দক্ষিণ কোরিয়ার একটি আদালত এসকে গ্রুপের চেয়ারম্যান চে তাই-ওনকে বিবাহবিচ্ছেদ মামলায় তার সাবেক স্ত্রী রোহ সো-ইয়ংকে ৯৪৪ বিলিয়ন ওন (প্রায় ৬৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে। এটি দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে বিবাহবিচ্ছেদ মামলায় সবচেয়ে বড় আর্থিক নিষ্পত্তি। শুক্রবার দেশটির আদালত এই রায় দেন।
তবে ২০২৪ সালে আপিল আদালত যে ১.৩৮ ট্রিলিয়ন ওন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল, নতুন রায়ে সেই অঙ্ক কমানো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই অর্থ পরিশোধ করতে চে তাই-ওনকে এসকে গ্রুপের কিছু শেয়ার বিক্রি করতে বা শেয়ার বন্ধক রেখে অর্থ সংগ্রহ করতে হতে পারে। তবে এতে কম্পানির নিয়ন্ত্রণে বড় কোনো প্রভাব পড়বে না।
করপোরেট গবেষণা প্রতিষ্ঠান লিডার্স ইনডেক্স-এর প্রধান পার্ক জু-গুন বলেন, এই রায়ে এসকে গ্রুপের ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হবে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির প্রসারের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এসকে গ্রুপের গুরুত্ব অনেক বেড়েছে।
গ্রুপটির চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এসকে হাইনিক্স এনভিডিয়ার এআই প্রসেসরে ব্যবহৃত উচ্চ-গতির মেমোরি চিপের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী। ফলে উন্নত সেমিকন্ডাক্টরের বাড়তি চাহিদার বড় সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি হয়ে উঠেছে কম্পানিটি।
রায় ঘোষণার পর চে তাই-ওনের আইনজীবী লি জে-কুন বলেন, তারা আদালতের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করে আপিল করবেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। অন্যদিকে, রোহ সো-ইয়ংয়ের আইনজীবীরা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
রায়ের পর শুক্রবার সিউল শেয়ারবাজারে এসকে ইনক.-এর শেয়ারের দাম ৩.৮ শতাংশ এবং এসকে হাইনিক্স-এর শেয়ারের দাম ৮.৩ শতাংশ কমে যায়। গত বছর সুপ্রিম কোর্ট নিম্ন আদালতের রায়ের একটি অংশ বাতিল করে পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছিল। আদালত বলেছিল, রোহ সো-ইয়ংয়ের বাবা ও দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট রোহ তাই-উ-এর কথিত আর্থিক সহায়তাকে এসকে গ্রুপের জন্য আইনগতভাবে সুরক্ষিত অবদান হিসেবে ধরা যাবে না।
তবে এই দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদ এবং রোহ সো-ইয়ংকে ২ বিলিয়ন ওন ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি আগেই চূড়ান্ত হয়েছিল। চে তাই-ওন এসকে হাইনিক্সের সরাসরি শেয়ারহোল্ডার নন। তবে তিনি এসকে ইনক.-এর সবচেয়ে বড় শেয়ারধারী। এসকে ইনক.-এর মালিকানায় এসকে স্কয়ারের ৩২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে, আর এসকে স্কয়ারই এসকে হাইনিক্সের প্রধান শেয়ারহোল্ডার।
ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, চে তাই-ওনের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আদালত রায়ে বলেন, চে তাই-ওনের এসকে ইনক.-এর শেয়ারসহ অন্যান্য সম্পদ বিবাহিত জীবনে অর্জিত হয়েছে। তাই সেগুলো সম্পদ বণ্টনের আওতায় পড়বে। আদালতের মতে, এই সম্পদ অর্জন, রক্ষণাবেক্ষণ ও মূল্য বৃদ্ধিতে স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই অবদান রয়েছে।
আদালত আরো বলেন, রোহ সো-ইয়ং সন্তানদের লালন-পালন ও পরিবারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এসকে গ্রুপ-সংক্রান্ত বিভিন্ন সামাজিক ও আনুষ্ঠানিক কর্মকাণ্ডেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাই তার অবদানও সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয়েছে। তবে সম্পদ বণ্টনের হিসাব নির্ধারণে তাঁর বাবা রোহ তাই-উয়ের কথিত আর্থিক সহায়তাকে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। এটি সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশনার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এ ছাড়া সিউল হাইকোর্ট জানিয়েছে, চে তাই-ওনের শেয়ারের মূল্য ২০২৪ সালের ১৬ এপ্রিল অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে। ওই দিনই আপিল আদালত মামলার তথ্য-প্রমাণ গ্রহণের কার্যক্রম শেষ করেছিল।