• ই-পেপার

জাহাজ-কার্গোর ক্ষতিপূরণ ইরানের অর্থ থেকে দেবে যুক্তরাষ্ট্র : ট্রাম্প

স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, স্পেনে জাতীয় জরুরি অবস্থা

অনলাইন ডেস্ক
স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, স্পেনে জাতীয় জরুরি অবস্থা
ছবি : রয়টার্স

স্পেনের মাদ্রিদ অঞ্চল ও রাজধানীর পাশের আভিলা প্রদেশে ভয়াবহ দাবানলের কারণে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় তা নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার জরুরি ব্যবস্থা নিয়েছে। দ্রুত উদ্ধার ও আগুন নেভানোর কাজ চালাতে সামরিক জরুরি ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে।

দাবানলের কারণে মাদ্রিদ অঞ্চলে এখন পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে মাদ্রিদ থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরের আলদেয়া দে ফ্রেসনো শহরের তিন হাজার ৫০০ বাসিন্দাকে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

আভিলা প্রদেশে আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় বুরগোহোন্দো, এল তিয়েমব্লো ও নাভালুয়েঙ্গা এলাকার বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া এল তিয়েমব্লোর একটি পর্যটন কেন্দ্র ও একটি আবাসন প্রকল্প থেকে আরো এক হাজার ৫০০ জনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে বড় দাবানলটি গুয়াদালাহারা প্রদেশে, যা রাজধানী মাদ্রিদ থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তরে। গত বৃহস্পতিবার থেকে এ আগুনে প্রায় ৩২ হাজার হেক্টর জমি পুড়ে গেছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, দাবানল নিয়ন্ত্রণে সরকার সব ধরনের সম্পদ ব্যবহার করছে। তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।

ইউরোপিয়ান ফরেস্ট ফায়ার ইনফরমেশন সিস্টেম জানিয়েছে, এ বছর এখন পর্যন্ত স্পেনে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার হেক্টর বনভূমি পুড়ে গেছে। গত বছর পুরো বছরে পুড়েছিল ৩ লাখ ৯৩ হাজার হেক্টর এলাকা।

সাইবার স্ক্যাম ও সেক্সটর্শনে কঠোর হলো যুক্তরাষ্ট্র, নতুন ভিসা নীতি

অনলাইন ডেস্ক
সাইবার স্ক্যাম ও সেক্সটর্শনে কঠোর হলো যুক্তরাষ্ট্র, নতুন ভিসা নীতি
ছবি: রয়টার্স

সাইবার প্রতারণা ও সেক্সটর্শন (যৌন ব্ল্যাকমেইলের) সঙ্গে জড়িত বিদেশি ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নতুন ভিসা নিষেধাজ্ঞা নীতি ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রশাসন জানায়, এসব অপরাধ এখন দেশটির নাগরিকদের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের আওতায় এই নতুন নীতির ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি জানান, এই নিষেধাজ্ঞা শুধু অপরাধে সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের ওপর নয়, প্রয়োজনে তাদের ঘনিষ্ঠ পরিবারের সদস্যদের ওপরও প্রযোজ্য হতে পারে। এক বিবৃতিতে রুবিও বলেন, ‘এই নীতি তাদের লক্ষ্য করে নেওয়া হয়েছে, যারা সাইবার অপরাধ বা প্রযুক্তি ব্যবহার করে সংঘটিত অপরাধের জন্য দায়ী অথবা এসব অপরাধে সহায়তা করেছে। রুবিও বলেন, অনলাইনে বিনিয়োগের নামে প্রতারণার বড় একটি অংশ পরিচালনা করে ‘চীনের আন্তঃদেশীয় অপরাধী সংগঠনগুলো। তার দাবি, ২০২৪ সালেই এসব প্রতারণার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কাছ থেকে কমপক্ষে ১০ বিলিয়ন বা ১ হাজার কোটি মার্কিন ডলার হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এসব অপরাধ শুধু আর্থিক ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে দুর্নীতি, অর্থপাচার এবং মানবপাচারের মতো অপরাধও বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্র বিদেশ থেকে পরিচালিত সেক্সটর্শন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, এসব চক্র পরিকল্পিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করছে। নতুন ভিসা নীতি কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা ব্যাখ্যা করে রুবিও বলেন, বিদেশি অপরাধীচক্র ধ্বংস করতে এবং তাদের সহযোগীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা ব্যবহার করবে। তিনি বলেন, ‘অপরাধী প্রতারণাচক্র ভেঙে দিতে এবং তাদের সহযোগীদের দায়বদ্ধ করতে ট্রাম্প প্রশাসন আমাদের হাতে থাকা সব উপায় ব্যবহার করছে। এর মধ্যে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা, বিচারপ্রক্রিয়া, সম্পদ জব্দ, প্রত্যর্পণের আবেদন এবং আন্তর্জাতিক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা। সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে এই নতুন পদক্ষেপ বিদেশ থেকে আসা নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের বড় পরিকল্পনার অংশ বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র দপ্তর।

