সাইবার প্রতারণা ও সেক্সটর্শন (যৌন ব্ল্যাকমেইলের) সঙ্গে জড়িত বিদেশি ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নতুন ভিসা নিষেধাজ্ঞা নীতি ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রশাসন জানায়, এসব অপরাধ এখন দেশটির নাগরিকদের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের আওতায় এই নতুন নীতির ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি জানান, এই নিষেধাজ্ঞা শুধু অপরাধে সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের ওপর নয়, প্রয়োজনে তাদের ঘনিষ্ঠ পরিবারের সদস্যদের ওপরও প্রযোজ্য হতে পারে। এক বিবৃতিতে রুবিও বলেন, ‘এই নীতি তাদের লক্ষ্য করে নেওয়া হয়েছে, যারা সাইবার অপরাধ বা প্রযুক্তি ব্যবহার করে সংঘটিত অপরাধের জন্য দায়ী অথবা এসব অপরাধে সহায়তা করেছে। রুবিও বলেন, অনলাইনে বিনিয়োগের নামে প্রতারণার বড় একটি অংশ পরিচালনা করে ‘চীনের আন্তঃদেশীয় অপরাধী সংগঠনগুলো। তার দাবি, ২০২৪ সালেই এসব প্রতারণার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কাছ থেকে কমপক্ষে ১০ বিলিয়ন বা ১ হাজার কোটি মার্কিন ডলার হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এসব অপরাধ শুধু আর্থিক ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে দুর্নীতি, অর্থপাচার এবং মানবপাচারের মতো অপরাধও বাড়ছে।
আরো পড়ুন
ইরানে ‘বড় হামলার’ কথা ভাবছেন ট্রাম্প : অ্যাক্সিওস
যুক্তরাষ্ট্র বিদেশ থেকে পরিচালিত সেক্সটর্শন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, এসব চক্র পরিকল্পিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করছে। নতুন ভিসা নীতি কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা ব্যাখ্যা করে রুবিও বলেন, বিদেশি অপরাধীচক্র ধ্বংস করতে এবং তাদের সহযোগীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা ব্যবহার করবে। তিনি বলেন, ‘অপরাধী প্রতারণাচক্র ভেঙে দিতে এবং তাদের সহযোগীদের দায়বদ্ধ করতে ট্রাম্প প্রশাসন আমাদের হাতে থাকা সব উপায় ব্যবহার করছে। এর মধ্যে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা, বিচারপ্রক্রিয়া, সম্পদ জব্দ, প্রত্যর্পণের আবেদন এবং আন্তর্জাতিক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা। সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে এই নতুন পদক্ষেপ বিদেশ থেকে আসা নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের বড় পরিকল্পনার অংশ বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র দপ্তর।
আরো পড়ুন
আইসিসি ‘উন্মাদদের দ্বারা পরিচালিত বোকা সংস্থা’ : মার্কো রুবিও
এর এক সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র আরেকটি ভিসা নিষেধাজ্ঞা নীতি ঘোষণা করেছিল। ওই নীতির লক্ষ্য ছিল ‘অতি-বামপন্থী সন্ত্রাসী এবং তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর’ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। ১৬ জুলাই প্রকাশিত ওই ঘোষণায় বলা হয়, কিছু বিদেশি সংগঠন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণ করতে সহিংসতার পথ বেছে নিচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে বোমা হামলা, হত্যাকাণ্ড এবং ভয়ভীতি সৃষ্টি করা। ওই নীতির আওতায় এমন বিদেশি নাগরিকদের লক্ষ্য করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সমর্থন, উৎসাহ দেওয়া, অর্থায়ন, সদস্য সংগ্রহ বা সহিংস অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া যারা সহিংস গোষ্ঠীকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করে, উগ্রপন্থী নেটওয়ার্কের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি করে বা অর্থনৈতিক ক্ষতি করার মতো কর্মকাণ্ডে অংশ নেয়, তারাও নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারেন। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, নতুন এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সহিংস, অপরাধী ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত বিদেশি ব্যক্তিদের দেশটিতে প্রবেশ ঠেকানোর কৌশল আরো শক্তিশালী করা হচ্ছে।