• ই-পেপার

এলএলবি শেষপর্ব পরীক্ষার ফল প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ইকোনমিকস অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের সাফল্য

অনলাইন ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ইকোনমিকস অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের সাফল্য
ছবি : সংগৃহীত

চীনের শেনঝেন অনুষ্ঠিত ৯ম আন্তর্জাতিক অর্থনীতি অলিম্পিয়াড (আইইও) ২০২৬-এ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এবারের আসরে বিশ্বের ৫৭টি দেশের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। তারা অর্থনীতি, অর্থব্যবস্থা (ফাইন্যান্স) এবং ব্যবসায়িক কেস প্রতিযোগিতায় নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শন করেন। আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের সাফল্য দেশের জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক অর্থনীতি অলিম্পিয়াডের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা সাফল্য অর্জন করেছেন। জাতীয় দলের সাফল্যে নেতৃত্ব দিয়ে ফারাবিদ বিন ফয়সাল ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন। আর জাইফ বিন মোর্শেদ প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘আইইও ইয়ুথ টক’ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে গ্লোবাল চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। যোগাযোগ দক্ষতা, সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি ও নেতৃত্বগুণের ভিত্তিতে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় তার এ অর্জন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

পাশাপাশি অর্থনীতি শিক্ষায় ধারাবাহিক অবদান, আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ এবং নিয়মিত সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি অলিম্পিয়াড (আইইও) বাংলাদেশ ইকোনমিকস অলিম্পিয়াডকে (বিডিও) ‘স্পেশাল ইন্টারন্যাশনাল রিকগনিশন অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করেছে। 

বাংলাদেশ দলে ছিলেন মাস্টারমাইন্ড ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের (ধানমন্ডি শাখার ফারাবীদ বিন ফয়সাল), মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের (গুলশান শাখা) জায়েফ বিন মোর্শেদ ও ফারিহা তাসনিম, মাস্টারমাইন্ড ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের (ধানমন্ডি শাখা) প্রান্ত ঘোষ এবং ফায়াদ সালেহীন আহমেদ।

দেশব্যাপী ৪৮ হাজারের বেশি নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দলটি নির্বাচিত হয়। এরপর আঞ্চলিক পর্যায়, জাতীয় পর্যায়, একটি জাতীয় প্রশিক্ষণ শিবির এবং অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়িক নেতাদের তত্ত্বাবধানে কয়েক মাসব্যাপী উন্নত প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়।

আন্তর্জাতিক অর্থনীতি অলিম্পিয়াডের নির্বাহী বোর্ড সদস্য এবং বিডিও-এর নির্বাহী কমিটির সভাপতি মো. আল-আমিন পারভেজের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলটি গঠিত হয়। বিডিও-এর সচিব রফিড আবরার উপদলনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিডিওর অ্যাম্বাসেডর মো. মনসোরুল হক ও মো. আল-আমিন পারভেজ আন্তর্জাতিক বিজনেস কেস প্রতিযোগিতার জুরি বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, ব্র্যাকের চেয়ারপার্সন এবং পিপিআরসি-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ইকোনমিক্স অলিম্পিয়াড (বিডিও) দেশের অর্থনীতি ও আর্থিক সাক্ষরতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশ ইকোনমিক্স অলিম্পিয়াড ২০২৬-এর উপস্থাপক ছিল পূবালী ব্যাংক পিএলসি ও ব্র্যাক ব্যাংক। আর প্রতিযোগিতাটি পরিচালনায় ছিল সিটি ব্যাংক।

দলের সাফল্যে অভিনন্দন জানিয়ে হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, আইইও ২০২৬-এ এই অর্জন বাংলাদেশের তরুণদের মেধা ও সম্ভাবনার প্রমাণ। তিনি বলেন, মানসম্মত অর্থনীতি শিক্ষার মাধ্যমে ভবিষ্যতের অর্থনীতিবিদ, নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়িক নেতা গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ইকোনমিক্স অলিম্পিয়াড (বিডিও) কাজ করে যাচ্ছে। তার মতে, এই সাফল্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অর্থনীতি শিক্ষায় বাংলাদেশের অবস্থানকে আরো শক্তিশালী করেছে এবং দেশের তরুণদের বিশ্বমানের প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করার প্রচেষ্টার স্বীকৃতি দিয়েছে।
 

নম্বর টেম্পারিং ঠেকাতে কোডিং সিস্টেম চালুর দাবি নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
নম্বর টেম্পারিং ঠেকাতে কোডিং সিস্টেম চালুর দাবি নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের
সংগৃহীত ছবি

