• ই-পেপার

প্রথম আয়ে বাবাকে উপহার, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছেন যুবক

ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের নতুন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের

অনলাইন ডেস্ক
ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের নতুন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের
ছবি : এক্স থেকে নেওয়া।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাঠানো নতুন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ইরান প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি তেহরান সফর করেন। সেখানে তিনি ট্রাম্পের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবটি ইরানি কর্মকর্তাদের কাছে তুলে ধরেন। তবে প্রস্তাবটির বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানি কর্মকর্তারা নিউইয়র্ক টাইমসকে জানান, বর্তমানে আলোচনায় এটিই একমাত্র যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব। তবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত বিরোধের সমাধান না থাকলে কোনো অস্থায়ী চুক্তিতে তেহরান রাজি নয় বলেও তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে তেহরান সফর করেন। সফরে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠক করেন।

ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর আল-জাইদি যে নিজের পর্যবেক্ষণ ও মতামত ইরানকে জানিয়েছেন, সেটি স্বাভাবিক একটি কূটনৈতিক প্রক্রিয়া।

এ প্রসঙ্গে আরাগচি বলেন, ‘ইরাকি প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই ওয়াশিংটন সফর করেছেন। তাই ওই সফর থেকে তার পর্যবেক্ষণ ও মতামত আমাদের জানানো স্বাভাবিক বিষয়।’ 

আরাগচির ভাষায়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এই অযৌক্তিক, অতিরিক্ত ও আধিপত্যবাদী নীতির বিপরীতে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে।’ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনী ইরানের সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি রেলপথ, বিমানবন্দর, সেতু ও সমুদ্রবন্দরসহ বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরান পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমসকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই ইরানি কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প যদি তেহরান ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার হুমকি বাস্তবায়ন করেন, তাহলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সংঘাত আরো বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ওই কর্মকর্তাদের দাবি, প্রয়োজনে ইরান সংঘাতকে পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে পারে। এর মধ্যে তেল আবিবে হামলা এবং লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বাব আল-মান্দাব প্রণালি বন্ধ করতে ইয়েমেনের হুথি মিত্রদের সহায়তা চাওয়ার বিষয়টিও থাকতে পারে।

তেলাপোকার দল : ফান থেকে সিরিয়াস মুডে

অনলাইন ডেস্ক
তেলাপোকার দল : ফান থেকে সিরিয়াস মুডে
সংগৃহীত ছবি

গত এক যুগে ভারতের ঐতিহ্যবাহী গণতন্ত্রকে নিজের কৌশলের দাস বানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য আছে বটে, কিন্তু নির্বাচনের মাঠ প্রায়ই অসমতল হয়ে ওঠে মোদি আর অমিত শাহর ইচ্ছায়, কৌশলে। যত দিন যাচ্ছে, নরেন্দ্র মোদি যেন আরো শক্তি সঞ্চয় করছেন, নতুন নতুন রাজ্য জয় করছেন। বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো সর্বভারতীয় কোনো শক্তি দেখা যাচ্ছে না। রিলাক্স মুডে থাকা বিজেপি শিবিরে হঠাৎ আঘাত হেনেছে অচেনা এক ঝড়। দুর্বল তেলাপোকার দুর্বলতর পাখার হাওয়ায় যেন টলটলায়মান নরেন্দ্র মোদির দুর্ভেদ্য দুর্গ। 

প্রায় দেড়শ বছরের পুরনো কংগ্রেস ১২ বছরে যেটা পারেনি, ৭০ দিনের পুরনো দল মাত্র দেড় মাসের আন্দোলনে কিভাবে কাঁপন ধরাল নরেন্দ্র মোদির মসনদে? পুরনো রাজনীতিবিদরা কেন তরুণদের কানেক্ট করতে পারছেন না? তরুণরা কেন তেলাপোকার পেছনে লাইন দিচ্ছে? 

