যুক্তরাষ্ট্রের ওহিও অঙ্গরাজ্যের টলেডো শহরের গ্রীষ্মকালীন একটি উৎসবের কাছে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১২ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত ‘সন্দেহভাজন বা সন্দেহভাজনদের’ খুঁজছে স্থানীয় পুলিশ। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
টলেডো পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৩৭ মিনিটে ‘ওল্ড ওয়েস্ট অ্যান্ড ফেস্টিভ্যাল’-এর কাছে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে বেশ কয়েকজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। এদের মধ্যে ১০ জন স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন এবং দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
টলেডোর মেয়র ওয়েড ক্যাপসুকেভিচ স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘ডব্লিউটিওইএল ১১’-কে জানিয়েছেন, গুলিবিদ্ধ সবাই বেঁচে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
টলেডোর ডেপুটি পুলিশ প্রধান জো বলেছেন, দেখে মনে হচ্ছে দুজন ব্যক্তি অস্ত্র দিয়ে গুলি চালিয়েছে এবং তারা ‘সম্ভবত একে অপরকে লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছিল’।
অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, আচমকা একঝাঁক গুলির শব্দে মানুষজন চিৎকার করতে করতে দিগ্বিদিক ছুটে পালাচ্ছেন। অন্য কিছু ভিডিওতে দেখা যায়, দুইজনকে স্ট্রেচারে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং বেশ কয়েকজন রক্তাক্ত মানুষকে একটি শামিয়ানার পাশে ঘাসের ওপর পড়ে আছেন। বিবিসি এই ভিডিওগুলোর সত্যতা এখনো পুরোপুরি যাচাই করতে পারেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে।
উৎসবের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ‘ওল্ড ওয়েস্ট অ্যান্ড ফেস্টিভ্যাল’ হলো দুই দিনব্যাপী একটি আয়োজন। লাইভ মিউজিক, ফুড মার্কেট, বিয়ার গার্ডেন এবং শপিংয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহত্তম এই ঐতিহাসিক এলাকাটি উদযাপন করতে প্রতি বছর বহু মানুষ এখানে সমবেত হন।
পুলিশ জানিয়েছে, উৎসবের যেখানে গান ও খাবারের আয়োজন ছিল, অর্থাৎ ‘ডেলাওয়্যার অ্যাভিনিউ’ ও ‘রবিনউড অ্যাভিনিউ’-এর সংযোগস্থলকে কেন্দ্র করে বর্তমানে তদন্ত চালানো হচ্ছে।
এই ঘটনার পর ওহিও’র গভর্নর মাইক ডিওয়াইন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘গ্রীষ্মকালীন এই উৎসবগুলো হওয়া উচিত ছিল পরিবারের সবার একসঙ্গে নির্ভয়ে সময় কাটানোর একটি নিরাপদ জায়গা। ওল্ড ওয়েস্ট অ্যান্ড ফেস্টিভ্যালের এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সবার জন্য আমি ও ফ্রান (গভর্নরের স্ত্রী) প্রার্থনা করছি। আমরা বিশ্বাস করি আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুতই এই কাণ্ডজ্ঞানহীন অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে সক্ষম হবে।’






