• ই-পেপার

আন্দোলনের মুখে কোন পথে হাঁটছে ভারত সরকার?

ইসরায়েল ইস্যুতে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করল যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক
ইসরায়েল ইস্যুতে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করল যুক্তরাষ্ট্র
সংগৃহীত ছবি

ইসরায়েল-সংক্রান্ত মালয়েশিয়ার অবস্থান ব্যাখ্যা করতে দেশটির যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর পেন্টাগন। মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স

প্রতিবেদনে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ হাসান জানান, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ শাহরুল ইকরাম ইয়াকুব মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে জানিয়েছেন, ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া মালয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের নীতি এবং এতে নতুন কোনো পরিবর্তন নেই।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, এটি সবসময়ই মালয়েশিয়ার নীতি। আমাদের অভিবাসন নীতিতে ইসরায়েল রাষ্ট্র বা জায়নিস্ট শাসনকে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না। বহুদিন ধরেই আমরা এই অবস্থান অনুসরণ করে আসছি।

মোহাম্মদ হাসান আরো জানান, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দ্বৈত নাগরিকত্বধারী এক ব্যক্তি মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবহার করে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেন। পরে যাচাই-বাছাইয়ে তার ইসরায়েলি নাগরিকত্বের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে দেশ ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়।

আফগান পুনর্বাসনের প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে পর্যালোচনার নির্দেশ জার্মান আদালতের

অনলাইন ডেস্ক
আফগান পুনর্বাসনের প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে পর্যালোচনার নির্দেশ জার্মান আদালতের
ছবি : রয়টার্স

জার্মানির সর্বোচ্চ আদালত শুক্রবার রায় দিয়েছে, আফগান নাগরিকদের জন্য আগে দেওয়া পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি সরকার একসঙ্গে বাতিল করতে পারবে না। প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এই রায় এসেছে এক আফগান মা ও তার দুই ছেলের করা মামলায়। তালেবান ২০২১ সালে আবার ক্ষমতায় ফেরার পর আগের জার্মান সরকার মানবাধিকার বিবেচনায় যেসব আফগানকে পুনর্বাসনের জন্য নির্বাচন করেছিল, এই পরিবারটি তাদের মধ্যে ছিল।

আদালত জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে জার্মানির বর্তমান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যক্তিগতভাবে আবেদনগুলো পর্যালোচনা না করেই প্রায় ৬৪০ জন আফগানের পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি বাতিল করে। আদালতের মতে, এটি সংবিধানে থাকা সরকারের খামখেয়ালি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে থাকা নীতির লঙ্ঘন।

রায়ে আদালত বলেন, সরকার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বিস্তৃত ক্ষমতা পেলেও সেই ক্ষমতা সীমাহীন নয়। কাউকে জার্মানিতে পুনর্বাসনের অনুমোদন দেওয়ার পর সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিস্থিতি আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে। আদালত মামলাটি পুনর্বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট উচ্চ প্রশাসনিক আদালতে পাঠিয়েছে। বর্তমানে ওই আফগান নারী ও তার দুই ছেলে পাকিস্তানে অবস্থান করছেন। 

আদালত রায় দিয়েছে, তাদের ভিসা না দেওয়া পর্যন্ত অথবা সংবিধান অনুযায়ী নতুন সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানে তাদের থাকা-খাওয়ার খরচ জার্মান সরকারকেই বহন করতে হবে। তবে আদালতের এই রায়ের বিষয়ে জার্মানির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।


 

বিবাহবিচ্ছেদে ৬৪০ মিলিয়ন ডলার খোয়ালেন এসকে গ্রুপের প্রধান

অনলাইন ডেস্ক
বিবাহবিচ্ছেদে ৬৪০ মিলিয়ন ডলার খোয়ালেন এসকে গ্রুপের প্রধান
ছবি : রয়টার্স।

দক্ষিণ কোরিয়ার একটি আদালত এসকে গ্রুপের চেয়ারম্যান চে তাই-ওনকে বিবাহবিচ্ছেদ মামলায় তার সাবেক স্ত্রী রোহ সো-ইয়ংকে ৯৪৪ বিলিয়ন ওন (প্রায় ৬৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে। এটি দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে বিবাহবিচ্ছেদ মামলায় সবচেয়ে বড় আর্থিক নিষ্পত্তি। শুক্রবার দেশটির আদালত এই রায় দেন। 

তবে ২০২৪ সালে আপিল আদালত যে ১.৩৮ ট্রিলিয়ন ওন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল, নতুন রায়ে সেই অঙ্ক কমানো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই অর্থ পরিশোধ করতে চে তাই-ওনকে এসকে গ্রুপের কিছু শেয়ার বিক্রি করতে বা শেয়ার বন্ধক রেখে অর্থ সংগ্রহ করতে হতে পারে। তবে এতে কম্পানির নিয়ন্ত্রণে বড় কোনো প্রভাব পড়বে না।

করপোরেট গবেষণা প্রতিষ্ঠান লিডার্স ইনডেক্স-এর প্রধান পার্ক জু-গুন বলেন, এই রায়ে এসকে গ্রুপের ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হবে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির প্রসারের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এসকে গ্রুপের গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। 