এসব প্রশ্নের কোনো শর্টকার্ট উত্তর নেই। অনেকগুলো ফ্যাক্টর মিলেই তবে ডানা মেলেছে তেলাপোকার দল। প্রথম ফ্যাক্টর অবশ্যই বয়স। সুকান্ত ভট্টাচার্যের ’আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি পড়েছেন অনেকেই- ‘এ বয়স জেনো ভীরু, কাপুরুষ নয়/পথ চলতে এ বয়স যায় না থেমে, এ বয়সে তাই নেই কোনো সংশয়/এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে।’ আসলে বয়স একটা দারুণ টনিক। ১৮ থেকে ৩০- এটা খুব বিপজ্জনক বয়স। একটু বয়স হলে মানুষ অনেক কিছুই মেনে নেয়, আপস করে। 

তারুণ্য আপোশ করতে চায় না, আপস করতে জানে না। তরুণরা পড়াশোনা শেষ করে বুক ভরা স্বপ্ন আর চোখ ভরা আশা নিয়ে মাঠে নামে। কিন্তু মাঠে নেমেই দেখে চারপাশে শুধু হতাশা, তাদের চোখের সামনেই একের পর এক বন্ধ হয়ে যায় স্বপ্নের দরজা। তাদের কাজের জায়গাগুলো দখল করে ফেলে অন্য কেউ। তাদের কাছে সবকিছুই বেঠিক লাগে। এটা এমন কেন, ওটা তো হওয়ার কথা নয়। এমন শত অসংগতি, হাজারটা প্রশ্ন তাদের মাথায় কিলবিল করে। তারা সবকিছু ভেঙেচুরে গড়তে চায়। তারা হতাশ হয়, ক্ষুব্ধ হয়, ক্রুদ্ধ হয়। কিছু একটা করার জন্য রাগে তড়পাতে থাকে। তখন কেউ বামপন্থী, কেউ ডানপন্থী, কেউ চরমপন্থী দলে যোগ দিয়ে সমাজ বদলাতে চায়। কেউবা ডিপস্টেটের পাল্লায় পড়ে।

এভাবে যুগে যুগে দেশে দেশে তরুণরা অনেককিছু করতে চেয়েছে। কেউ পেরেছে, কেউ জীবন দিয়েছে। বুকের ভেতর ঝড় নিয়ে তড়পাতে থাকা অনেকগুলো মানুষ যখন একত্রিত হয়, তখন সেই ঝড় সাইক্লোন হয়ে যায়। ভারতের অভিজিৎ দীপক তেমন তড়পাতে থাকা অনেকগুলো মানুষকে একসাথে করতে পেরেছেন। এটাই তার মূল কৃতিত্ব।

অভিজিৎ দীপককেই সবাই ককরোচ জনতা পার্টি-সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা বলেন। কিছুই ভুল নেই। তবে ককরোচ জনতা পার্টি প্রতিষ্ঠার মূল কৃতিত্ব দিতে হবে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তকে। গত ১৫ মে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলার শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন, ’দেশে এমন কিছু তরুণ রয়েছে, যারা তেলাপোকার মতো, তারা না কোনো কাজ পায়, না নিজেদের কোনো পেশাগত অবস্থান তৈরি করতে পারে। তাদের কেউ কেউ মিডিয়া বা সোশ্যাল মিডিয়া কর্মী হয়ে ওঠে, কেউ বনে যায় অ্যাক্টিভিস্ট এবং এরপর তারা সবাইকেই আক্রমণ করা শুরু করে দেয়।’ ব্যাস, আর যায় কোথায়? এ যেন স্তূপ করে রাখা তপ্ত বারুদে অগ্নি শলাকা। 

পরদিনই উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তরুণ অভিজিৎ দীপক ভার্চুয়াল জগতে ব্যঙ্গ করে গড়ে তোলেন ককরোচ জনতা পার্টি- সিজেপি। বিজেপির পাল্টা সিজেপি। ‘ম্যায় হুঁ ককরোচ’ বলে দলে দলে তরুণ তার পেছনে লাইন দেয়। বেকার, অলস, দীর্ঘ সময় অনলাইনে কাটানো এবং পেশাগতভাবে ক্ষোভ প্রকাশের ক্ষমতা থাকাই ছিল দলটিতে যোগ দেওয়ার মূল যোগ্যতা। দেখা গেল ভারতে তথাকথিত ‘বেকার, অলস ও দীর্ঘ সময় অনলাইনে কাটানো’র মত তরুণের অভাব নেই। 

