• ই-পেপার

আগস্টের মধ্যে ‘প্রবাসী কার্ডের’ পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালু

‘অনিশ্চয়তার’ মধ্যে যেভাবে পে স্কেলের গেজেট চূড়ান্ত হচ্ছে

অনলাইন ডেস্ক
‘অনিশ্চয়তার’ মধ্যে যেভাবে পে স্কেলের গেজেট চূড়ান্ত হচ্ছে
সংগৃহীত ছবি

নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এসংক্রান্ত উচ্চ পর্যায়ের সচিব কমিটি সুপারিশমালা প্রস্তুতের কাজ চালিয়ে গেলেও বাস্তবায়নের কৌশল, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি এবং প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে এখনো গেজেট প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।

এর ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পেনশনভোগী নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপনের অপেক্ষায় রয়েছেন। আগস্টে গেজেট প্রকাশ হবে নাকি অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুরুতে নতুন পে স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ছিল। সে অনুযায়ী প্রথম ধাপে নতুন মূল বেতনের একটি অংশ, দ্বিতীয় ধাপে বাকি অংশ এবং শেষ ধাপে নতুন ভাতা কার্যকর করার প্রস্তাব ছিল। তবে বাস্তব হিসাব-নিকাশে দেখা যায়, বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের কারণে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিতে প্রত্যাশিত বেতন বৃদ্ধি হবে না। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে বেতন কাঠামো জটিল হয়ে পড়ার আশঙ্কাও দেখা দেয়।

পরে দুই ধাপে বাস্তবায়নের চিন্তা করা হলেও সেটিও চূড়ান্ত হয়নি। বর্তমানে আবার নতুন করে তিন ধাপের একটি কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে মূল বেতন কার্যকর করা হবে এবং পরবর্তী ধাপগুলোতে ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা যুক্ত করা হতে পারে।

গত ১৫ জুলাই সচিব কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে পে স্কেল বাস্তবায়নের সম্ভাব্য ধাপ, আর্থিক প্রভাব, সফটওয়্যার কাঠামো, প্রশাসনিক জটিলতা এবং সরকারের সক্ষমতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সম্প্রতি ঢাকা সফরের সময় দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও মূল্যস্ফীতির মধ্যে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আইএমএফ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

নতুন অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ মোট বরাদ্দের পরিমাণ এক লাখ ২৫ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। এছাড়া জনপ্রশাসন খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দও রাখা হয়েছে, যার একটি বড় অংশ নতুন পে স্কেলের বাস্তবায়নে ব্যয় হতে পারে।

তবে বাজেটে অর্থ বরাদ্দ থাকলেও গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা কাটছে না। অনেক কর্মকর্তা বলছেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে বিদ্যমান বেতন দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই তারা দ্রুত নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির অপেক্ষায় রয়েছেন।

অন্যদিকে সচিব কমিটির সদস্যরা বলছেন, তাড়াহুড়া করে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর ও বাস্তবসম্মত একটি পে স্কেল বাস্তবায়নই তাদের লক্ষ্য। এজন্য প্রয়োজন হলে আরো বৈঠক করে পূর্ণাঙ্গ ও ত্রুটিমুক্ত সুপারিশ চূড়ান্ত করা হবে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে তা ১ জুলাই ২০২৬ থেকেই কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হলেও কার্যকর হওয়ার তারিখ পরিবর্তন হবে না।

উল্লেখ্য, জাতীয় বেতন কমিশন সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করেছিল। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার সেই প্রস্তাবে কিছু পরিবর্তন এনে নতুন কাঠামো চূড়ান্ত করার কাজ করছে।

প্রবাসী কার্ডে মিলবে যে ১০ বিশেষ সুবিধা

অনলাইন ডেস্ক
প্রবাসী কার্ডে মিলবে যে ১০ বিশেষ সুবিধা
সংগৃহীত ছবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগ-সংক্রান্ত একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে জানানো হয়, আগামী মাসের মধ্যে সরকারের ‘প্রবাসী কার্ড’-এর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করা হবে। শনিবার (১৮ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চামেলী হলে এ বৈঠক হয়।

সভায় জানানো হয়, প্রবাসী কার্ড চালুর মূল উদ্দেশ্য হলো প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, ক্ষমতায়ন, আর্থিক প্রণোদনা প্রদান এবং ডুয়াল কারেন্সি কার্ডের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ও ব্যাংকিং সুবিধা নিশ্চিত করা।

সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ক্রীড়া কার্ড বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রবাসী কার্ডও সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেই ধারাবাহিকতায় এর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা অন্তত ১০টি বিশেষ সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে—

১. দেশে ও বিদেশে কমপ্লিমেন্টারি এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ব্যবহারের সুবিধা এবং বিশেষ ইমিগ্রেশন বুথের মাধ্যমে দ্রুত সেবা।

২. আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কমপ্লিমেন্টারি মিট অ্যান্ড গ্রিট (Meet & Greet) সেবা।

৩. বিমান টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ে বিশেষ ছাড়।

৪. দেশে ও বিদেশে ন্যায্যমূল্যে গাড়ি বুকিং এবং সিগনেচার কার্ডধারীদের জন্য এয়ারপোর্ট পিক অ্যান্ড ড্রপ (Pick & Drop) সেবা।

৫. সরকারি হাসপাতালে প্রবাসী সেবা বুথ এবং বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবায় বিশেষ ছাড়।

৬. কার্ডধারীর মৃত্যু হলে বিনা খরচে মরদেহ দেশে পরিবহনের সুবিধা।

৭. প্রবাসফেরতদের পুনর্বাসন ও বীমা সুবিধা।

৮. জমি রেজিস্ট্রেশন, নামজারি, ইউটিলিটি সংযোগ, লাইসেন্স প্রদান এবং বৈদেশিক বিনিয়োগে অগ্রাধিকার।

৯. রেমিট্যান্স রিওয়ার্ড পয়েন্ট, ক্রেডিট স্কোরিং, ঋণ সুবিধা এবং কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি অর্থ প্রেরণ ও সহজ লেনদেনের সুবিধা।

১০. জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, কনস্যুলার সেবা, ব্যাংকিং এবং সরকার প্রদত্ত অন্যান্য সেবায় অগ্রাধিকার।

দেশেই উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে : রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশেই উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে : রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবীর রিজভী। ছবি : সংগৃহীত

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবীর রিজভী বলেছেন, ‘দেশের বিপুল জনসংখ্যা চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাচ্ছে। রোগীরা দেশের বাইরে যেন না যায়, তার ব্যবস্থা করতে হবে। অথচ ষাটের দশকে চিকিৎসার জন্য ভারতীয়রা রাজশাহীতে আসত।’

শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটির কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘মানুষের বাঁচা-মরার প্রশ্নের ক্ষেত্রে রাজনীতির প্রশ্ন আসতে পারে না। শুধু রাজনীতির কারণে চিকিৎসকদের বিবেচনা করা যাবে না। চিকিৎসকদের মেধা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগাতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘চিকিৎসা খাতে যে ঘাটতি আছে, সেসব পূরণ করতে পারলে সাধারণ মানুষের সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা যাবে।’

সরকার সেই চেষ্টা করছে বলেও জানান বিএনপির এই সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।

ট্রলার-নৌযান মালিকদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
ট্রলার-নৌযান মালিকদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা

উপকূলীয় অঞ্চলের জেলে, ট্রলার ও নৌযান মালিকদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা জানিয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। সতর্কবার্তায় পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত কোনো ট্রলার বা নৌযানকে মাছ ধরা বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সমুদ্রে না যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) এক বার্তায় এ অনুরোধ জানিয়েছেন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা সাব্বির আলম সুজন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর উপকূলীয় এলাকায় ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করেছে। এ অবস্থায় ট্রলার, মাছ ধরার নৌকা এবং অন্যান্য নৌযানের সমুদ্রে চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত কোনো ট্রলার বা নৌযানকে মাছ ধরা বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সমুদ্রে না যাওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হচ্ছে। 

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে সমুদ্রে অবস্থানরত সব ট্রলার, মাছ ধরার নৌকা ও অন্যান্য নৌযানকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে। নৌযান ও ট্রলারের মালিকদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে অথবা সমুদ্রে দুর্ঘটনার তথ্য জানাতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ যোগাযোগ যোগাযোগ করার আহ্বান জানাচ্ছি।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দেশের সমুদ্র ও উপকূলীয় অঞ্চলে জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং উদ্ধার কার্যক্রমে সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান তিনি।