ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইস্কান্দার মোমেনি ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ইরানের বেসামরিক স্থাপনায় হামলা, আগ্রাসন এবং দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে জোটকে স্পষ্ট ও দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে।
শুক্রবার ব্রিকস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে তিনি বলেন, বিশ্ব এখন জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রোগের প্রাদুর্ভাব এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ঝুঁকিসহ নানা বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এসব সংকট কোনো দেশ একা মোকাবেলা করতে পারে না। তাই সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আরো ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা প্রয়োজন।
মোমেনির মতে, সংকট মোকাবেলা, দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বাস্তব সহযোগিতা বাড়াতে ব্রিকস একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হতে পারে।
তিনি বলেন, ইরান ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে নিয়মিত ভূমিকম্প, বন্যা, খরা, ঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়। এসব দুর্যোগ মোকাবেলায় দেশটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, যা ব্রিকস সদস্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে তারা প্রস্তুত।
পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে মোমেনি অভিযোগ করেন, ইরানের ভূখণ্ডে হামলা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, আবাসিক এলাকা, স্কুল, হাসপাতালসহ বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের পরিপন্থী। তিনি এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে ব্রিকস দেশগুলোকে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
তার মতে, আন্তর্জাতিক আইন, জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং বলপ্রয়োগের বিরোধিতায় ব্রিকসের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
মোমেনি আরো বলেন, দ্রুত নগরায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দুর্যোগের ঝুঁকি বেড়েছে। তাই শুধু দুর্যোগের পর পুনর্গঠন নয়, আগাম প্রস্তুতি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং সংকটের সময় জরুরি সেবা সচল রাখার সক্ষমতা গড়ে তোলাও জরুরি।
এ জন্য তিনি ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে যৌথ প্রশিক্ষণ, কারিগরি দলের বিনিময় এবং যৌথ মহড়া আয়োজনের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, দুর্যোগের ক্ষতি সামাল দেওয়ার চেয়ে আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় বিনিয়োগ করা বেশি সাশ্রয়ী, কার্যকর ও মানবিক।
পাশাপাশি তিনি জানান, ব্রিকসের সঙ্গে সহযোগিতা আরো জোরদারে ইরান একটি ‘সক্রিয়, দায়িত্বশীল ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার’ হিসেবে কাজ করতে প্রস্তুত।