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) পরিসংখ্যান বিভাগের এক শিক্ষক দম্পতির বিরুদ্ধে পরীক্ষার নম্বর পরিবর্তনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আবারও আলোচনায় এসেছে কোডিং পদ্ধতিতে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের বিষয়টি। শিক্ষার্থীদের দাবি, মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে কোডিং পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর পরিসংখ্যান বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে প্রায় ৭০ পৃষ্ঠার একটি অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগপত্রে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন ও নম্বর পরিবর্তনসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি তদন্তে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে অধিকতর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পরীক্ষামূলকভাবে তিনটি বিভাগে কোডিং পদ্ধতি চালু করা হয়। এতে ইতিবাচক ফল পাওয়ার পর ২০২৫ সালের ২৬ এপ্রিল তৎকালীন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে কোডিং পদ্ধতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও করণীয় নির্ধারণই ছিল কমিটির দায়িত্ব।

তবে কমিটি গঠনের এক বছরের বেশি সময় পার হলেও এখনো বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে কোডিং পদ্ধতি চালু হয়নি। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা ও কার্যকর উদ্যোগের অভাবেই সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।

এদিকে, কোডিং সিস্টেম বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ গত ৭ জুন লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান। ফলে বর্তমানে নোবিপ্রবিতে ওই কমিটির আহ্বায়কের পদটি কার্যত শূন্য রয়েছে। তবে কমিটির কার্যক্রমের বর্তমান অবস্থা, নতুন আহ্বায়ক নিয়োগ বা কমিটি পুনর্গঠনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, বর্তমানে পরীক্ষার খাতায় পরীক্ষার্থীর পরিচয় দৃশ্যমান থাকায় ব্যক্তিগত সম্পর্ক, বিরোধ বা পক্ষপাতের প্রভাব মূল্যায়নে পড়ার আশঙ্কা থেকে যায়। কোডিং পদ্ধতি চালু হলে পরীক্ষার্থীর পরিচয় গোপন রেখে খাতা মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে, যা মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে আরো স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করে তুলবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিক্ষকের সঙ্গে ব্যক্তিগত মতবিরোধ বা বিরূপ সম্পর্কের কারণে শিক্ষার্থীরা মানসিক চাপে থাকেন। তাদের আশঙ্কা, এর নেতিবাচক প্রভাব পরীক্ষার ফলাফলেও পড়তে পারে। তাই দ্রুত কোডিং পদ্ধতি চালুর মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক মূল্যায়ন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য ও উপাচার্যের (রুটিন দায়িত্ব) দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে শিগগিরই কোডিং সিস্টেম চালু করা হবে। আমরা আশাবাদী, এটি চালু হলে শিক্ষার্থীরা আরো নিরপেক্ষ ও ন্যায্য মূল্যায়ন পাবে।’

তবে কোডিং পদ্ধতি চালুর বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি। একই সঙ্গে বাস্তবায়ন কমিটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম সম্পর্কেও স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

ছাত্রাবাসে বন্ধুদের আড্ডা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাভাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি
ছাত্রাবাসে বন্ধুদের আড্ডা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাভাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) আইসিটি বিভাগের ২২তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তৃতীয় তলা থেকে পুকুরে পড়ে মারা গেছেন। এই আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনায় পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসজুড়ে এবং শিক্ষার্থী মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের সহপাঠীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন আরিফনগর এলাকার খাজা ছাত্রাবাসে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে তারা কয়েকজন সহপাঠী তৃতীয় তলার নিজস্ব রুমের বারান্দায় আড্ডা দেওয়ার সময় হঠাৎ মনিরুজ্জামান মনিরের হাত পাশে থাকা মেইন কারেন্ট লাইনের তারে লাগলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এ সময় বারান্দায় রেলিং না থাকায় পাশে থাকা পুকুরে পড়ে যান তিনি। পরবর্তীতে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত টাঙ্গাগাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

নিহত মনির আইসিটি বিভাগের ২২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি প্রথম বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারে অধ্যয়নরত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও আইসিটি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মনির মোর্শেদ জানান, শিক্ষার্থীরা আমাকে ঘটনাটি জানালে দ্রুত আমি হাসপাতালে যাই। নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের সান্ত্বনা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের সহযোগীতায় মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের স্বজনরা এলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ দিনের শোক ঘোষণা করা হবে।

এদিকে, ক্যাম্পাসের এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র শোকের ছায়া নেমে আসে। পাশাপাশি অভিযোগ দেওয়ার পরও কেন বারান্দায় রেলিং দেয়নি মালিকপক্ষ তার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।

দায়িত্বরত পুলিশ ফাঁড়ির সদস্য রাহেদুল ইসলাম জানান, আমরা হাসপাতালে এসে মরদেহ পর্যবেক্ষণ করেছি। প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। নিহতের মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। নিহতের পরিবার আসার পর তারা চাইলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করলেন শিক্ষার্থীরা

