• ই-পেপার

রক্তঝরা অমর একুশে আজ, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

রামিসা হত্যার রায় ৩ মাসের মধ্যে কার্যকর করা সম্ভব : আইনমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
রামিসা হত্যার রায় ৩ মাসের মধ্যে কার্যকর করা সম্ভব : আইনমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, পল্লবীর শিশু রামিসা আক্তারের ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় তিন মাসের মধ্যে কার্যকর করা সম্ভব। রবিবার (৭ জুন) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ছয় কার্যদিবসের মধ্যে মামলার রায় দেওয়া হয়েছে এবং সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ করা গেলে তিন মাসের মধ্যেই তা কার্যকর করা সম্ভব। আইনে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া না থাকলেও প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করেই এই মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। রায় নিয়ে সরকার সন্তুষ্ট এবং আশা করা হচ্ছে, উচ্চ আদালতেও এটি বহাল থাকবে।’

আরো পড়ুন
রামিসা হত্যা মামলার রায় বিচারিক প্রক্রিয়ার মাইলফলক : অ্যাটর্নি জেনারেল

রামিসা হত্যা মামলার রায় বিচারিক প্রক্রিয়ার মাইলফলক : অ্যাটর্নি জেনারেল

 

তিনি জানান, আইনি ধাপগুলো অনুসরণ না করে দ্রুত কার্যকর করা হলে প্রশ্ন উঠতে পারে। আসামিরা চাইলে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবে, সেখানেও নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী সাত দিনের মধ্যে মামলার নথি ডেথ রেফারেন্স কনফার্মেশনের জন্য হাইকোর্টে পাঠানো হবে উল্লেখ করে মো. আসাদুজ্জামান জানান, এরপর সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে পেপার বুক প্রস্তুত করা হবে এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী শুনানি শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

এদিকে, এদিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্বপ্না আক্তারকে আদালতে আনা হয়। পরে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে প্রিজনভ্যানে করে আদালতে হাজির করা হয়। তাদের আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।

আরো পড়ুন
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য বড় সুখবর

কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য বড় সুখবর

 

গত ৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ৭ জুন রায়ের দিন ধার্য করা হয়। মাত্র চার কার্যদিবসে বিচারকাজ সম্পন্ন হয় এবং রায়কে ঘিরে আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এর আগে ১ জুন সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ২ জুন ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনের সময় আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।

ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রায়ে সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এর পাশাপাশি সোহেলকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তাদের সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থ ভুক্তভোগী পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়।

ডেঙ্গু মোকাবেলায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
ডেঙ্গু মোকাবেলায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
সংগৃহীত ছবি

ডেঙ্গু মোকাবিলায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। রবিবার (৭ জুন) বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ডেঙ্গুর চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে কর্মশালায় তিনি এ আহ্বান জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু মোকাবেলা করতে হবে। যদিও তা মোকাবেলা করা সহজ হবে না। এজন্য সারা দেশের নালা-খাল পরিষ্কার করতে হবে। এটা বিরাট কর্মযজ্ঞ।

মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ডেঙ্গুর চিকিৎসা পদ্ধতি শুনে ভয় পেয়েছি। প্লাজমার লিকেজ ঠেকাতে ডাক্তারদের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করতে হবে।

তিনি বলেন, সবার প্রচেষ্টায় আমরা দেশটাকে যেভাবে স্বাধীন করেছি, ঠিক সেভাবে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারবে ডেঙ্গু মোকাবেলা করতে।

তিনি আরো বলেন, জলে-স্থলে-ছাদে তিনটি স্থানেই সমান নজর রাখতে হবে। এ কাজে সিটি করপোরেশনগুলোকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। একটা ভুল সব কিছুকেই ব্যর্থ করে দিতে পারে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কর্মপরিকল্পনার কথা জানালেন মাহদী আমিন

অনলাইন ডেস্ক
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কর্মপরিকল্পনার কথা জানালেন মাহদী আমিন
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি টেকসই, বাস্তবসম্মত ও যুগান্তকারী কর্মপরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা  বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

