কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা-এআই কৃত্রিম হলেও তাদের দেয়া উত্তর মোটেই কৃত্রিম নয়। তবে মানুষ তো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চেয়েও চতুর। তাই তারা এরই মধ্যে এআই'য়ের অপব্যবহারে সিদ্ধহস্ত হয়ে গেছে। বেঙ্গালুরুর বহুল আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের আগে সন্দেহভাজন খুনী দীর্ঘদিন গুগলের এআই চ্যাটবট জেমিনি'র সাথে পরামর্শ করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, অভিযুক্ত জে কেনেথ (২৫) হত্যাকান্ডের আগে ৬ মাস ধরে এআই চ্যাটবট জেমিনির সাথে পরামর্শ করে হত্যাকাণ্ডের নিখুঁত ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করেছিলেন। সরাসরি প্রশ্ন না করে কাল্পনিক পরিস্থিতি সাজিয়ে তিনি এআই'য়ের কাছে নানান বিষয়ে জানতে চান। কেনেথের কৌতুহল ছিল, কীভাবে মানুষকে হত্যা করা যায়, কোন ধরনের ছুরিকাঘাত প্রাণঘাতী হয়, কীভাবে স্লো পয়জনিং করা যায়, কীভাবে মরদেহ গুম বা সহজে পুড়িয়ে ফেলা যায়, মোবাইল ফোন ব্যবহার না করে কীভাবে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে লুকিয়ে থাকা যায়। এআই'য়ের পরামর্শে কেনেথ তার বাসায় ক্লাউড কিচেন বসানোর নামে একটি লোহার চুল্লি স্থাপন করেছিলেন। তার পরিকল্পনা ছিল, এই চুল্লি লাশ গুম করার কাজে ব্যবহারের। হোয়াইটফিল্ড ডিভিশনের ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ-ডিসিপি সাইদুলু আদাবাত এসব তথ্য জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত জে কেনেথ একজন সফটওয়্যার ঈঞ্জিনিয়ার। সে শ্বেতা নামে আরেক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের সাথে লিভ-ইন সম্পর্কে ছিল। কিন্তু শ্বেতার পরিবার তাদের সম্পর্কটিকে স্বাভাবিকভাবে নেয়নি। তবুও তারা বিভিন্ন সময়ে মেয়েকে আর্থিকভাবে সহায়তা করেছে। তারপরও কেনেথ আর শ্বেতা প্রবল আর্থিক সঙ্কটে ছিল। ৫৬ লাখ টাকার ঋণের বোঝা, শ্বেতার পরিবারের অর্থ ফিরিয়ে দেয়াসহ নানাবিধ মানসিক চাপের কারণে কেনেথ তাদের হত্যার পরিকল্পনা করে।
গত ২২ জুন রাতে শ্বেতার বাবা সোমসুন্দর (৫৫), মা মুথুলক্ষ্মী (৪৮) এবং ছোট বোন সুপ্রিয়া (২০) পূর্ব বেঙ্গালুরুর কে. আর. পুরাম থানা এলাকার সিগেহাল্লিতে কেনেথ ও শ্বেতার ফ্ল্যাটে যান। সেখানে তাদের মধ্যে তুমুল তর্কাতর্কি শুরু হয়। ঘটনার শুরুতে শ্বেতার উপস্থিতিতে কেনেথ প্রথমে শ্বেতার মা মুথুলক্ষ্মীকে আক্রমণ করেন। চিৎকার শুনে বাবা ও ছোট বোন দরজার কাছে এগিয়ে এলে কেনেথ তাদের ওপরও ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে তিনজনকেই হত্যা করেন। পরিকল্পনামত হত্যা করতে পারলেও লাশ গুম করার সময় পাননি কেনেথ। জানাজানি হয়ে গেলে কেনেথ ও শ্বেতা দুজনই পদুচেরিতে পালিয়ে যান। অবশ্য পালানোর পরিকল্পনাও কাজে আসেনি। ২৪ ঘণ্টা পর আলাদাভাবে দুজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিসিপি সাইদুলু আদাবাত জানান, বাবা, মা ও ছোট বোনকে হত্যার সময় শ্বেতা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। সে এই পরিকল্পনা সম্পর্কে আগে থেকেই জানতো। শ্বেতা তার পরিবারের নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ পছন্দ করত না।
কেনেথের ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলোও জব্দ করা হয়েছে এবং ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে পুলিশের কাছে এআইয়ের সাথে কেনেথের চ্যাটের কোনো স্ক্রিনশট নেই। তাই পুলিশ এখন কেনেথের সার্চ হিস্ট্রি পাওয়ার জন্য গুগলের কাছে আবেদন করেছে। ডিসিপি আদাবাত বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি গুগলের কাছে ইতিমধ্যে একটি অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। এর জন্য একটি আইনি প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয় এবং সঠিক আইনি মাধ্যমের সাহায্যে প্রয়োজনীয় আবেদন করতে হয়।’