প্রতিষ্ঠার ২১ দিনের মাথায় গত ৭ জুন অনলাইন থেকে মাঠে নামে সিজেপি। দিল্লির যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভ সমাবেশ করে তেলাপোকার দল। মাঠে নামার জন্য তাদের একটা জুতসই ইস্যু দরকার ছিল। আবার ইস্যুটা হতে হবে এমন, যাতে তরুণদের সহজেই কানেক্ট করা যায়। সিজেপির প্রতিষ্ঠার দুই সপ্তাহ আগে গত ৩ জুন নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। সে অভিযোগে সে পরীক্ষা বাতিলও করা হয়। প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি নিয়েই মাঠে নামে তারা। ৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়ে এসে সরাসরি যন্তর-মন্তরে সমাবেশে যোগ দেন অভিজিৎ। তারপর ঘুরেফিরে তারা যন্তর-মন্তরেই আছেন। গত ২৮ জুন তাদের দাবির সাথে সংহতি প্রকাশ করে আমরণ অনশন শুরু করেন লাদাখের অ্যাক্টিভিস্ট সোনম ওয়াংচুক। যা আন্দোলনে নতুন মাত্রা আনে।

গত ২০ জুলাই ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি করতে গিয়ে প্রথম পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়ায় তেলাপোকার দল। আম আদমি পার্টির সাবেক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কৌশলবিদ অভিজিৎ দীপক শুরুটা করেছিলেন ফান থেকে। কিন্তু এখন আর বিষয়টা ফান পর্যায়ে নেই। বানের জলের মতো ভাসিয়ে নিতে চাইছে সবকিছু। হঠাৎ করেই ফান থেকে সিরিয়াস, যেন আন্দোলনের গিয়ার চেঞ্জ। যুগে যুগে দেশে দেশে তরুণরা তাদের ক্ষোভের আগুনে প্রচলিত অনেক সিস্টেমকে ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে। উদাহরণ পেতে ইতিহাসের পাতা ওলটাতে হবে না। ঘরের কাছেই বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপালে তরুণরা দেখিয়ে দিয়েছে তারা কী করতে পারে। প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলো বছরের পর বছর ধরে যা করতে পারেনি, তরুণরা কয়েকদিনেই তা করে চমকে দিয়েছে সবাইকে।

ককরোচ জনতা পার্টির ক্ষোভ নিছক সরকারের বিরুদ্ধে নয়, সিস্টেমের বিরুদ্ধে। তরুণদের অভিযোগ, এই সিস্টেম তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করতে পারে না। প্রচলিত রাজনীতিতে তাদের জন্য স্পেস নেই বললেই চলে। তেলাপোকার দলের টিকে থাকার কৌশলটা ফাঁস করে দিয়েছেন প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক, ‘রাষ্ট্রব্যবস্থার কাছে আমরা শুধুই ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ। আমরা তুচ্ছ, সহজেই অবহেলা যোগ্য ও পুরোপুরি আবর্জনার মতো। কিন্তু তেলাপোকা সব পরিবেশেই টিকে থাকে। আপনারা আমাদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা করতে পারেন, কিন্তু একেবারে মুছে ফেলতে পারবেন না।’ তেলাপোকাদের মুছে যে ফেলা সম্ভব নয়, এখন সেটা টের পাচ্ছেন সবাই।

বাংলাদেশ থেকে যারা যন্তর-মন্তরের আন্দোলনটা ফলো করছেন, তারা হয়ত দুই বছর আগে বাংলাদেশের আন্দোলনের সাথে মেলাতে পারবেন। তরুণ শিক্ষার্থীরা জীবনের মায়া না করে বুকভরা বঞ্চনার আগুন নিয়ে রাজপথে নেমেছেন। তাদের পাশে আছেন রাজনীতিবিদরা, আছেন সেলিব্রেটিরা। মায়েরা বাসা থেকে খাবার নিয়ে আসছেন, কেউ পানি এগিয়ে দিচ্ছেন। কেউ অনলাইনে খাবার অর্ডার করে যন্তর-মন্তরের ঠিকানা দিয়ে দিচ্ছেন। এ এ অভূতপূর্ব গণজাগরণ। বাংলাদেশের ২৪ এর জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে ভারতের ককরোচ পার্টির আন্দোলনের মিল আছে আরো। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারি চাকরির প্রসঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকারদের তুলনা করেছিলেন। তাতেই চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে থাকা তরুণরা ‘তুমি কে, আমি কে, রাজাকার রাজাকার’ স্লোগান দিয়ে মধ্যরাতে রাস্তায় নামলো। আন্দোলন পেলো নতুন গতি। 