রবিবার (৭ জুন) সকালে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাবিষয়ক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মাহদী আমিন বলেন, দেশের সর্ববৃহৎ উচ্চশিক্ষা নেটওয়ার্ক হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ডিগ্রি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হয়ে থাকবে না; বরং জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সুনাগরিক তৈরির অন্যতম সূতিকাগারে পরিণত হবে। এটাই সরকারের সংকল্প।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘গত সাড়ে তিন মাসে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যে কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে, তার ভিত্তি প্রধানমন্ত্রীর সুদূরপ্রসারী ভিশন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো। আমরা বিশ্বাস করি, উচ্চশিক্ষাকে শুধু সনদনির্ভর না করে কর্মমুখী, দক্ষতাভিত্তিক এবং জীবনঘনিষ্ঠ করতে হবে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণ, ক্যারিয়ার সেন্টার ও জব প্লেসমেন্ট কার্যক্রম চালু, ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কলাবোরেশন শক্তিশালীকরণ, এপ্রেন্টিসশিপ ও ইন্টার্নশিপের সুযোগ বৃদ্ধি, ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার প্রতিষ্ঠা ও তৃতীয় ভাষা শিক্ষার প্রসার, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচি, ‘ওয়ান স্টুডেন্ট ওয়ান ট্রি’ উদ্যোগ এবং পরিবেশ ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে খাল খননসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের উদ্দেশ্য একটি যোগ্য, দায়িত্বশীল এবং আত্মনির্ভরশীল তরুণ প্রজন্ম গড়ে তোলা।’

প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে মাহদী আমিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন।

মাহদী আমিন বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অতি স্বল্প সময়ে যে অগ্রগতি ও অর্জনের স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়েছে, তা অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই পরিবর্তনের বার্তা নতুন আশার সঞ্চার করছে এবং উচ্চশিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক সংস্কারের অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে এই অগ্রযাত্রা আরো বেগবান হবে।’

তিনি বলেন, প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক, নির্বাচিত সরকারের কাছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপ্তি ও বিস্তৃতির মধ্যে। দেশের সর্বাধিক শিক্ষার্থী, অর্থাৎ ৩০ লাখেরও বেশি ছাত্র-ছাত্রী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ ২,২৮৫টি কলেজে অধ্যয়ন করে। নারীর ক্ষমতায়নকে প্রস্ফুটিত করে, শুধু এই বছরে বিভিন্ন কলেজে ভর্তি হয়েছে ৪ লাখের বেশি ছাত্রী। প্রতিবছর সর্বাধিকসংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েট হিসেবে বের হয়ে আসে। এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সেই গ্র্যাজুয়েটদের বড় একটি অংশ কর্মসংস্থান খুঁজে পায় না, ফলে শিক্ষিত বেকারত্বের বেড়াজালে বন্দি হয়ে পড়ে। তাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবর্তন মানে শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তন নয়; বরং সমগ্র বাংলাদেশের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং লাখ লাখ পরিবারের ভাগ্যের পরিবর্তন। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পুরো জাতির বিনির্মাণ ও অগ্রগতির প্রশ্ন।

মাহদী আমিন বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় রাজধানীকেন্দ্রিক কোনো প্রতিষ্ঠান নয়; এটি সারা দেশজুড়ে বিস্তৃত একটি বিশাল উচ্চশিক্ষা নেটওয়ার্ক। শহর থেকে মফস্বল, জেলা থেকে উপজেলা, একেবারে তৃণমূল পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়নের অন্যতম প্রধান বাহন হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করে যাচ্ছে। তাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শক্তিশালীকরণ মানে  প্রধানমন্ত্রীর যে রাজনৈতিক দর্শন, অর্থাৎ তৃণমূলের শক্তিশালীকরণ, স্থানীয় সম্ভাবনার বিকাশ এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার পথকে সুদৃঢ় করা।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, জনগণের সরকার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং মানসম্মত শিক্ষার সম্প্রসারণে বেশ কিছু যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ও ফলাফল প্রক্রিয়ায় ডিজিটাইজেশন এবং বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে নিরাপদ ক্যাম্পাসে সেশনজট অপসারণকে প্রাধান্য দিয়ে একটি গৌরবময়, আধুনিক ও মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যার ইতিবাচক ফল শিগগিরই পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও পরিকল্পনায় আমরা এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা বিনির্মাণ করতে চাই, যেখানে উদ্দীপ্ত শিক্ষার্থীরা একদিকে যেমন দেশপ্রেম, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং মানুষের প্রতি মমত্ববোধে উদ্বুদ্ধ হবে; অন্যদিকে কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা, সক্ষমতা ও ব্যাবহারিক জ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে। প্রতিষ্ঠানসমূহে শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে ক্লাবভিত্তিক সহশিক্ষা কার্যক্রম যেমন-বিতর্ক, বিজ্ঞানমেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সাহিত্যচর্চাকে উৎসাহিত করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি খেলাধুলায় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিতকরণে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও টুর্নামেন্ট নিয়মিত আয়োজন করা হবে। শিক্ষা শুধু সার্টিফিকেট অর্জনের মাধ্যম হবে না; বরং তা হবে প্রশিক্ষিত, কর্মদক্ষ, সৃজনশীল ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক তৈরির প্রধান ভিত্তি।

