দেশজুড়ে তীব্র গরমের দাপট খানিকটা কমেছে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে হওয়া বিচ্ছিন্ন বৃষ্টিপাতে। তবে এখনো দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রির ঘরেই অবস্থান করছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু সারা দেশে বিস্তার লাভ করতে পারে। এর ফলে আগামী ৫ দিনে দেশজুড়ে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরো বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে।
এদিকে রবিবার (৭ জুন) রাতের মধ্যেই দেশের ১৮টি জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা জানিয়েছেন, রবিবার রাত ১টার মধ্যে ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেটের উপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এদিকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী ৫ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির পাশাপাশি কোথাও কোথাও ভারি বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানিয়েছেন, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিরাজমান রয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছে। এটি আগামী ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে সারা দেশে বিস্তার লাভ করার অনুকূল অবস্থায় রয়েছে।
এই অবস্থায় সোমবার (৮ জুন) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে এই সময়ে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।
এদিকে মঙ্গলবার (৯ জুন) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
পাশাপাশি বুধবার (১০ জুন) একই সময় পর্যন্ত সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে এই দুই দিনেও দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
শুক্রবার (১২ জুন) একই সময় পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া এই দুই দিনেও দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।
রবিবার সন্ধ্যায় রাজশাহীতে দেশের সর্বোচ্চ ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পাশাপাশি এই সময়ে রাজধানী ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় মাদারীপুরে দেশের সর্বোচ্চ ৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ৮৩ মিলিমিটার ছাড়াও কক্সবাজারে ৬২, যশোরে ৫৭, সিলেটে ৫৫, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ৪৪, মানিকগঞ্জের আরিচায় ৩২ মিলিমিটারসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি হয়েছে। এই অবস্থায় বর্ধিত ৫ দিনে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।




