জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধারণ করে ঐক্যবদ্ধভাবে নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী।
একই সঙ্গে গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণ, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে ‘জুলাই কর্নার’ স্থাপন এবং প্রতি বছর ১৪ জুলাই ‘জুলাই উইমেন্স ডে’ পালনের ঘোষণা দেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলে ‘ফিরে দেখা চব্বিশ : জুলাই মহাকাব্যের দুই বছর’ শীর্ষক এক আলোচনাসভায় তিনি এই ঘোষণা দেন।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ফ্যাসিবাদের পতনের মূল কারিগর ছিল।
শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, এই বিজয়ের স্পিরিট ধারণ করেই আগামীর বাংলাদেশ গড়তে হবে।
ইতিহাস সংরক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রো-ভিসি জানান, ক্যাম্পাসে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের পাশাপাশি জুলাই স্মৃতি সংগ্রহশালাটিকে আরো সমৃদ্ধ করা হবে।
বিজয় একাত্তর হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. স ম আলী রেজার সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল্লাহ। এ ছাড়া ডাকসুর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক সম্পাদক জসীমউদ্দিন খান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবদুল কাদের, হল সংসদের ভিপি হাসান আল বান্না ও জিএস আশিক বিল্লাহসহ ছাত্র নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
এদিকে, গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাবিতে মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুক্রবার (২৪ জুলাই) বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে দিনব্যাপী নানা আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘শহীদদের কাছে খোলা চিঠি লিখন প্রতিযোগিতা’, ‘দ্রোহের বিপ্লবের জুলাই’ শীর্ষক চিত্রাঙ্কন এবং ‘ফিরে দেখা জুলাই’ শীর্ষক কুইজ প্রতিযোগিতা।
এ ছাড়া শুক্রবার রাত ৮টায় হল মিলনায়তনে স্মৃতিচারণা, আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মাহবুবা সুলতানার সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী ও প্রক্টর মো. ইসরাফিল প্রাং উপস্থিত থাকবেন।