এর এক সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র আরেকটি ভিসা নিষেধাজ্ঞা নীতি ঘোষণা করেছিল। ওই নীতির লক্ষ্য ছিল ‘অতি-বামপন্থী সন্ত্রাসী এবং তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর’ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। ১৬ জুলাই প্রকাশিত ওই ঘোষণায় বলা হয়, কিছু বিদেশি সংগঠন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণ করতে সহিংসতার পথ বেছে নিচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে বোমা হামলা, হত্যাকাণ্ড এবং ভয়ভীতি সৃষ্টি করা। ওই নীতির আওতায় এমন বিদেশি নাগরিকদের লক্ষ্য করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সমর্থন, উৎসাহ দেওয়া, অর্থায়ন, সদস্য সংগ্রহ বা সহিংস অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া যারা সহিংস গোষ্ঠীকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করে, উগ্রপন্থী নেটওয়ার্কের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি করে বা অর্থনৈতিক ক্ষতি করার মতো কর্মকাণ্ডে অংশ নেয়, তারাও নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারেন। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, নতুন এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সহিংস, অপরাধী ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত বিদেশি ব্যক্তিদের দেশটিতে প্রবেশ ঠেকানোর কৌশল আরো শক্তিশালী করা হচ্ছে।
 

ইরানে ‘বড় হামলার’ কথা ভাবছেন ট্রাম্প : অ্যাক্সিওস

অনলাইন ডেস্ক
ইরানে ‘বড় হামলার’ কথা ভাবছেন ট্রাম্প : অ্যাক্সিওস
ছবি: রয়টার্স

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্ভাব্য এই অভিযান চলতি বছরের শুরুতে চালানো যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র চেয়েও বড় হতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। 

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে অ্যাক্সিওস জানায়, ট্রাম্প তাদের দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে বড় পরিসরের হামলার বিষয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেওয়ার একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি খুব বড় একটি হামলার কথা ভাবছি। আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বড়। আমি সিদ্ধান্ত নেওয়ার খুব কাছাকাছি আছি। এর জন্য আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।’ তবে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত দেশটির সামরিক বাহিনীকে নতুন কোনো অভিযানের জন্য আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দেওয়া হয়নি।

ট্রাম্প জানান, প্রয়োজন হলে ইসরায়েলি বাহিনী দ্রুত এই অভিযানে যুক্ত হতে পারে। তবে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক পদক্ষেপ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বিদেশি সহায়তার প্রয়োজন নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের কর্মকর্তারা আলোচনায় বসার আগ্রহ দেখালেও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দেওয়া সর্বশেষ সমঝোতা প্রস্তাবে তারা সম্মতি দেয়নি বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘তারা এখনো যথেষ্ট কষ্ট পায়নি।’ চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত আঞ্চলিক দুটি সূত্রের বরাতে অ্যাক্সিওস জানায়, তেহরানের নেতৃত্ব সর্বশেষ খসড়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। একটি সূত্র অ্যাক্সিওসকে বলেছে, ‘আমরা চেষ্টা করছি। কিন্তু ইরানিরা কোনো সহযোগিতা করছে না।’

এর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প ইরানকে কঠোর সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, হুথি বাহিনী যদি লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের ওপর আবার হামলা চালায়, তাহলে এর জন্য সরাসরি তেহরানকে দায়ী করবে ওয়াশিংটন। ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক শাস্তি দেওয়া হবে। আর অবশ্যই হুথিরাও এর শাস্তি পাবে।’ ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযান শুরু হওয়ার পর উত্তেজনা আরো বাড়ে। এর জবাবে ইরান ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।

পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত মাসে উভয় পক্ষ সংঘাত কমানোর লক্ষ্যে একটি সমঝোতা কাঠামোতে সই করে। তবে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার পর আবারও পাল্টাপাল্টি হামলার পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। এই অবস্থায় ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আবারও সামরিক পদক্ষেপের হুমকি আসায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নতুন করে বাড়ছে।
 

