বর্ষাকালে তাপমাত্রার পরিবর্তন, বাতাসে আর্দ্রতা বৃদ্ধি, ধুলাবালি, পরাগরেণু ও ছত্রাকের কারণে অনেকেই মৌসুমি অ্যালার্জিতে ভোগেন। এ সময় অনেকেই ঘরোয়া উপায় হিসেবে তুলসী ড্রপ ব্যবহার করেন। তবে এটি কতটা কার্যকর, তা নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তুলসী ড্রপ তুলসী পাতার ঘন নির্যাস থেকে তৈরি হয়। এতে থাকা কিছু প্রাকৃতিক উপাদান শরীরের প্রদাহ কমাতে এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা সমর্থন করতে সাহায্য করতে পারে। তাই কারো কারো ক্ষেত্রে এটি গলা জ্বালা কমাতে, শ্বাসনালিতে কিছুটা স্বস্তি দিতে এবং মৌসুমি অস্বস্তি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
তবে এখন পর্যন্ত গবেষণায় এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে, তুলসী ড্রপ একাই মৌসুমি অ্যালার্জির কার্যকর চিকিৎসা। এর উপকারিতা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, তুলসী ড্রপ অ্যালার্জি পুরোপুরি সারাতে পারে না। এটি অ্যান্টিহিস্টামিন বা চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধের বিকল্পও নয়। তীব্র অ্যালার্জি বা শ্বাসকষ্টের মতো জরুরি অবস্থায় এটি কোনোভাবেই চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।
যাদের জন্য কিছুটা উপকারী হতে পারে
হালকা মৌসুমি অ্যালার্জিতে ভোগা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য।
আয়ুর্বেদভিত্তিক পরিচর্যার সঙ্গে অন্য চিকিৎসাও চালিয়ে যেতে চান, এমন ব্যক্তিদের জন্য।
অ্যালার্জি কমাতে আরও যা করবেন
বাইরে থেকে এসে হাত-মুখ ও চুল পরিষ্কার করুন।
ঘরের জানালা প্রয়োজন ছাড়া খোলা রাখবেন না।
ঘর পরিষ্কার রাখুন এবং আর্দ্রতা কমানোর চেষ্টা করুন।
প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার করুন।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করুন।
সতর্ক থাকুন
তুলসী ড্রপ সবার জন্য নিরাপদ নাও হতে পারে। কারো কারো অ্যালার্জি, ত্বকে র্যাশ বা গলায় অস্বস্তি হতে পারে। এটি রক্ত পাতলা করার ওষুধ বা ডায়াবেটিসের ওষুধের সঙ্গে প্রতিক্রিয়াও করতে পারে। তাই নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে বা গর্ভাবস্থা, স্তন্যদান কিংবা দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এটি ব্যবহার করা উচিত নয়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, দীর্ঘদিন অ্যালার্জির সমস্যা থাকলে, শ্বাসকষ্ট, বুকে চাপ, তীব্র মাথাব্যথা বা উপসর্গ বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।





