• ই-পেপার

চোটে ব্রাজিলের ‘ভরসার’ বিশ্বকাপ শেষের শঙ্কা

২০২২ বিশ্বকাপ : পেনাল্টির রেকর্ড গড়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্ক
২০২২ বিশ্বকাপ : পেনাল্টির রেকর্ড গড়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা
ছবি : রয়টার্স

কাতার বিশ্বকাপ ২০২২ ছিল আর্জেন্টিনার জন্য স্বপ্নপূরণের মঞ্চ। দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় আলবিসেলেস্তেরা। এই আসরেই দীর্ঘ ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা ঘুচিয়ে বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা মেসিও। তবে এই শিরোপা জয়ের পথে তারা গড়েছিল একটি অনন্য রেকর্ডও।

পুরো টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনা পেয়েছিল পাঁচটি পেনাল্টি, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে এক আসরে কোনো দলের সর্বোচ্চ পেনাল্টি পাওয়ার রেকর্ড। এর আগে একক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ চারটি পেনাল্টি পাওয়ার রেকর্ড ছিল পর্তুগাল (১৯৬৬) এবং নেদারল্যান্ডসের (১৯৭৮)।

কাতারে আর্জেন্টিনার পাঁচটি পেনাল্টির সবকটিই নিয়েছিলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। সৌদি আরব, নেদারল্যান্ডস, ক্রোয়েশিয়া এবং ফ্রান্সের বিপক্ষে চারটি পেনাল্টি থেকে গোল করেন তিনি। শুধুমাত্র পোল্যান্ডের বিপক্ষে একটি পেনাল্টি মিস করেছিলেন তিনি।

বিশেষ করে নকআউট পর্বে এই পেনাল্টিগুলো আর্জেন্টিনার জন্য হয়ে ওঠে বড় সহায়ক। কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে, সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে এবং ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে পাওয়া পেনাল্টিগুলো ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে অনেক দলই পেনাল্টির সুবিধা পেয়েছে, কিন্তু কোনো দলই এর আগে এক আসরে পাঁচবার স্পট কিকের সুযোগ পায়নি। সেই রেকর্ড গড়ে আর্জেন্টিনা শুধু শিরোপাই জেতেনি, বরং বিশ্বকাপের পরিসংখ্যানেও নিজেদের নাম লিখিয়েছে নতুনভাবে।

অনেকের মতে, কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি ছিল গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোকে কাজে লাগানোর ক্ষমতা। আর সেই মুহূর্তগুলোর বড় অংশই এসেছে  স্পট কিক থেকে।

তাই ২০২২ বিশ্বকাপের গল্প বলতে গেলে শুধু মেসির জাদু, মার্তিনেজের দুর্দান্ত সেভ কিংবা বাকিদের লড়াই নয়, মনে রাখতে হবে আরেকটি পরিসংখ্যানও, পাঁচ পেনাল্টির রেকর্ড গড়ে ইতিহাসের পাতায় নিজেদের বিশ্বজয়কে আরো স্মরণীয় করে তুলেছিল আর্জেন্টিনা।

রেকর্ড ভাঙার ‘বুলডোজার’ বৈভবের অপেক্ষায় ক্রিকেটবিশ্ব

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
রেকর্ড ভাঙার ‘বুলডোজার’ বৈভবের অপেক্ষায় ক্রিকেটবিশ্ব
বৈভব সূর্যবংশী। ছবি : বিসিসিআই

ক্রিকেট শুদ্ধতায় বিশ্বাসী অনেকে আইপিএল ফলো করেন না, টি-টোয়েন্টির নাম শুনলেও নাক সিটকান অনেকেই। আইপিএল ফলো করুন আর না-ই করুন, এমনকি ক্রিকেট নিয়ে বিন্দুমাত্র আগ্রহ না থাকলেও আপনি নিশ্চয়ই বৈভব সূর্যবংশীর নাম শুনেছেন ইতোমধ্যেই। এমনকি ক্রিকেটের ক না জানলেও হয়তো সূর্যবংশীর নাম আপনার কানের পোকা নাড়িয়ে দিয়েছে। বছর দুয়েক ধরে ফিসফাস হলেও মাস দুয়েক ধরে আইপিএলে সূর্যবংশী যা করেছেন, কানে তুলো দিয়ে রাখলেও আপনি তাকে এড়াতে পারবেন না। তারপরও যদি কোনোভাবে বৈভব সূর্যবংশী নামটি আপনি না শুনে থাকেন, তবে নিজের কান এবং মনকে তৈরি করে রাখুন। আগামী অনেক বছর অনলাইনে, অফলাইনে, গুগলে, চ্যাট জিপিটিতে, মাঠে-ময়দানে আপনাকে এই নামটি বারবার শুনতে হবে।