আইসিসি ‘উন্মাদদের দ্বারা পরিচালিত বোকা সংস্থা’: মার্কো রুবিও

অনলাইন ডেস্ক
আইসিসি ‘উন্মাদদের দ্বারা পরিচালিত বোকা সংস্থা’: মার্কো রুবিও
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি আদালতটিকে ‘বোকা একটি সংস্থা’ বলে মন্তব্য করেছেন এবং অভিযোগ করেছেন, আইসিসি এমন কিছু মানুষের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে যারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক পদক্ষেপ নিতে চাইছে।

বৃহস্পতিবার ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় আসিয়ান বৈঠকের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রুবিও। এ সময় তাকে প্রশ্ন করা হয়, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক আদালতের প্রয়োজন থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র কেন আইসিসির বিরোধিতা করছে। জবাবে রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য নয় এবং কখনোই আদালটির প্রতিষ্ঠার চুক্তিতে অংশ নেয়নি। তাই মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে আইসিসির কোনো বিচারিক ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে না। রুবিও বলেন, ‘আমরা আইসিসির সদস্য নই। আমরা কখনো সেই চুক্তিতে সই করিনি। আমরা কখনো এতে যোগও দিইনি। এরপরও তারা দাবি করছে, যারা ওই চুক্তির সদস্য নয়, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার তাদের আছে।’

তিনি আরো বলেন, আইসিসি রাষ্ট্রপ্রধানসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে বিচারের আওতায় আনার এবং কারাগারে পাঠানোর ক্ষমতা রাখে বলে দাবি করছে। যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, এটি আদালটির ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা। রুবিও বলেন, ‘আইসিসিতে এমন কিছু উন্মাদ মানুষ আছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের সেনাসদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার কথা বলছে। এমনকি বর্তমান বা ভবিষ্যতের মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনার কথা বলছে। এটা কখনোই হবে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘যারা এই সংস্থার সদস্য হতে চায়, তারা হতে পারে। কিন্তু আমরা এর সদস্য হব না। তারা মার্কিন নাগরিকদের ওপর তাদের বিচারিক ক্ষমতাও প্রয়োগ করতে পারবে না।’

রুবিও জানান, যুক্তরাষ্ট্র এর আগেও আইসিসিকে এ বিষয়ে সতর্ক করেছে। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন এখনো আদালটির দাবি মেনে নিচ্ছে না এবং ভবিষ্যতেও নেবে না। তার এই বক্তব্য এমন এক সময় এলো, যখন কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আইসিসিকে মার্কিন সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে একটি নতুন উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেয়। ১৩ জুলাই প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে একটি কর্মসূচি শুরু করেছেন। এর উদ্দেশ্য হলো আইসিসির কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা কমানো, মার্কিন সেনাসদস্য ও কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করার প্রচেষ্টা ঠেকানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা।

বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই আইসিসির প্রতিষ্ঠার মূল চুক্তি ‘রোম সংবিধি’-তে যোগ দেয়নি। এরপরও আদালতটি মার্কিন সেনাসদস্য ও কর্মকর্তাদের বিচার করার ক্ষমতা দাবি করছে। যুক্তরাষ্ট্র এটিকে ‘অসহনীয় হুমকি’ হিসেবে দেখছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অভিযোগ, এর আগে আইসিসি মার্কিন সেনাসদস্য ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছিল। ওয়াশিংটনের দাবি, আদালতটি ধীরে ধীরে এমন একটি বৈশ্বিক বিচারিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করতে চাইছে, যার ওপর কোনো জবাবদিহি নেই।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, আইসিসির বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপে কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগ বাদ দেওয়া হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে—মিত্র ও অংশীদার দেশগুলোকে মার্কিন নাগরিকদের ওপর আইসিসির বিচারিক ক্ষমতা প্রত্যাখ্যান করতে উৎসাহ দেওয়া, আইসিসিকে সমর্থনকারী দেশগুলোর ভূমিকা পর্যবেক্ষণ বাড়ানো এবং রোম সংবিধিতে যোগ না দেওয়া দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিকভাবে কাজ করা। এ ছাড়া আইসিসির কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আরো ভিসা নিষেধাজ্ঞা, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং অন্যান্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ও বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। রুবিওর মন্তব্য ও পররাষ্ট্র দপ্তরের এই উদ্যোগে আবারও স্পষ্ট হয়েছে, আইসিসির বিচারিক ক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আদালটির দীর্ঘদিনের বিরোধ আরো তীব্র হচ্ছে।