• ই-পেপার

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্রে যা লিখলেন সাহাবুদ্দিন

ফিলিপাইনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এগিয়ে নিতে আলোচনা

অনলাইন ডেস্ক
ফিলিপাইনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এগিয়ে নিতে আলোচনা

ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টেস লাজারোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী নার্সিং খাতে সহযোগিতা, চিকিৎসা পর্যটনের জন্য ভিসা সহজীকরণ ও ব্যবসা প্রসারসহ বিভিন্ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তি (টিএসি) সম্মেলনের ফাঁকে তাদের এই বৈঠক হয়।

এ সময় খলিলুর রহমান আসিয়ানের খাতভিত্তিক সংলাপ অংশীদার হওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রচেষ্টা এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে বর্তমান আসিয়ান সভাপতি ফিলিপাইনের সমর্থন চান। উভয় মন্ত্রী নিজ নিজ দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন।

বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানিয়ে কাতারের আমিরকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি

অনলাইন ডেস্ক
বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানিয়ে কাতারের আমিরকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি

কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সুলতান বিন সাদ আল-মুরাইখির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে কাতারি বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানিয়ে দেশটির আমিরের জন্য একটা চিঠি হস্তান্তর করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) ফিলিপাইনের ম্যানিলায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তির (টিএসি) ৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের ফাঁকে এই বৈঠক হয়। এতে বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

এ দিন টিএসির ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, উদীয়মান হুমকি মোকাবেলায় বাংলাদেশ আসিয়ান এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সহযোগিতা বৃদ্ধি চুক্তির (টিএসি) সব পক্ষের সঙ্গে কাজ করবে। যৌথ আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, যৌথ ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং আঞ্চলিক সংকট মোকাবেলা ব্যবস্থার মতো বাস্তবসম্মত ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মহামারি, জলবায়ু অভিঘাত, সাইবার ঘটনা এবং সরবরাহ শৃঙ্খল বিঘ্নের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করা যেতে পারে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার আলোচনায় উদীয়মান হুমকি ও চ্যালেঞ্জ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-প্ররোচিত সাইবার অপরাধ এবং সামাজিক মাধ্যমের ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবেলার কর্মপন্থা তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন
সংগৃহীত ছবি

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। আজ শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বলেন, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র আমার কাছে জমা দিয়েছেন। তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।

তিনি আরো বলেন, স্পিকারের শপথের সময় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়ে রেখেছিলাম। যদি প্রয়োজন হয় সেই শপথ অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করব। 

একইভাবে ডেপুটি স্পিকারও শপথের সময় স্পিকারের শপথ নিয়ে রাখেন বলে জানান হাফিজ উদ্দিন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস তালুকদারসহ সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ।


স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, ‘আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানীং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় Autonomic Neuropathy নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগসমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন।’

তিনি আরো লেখেন, ‘এমতাবস্থায়, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করছি।’

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

পদত্যাগের পর রাষ্ট্রপতির সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আইনে কী আছে

অনলাইন ডেস্ক
পদত্যাগের পর রাষ্ট্রপতির সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আইনে কী আছে

বাংলাদেশে কোনো রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে কিংবা মেয়াদ শেষ করার পর তিনি আমৃত্যু কী কী সুযোগ-সুবিধা পাবেন, তা সুনির্দিষ্ট আইনের মাধ্যমে নির্ধারিত। দেশের আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি পদে কমপক্ষে ছয় মাস দায়িত্ব পালন শেষে পদত্যাগ করলে মৃত্যুর আগপর্যন্ত তিনি মাসিক অবসরভাতাসহ বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকারী হন।

বর্তমানে দেশে ‘রাষ্ট্রপতির অবসরভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা আইন, ২০১৬’ অনুযায়ী সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানদের এই সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়। ১৯৭৯ সালের একটি পুরোনো সামরিক অধ্যাদেশ বিলুপ্ত করে ২০১৬ সালে জাতীয় সংসদে এই নতুন আইনটি পাস করা হয়েছিল।

আইনের ৩ ধারা অনুযায়ী, দায়িত্ব পালন শেষে পদত্যাগ করা বা মেয়াদ শেষ করা রাষ্ট্রপতি আমৃত্যু পেনশন সুবিধা পাবেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি সর্বশেষ যে মাসিক মূল বেতন পেতেন, তার ৭৫ শতাংশ হারে এই মাসিক অবসরভাতা নির্ধারিত হয়। বর্তমানে রাষ্ট্রপতির মূল বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। সেই হিসাবে একজন সাবেক বা পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি প্রতি মাসে ৯০ হাজার টাকা অবসরভাতা পান। এককালীন আনুতোষিক ও পারিবারিক ভাতা কোনো সাবেক রাষ্ট্রপতি চাইলে মাসিক পেনশনের পরিবর্তে এককালীন অর্থ বা আনুতোষিক গ্রহণ করতে পারেন।

আইন অনুযায়ী, তিনি যত বছর রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, তার এক বছরের অবসরভাতার তত গুণ অর্থ এককালীন পাবেন। এ ছাড়া, অবসরভাতা গ্রহণকালীন কোনো সাবেক রাষ্ট্রপতি মারা গেলে তার স্ত্রী বা স্বামী বিশেষ পারিবারিক ভাতা পাবেন।

আইনের বিধান অনুযায়ী, তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতির প্রাপ্য অবসরভাতার দুই-তৃতীয়াংশ হারে আমৃত্যু মাসিক ভাতা পাওয়ার অধিকারী হবেন।

আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী, অবসরভাতা ছাড়াও সাবেক রাষ্ট্রপতিরা বেশ কিছু প্রাতিষ্ঠানিক প্রটোকল সুবিধা পান। এর মধ্যে রয়েছে— নিজের দাপ্তরিক ও ব্যক্তিগত কাজের সহায়তার জন্য একজন ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) এবং একজন সাহায্যকারী (অ্যাটেন্ডেন্ট)। এ ছাড়া, সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানরা একজন দায়িত্বরত ক্যাবিনেট মন্ত্রীর সমপরিমাণ সরকারি চিকিৎসা সুবিধা আমৃত্যু পেয়ে থাকেন।

সাবেক রাষ্ট্রপতিদের জন্য সরকারি খরচে সার্বক্ষণিক আবাসিক টেলিফোন সংযোগ দেওয়া হয়। দেশের অভ্যন্তরে ভ্রমণকালে সরকারি সার্কিট হাউস বা রেস্ট হাউসে তারা বিনা মূল্যে অবস্থান ও বিশেষ সুবিধা পান। আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সুবিধার্থে তারা সরকারিভাবে ‘কূটনৈতিক পাসপোর্ট’ (ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্ট) ব্যবহারের অধিকারী হন।

তবে সব সাবেক রাষ্ট্রপতিই উপরোক্ত সুবিধা পাবেন না। আইনের ৬ নম্বর ধারায় কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। সংবিধানের ৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যদি কোনো রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের (ইমপিচমেন্ট) মাধ্যমে পদ থেকে অপসারণ করা হয়, তবে তিনি কোনো সুবিধা পাবেন না। এ ছাড়া, উচ্চ আদালত কর্তৃক অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতা দখলকারী হিসেবে ঘোষিত ব্যক্তি অথবা নৈতিক স্খলনজনিত কোনো অপরাধে আদালতের রায়ে দণ্ডিত সাবেক রাষ্ট্রপতিরা এই আইনের আওতাধীন কোনো সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবেন না।