২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র কয়েকদিন আগে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভিসা ইস্যু। ইরান অভিযোগ করেছে, জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের ভিসা দিলেও দলের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ও কারিগরি স্টাফদের একটি বড় অংশকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা দেওয়া হয়নি।
শুক্রবার (৫জুন) যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেন যে, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য ইরানের সব খেলোয়াড় এবং প্রয়োজনীয় সহায়ক স্টাফদের ভিসা দেওয়া হয়েছে। তবে একইসঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেন, এই প্রক্রিয়ার অপব্যবহার করে কাউকে ‘ভুয়া পরিচয়ে সন্ত্রাসী’ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
এরপরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় ইরান। তুরস্কে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘খেলাধুলায় রাজনৈতিক পক্ষপাতমূলক হস্তক্ষেপের’ অভিযোগ তোলে। তাদের দাবি, দলের ব্যবস্থাপনা ও নির্বাহী পর্যায়ের অনেক কর্মকর্তা এবং কারিগরি উপদেষ্টাদের ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি, সহ-সভাপতি ও মিডিয়া পরিচালকসহ অন্তত ১৫ জন প্রশাসনিক কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাননি।
ইরানি দল ইতোমধ্যে তুরস্কে তাদের অনুশীলন ক্যাম্প শেষ করে মেক্সিকোর উদ্দেশে রওনা হয়েছে, যেখানে তারা বিশ্বকাপকালীন বেস ক্যাম্প স্থাপন করবে। প্রায় ২০ ঘণ্টার যাত্রা শেষে দলটির আজ স্থানীয় সময় ভোরে মেক্সিকো পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
মেক্সিকোয় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, দেওয়া ভিসার শর্ত অনুযায়ী ম্যাচের দিনই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ এবং ম্যাচ শেষে একই দিনে দেশ ছাড়তে হবে ইরানি ফুটবলারদের।
এক বিবৃতিতে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণাকে ‘সত্য গোপনের চেষ্টা’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তারা বলেছে, ‘ইরানের ফুটবল দলের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত ও বৈষম্যমূলক আচরণকে আপনারা এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছেন।’
এ ঘটনায় ফিফার হস্তক্ষেপও কামনা করেছে ইরান। দেশটির কূটনৈতিক কর্মকর্তারা বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে বিষয়টি তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।
আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে শুরু হবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। ইরান তাদের প্রথম ম্যাচ খেলবে ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। এরপর ক্যালিফোর্নিয়ায় বেলজিয়াম এবং সিয়াটলে মিশরের মুখোমুখি হবে তারা।





