ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি স্পেন ও আর্জেন্টিনা। ফাইনালটি দুই দেশের জাতীয় জার্সিতে অনুষ্ঠিত হলেও এই ম্যাচের সর্বত্র বার্সেলোনার ছায়া দেখতে পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন দুই কিংবদন্তি স্পেনের জাভি হার্নান্দেজ এবং আর্জেন্টিনার হাভিয়ের মাসচেরানো। শনিবার (১৮ জুলাই) নিউ ইয়র্কের বিশ্বকাপ ট্রফির রেপ্লিকার সামনে সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের সাথে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন তারা।
স্পেনের লা মাসিয়া (বার্সার একাডেমি) থেকে উঠে আসা তরুণ খেলোয়াড়দের থেকে শুরু করে বার্সেলোনা একাডেমির সবচেয়ে উজ্জ্বল আবিষ্কার লিওনেল মেসি—যিনি ৩৯ বছর বয়সেও নিজের ইচ্ছামতো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিচ্ছেন—সবখানেই ক্লাবের প্রভাব স্পষ্ট।
জাভি ছিলেন স্পেনের সেই সোনালি প্রজন্মের মূল স্তম্ভ, যাদের ‘টিকি-টাকা’ পজিশন গেম ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় দেশকে প্রথম বিশ্বকাপ এনে দিয়েছিল। অন্যদিকে, মাসচেরানো ছিলেন বার্সেলোনা ও আর্জেন্টিনা দলে মেসির সাবেক সতীর্থ এবং এই বছরের শুরুর দিক পর্যন্ত ইন্টার মায়ামিতে তাঁর কোচ।
স্পেন দলে রয়েছে বার্সার ব্যাপক প্রভাব, যার মধ্যে আছেন লামিনে ইয়ামাল এবং পাউ কুবারসি। এই দুই খেলোয়াড় যখন কিশোর ছিলেন, তখন বার্সেলোনার ম্যানেজার হিসেবে জাভি নিজেই তাদের পেশাদার ফুটবলে অভিষেক করিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা দলে আছেন মেসি, যিনি চার বছর আগে কাতারে তাঁর প্রথম বিশ্বকাপ জিতেছিলেন এবং ৩৯ বছর বয়সেও সমস্ত প্রতিকূলতাকে জয় করে দলকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে নিয়ে এসেছেন।
৪২ বছর বয়সী মাসচেরানো বলেন, মেসির কোনো কীর্তিই এখন আর কারও জন্য বিস্ময়কর হওয়া উচিত নয়—যদিও বাস্তবতায় তা এখনো সবাইকে অবাক করে।
মাসচেরানো বলেন, ‘সে একজন অনন্য সাধারণ খেলোয়াড়। আপনি তাঁর সাথে কারও তুলনা করতে পারবেন না। সে সম্পূর্ণ আলাদা, একেবারেই ভিন্ন। প্রতিবার যখন আমরা তাঁকে দেখি, প্রতিবারই তা এক বিস্ময় নিয়ে আসে। কারণ সে এমন অনেক কিছু করছে যা আমরা অন্য কোনো খেলোয়াড়ের মধ্যে কখনই দেখব না। তাই আমার মনে হয়, ভবিষ্যতে তাঁর মতো খেলোয়াড় খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে। আমি মনে করি এটা অসম্ভব।’
বার্সেলোনায় মেসির সাথে বছরের পর বছর ধরে মাঝমাঠের জাদু দেখানো ৪৬ বছর বয়সী জাভি এবং মাসচেরানো একই সাথে বসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২-১ গোলের জয় ম্যাচটি দেখছিলেন।
এ সময় জাভি বলেন, ‘আমরা একসাথে ম্যাচটি দেখছিলাম এবং মাসচেরানো আমাকে বলল, ‘৩৯ বছর বয়স, আর সে মাঠে কী করছে!’
এটি সত্যিই অসাধারণ। সে ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় এবং সে এখনো মাঠে পার্থক্য গড়ে দিচ্ছে। তাঁর উচ্চাকাঙ্ক্ষা, তাঁর মনোভাব—সে একজন যোদ্ধা। সে নিঃসন্দেহে সর্বকালের সেরা বলে যোগ করেন সাবেক এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার।
জাভির থেকে আরো একধাপ এগিয়ে মাসচেরানো বলেন, ‘মেসি এখনো যেন ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে ধরে রেখেছেন।’
আমার মনে হয় সে এখনো প্রমাণ করছে যে সেই এই খেলার মালিক। বল যখন তাঁর পায়ে থাকে, তখন সে নিজেই সিদ্ধান্ত নেয় যে সে ম্যাচটি জেতাতে যাচ্ছে এবং সে ঠিক সেটাই করে দেখায় বলে যোগ করেন সাবেক এই আর্জেন্টাইন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার।
জাভির জন্য আগামী রবিবারের ফাইনালের গর্ব শুধু মেসিকে ঘিরেই নয়। তিনি জানান, ১৫ বছর বয়সের লামিনে এবং ১৬ বছর বয়সের কুবারসিকে খুব কাছ থেকে দেখার পর, আজ তাদেরকে বিশ্বকাপ ফাইনালিস্ট হিসেবে পরিপক্ক হতে দেখাটা তাঁর জন্য অত্যন্ত তৃপ্তিদায়ক।
জাভি বলেন, ‘বার্সেলোনার ফুটবল দর্শন এই দুই ফাইনালিস্টের মধ্যেই প্রবাহিত হচ্ছে।’ যদিও মাসচেরানো দ্রুত মনে করিয়ে দেন বর্তমান আর্জেন্টিনা দলে বার্সেলোনার খুব বেশি খেলোয়াড় নেই।
আমাদের দলে বার্সার খুব বেশি খেলোয়াড় নেই, তবে খেলার ধরনটা অনেকটাই সেরকম। আমার কাছে, এই টুর্নামেন্টের তারাসেরা দুটি দল। যারা একই শৈলীতে খেলে। তারা বল পায়ে রেখে খেলতে পছন্দ করে এবং বল না থাকলে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না। সম্ভবত যে দল বলের দখল বেশি রাখতে পারবে, তারাই ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করবে বলে যোগ করেন মাসচেরানো।
এটি আমাদের জন্য সম্ভাব্য সেরা একটি ফাইনাল হবে বলে জানান এই দুই সাবেক ফুটবলার। তবে জয়ী কে হবে তা নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতেনি কেউই।