• ই-পেপার

ফাইনালে আর্জেন্টিনা নাকি স্পেন কার পক্ষে বাজি ইব্রাহিমোভিচের

ইরানে খেলতে যাওয়ায় বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলারকে ফাইনাল দেখার ভিসা দিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র

ক্রীড়া ডেস্ক
ইরানে খেলতে যাওয়ায় বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলারকে ফাইনাল দেখার ভিসা দিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র
বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে স্পেনের ডিফেন্ডার ক্যাপদেভিলা। ছবি : এক্স থেকে

দীর্ঘ ১৬ বছর পর ফাইনালের টিকিট পেয়েছে স্পেন। নিজেদের ইতিহাসের একমাত্র সোনালি ট্রফিটি জিতেছে ২০১০ বিশ্বকাপে। ইতিহাস গড়া বিশ্বকাপে স্পেনের হয়ে সেবার সব ম্যাচই খেলেছেন হোয়ান ক্যাপদেভিলা। উত্তরসূরিরা ফাইনালে ওঠায় ভীষণ খুশি স্পেনের প্রথম বিশ্বকাপজয়ী দলের লেফ্ট ব্যাক।

সন্তানদের নিয়ে তাই ফাইনাল ম্যাচটি দেখতে চান ক্যাপদেভিলা। কিন্তু তার সাধে বাদ সাধছে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা। আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনাল দেখতে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে থাকতে চেয়েও পারছেন না তিনি। ২০১০ বিশ্বকাপজয়ী ডিফেন্ডারকে ভিসা দিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহায়তা চেয়েছেন ক্যাপদেভিলা। সামাজিক মাধ্যমে ৪৮ বছর বয়সী ডিফেন্ডার লিখেছেন, ‘আমাকে সাহায্য করুন, ডোনাল্ড ট্রাম্প! আমি ২০১০ বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারছি না!’

 

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক সিস্টেম ফর ট্রাভেল অথরাইজেশনে (ইএসটিএ) আবেদন করে প্রত্যাখ্যান হয়েছেন ক্যাপদেভিলা। তিনি লিখেছেন, ‘তারা আমাকে জানিয়েছে, আমার ইএসটিএ আবেদন বাতিল হওয়ায় সন্তানদের নিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে যেতে পারব না আমি।’

ফাইনাল দেখতে এবং স্পেনকে সমর্থন জানাতে কতটা মুখিয়ে আছেন তা ভাষায় বোঝাতে পারছেন না জানিয়ে ক্যাপদেভিলা লিখেছেন, ‘কেউ কি আমাকে সাহায্য করতে পারেন? ২০১০ সালের সতীর্থদের সঙ্গে এবং বর্তমান স্পেন দলকে সমর্থন জানাতে সেখানে উপস্থিত থাকতে কতটা মুখিয়ে আছি, তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। বিশ্বাসই করতে পারছি না, আমাকে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। ফুটবলপাগল সন্তানদের নিয়ে এমন মুহূর্তও আমাকে মিস করতে হবে। কেউ যদি এই সমস্যার সমাধান জানেন, তাহলে আমি সারাজীবন তার কাছে কৃতজ্ঞ থাকব।’

 

ভিসা কেন পাচ্ছেন না সেটাও জানিয়েছেন ক্যাপদেভিলা। ১০ বছর আগে ইরানে ফুটবল ম্যাচ খেলতে গিয়েছিলেন তিনি। সেটাই আজ ফাইনাল দেখার পথে বাধা হয়েছে। তিনি লিখেছেন, ‘কারণ হচ্ছে? ১০ বছর আগে একটি ফুটবল ম্যাচ খেলতে গিয়েছিলাম। এ কারণেই এখন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারছি না’

বিষয়টি সমাধানের জন্য ট্রাম্পকেই শুধু ট্যাগ করেননি, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও স্পেন সরকারের ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কেও করেছেন।

ইয়ামালদের শৈল্পিক ফুটবলের মুখোমুখি মেসিদের লড়াকু মানসিকতা

ক্রীড়া ডেস্ক
ইয়ামালদের শৈল্পিক ফুটবলের মুখোমুখি মেসিদের লড়াকু মানসিকতা

চলতি বছরের শুরুতে কাতারে দুই মহাদেশের সেরাদের ‘ফিনালিসিমা’য় মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল। তবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে ম্যাচটি বাতিল হয়ে যায়। অবশেষে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে তারা। 

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আগামী রবিবার এই মেগাফাইনালটি কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ নয়। বরং এটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম রোমাঞ্চকর এক দ্বৈরথ এবং ব্যক্তিগত আবেগ ও নাটকে ভরপুর এক লড়াই হতে চলেছে।

আর্জেন্টিনা মাঠে নামে হৃদয়, আবেগ, আগ্রাসী মনোভাব পুঁজি করে। সেই সাথে থাকে ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির একক ক্যারিশমা। তাদের ফুটবল শৈলীতে রয়েছে লাতিন আমেরিকার চিরচেনা ছন্দ ও তীব্র লড়াইয়ের মানসিকতা। নকআউট পর্বের রাউন্ড ৩২, শেষ ষোলো, কোয়ার্টার ফাইনাল এবং সেমিতে যেভাবে দুর্দান্ত কামব্যাকে ম্যাচগুলোতে জয় তুলে নিয়েছে। তাতে দলীয় লড়াকু মানসিকতার চিত্র ফুটে উঠেছে। 
 
অপরদিকে নিয়ন্ত্রণ, নিখুঁত পাসিং এবং মাঠে যেকোনো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে শান্তভাবে সামাল দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে স্পেনের। মাঠে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ও পাসিং ফুটবলকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে তারা। এই শান্ত মস্তিষ্ক যেকোনো প্রতিপক্ষকে বোকা বানাতে সক্ষম।