তিনি বলেন, ‘মানবসম্পদ উন্নয়নের সেই পথযাত্রায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের কাছে শুধুই একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; বরং গণমানুষের আবেগ, আকাঙ্ক্ষা ও অনুভূতির প্রতীক। কারণ, ১৯৯২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য ছিল উচ্চশিক্ষাকে দেশের প্রতিটি প্রান্তে, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, শিক্ষায় বৈষম্যহীনতার মাধ্যমে সমতা নিশ্চিত করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মাধ্যমে জাতির অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করা। দেশনেত্রীর পরিকল্পনার যথার্থতা আমরা আশপাশের দেশগুলোর দিকে তাকালেই দেখতে পাই।’

তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন দেশের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি তাদের ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট-এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। যেমন অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর, সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ন্যাশনাল তাইওয়ান ইউনিভিার্সিটি কিংবা ন্যাশনাল অটোনোমাস ইউনিভার্সিটি অব মেক্সিকো-এই প্রতিটি প্রতিষ্ঠান নিজ-নিজ দেশের জ্ঞানচর্চা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের অগ্রভাগে অবস্থান করছে। ন্যাশনাল শব্দটি সেখানে শুধু নামের অংশ নয়; বরং জাতীয় উৎকর্ষ, চরিত্র গঠন ও নেতৃত্বের প্রতীক।

তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ সময়ে রাষ্ট্র কাঠামোর অন্যান্য অংশের মতো শিক্ষা ব্যবস্থাকেও ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, ধুলিস্যাৎ করা হয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্যকেও। দেশের সর্ববৃহৎ এ বিশ্ববিদ্যালয়কে এমনভাবে অবহেলা করা হয়েছে, যেখান থেকে কর্মসংস্থান ও স্বনির্ভরতার সুযোগ ছিল অনেকটাই বিচ্ছিন্ন ও হতাশাজনক। সেই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে-জাতীয় ঐতিহ্য, তারুণ্যের অপার সম্ভাবনা ও গণমানুষের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে-জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে গণতান্ত্রিক বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রীর রয়েছে একটি টেকসই, বাস্তবসম্মত ও যুগান্তকারী কর্মপরিকল্পনা। আমরা বিশ্বাস করি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নতুনভাবে তার ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করবে। দেশের প্রান্তিক জনপদ থেকে উঠে আসা লাখ লাখ শিক্ষার্থী শুধু ডিগ্রিধারী নয়; বরং কর্মদক্ষ, সৃজনশীল, প্রযুক্তিবান্ধব ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলবে। তারা হবে আগামীর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং জাতীয় সমৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি।’

মাহদী আমিন বলেন, ‘এই শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়; এটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপান্তরের অভিযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষকদের হাত ধরেই দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে সক্ষম হব, যারা জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি জীবন ও কর্মক্ষেত্রে সফল হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও সক্ষমতা অর্জন করবে।’

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর প্রথম ৩০ দিন, ৬০ দিন ও ১০০ দিনের যে অবিস্মরণীয় অর্জন, সেটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। অনেকেই যে পরিবর্তনকে দীর্ঘমেয়াদি কর্মযজ্ঞ বলে মনে করেছিলেন, তার বাস্তবায়ন ও গণপ্রত্যাশার পূরণ ভোটদানের কালি শুকানোর আগেই দৃশ্যমান হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত প্রধান অঙ্গীকারগুলোর প্রায় সবগুলোরই দ্রুততম অগ্রগতি জাতির সামনে নতুন আশা ও সফলতার মানদণ্ড স্থাপন করেছে।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন—শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের  উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ প্রমুখ।

কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য বড় সুখবর

নিজস্ব প্রতিবেদক
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য বড় সুখবর
সংগৃহীত ছবি

ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে অর্থ আয় করেন কনটেন্ট ক্রিয়েটররা। সরকার তাদের আয় থেকে ৭.৫০ শতাংশ হারে উৎসে কর কেটে রাখে। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে এই খাতকে করমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এমন প্রস্তাব থাকতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে সাইবার নিরাপত্তা, এআইসহ (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) পাঁচটি খাতে দুই লাখ ও ফ্রিল্যান্সিং/কনটেন্ট ক্রিয়েশনে আট লাখ নতুন কর্মসংস্থানের ঘোষণা ছিল। একই সঙ্গে শক্তিশালী নীতিমালা প্রণয়ন, জাতীয় সাইবার নিরাপত্তাকেন্দ্র স্থাপন, ই-ওয়ালেট চালু, ১০ বছরের কর সুবিধা ও উদ্যোক্তাদের জন্য ভর্তুকিযুক্ত ঋণ ও স্টার্টআপ তহবিল গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।

দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারে অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণ, বিনিয়োগ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত সংস্কার, শিল্প খাত ও সৃজনশীল অর্থনীতির উন্নয়ন, সেবা খাত উন্নয়ন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও পরিবহন খাত উন্নয়ন, রাজস্ব আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনা ও আইসিটি খাতকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারা

যারা বিভিন্ন ডিজিটাল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তথ্যবহুল, শিক্ষণীয় বা বিনোদনমূলক ছবি, অডিও-ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করেন, তাদেরই ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ বলা হয়। তারা ইউটিউব অ্যাডসেন্স বা ফেসবুক মনিটাইজেশন, ব্র্যান্ড প্রমোশন বা স্পন্সরশিপের মাধ্যমে অর্থ আয় করেন। সেই টাকা থেকে ব্যাংক স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৭.৫০ শতাংশ টাকা কেটে রাখে। বাকি টাকা তিনি পারিশ্রমিক হিসাবে পেয়ে থাকন।

জানা গেছে, ২০২৩ সালের আয়কর আইনে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের কোনো সংজ্ঞা তুলে ধরা হয়নি। তবে যাদের নিজস্ব কোনো অফিস নেই বা প্রান্তিক পর্যায়ে কাজ করে খুব সীমিত আয় করেন, তারাই এই সুবিধার আওতায় পড়বেন। যেমন—একটি মিডিয়া অফিস ফেসবুক পেজ থেকে আয় করলে সেখান থেকে ৭.৫০ শতাংশ টাকা কর দিতে হবে। তবে সেই প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মী ছোট আকারে ফেসবুক থেকে আয় করলে তাকে কর দেওয়া লাগবে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) একজন শীর্ষ কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকারের মূল লক্ষ্য দেশের সাধারণ নাগরিকদের অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নেওয়া। তাদের উৎসাহিত করতেই কর ছাড়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

সরকারের এই উদ্যোগের পর ডাচ-বাংলা ব্যাংক এরই মধ্যে ফ্রিল্যান্সিং আয়ের ওপর থেকে উৎসে কর কর্তন স্থগিতের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকটি জানিয়েছে, এরই মধ্যে যেসব ফ্রিল্যান্সারের অ্যাকাউন্ট থেকে কর বাবদ টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে, তা দ্রুত ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার ব্যাংকটির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ডাচ-বাংলা ব্যাংকের জনসংযোগ কর্মকর্তা সগীর আহমেদ বলেন, ‘আইটি ফ্রিল্যান্সারদের আয়ের ওপর আগে থেকেই নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী ৭.৫০ শতাংশ হারে উেস কর কাটা হতো। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক ব্যাংক দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি যাদের অ্যাকাউন্ট থেকে এরই মধ্যে কর কেটে নেওয়া হয়েছে, সেই অর্থ কিভাবে দ্রুত ফেরত দেওয়া যায় সে বিষয়েও কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’

এর আগে নিত্যপণ্যের ওপর উেস কর ০.৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও জনস্বার্থে তা বাতিল করেছে সরকার। এ ছাড়া মোটরসাইকেল-অটোরিকশার কর বাতিল, সম্পদ কর ও উত্তরাধিকার করের উদ্যোগ বাতিল, রপ্তানি প্রণোদনার ওপর বাড়তি কর আরোপ থেকে ইউটার্ন নিয়ে অর্ধেক করা, আবগারি শুল্কের হার তিন লাখ থেকে বাড়িয়ে পাঁচ লাখ টাকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।