চলতি বছরের শুরুতে কাতারে দুই মহাদেশের সেরাদের ‘ফিনালিসিমা’য় মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল। তবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে ম্যাচটি বাতিল হয়ে যায়। অবশেষে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আগামী রবিবার এই মেগা ফাইনালটি কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ নয়। বরং এটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম রোমাঞ্চকর এক দ্বৈরথ এবং ব্যক্তিগত আবেগ ও নাটকে ভরপুর এক লড়াই হতে চলেছে।
আর্জেন্টিনা মাঠে নামে হৃদয়, আবেগ, আগ্রাসী মনোভাব পুঁজি করে। সেই সাথে থাকে ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির একক ক্যারিশমা। তাদের ফুটবল শৈলীতে রয়েছে লাতিন আমেরিকার চিরচেনা ছন্দ ও তীব্র লড়াইয়ের মানসিকতা। নকআউট পর্বের রাউন্ড ৩২, শেষ ষোলো, কোয়ার্টার ফাইনাল এবং সেমিতে যেভাবে দুর্দান্ত কামব্যাকে ম্যাচগুলোতে জয় তুলে নিয়েছে। তাতে দলীয় লড়াকু মানসিকতার চিত্র ফুটে উঠেছে।
অপরদিকে নিয়ন্ত্রণ, নিখুঁত পাসিং এবং মাঠে যেকোনো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে শান্তভাবে সামাল দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে স্পেনের। মাঠে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ও পাসিং ফুটবলকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে তারা। এই শান্ত মস্তিষ্ক যেকোনো প্রতিপক্ষকে বোকা বানাতে সক্ষম।
এদিকে লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারের সোনালী সময় কেটেছে স্পেনের ক্লাব বার্সেলোনায় । তাই স্পেনের বর্তমান স্কোয়াডের অনেক খেলোয়াড় এবং স্প্যানিশ ফুটবলের কৌশলের সাথে মেসি ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
স্পেনের বর্তমান ফুটবলের প্রাণভোমরা এবং উদীয়মান তারকা লামিন ইয়ামাল-এর সাথে মেসির তুলনা চলছে বিশ্বজুড়ে। এই তরুণ তারকা বার্সেলোনার একাডেমী থেকে উঠে এসেছেন। যাকে অনেকেই মেসির উত্তরসূরি ভাবছেন। ফাইনাল ম্যাচটি তাই জাদুকর মেসির শেষ বিশ্বকাপ অধ্যায়ের সাথে এক নতুন যুগের সূচনার লড়াই হিসেবে দেখছে বিশ্লেষকরা।
টানা দ্বিতীয়বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মুকুট ধরে রেখে লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে অনন্য উচ্চতায় শেষ করার লক্ষ্য আলবিসেলেস্তেদের।
এদিকে ইউরোপ সেরার মুকুট জেতার পর এবার বিশ্বজয়ের মাধ্যমে ফুটবল বিশ্বে নিজেদের পূর্ণ আধিপত্য কায়েম করতে চায় স্প্যানিশরা। আগামী রবিবারের ফাইনালে কার ফুটবল দর্শন শেষ পর্যন্ত বিশ্বজয় করবে? মেসির আবেগ নাকি স্পেনের নিখুঁত ছন্দ? তা দেখতে কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে গোটা বিশ্বকে।




