সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয়ে ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলে প্রতারণা ও অবৈধ সুবিধা আদায়ের অভিযোগে আতিয়ার দর্জি (৪৪) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১০।
শনিবার (১৮ জুলাই) ফরিদপুরে র্যাব-১০-এর সিপিসি-৩ ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কম্পানি কমান্ডার মেজর ফারহান মাহমুদ মোক্তাদা এ তথ্য জানান।
এর আগে শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আতিয়ার দর্জি ওই উপজেলার আজিমনগর এলাকার মৃত আব্দুল বাকী দর্জির ছেলে।
র্যাব জানায়, একটি সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্র দীর্ঘদিন ধরে সরকারের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ ব্যক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের নাম-ছবি ব্যবহার করে ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করে আসছিল। এসব অ্যাকাউন্ট থেকে সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তি এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের প্রভাবশালী পরিচয় দিয়ে তদবির, প্রভাব বিস্তার এবং অবৈধ সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করা হতো।
র্যাব আরো জানায়, বিষয়টি যাচাই করে দেখতে পাওয়া যায়, ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টগুলোর সঙ্গে যাদের পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে, তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। পরে রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলা করা হয়। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তকে শনাক্ত করে র্যাব।
অভিযানের সময় আতিয়ারের কাছ থেকে একটি ব্যক্তিগত মাইক্রোবাস, সাতটি মোবাইল ফোন, বিভিন্ন ব্যাংকের পাঁচটি এটিএম কার্ড এবং নগদ ৮ হাজার ৯০০ টাকা জব্দ করা হয়। পরে তাকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মেজর ফারহান মাহমুদ মোক্তাদা বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সরকারি উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের পরিচয় ভুয়াভাবে ব্যবহার করে প্রতারণা ও অবৈধ সুবিধা আদায়ের চেষ্টা গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে প্রতারকরা ভুয়া লটারি, চাকরি বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সেবাকেন্দ্রিক প্রতারণার পাশাপাশি সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয়ে মানুষের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করছে। তাই কোনো ব্যক্তি হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্য কোনো মেসেজিং অ্যাপে সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে যোগাযোগ করলে তার পরিচয় অন্য মাধ্যমে যাচাই করার আহ্বান জানায় র্যাব। পাশাপাশি পরিচয় নিশ্চিত না হয়ে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন, ব্যাংক হিসাবের তথ্য, ওটিপি বা ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।