ভারতের প্রধান বিচারপতির ককরোচের সাথে তুলনায় ক্ষেপে গেল তরুণ প্রজন্ম। এবার আন্দোলনের ইস্যুটা মিলিয়ে দেখুন। বাংলাদেশে আন্দোলন শুরু হয়েছিল চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে। ককরোচ পার্টির প্রতিবাদ প্রশ্নপত্র ফাঁসের। তবে সমসাটা নিছক শিক্ষামন্ত্রীর নয়। এটাই আসলে সিস্টেমের সংকট। ভারত-বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশে যখন তখন আপনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামতে পারবেন। যে কোনো সময় ইস্যু তৈরিই থাকে। শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ দেখানোটা আরো সহজ। কারণ তাতে বঞ্চিত তারুণ্যকে পাশে পাওয়া যায়।

সিজেপির অবিশ্বাস্য উত্থানের বড় কারণ ভারতে বাড়তে থাকা বেকারত্ব। ভারতে শিক্ষিত গ্র্যাজুয়েটদের ২৯ ভাগই কাজ পাচ্ছে না। আর এই ‘অলস বেকারদের’ই ডাক দিয়েছে তেলাপোকাদের দল। পড়াশোনা শেষ করে ঠিকঠাক চাকরি না পেলে তরুণরা ক্ষুব্ধ হবেনই। এটা বিশ্বের সব দেশেরই বাস্তবতা। তবে ভারত-বাংলাদেশের মত জনবহুল দেশে বেকারত্বের হার বেশি, তাই ক্ষুব্ধ তরুণের সংখ্যাও বেশি। ভারতে প্রতিবছর লাখ লাখ শিক্ষার্থী চাকরির বাজারে নামে। চাকরির জন্য তারা বিভিন্ন পরীক্ষায় অংশ নেয়। দারুণ প্রতিযোগিতামূলক এসব পরীক্ষা নিয়ে তাদের অভিযোগের অন্ত নেই। প্রশ্নপত্র ফাঁস, নাম্বার দেওয়ায় ভুল, নানান কারিগরি ত্রুটি শিক্ষার্থীদের ক্ষুব্ধ করে। উল্টো করে ভাবুন, পরীক্ষা পদ্ধতি যদি একদম ঠিকও হয়ে যায়, ক্ষুব্ধ তরুণের সংখ্যা কিন্তু কমবে না। কর্মসংস্থান না বাড়িয়ে সিস্টেম ঠিক করলেও বেকারদের সংখ্যা একই থাকবে। তাই বেকার, ক্ষুব্ধ, নিজেদের বঞ্চিত মনে করা তারুণ্যের মধ্যে বিক্ষোভের আগুন জ্বালানোটা কঠিন নয়।

সিজেপি বলছে, তাদের আন্দোলন সরকারের বিরুদ্ধে নয়, অনিয়মের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনের শুরুটাও সরকার পতনের দাবিতে ছিল না। তবে বাংলাদেশ বা নেপাল আর ভারতের রাজনৈতিক চিত্র এক নয়। বাংলাদেশ আর নেপাল এত ছোট, এক বিক্ষোভেই সরকার কাবু হয়ে গেছে। কিন্তু ভারত এত বড়, দিল্লির যন্তর মন্তরের আন্দোলনের উত্তাপ অরুণাচলে পৌছাবেই না হয়ত। ভারতের ক্ষমতা কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করতে নিছক জলোচ্ছ্বাসে কাজ হবে না, সর্বগ্রাসী সুনামি লাগবে। তবে সিজেপিই বলছে, তারা বিজেপিকে উৎখাত করতে মাঠে নামেনি। তারা যদি সিস্টেমের ত্রুটিগুলো সারাতে পারে, তরুণদের মনে যদি বঞ্চনার বোধ কমে আসে, তাও তো কম প্রাপ্তি নয়।

তবে শঙ্কাও আছে। নেপালের বিপ্লবীরা নির্বাচন করে ক্ষমতায় আসতে না আসতেই হতাশা ভর করেছে। আর বাংলাদেশের তরুণরা তো নির্বাচন ছাড়াই ক্ষমতার অংশীদার হয়ে দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে আন্দোলনের মূল চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করেছে। বাংলাদেশের তরুণদের দাবি যৌক্তিক ছিল, বিক্ষোভ তীব্র ছিল। কিন্তু এখন জানা যাচ্ছে, সেই ক্ষোভ কাজে লাগিয়ে ডিপ স্টেট পেছন থেকে আন্দোলনকে পরিচালনা করেছে। আন্দোলন পরবর্তী ক্ষমতাসীনরাই স্বীকার করেছেন, এ আন্দোলন ছিল ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’এর অংশ। ভারতের তেলাপোকাদের ওড়ার পেছনেও ডিপ স্টেটের কৌশল আছে কিনা, তা নিয়েও গুঞ্জন আছে। তবে আন্দোলনকারীরা বলছেন, তারা কোনো ফান্ডেড আন্দোলন করছেন না। সিস্টেম বদলাতে তা ফ্রি আন্দোলন করছেন।