খুবি প্রতিনিধি
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করলেন শিক্ষার্থীরা
ছবি : কালের কণ্ঠ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) পরপর শিক্ষক ও হলের ক্যান্টিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রতিবাদ এবং ঘটনার বিচার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে সব ধরনের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ৩ দফা দাবি উত্থাপন করে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়ে তারা ভবনগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেন।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. রুবেল আনছার, অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল ইসলাম এবং হলের ছাত্রীদের ভিডিও ধারণের অভিযোগে অভিযুক্ত ক্যান্টিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিচারের দাবিতে ৩ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। তবে আলোচনার পরও দাবিগুলোর বিষয়ে সন্তোষজনক অগ্রগতি না হওয়ায় পূর্বঘোষিত কর্মসূচির সঙ্গে একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনগুলোতে তালা ঝুলিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ৩ দফা দাবি উত্থাপন করেছেন। তাদের প্রথম দাবি, হলের ছাত্রীদের ভিডিও ধারণের অভিযোগে অভিযুক্ত ইমাম হাসানের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ঘটনার আগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট হল প্রভোস্ট বডিকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। দ্বিতীয় দাবি, যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. রুবেল আনসার এবং এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল ইসলামকে অতিদ্রুত স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে। তৃতীয় দাবি, সম্প্রতি গঠিত ‘স্পন্দন ২৪’ নামের ক্লাবটির নিবন্ধন বাতিল করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আইনি জটিলতার কথা উল্লেখ করে তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে সরাসরি কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং সময়ক্ষেপণ করেছে। তাদের ভাষ্য, দাবিগুলো বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি বা কার্যকর পদক্ষেপের নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।

এর আগে, বুধবার (২৩ জুলাই) সকালে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। পরে তারা হাদি চত্বরে অবস্থান নিয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত সবার বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত শেষ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একাধিকবার বৈঠকে বসেন। বৈঠকগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নূরুন্নবী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুলসমূহের স্কুলের ডিন, রেজিস্ট্রার, ডিসিপ্লিন প্রধান, আবাসিক হলগুলোর প্রভোস্ট, ছাত্রবিষয়ক পরিচালক ও অন্যান্য বিভাগের পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় এ ঘটনার তদন্তে হল প্রশাসন ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে এবং আগামী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে অভিযুক্তের পরিচালিত হল ক্যান্টিনের বরাদ্দ বাতিল, হলে কর্মচারীদের মোবাইল ফোন বহন নিষিদ্ধ এবং দুই ছাত্রী হলের ক্যান্টিনে কোনো পুরুষ কর্মী নিয়োগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ছাড়া ছাত্রী হলের ক্যান্টিন পরিচালনায় কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন এবং শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. রুবেল আনছারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে রিভিউ আবেদন পাওয়া সাপেক্ষে পুনঃতদন্তের সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নুরুন্নবী জানান, অভিযুক্ত ইমাম হাসানকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পর আদালতে হাজির করা হয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ইমাম হাসানের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং এসব ধারায় জামিনের সুযোগ নেই।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়’২৪ হলের ছাত্রীদের ওয়াশরুমে গোপনে মোবাইল ফোন রেখে ভিডিও ধারণের অভিযোগে হলের ক্যান্টিনে কর্মরত ইমাম হাসান নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছেন ছাত্রীরা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হলজুড়ে আবাসিক ছাত্রীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

এর আগে, চলতি বছরের ১৮ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে মেসেঞ্জারে অশালীন বার্তা পাঠানো ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে ডিসিপ্লিন প্রধানের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়। বর্তমানে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের গঠিত ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি অভিযোগের তদন্ত করছে।

এ ছাড়া গত বছরের আগস্টে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. রুবেল আনছারের বিরুদ্ধে এক ছাত্রী অশালীন আচরণ, যৌন হয়রানি এবং অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ আনেন। এর কিছুদিন পর অন্য বিভাগের আরেক ছাত্রীও তার বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ করেন। অভিযোগ দুটি তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরে গত ২৬ ডিসেম্বর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের তদন্ত কমিটি দুটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। পরবর্তীতে ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৪তম সিন্ডিকেট সভায় প্রতিবেদন দুটি গৃহীত হয়।

সিন্ডিকেট সভায় তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে একটি অভিযোগ থেকে অধ্যাপক ড. রুবেল আনছারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তবে অন্য অভিযোগে তাকে আগামী দুই বছরের জন্য বাংলা ডিসিপ্লিনে পাঠদান, পরীক্ষা গ্রহণসহ সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।