অথচ বৈভবের দল এবার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়নি, আসলে ফাইনালেই ওঠেনি। ফাইনালে না ওঠা দলের সদস্য সূর্যবংশী এবারের আইপিএলে ৫টি পুরস্কার জিতেছেন। মানুষটা ছোট, জিতেছেন বড় বড় সব পুরস্কার। সবচেয়ে বেশি রান (৭৭৬), সুপার স্ট্রাইকার অব দ্যা সিজন (স্ট্রাইক রেট ২৩৭.৩০ ), সবচেয়ে বেশি ছক্কা (৭২)। 

মজাটা হলো সবচেয়ে বেশি ছক্কার রেকর্ডটা শুধু এবারের নয়। আইপিএলে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ছক্কা মারতে গিয়ে তিনি ভেঙ্গেছেন কিংবদন্তী ক্রিস গেইলের ৫৯ ছক্কার রেকর্ড। আইপিএল শুরুর পরে জন্ম নেয়া বৈভব ছক্কার রেকর্ডকে আকাশে তুলে নিয়েছেন গেইলের চেয়ে অনেক কম বল খেলে। এরপরের দুটি পুরস্কার আরো ইন্টারেস্টিং। একই সঙ্গে বৈভব এবারের আইপিএলের সবচেয়ে মূল্যবান খেলোয়াড় এবং সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ও। গাড়ি চালানোর লাইসেন্স পেতে আরো তিনবছর লাগবে। কিন্তু এখনই তার গ্যারেজে তিনটি বিলাসবহুল গাড়ি জায়গা করে নিয়েছে। 

বয়স মাত্র ১৫। এখনো ভারতের মূল দলে খেলার সুযোগ পাননি। কিন্তু আইপিএল, বয়সভিত্তিক ক্রিকেট, ঘরোয়া ক্রিকেটে বৈভব যা করেছেন, তাতেই লন্ডভন্ড হয়ে গেছে রেকর্ডের খাতার অনেক পাতা। বৈভব যেন ‘বুলডোজার’ নিয়ে মাঠে নামেন একের পর এক রেকর্ড ভেঙ্গে চুরমার করার জন্য। 

এই ছেলে কোথায় গিয়ে থামবেন, তা নিয়েই সবাই হিসাব কষছেন। ব্র্যাডম্যানের রেকর্ড আর শচিনের মোট রানের রেকর্ড ছাড়া আর কোনো রেকর্ডকেই নিরাপদ মনে হচ্ছে না। সব রেকর্ডের কথা লিখলে এই লেখা পড়ার ধৈর্য্য থাকবে না আপনাদের। এবারের আইপিএলে বৈভবের সবগুলো ইনিংসই ছিল দুর্দান্ত, তাক লাগানো। আইপিএলকে যারা গোনায় ধরেন না, তারা যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৮০ বলে ১৭৫ রানের ইনিংসটা দেখতে পারেন।

ভারতের সবচেয়ে কম বয়সী লিস্ট এ খেলোয়াড়, সবচেয়ে কম বয়সে আইপিএল খেলা, সবচেয়ে কম বয়সে আইপিএল সেঞ্চুরি- রেকর্ডের আসলে কোনো শেষ নেই। কনিষ্ঠতা নিয়েই তো অনেক রেকর্ড। 