ভবিষ্যতে কী হবে জানি না, তবে সিজেপির আন্দোলনের নৈতিক বিজয় হয়ে গেছে। শুরুতে তাদের কেউ পাত্তা না দিলেও এখন প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে শিক্ষামন্ত্রী সবাই তাদের কথা শুনতে, সংসদে আলোচনা করতে, প্রশ্ন ফাঁসের শাস্তি দিতে বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে ২৭ দিন পর অনশন ভেঙেছেন সোনম ওয়াংচুক। ১২ বছরে নরেন্দ্র মোদি এত বড় চ্যালেঞ্জে আর পড়েননি। বিজেপির তুলনায় সিজেপি ক্ষুদ্র, অতি ক্ষুদ্র। বিজেপি যদি হয় হাতি, সিজেপি তেলাপোকাও নয়; অতি ক্ষুদ্র পিঁপড়া মাত্র। কিন্তু সেই পিঁপড়াই জায়গামতো কামড়াতে পারলে হাতিকেও বিরক্ত করতে পারে।

ভারতেরই একটি সিনেমা আছে ‘মাক্ষি’ নামে। মহা প্রতাপশালী এক লোকের মাথায় ঢুকে পড়া এক মাছি তার জীবন অতিষ্ঠ করে ফেলে। এই তেলাপোকাও সেই মাছির মতো ক্ষমতাসীনদের মাথা খারাপ করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। তেলাপোকাকে যতই অবহেলা আর তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হোক, আদতে তেলাপোকা একটি নিরীহ পোকা। ‘করে নাকো ফোঁসফাঁস, মারে নাকো ঢুসঢাস’ মার্কা। কিন্তু কেন যেন অধিকাংশ মানুষ তেলাপোকাকে ভয় পায়। ভারতের ক্ষমতাসীনরা স্বীকার করুন আর নাই করুন, তেলাপোকা কিন্তু মহাপরাক্রমশালী নরেন্দ্র মোদির মনেও ভয় ধরাতে পেরেছেন। আপাতত এটাই প্রাপ্তি।

সিজেপি বিক্ষোভ

শরীরে ৩০টি পেলেট নিয়ে ক্ষতিপূরণ চান সাংবাদিক

অনলাইন ডেস্ক
শরীরে ৩০টি পেলেট নিয়ে ক্ষতিপূরণ চান সাংবাদিক

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির জন্তর মন্তরে চলমান আন্দোলনে পুলিশের অভিযানে একাধিক পেলেটের আঘাতে আহত হন ২৮ বছর বয়সী এক ক্রীড়া সাংবাদিক। তার শরীরে এখনো ৩০টির বেশি পেলেট রয়ে গেছে বল জানান চিকিৎসকরা। এ অবস্থায় তিনি সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।

দেশটির সংবাদ মাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলছে, ২২ জুলাই সফদরজং হাসপাতালের মেডিকেল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জন্তর মন্তরে শারীরিক হামলার সময় তার ডান হাত, বুক ও পিঠে পেলেটের আঘাত লাগে।

চিকিৎসকেরা তার শরীরে ছোট ছোট একাধিক ক্ষতচিহ্ন পান, যা পেলেটের আঘাতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আহত সাংবাদিক জানান, ২০ জুলাই ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আয়োজিত ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। আন্দোলনকারীরা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহি ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করছিলেন।

তার দাবি, আন্দোলনের সময় সোনম ওয়াংচুককে সরিয়ে নেওয়ার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিকেল ৪টার দিকে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হলে প্রথমে আকাশের দিকে কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হলেও পরে তা সরাসরি বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়।

