• ই-পেপার

‘ঘরের সব ভেঙে শেষ করে দিছে, এখন আমাদের আর কিছুই রইল না’

মানিকগঞ্জে নিখোঁজ দুই মাদরাসাছাত্রী সাভার থেকে উদ্ধার

সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
মানিকগঞ্জে নিখোঁজ দুই মাদরাসাছাত্রী সাভার থেকে উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার একটি কওমি মাদরাসা থেকে নিখোঁজ হওয়া দুই ছাত্রীকে দুই সপ্তাহ পর সাভার থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশ ও মাদরাসা সূত্র জানায়, উপজেলার জামিয়া জয়নব বিনতে জাহাশ (রা.) সৈয়দা গোলজান বেগম মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুদুরী জামাতের দুই ছাত্রী গত ৩ জুলাই মাদরাসার গার্ডকে ফাঁকি দিয়ে বের হয়ে যান। পরে তারা আর ফিরে না আসায় ৯ জুলাই দুই ছাত্রীর অভিভাবক সাটুরিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

নিখোঁজের পর পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের সন্ধানে কাজ শুরু করে।

মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, শুক্রবার নিখোঁজ দুই ছাত্রী তাদের এক বান্ধবীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে আর্থিক সংকটে থাকার কথা জানায়। বিষয়টি ওই বান্ধবী মাদরাসার প্রিন্সিপাল মুফতি মোশাররফ হোসেনকে অবহিত করেন। পরে তিনি অভিভাবকদের জানালে তারা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করেন। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সাভার থেকে দুই ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, মাদরাসা থেকে বের হয়ে দুই ছাত্রী সাভারের পপুলার হাসপাতালের কাছে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। তারা গার্মেন্টসে চাকরি করে নতুন জীবন শুরু করতে চেয়েছিলেন। তবে চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় তারা কাজ পাননি। আর্থিক সংকটে পড়ে বান্ধবীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে সেখান থেকেই তাদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দীর্ঘদিন মাদরাসায় লেখাপড়ার পর তারা ভিন্নভাবে জীবন গড়ার পরিকল্পনা করে সেখান থেকে চলে গিয়েছিল। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চালিয়ে দুই ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে শনিবার দুপুরে তাদের অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কমলনগরে কাজ না করেই ২৮ লাখ টাকার বিল উত্তোলন

রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
কমলনগরে কাজ না করেই ২৮ লাখ টাকার বিল উত্তোলন
চরকাদিরা কে এম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ নির্মাণকাজ শুরু না করেই ২৮ লাখ ১০ হাজার টাকার বিল উত্তোলনের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কাদের মোজাহিদের বিরুদ্ধে। উপজেলার চরকাদিরা কে এম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি নির্মাণ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে এ অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪)-এর আওতায় কমলনগর উপজেলার নয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য পাঁচটি প্যাকেজে মোট ২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এর মধ্যে চরকাদিরা কে এম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অতিরিক্ত একটি শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ফয়সাল ব্রাদার্স। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় ২৮ লাখ ১০ হাজার টাকা। চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো নির্মাণকাজই শুরু হয়নি বলে অভিযোগ।

শনিবার সরেজমিন বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের তৃতীয় তলার ছাদে কিছু ভাঙা ইটের খোয়া পড়ে আছে। মাঠে দুই ট্রাক তিন নম্বর ইটের কণা রাখা থাকলেও নির্মাণকাজের কোনো অগ্রগতি নেই। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, ব্যবস্থাপনা কমিটি ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ‘৩০ জুনের আগেই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এখন পর্যন্ত এক টাকারও কাজ হয়নি। বিষয়টি একাধিকবার উপজেলা প্রকৌশলীকে জানিয়েছি। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে শুনছি, কাজ না করেই বিল উত্তোলন করা হয়েছে।’

তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ফয়সাল ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী মো. রুবেল দাবি করেন, ‘কাজ করার জন্য তিনবার বিদ্যালয়ে গিয়েছি। কিন্তু স্কুলে খেলাধুলার অজুহাতে প্রধান শিক্ষক কাজ করতে দেননি। কাজ না করেই বিল নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। উপজেলা প্রকৌশলী হয়তো ‘প্রি-অর্ডার’ করে টাকা সংরক্ষণ করে রেখেছেন।’

কমলনগর এলজিইডি কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করা শর্তে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘নিয়মানুযায়ী প্রি-অর্ডার বলতে কোনো সিস্টেম নেই। প্রি-অর্ডার মানে হলো দুর্নীতি করা। কাগজ-কলমে শতভাগ কাজ দেখিয়ে সরকারি অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলন করে ওই টাকা উপজেলা প্রকৌশলীর নিজস্ব অ্যাকাউন্টে এনে রেখেছেন। পরে সময়মতো নামেমাত্র কাজ দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করাই হলো প্রি-অর্ডার করা।’

এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কাদের মোজাহিদ বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়নি, এটি সত্য। আমরা প্রি-অর্ডার করে টাকা রেখে দিয়েছি। কাজ সম্পন্ন হলে বিল দেওয়া হবে।’

এলজিইডির লক্ষ্মীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেন কাজ শেষ হয়নি, তা তদন্ত করে দেখা হবে। সংশ্লিষ্ট কারো গাফিলতি পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নোয়াখালী অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মহসিন বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভোলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ২ হাসপাতালকে জরিমানা

ভোলা প্রতিনিধি
ভোলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ২ হাসপাতালকে জরিমানা
ছবি : কালের কণ্ঠ

ভোলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে একটি বেসরকারি হাসপাতাল ও একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে মোট দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ রি-এজেন্ট ও ইনজেকশন সংরক্ষণ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে অনিয়ম এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পরীক্ষা-নিরীক্ষা পরিচালনার অভিযোগে এ জরিমানা করা হয়।

শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত শহরের সদর রোড ও মাসুমা খানম স্কুল রোড এলাকায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (এসি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জয়নাল আবেদীন।

অভিযানে মাসুমা খানম স্কুল রোডের আস-সুন্নাহ জেনারেল হাসপাতাল থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ রি-এজেন্ট ও ইনজেকশন সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে অনিয়ম পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে সদর রোডের যমুনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা পরিচালনার দায়ে আরো এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জয়নাল আবেদীন জানান, দীর্ঘদিন ধরে জেলার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ আসছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পুলিশ ও র‌্যাবের সমন্বয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

তিনি বলেন, ‘মানুষের নিরাপদ ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।’

বাঁশবাগানে পড়ে ছিল আ. লীগ নেতার গলা কাটা মরদেহ

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, পাবনা
বাঁশবাগানে পড়ে ছিল আ. লীগ নেতার গলা কাটা মরদেহ
সংগৃহীত ছবি

পাবনার সাঁথিয়ায় আব্দুল শুকুর (৪৮) নামের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্থানীয় এক নেতার গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে উপজেলার আতাইকুলা থানার ভুলবাড়িয়া ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামের একটি বাঁশবাগান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। 

আতাইকুলা থানার ওসি মজিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

মৃত আব্দুল শুকুর রতনপুর গ্রামের রুকুম আলীর ছেলে। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভুলবাড়িয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সহসভাপতি ছিলেন। 

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত ৯টার দিকে রাতের খাবার খেয়ে বাড়ি থেকে বের হন আব্দুল শুকুর। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি তিনি। শনিবার সকালে পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি আতাইকুলা থানায় জানানো হলে পুলিশ অনুসন্ধানে নামে। পরে শনিবার বিকেলে রতনপুর এলাকার আজিজের বাড়ির পাশের একটি বাঁশবাগান থেকে তার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

এ ব্যাপারে আতাইকুলা থানার ওসি মজিবুর রহমান জানান, নিখোঁজের খবর পেয়ে পুলিশ অভিযানে নামে এবং একপর্যায়ে তার মরদেহ উদ্ধার হয়। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।