• ই-পেপার

হাম উপসর্গে প্রাণ গেল আরো ৫ শিশুর

সংকোচে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাচ্ছে না কিশোর-কিশোরীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
সংকোচে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাচ্ছে না কিশোর-কিশোরীরা

সংকোচ, সামাজিক বাধা ও সচেতনতার অভাবে অনেক কিশোর-কিশোরী প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে দ্বিধাবোধ করে। ফলে তারা মানসিক স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে কিশোর-কিশোরীদের জন্য সহজলভ্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও যুববান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে কমিউনিটির কার্যকর সংযোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীতে সিরাক-বাংলাদেশ আয়োজিত ‘কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ভলান্টিয়ার পিয়ার লিডার (ভিপিএল) মডেল প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ’ বিষয়ক জাতীয় পর্যায়ের মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (পিএইচসি ও আইটিএইচসি) এবং টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপের সভাপতি ডা. সৈয়দ কামরুল ইসলাম।

সভাপতির বক্তব্যে কামরুল ইসলাম বলেন, কিশোর-কিশোরীদের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ভলান্টিয়ার পিয়ার লিডার (ভিপিএল) কার্যক্রম অত্যন্ত কার্যকর। তবে এটিকে দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর রাখতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সমন্বিত আলোচনা ও কাঠামোবদ্ধ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে টেকসইভাবে যুক্ত করতে হবে।

স্বাগত বক্তব্যে সিরাক-বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এস এম সৈকত বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান জনবল সংকটের মধ্যে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ভলান্টিয়ার পিয়ার লিডাররা প্রাথমিক কাউন্সেলিং, প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান, মানসিক সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবায় রেফারেলের মাধ্যমে কিশোর-কিশোরীদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। এতে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কমিউনিটির মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছে।

সিরাক-বাংলাদেশের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. নাজমুল হাসান এক উপস্থাপনায় কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবার বিদ্যমান ঘাটতি, ভলান্টিয়ার পিয়ার লিডারদের কার্যক্রম এবং তাদের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

আলোচনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, অধিকাংশ কিশোর-কিশোরী বিভিন্ন কারণে সরাসরি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে দ্বিধাবোধ করে। এ বাস্তবতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ভলান্টিয়ার পিয়ার লিডাররা স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন। তারা প্রাথমিক কাউন্সেলিং, স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে রেফারেলের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

বক্তারা বলেন, এই উদ্যোগকে আরো কার্যকর করতে একটি সুস্পষ্ট বাস্তবায়ন কাঠামো, দায়িত্ব ও কার্যপরিধি (টার্মস অব রেফারেন্স), নীতিগত অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক পরিকল্পনা প্রণয়ন জরুরি। পাশাপাশি জাতীয় কৈশোর স্বাস্থ্য কৌশলের সঙ্গে সমন্বয় রেখে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে গঠিতব্য অ্যাডোলেসেন্ট ফোকাল বডির সঙ্গে এই কার্যক্রম যুক্ত করার সুপারিশ করা হয়। পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলায় এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে ভলান্টিয়ার পিয়ার লিডার মো. বনি আমিন মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, প্রশিক্ষণ শেষে তারা সমবয়সী কিশোর-কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালীন পরিবর্তন, মানসিক স্বাস্থ্য ও অন্যান্য স্বাস্থ্যবিষয়ক বিষয়ে সচেতন করেন এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে উদ্বুদ্ধ করেন।

বক্তারা আরো বলেন, এই উদ্যোগ শুধু স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার বাড়ায় না, বরং তরুণদের নেতৃত্ব, যোগাযোগ দক্ষতা, দলগত কাজ, স্বেচ্ছাসেবী মনোভাব ও সামাজিক দায়বদ্ধতা গড়ে তুলতেও ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য, বাল্যবিবাহ, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, মাদকাসক্তি ও অন্যান্য সামাজিক ঝুঁকি মোকাবিলায় পরিবার, বিদ্যালয়, কমিউনিটি ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের প্রতিনিধি, সিরাক-বাংলাদেশের কর্মকর্তাসহ সাবেক ও বর্তমান ভলান্টিয়ার পিয়ার লিডার এবং বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় উত্থাপিত সুপারিশগুলো সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে উপস্থাপন করা হবে।

২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরো দুজনের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরো দুজনের মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৪ জন। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে কারো মৃত্যু হয়নি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৪ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৪ হাজার ৯২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক হলেন নুরুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক হলেন নুরুল ইসলাম

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ শাখার পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ডা. মো. নুরুল ইসলাম। এতদিন তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (উপপরিচালক) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

বুধবার (২২ জুলাই) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (উপপরিচালক) ডা. মো. নুরুল ইসলামকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) পদে চলতি দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

একই প্রজ্ঞাপনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মইনুল আহসানকে ওএসডি করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয়ে পদায়ন করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, বদলি ও পদায়ন করা কর্মকর্তাদের আগামী ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। অন্যথায় ২৭ জুলাই থেকে তারা বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজড) বলে গণ্য হবেন।

স্বাস্থ্য প্রশাসনে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা নুরুল ইসলামের এ নিয়োগে সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল তাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। নতুন দায়িত্বে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা, সেবার মানোন্নয়ন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

‘এত ঘুমাও কেন?’—এই কথাই ডেকে আনতে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকি

অনলাইন ডেস্ক
‘এত ঘুমাও কেন?’—এই কথাই ডেকে আনতে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকি
ছবি : এআই জেনারেটেড

‘এত ঘুমাও কেন?’, ‘সকালে তাড়াতাড়ি উঠতে পারো না?’—এ ধরনের কথা অনেকের কাছেই পরিচিত। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুম নিয়ে এমন মন্তব্য বা কাউকে লজ্জা দেওয়া, যাকে বলা হয় 'স্লিপ শেমিং', স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

সম্প্রতি দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

ভারতের অর্থোপেডিক সার্জন ডা. মানান ভোহরা বলেন, অনেক পরিবারেই পর্যাপ্ত ঘুমকে অলসতার লক্ষণ হিসেবে দেখা হয়। কেউ দেরি করে ঘুম থেকে উঠলে তাকে নানা কথা শুনতে হয়। অথচ শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী ঘুম পূর্ণ না হলে কাউকে জোর করে জাগিয়ে তোলা মস্তিষ্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি বলেন, ঘুম সময় নষ্ট করার বিষয় নয়। ভালো ঘুম মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দেয়, মন ভালো রাখে, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায় এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।

পিএসআরআই হাসপাতালের ঘুম বিশেষজ্ঞ ডা. নীতু জৈন বলেন, কম ঘুমকে অনেকেই পরিশ্রম বা কর্মদক্ষতার প্রতীক মনে করেন। আবার পর্যাপ্ত ঘুমকে অলসতা বলে ভাবেন। কিন্তু বিজ্ঞান এ ধারণাকে সমর্থন করে না।

তার মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ভালো ঘুম প্রয়োজন। দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মনোযোগ কমে যায়, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দুর্বল হয় এবং মানসিক ভারসাম্যেও প্রভাব পড়ে।

এ ছাড়া নিয়মিত কম ঘুম হলে স্থূলতা, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়া, উদ্বেগ, বিষণ্নতা এমনকি ডিমেনশিয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, সবাই একই সময়ে ঘুমান না। কারও শরীর সকালে বেশি সক্রিয় থাকে, আবার কেউ রাতে বেশি স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারেন। তাই শুধু ভোরে ওঠাই শৃঙ্খলার পরিচয়—এমন ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

তাদের পরামর্শ, পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুমকে গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ সুস্থ থাকতে স্বাস্থ্যকর খাবার ও ব্যায়ামের মতোই ভালো ঘুমও সমান গুরুত্বপূর্ণ।