এদিকে লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারের সোনালী সময় কেটেছে স্পেনের ক্লাব বার্সেলোনায় । তাই স্পেনের বর্তমান স্কোয়াডের অনেক খেলোয়াড় এবং স্প্যানিশ ফুটবলের কৌশলের সাথে মেসি ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

স্পেনের বর্তমান ফুটবলের প্রাণভোমরা এবং উদীয়মান তারকা লামিন ইয়ামাল-এর সাথে মেসির তুলনা চলছে বিশ্বজুড়ে। এই তরুণ তারকা বার্সেলোনার একাডেমী থেকে উঠে এসেছেন। যাকে অনেকেই মেসির উত্তরসূরি ভাবছেন। ফাইনাল ম্যাচটি তাই জাদুকর মেসির শেষ বিশ্বকাপ অধ্যায়ের সাথে এক নতুন যুগের সূচনার লড়াই হিসেবে দেখছে বিশ্লেষকরা।

টানা দ্বিতীয়বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মুকুট ধরে রেখে লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে অনন্য উচ্চতায় শেষ করার লক্ষ্য আলবিসেলেস্তেদের।

এদিকে ইউরোপ সেরার মুকুট জেতার পর এবার বিশ্বজয়ের মাধ্যমে ফুটবল বিশ্বে নিজেদের পূর্ণ আধিপত্য কায়েম করতে চায় স্প্যানিশরা। আগামী রবিবারের ফাইনালে কার ফুটবল দর্শন শেষ পর্যন্ত বিশ্বজয় করবে? মেসির আবেগ নাকি স্পেনের নিখুঁত ছন্দ? তা দেখতে কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে গোটা বিশ্বকে।

কানাডার দাবানল : ফাইনালের ম্যাচে ধোঁয়ার প্রভাব সামান্য থাকবে

ক্রীড়া ডেস্ক
কানাডার দাবানল : ফাইনালের ম্যাচে ধোঁয়ার প্রভাব সামান্য থাকবে

কানাডার অন্টারিওতে লাগা ভয়াবহ দাবানল থেকে নির্গত ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে (বিশেষ করে নিউইয়র্ক ও নিউজার্সিতে) ছড়িয়ে পড়েছে। নিউজার্সিতে ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচে সামান্য প্রভাব ফেলবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া পূর্বাভাস সংস্থা ।

শনিবার (১৮ জুলাই) বৃষ্টির ফলে বাতাসের মান উন্নত হওয়ায় ম্যাচের দিন পরিস্থিতি আরো ভালো হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। খবর রয়টার্স

এই বৃষ্টির ফলে বাতাসের সব ধোঁয়া ও কুয়াশাচ্ছন্ন ভাব কেটে যাবে। ম্যাচের দিন আগামী রবিবার পরিস্থিতি ‘অস্বাস্থ্যকর’ থেকে উন্নত হয়ে ‘সহনীয়’  পর্যায়ে চলে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ম্যাচটি দেখতে ৮০ হাজারের বেশি দর্শক সমাগম হবে শহরটিতে। চলতি সপ্তাহে কানাডার ভয়াবহ দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশাল এলাকা ঢেকে ফেলে। যার ফলে বায়ুর মান নিয়ে সতর্কতা জারি করে স্থানীয় প্রশাসন।

আর্জেন্টিনাকে নিয়ে সতর্ক করলেন বিশ্বকাপজয়ী কোচ

ক্রীড়া ডেস্ক
আর্জেন্টিনাকে নিয়ে সতর্ক করলেন বিশ্বকাপজয়ী কোচ
স্পেনের ২০১০ বিশ্বকাপজয়ী কোচ ভিসেন্তে দেল বস্ক। ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে দলকে সতর্ক করে স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী কোচ ভিসেন্তে দেল বস্ক বলেছেন, তারা যেন আর্জেন্টিনাকে কোনোভাবেই হালকাভাবে না নেয়। তাদের (আর্জেন্টিনা) খেলোয়াড়দের আগ্রাসী মনোভাবও মাথা ব্যথার কারণ হিসেবে বিবেচনা করেন তিনি।

শনিবার (১৮ জুলাই) স্প্যানিশ সংবাদপত্র ‘এল পাইস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। খবর রয়টার্স

 আর্জেন্টিনার লড়াকু মনোভাব এবং অভিজ্ঞতার ভূয়সী প্রশংসা করে ৭৫ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি কোচ বলেন, ‘আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে খেলা যেকোনো দলের জন্যই অত্যন্ত কঠিন। তারা মাঠের পরিস্থিতি অনুযায়ী খুব ভালো করে জানে ঠিক কখন কী করতে হবে।’

সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‌‘এটি স্পেনের জন্য বড় শিক্ষণীয় উদাহরণ।’

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি ফাইনালটি স্পেনের অনুকূলেই থাকবে, কিন্তু আর্জেন্টাইনদের ব্যাপারে তাদের সতর্ক থাকতে হবে, কারণ তাদের মোকাবেলা করা বেশ কঠিন এবং তাদের অভিজ্ঞতাও অনেক বেশি।’

শক্তির বিচারে ফাইনালে স্পেন কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞতার কারণে ম্যাচটি অত্যন্ত কঠিন হবে বলে যোগ করেন তিনি।

বর্তমান স্প্যানিশ দল যেভাবে পুরো টুর্নামেন্টে আধিপত্য বিস্তার করে খেলছে, তাতে তিনি দলের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছেন এবং ট্রফি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।

আগামী রবিবার নিউইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার বিশ্বকাপ ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে।