বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিশরের বিতর্কিত হারের পর মাঠের উত্তেজনা এবার আছড়ে পড়ল ভার্চুয়াল দুনিয়ায়। ম্যাচ পরিচালনায় চরম পক্ষপাতিত্ব আর ‘অন্যায্য’ সিদ্ধান্তের অভিযোগে মিশরীয় সমর্থকদের নজিরবিহীন সাইবার আক্রমণের শিকার হয়েছেন ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের। তোপের মুখে টিকতে না পেরে শেষ পর্যন্ত নিজের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটিই বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন ৩৭ বছর বয়সী এই রেফারি।
গত ৭ জুলাই আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর সেই রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে মিশরকে ৩-২ ব্যবধানে হারায় আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচের ফল ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে এখন রেফারির কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। মিশরের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (ইএফএ) দাবি, ম্যাচের এমন কিছু দৃশ্য যা পরিষ্কার গোল এবং পেনাল্টি পাওয়ার যোগ্য ছিল, রেফারি লেতেক্সিয়ের তা ভিএআরে গিয়ে রি-চেক করতে সাফ অস্বীকৃতি জানান।
সবচেয়ে বেশি ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে রেফারি দ্বিমুখী নীতি। একদিকে আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের করা ফাউল বা ভুলগুলো ভিএআরে দেখতে চাননি তিনি, অন্যদিকে প্রায় একই রকম এক অজুহাতে মিশরের করা একটি নিশ্চিত গোল বাতিল করে দেন। এই কাণ্ড দেখে গ্যালারি থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সর্বত্রই ক্ষোভে ফেটে পড়েন ফুটবলপ্রেমীরা। প্রশ্ন ওঠে, লিওনেল মেসি ও তার দলকে টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখতেই কি ইচ্ছাকৃতভাবে এমন পক্ষপাতিত্ব করেছেন ফরাসি রেফারি?
মাঠের সেই ক্ষোভের আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে লেতেক্সিয়েরের ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে। মিশরীয় সমর্থক ও ফুটবল অনুরাগীরা খুঁজে বের করেন তার অ্যাকাউন্ট। এরপরই শুরু হয় মন্তব্য ও সমালোচনার সুনামি।
সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট ও ইনফ্লুয়েন্সারদের দেওয়া তথ্যমতে, ম্যাচের আগে লেতেক্সিয়েরের শেষ পোস্টে মাত্র ১২টি মন্তব্য ছিল। কিন্তু ম্যাচ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সেই পোস্টে মন্তব্যের সংখ্যা ছাড়িয়ে যায় ১৭ হাজার! যার সিংহভাগ জুড়েই ছিল আর্জেন্টিনার প্রতি তার প্রকাশ্য পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এবং তীব্র ক্ষোভের প্রকাশ। ট্রল, মিম আর তীব্র সমালোচনার এই পাহাড়সম চাপ সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত নিজের অ্যাকাউন্টটিই গুটিয়ে নেন এই ফরাসি রেফারি।
এদিকে মাঠের বাইরে এই লড়াইকে আরও উসকে দিয়েছে মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছে রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের ও তার সহকারী রেফারিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে তারা। হানি আবু রিদার নেতৃত্বাধীন মিশরীয় ফেডারেশন এখন এই ‘রেফারিং কেলেঙ্কারি’র শেষ দেখে ছাড়তে চায়।






