্তির বদলে সেখানে কাজ করে মানসিক শান্তি।

ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও নিয়ন্ত্রণ
অ্যাটাচমেন্টের সম্পর্কে একধরনের অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণের মানসিকতা কাজ করে। সঙ্গী কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে কথা বলছে—এসব নিয়ে সারাক্ষণ একটা সন্দেহের দোলাচল থাকে। বিপরীত দিকে, ভালোবাসার সম্পর্কে কোনো নিয়ন্ত্রণ বা বাধ্যবাধকতা থাকে না। সেখানে সঙ্গীর নিজস্ব সময়, শখ, বন্ধুত্ব ও যেকোনো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সম্মান জানানো হয়।

সম্পর্কের স্থায়িত্ব ও ভবিষ্যৎ
সম্পর্কটি যদি ক্ষতিকর বা অস্বস্তিকরও হয়ে ওঠে, তবুও শুধু অভ্যাসের কারণে অ্যাটাচমেন্টে আটকে থাকা মানুষ সেই সম্পর্ক থেকে বের হতে পারে না। ফলে বছরের পর বছর মানসিক কষ্ট সহ্য করতে হয়। তবে ভালোবাসার সম্পর্ক হয় দুজনের বিকাশমুখী। যেখানে দুজনেই একে অপরের স্বপ্ন পূরণে পাশে থাকে, ব্যক্তিগত মানসিক শান্তিতে অবদান রাখে এবং একসাথে সুন্দর এক ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যায়।

সূত্র : এই সময়

ভ্যান গঘের বিখ্যাত ‘দ্য স্টারি নাইট’ ছবিতে লুকানো বৈজ্ঞানিক রহস্য!

সৈয়দা আশাপূর্ণা
ভ্যান গঘের বিখ্যাত ‘দ্য স্টারি নাইট’ ছবিতে লুকানো বৈজ্ঞানিক রহস্য!
‘স্টারি নাইট’ এবং ভ্যান গঘ

১৮৮৯ সালের এক নিঝুম রাত। দক্ষিণ ফ্রান্সের এক মানসিক হাসপাতালের শান্ত জানালা দিয়ে রাতের নীল আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন এক নিঃসঙ্গ চিত্রশিল্পী। ক্যানভাসে তুলির ঘূর্ণায়মান আঁচড়ে তিনি ফুটিয়ে তুলেছিলেন এক মায়াবী আকাশ। শিল্পী জানতেন না, তার মনের আবেগ আর প্রকৃতির সৌন্দর্য মেলাতে গিয়ে ক্যানভাসে তিনি যা তৈরি করছেন—তার আসল রহস্য উন্মোচিত হতে সময় লেগে যাবে এক শতাব্দীরও বেশি!

সেই কালজয়ী শিল্পকর্মই হলো ভিনসেন্ট ভ্যান গঘের ‘দ্য স্টারি নাইট’ (The Starry Night)

ছবির ভেতর কিসের এত রহস্য?

পদার্থবিজ্ঞানীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছেন, ভ্যান গঘের আঁকা নীল আকাশের তুলির টানে জড়িয়ে আছে প্রকৃতির এক জটিল নিয়ম—যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলে ‘টার্বুলেন্স’ (Turbulence)

সহজ কথায় বললে, নদীতে পানি যেভাবে পাক খেয়ে ঘোরে, চায়ের কাপে দুধ মেশালে যেমন ধোঁয়াটে ঘূর্ণি ওঠে, কিংবা আকাশে ঝড়ের মেঘ যেভাবে আঁকাবাঁকা হয়ে ছোটে—সেটাই হলো টার্বুলেন্স। ১৯৪১ সালে এক রাশিয়ান গণিতবিদ বিশাল হিসাব-নিকাশ করে এই ঘূর্ণির একটি গাণিতিক সূত্র বের করেছিলেন।

মজার বিষয় হলো, বিজ্ঞানীরা যখন কম্পিউটার দিয়ে ভ্যান গঘের ছবির আলোর উজ্জ্বলতা আর তুলির টান মেপে দেখলেন, তখন দেখা গেল ভ্যান গঘের আঁকা আকাশ আর সেই জটিল গাণিতিক সূত্র একদম হুবহু মিলে গেছে!

ভ্যান গঘ কি বিজ্ঞান জানতেন?

একদমই না! ভ্যান গঘ কোনো সায়েন্সের ছাত্র ছিলেন না, আর হিসাব কষে ছবিও আঁকেননি। বিজ্ঞানীদের ধারণা, প্রকৃতির প্রতি তার নজর ছিল অসম্ভব তীক্ষ্ণ। তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাতের আকাশ আর বাতাস পর্যবেক্ষণ করতেন। নিজের মনের ভেতর চলা ঝড় আর বাইরের প্রকৃতির এই গতিকে তিনি যেভাবে তুলির টানে বন্দি করেছেন, তা শত বছর পর আজকের আধুনিক বিজ্ঞানকেও তাক লাগিয়ে দিয়েছে।

শিল্প যেখানে বিজ্ঞানকে হার মানায়

আজকের যুগে বড় বড় সুপারকম্পিউটার ব্যবহার করেও বিজ্ঞানীরা ঝড়ের এই ঘূর্ণি নিখুঁতভাবে হিসেব করতে হিমশিম খান। অথচ ভ্যান গঘ কেবল নিজের চোখ আর হাতের তুলি দিয়ে সেই কঠিন বিজ্ঞান ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলেছিলেন।

বর্তমানে নিউইয়র্কের মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্ট (MoMA)-এ ঝুলে থাকা এই ছবিটি তাই এখন আর কেবল কোনো সুন্দর আর্ট নয়, এটি হয়ে উঠেছে শিল্প ও বিজ্ঞানের এক ম্যাজিক!