গ্রুপটির চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এসকে হাইনিক্স এনভিডিয়ার এআই প্রসেসরে ব্যবহৃত উচ্চ-গতির মেমোরি চিপের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী। ফলে উন্নত সেমিকন্ডাক্টরের বাড়তি চাহিদার বড় সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি হয়ে উঠেছে কম্পানিটি।

রায় ঘোষণার পর চে তাই-ওনের আইনজীবী লি জে-কুন বলেন, তারা আদালতের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করে আপিল করবেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। অন্যদিকে, রোহ সো-ইয়ংয়ের আইনজীবীরা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

রায়ের পর শুক্রবার সিউল শেয়ারবাজারে এসকে ইনক.-এর শেয়ারের দাম ৩.৮ শতাংশ এবং এসকে হাইনিক্স-এর শেয়ারের দাম ৮.৩ শতাংশ কমে যায়। গত বছর সুপ্রিম কোর্ট নিম্ন আদালতের রায়ের একটি অংশ বাতিল করে পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছিল। আদালত বলেছিল, রোহ সো-ইয়ংয়ের বাবা ও দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট রোহ তাই-উ-এর কথিত আর্থিক সহায়তাকে এসকে গ্রুপের জন্য আইনগতভাবে সুরক্ষিত অবদান হিসেবে ধরা যাবে না।

তবে এই দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদ এবং রোহ সো-ইয়ংকে ২ বিলিয়ন ওন ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি আগেই চূড়ান্ত হয়েছিল। চে তাই-ওন এসকে হাইনিক্সের সরাসরি শেয়ারহোল্ডার নন। তবে তিনি এসকে ইনক.-এর সবচেয়ে বড় শেয়ারধারী। এসকে ইনক.-এর মালিকানায় এসকে স্কয়ারের ৩২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে, আর এসকে স্কয়ারই এসকে হাইনিক্সের প্রধান শেয়ারহোল্ডার। 

ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, চে তাই-ওনের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আদালত রায়ে বলেন, চে তাই-ওনের এসকে ইনক.-এর শেয়ারসহ অন্যান্য সম্পদ বিবাহিত জীবনে অর্জিত হয়েছে। তাই সেগুলো সম্পদ বণ্টনের আওতায় পড়বে। আদালতের মতে, এই সম্পদ অর্জন, রক্ষণাবেক্ষণ ও মূল্য বৃদ্ধিতে স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই অবদান রয়েছে।

আদালত আরো বলেন, রোহ সো-ইয়ং সন্তানদের লালন-পালন ও পরিবারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এসকে গ্রুপ-সংক্রান্ত বিভিন্ন সামাজিক ও আনুষ্ঠানিক কর্মকাণ্ডেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাই তার অবদানও সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয়েছে। তবে সম্পদ বণ্টনের হিসাব নির্ধারণে তাঁর বাবা রোহ তাই-উয়ের কথিত আর্থিক সহায়তাকে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। এটি সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশনার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এ ছাড়া সিউল হাইকোর্ট জানিয়েছে, চে তাই-ওনের শেয়ারের মূল্য ২০২৪ সালের ১৬ এপ্রিল অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে। ওই দিনই আপিল আদালত মামলার তথ্য-প্রমাণ গ্রহণের কার্যক্রম শেষ করেছিল।


 

ইসরায়েলকে স্বীকৃতি না দিলে পারমাণবিক চুক্তি বাতিল : হোয়াইট হাউস

অনলাইন ডেস্ক
ইসরায়েলকে স্বীকৃতি না দিলে পারমাণবিক চুক্তি বাতিল : হোয়াইট হাউস
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ছবি : রয়টার্স

সৌদি আরবের সঙ্গে বহুল আলোচিত পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিতে নতুন শর্ত জুড়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর রয়টার্স

শর্তে বলা হয়েছে, রিয়াদ যদি ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে ঐতিহাসিক ‘আব্রাহাম আকর্ডসে’ সই না করে, তবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে প্রস্তাবিত এই পারমাণবিক চুক্তি কার্যকর হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, পারমাণবিক চুক্তিটি কেবল বেসামরিক ব্যবহারের জন্যই অনুমোদিত হবে। এর পূর্ণ বাস্তবায়ন সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করছে সৌদি আরবের আব্রাহাম আকর্ডসে যোগ দেওয়ার ওপর।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কারোলাইন লিভিট বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সৌদি আরব যদি এই আঞ্চলিক শান্তি চুক্তিতে অংশ না নেয়, তবে পারমাণবিক চুক্তিটি বাতিল বলে গণ্য হবে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, আব্রাহাম আকর্ডসে সৌদি আরবের যোগদান মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হবে।

এর আগে গত বুধবার (২২ জুলাই) দুই দেশের পক্ষ থেকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং মার্কিন প্রযুক্তিতে পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণের প্রাথমিক সমঝোতার কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে ট্রাম্পের শর্ত আরোপের মধ্য দিয়ে পুরো প্রক্রিয়ায় নতুন কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হলো।

ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সুনির্দিষ্ট পথনকশা ছাড়া ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিতে দীর্ঘদিন ধরেই অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে সৌদি আরব। ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যের পর ওয়াশিংটনস্থ সৌদি দূতাবাস থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।