তিনি বলেন, দৌড়ে পালানোর সময় একজন পুলিশ সদস্য তার দিকে অস্ত্র তাক করেন এবং কিছুক্ষণ পরই পিঠে গুলির মতো আঘাত অনুভব করেন। প্রথমে শরীরে ঝিনঝিন অনুভূতি হলেও পরে তীব্র জ্বালাপোড়া শুরু হয়। পরে জামা খুলে দেখেন, পিঠ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্ত জমাট বেঁধে আছে।

সেদিন রাতেই তিনি টিটেনাস ইনজেকশন নেন। পরদিন সন্ধ্যায় সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি হলে সিটি স্ক্যান, এমআরআই ও এক্স-রে পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হন যে তার শরীরে ৩০টিরও বেশি পেলেট রয়েছে।

সাংবাদিকের ভাষ্য অনুযায়ী চিকিৎসকেরা জানান, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পেলেটগুলো বের করতে গেলে আরও ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তাই আপাতত সেগুলো শরীরেই রেখে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে পেলেটগুলো হাড়ের কাছাকাছি না লাগায় তিনি বড় ধরনের শারীরিক জটিলতা থেকে রক্ষা পেয়েছেন।

বর্তমানে তিনি ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করছেন এবং অস্থি বিশেষজ্ঞের সঙ্গে ফলোআপ চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি অন্য একটি হাসপাতাল থেকেও দ্বিতীয় মতামত নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। একই সঙ্গে তিনি ঘটনার জন্য সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।

এদিকে সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ ইউনিট র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) সাধারণত পেলেট গান ও শক ব্যাটন ব্যবহার করে থাকে। বিক্ষোভের দিন দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি আরএএফও ঘটনাস্থলে মোতায়েন ছিল। তবে পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগে সিআরপিএফ কোনো মন্তব্য করেনি।

মার্কিন হামলার নিন্দা জানাতে ব্রিকস সদস্যদের প্রতি ইরানের আহ্বান

অনলাইন ডেস্ক
মার্কিন হামলার নিন্দা জানাতে ব্রিকস সদস্যদের প্রতি ইরানের আহ্বান
ছবি : এক্স থেকে নেওয়া।

ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইস্কান্দার মোমেনি ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ইরানের বেসামরিক স্থাপনায় হামলা, আগ্রাসন এবং দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে জোটকে স্পষ্ট ও দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে।

শুক্রবার ব্রিকস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে তিনি বলেন, বিশ্ব এখন জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রোগের প্রাদুর্ভাব এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ঝুঁকিসহ নানা বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এসব সংকট কোনো দেশ একা মোকাবেলা করতে পারে না। তাই সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আরো ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা প্রয়োজন।

মোমেনির মতে, সংকট মোকাবেলা, দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বাস্তব সহযোগিতা বাড়াতে ব্রিকস একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হতে পারে।

তিনি বলেন, ইরান ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে নিয়মিত ভূমিকম্প, বন্যা, খরা, ঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়। এসব দুর্যোগ মোকাবেলায় দেশটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, যা ব্রিকস সদস্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে তারা প্রস্তুত।

পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে মোমেনি অভিযোগ করেন, ইরানের ভূখণ্ডে হামলা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, আবাসিক এলাকা, স্কুল, হাসপাতালসহ বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের পরিপন্থী। তিনি এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে ব্রিকস দেশগুলোকে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।

তার মতে, আন্তর্জাতিক আইন, জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং বলপ্রয়োগের বিরোধিতায় ব্রিকসের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

মোমেনি আরো বলেন, দ্রুত নগরায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দুর্যোগের ঝুঁকি বেড়েছে। তাই শুধু দুর্যোগের পর পুনর্গঠন নয়, আগাম প্রস্তুতি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং সংকটের সময় জরুরি সেবা সচল রাখার সক্ষমতা গড়ে তোলাও জরুরি।

এ জন্য তিনি ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে যৌথ প্রশিক্ষণ, কারিগরি দলের বিনিময় এবং যৌথ মহড়া আয়োজনের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, দুর্যোগের ক্ষতি সামাল দেওয়ার চেয়ে আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় বিনিয়োগ করা বেশি সাশ্রয়ী, কার্যকর ও মানবিক।

পাশাপাশি তিনি জানান, ব্রিকসের সঙ্গে সহযোগিতা আরো জোরদারে ইরান একটি ‘সক্রিয়, দায়িত্বশীল ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার’ হিসেবে কাজ করতে প্রস্তুত।