অপহরণ, হত্যাচেষ্টা, মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সেক্রেটারিসহ ১০ নেতার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ফটিকছড়ি থানায় মামলাটি করেন মোহাম্মদ ইমাম হোসেন নামে এক ব্যক্তি।
মামলার বাদী ইমাম হোসেন ফটিকছড়ি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর ধুরুং এলাকার বাসিন্দা। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিবির নেতা ও বর্তমানে পৌরসভা পেশাজীবী পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছেন।
মামলার আসামিরা হলেন উপজেলা জামায়াতের আমির নাজিম উদ্দীন ইমু, সাবেক আমির নাজিম উদ্দিন শিকদার, সেক্রেটারি ইউছুপ বিন সিরাজ, শ্রমিককল্যাণ ফেডারেশনের নেতা আবু জাফর, ইব্রাহিম খলিল, গিয়াস উদ্দিন রুবেল, রেজাউল করিম, কাজী মোহাম্মদ লোকমান, মোহাম্মদ রায়হান ও মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরো ৮-১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে ফটিকছড়ি সদর বিবিরহাটের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইমাম হোসেন দাবি করেন, গত ২০ জুলাই উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ফটিকছড়ি আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরের পক্ষে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া এবং জামায়াত প্রার্থীর দায়ের করা একটি মামলার সমালোচনা করায় এই হামলার সূত্রপাত।
ইমাম হোসেন বলেন, উপজেলা জামায়াতের আমির নাজিম উদ্দীন ইমুর নেতৃত্বে তাকে অপহরণ ও ছুরিকাঘাতের চেষ্টা করা হয়েছে।
তাকে জোরপূর্বক উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে মারধর ও হত্যার চেষ্টা করা হয়। পরদিন ২১ জুলাই রাত ৩টার দিকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও তিনি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।
অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা জামায়াতের আমির নাজিম উদ্দীন ইমু বলেন, বাদী দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে আসছিলেন। বিষয়টির নিষ্পত্তির জন্য উভয়পক্ষকে দলীয় কার্যালয়ে ডাকা হয়েছিল। সেখানে কাউকে অপহরণ বা মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজনকে আসামি করে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।