এবার গড়তে যাচ্ছে, আরো একটি বিশ্বরেকর্ড। ১৫ বছর বয়সী বৈভব ডাক পেয়েছেন ভারতের জাতীয় দলে। আগামী ২৬ জুন থেকে ১১ জুলাই আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফর করবে ভারত। সেই সফরে ভারত দলের সঙ্গী হবেন বৈভব সূর্যবংশী। ১৫ বছর বয়সী এই বালককে দেখেশুনে রাখার জন্য সফরে যাবেন বৈভবের বাবা-মাও, তা-ও বোর্ডের খরচে। এমন প্রতিভার পেছনে টাকা খরচ করেও শান্তি। বৈভবের জাতীয় দলে ডাক পাওয়াটা সময়ের ব্যাপার ছিল মাত্র। ভারতের নির্বাচকরা তো আর ভিনগ্রহের বাসিন্দা নন। বৈভব যে ‘বুলডোজার’ নিয়ে সব লন্ডভন্ড করে দিচ্ছে, তা তো তারা নিজের চোখেই দেখেছেন। 

সমস্যা হলো বৈভবের রেকর্ডের খাতার দিকে তাকালে বয়সের দিকে তাকানোর ফুরসত মেলে না। আবার চেহারায় সারল্য আর বয়সজনিত চপলতা দেখলে রেকর্ড বিশ্বাস হতে চায় না। ভারতের মানুষ ক্রিকেটে খায়, ক্রিকেটে ঘুমায়, ক্রিকেটে স্বপ্ন দেখে। প্রায় দেড়শ কোটি মানুষের প্রত্যাশা তো আছেই, গোটা ক্রিকেট বিশ্বই এখন বৈভবে বুঁদ। কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের মুখে বৈভব বন্দনার প্রতিযোগিতা। ভাববেন না, সবাই বৈভবের রান করা দেখে বুঝি মুগ্ধ। আসল কারণ যেভাবে রান করেন, সেই ধরনটা। ব্যাপারটা মোটেই এমন নয় যে, অল্পবয়সী একটা ছেলে, গায়ে জোর বেশি, সেই জোরে বল পিটিয়ে সীমানা পার করে। বরং বিশ্বের সেরা সব বোলারদের পাড়ার বোলার বানিয়ে ফেলা বৈভবের প্রতিটি শটই নিখুঁত ক্রিকেটিং শট। কখনো কখনো বৈভবের সৃষ্টিশীলতায় যেন ক্রিকেটের চেয়েও বেশি কিছু। বৈভবের ব্যাটিং দেখা তাই একইসঙ্গে উত্তেজনা এবং আনন্দের। বৈভবের বয়সটা কম্পিউটার গেমস খেলার। এই খেয়ালী কিশোর যেন ক্রিকেট মাঠকেই বানিয়ে ফেলেছে ভার্চুয়াল গেমসের স্ক্রিন।

বয়সভিত্তিক ক্রিকেট খেলার বয়স ফুরোবার আগেই জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন। আয়ারল্যান্ড বা ইংল্যান্ডে কোনো ম্যাচে খেলার সুযোগ পেলেই ১৬ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা প্রথম ভারতীয় ক্রিকেটার হিসেবে ইতিহাস গড়বেন সূর্যবংশী। ভারতের ক্রিকেট ‘দেবতা’ শচিন টেন্ডুলকারের টেস্ট ও ওয়ানডে অভিষেক হয়েছিল যথাক্রমে ১৬ বছর ২০৫ দিন ও ১৬ বছর ২৩৮ দিন বয়সে। আয়ারল্যান্ড-ইংল্যান্ড সফরে বৈভবের অভিষেক নিয়ে কোনো সংশয় নেই। তাই ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন তিনি এটা বলাই যায়। চাইলে আপনি সেই ইতিহাসের সাক্ষী হতে পারেন। 

বৈভব সূর্যবংশীর নামের আগে ‘প্রডিজি’ বা ‘বিস্ময়বালক’ বিশেষণ ব্যবহার করা হয়। তার আগে এই বিশেষণের সার্থক ব্যবহার হয়েছিল, যার রেকর্ড তিনি ভাঙতে যাচ্ছেন সেই শচিন টেন্ডুলকারের নামের আগে। ১৯৮৯ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে পাকিস্তান সফরে গিয়ে ক্রিকেটবিশ্বকে নিজের জাত চিনিয়েছিলেন শচিন। তারপর টানা ২৪ বছর বিশ্ব ত্রিকেটকে শাসন করেছেন, গড়েছেন একের পর এক অবিশ্বাস্য রেকর্ড। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা দেয়ার আগে শচিনও বৈভবের মত হৈচৈ ফেলে দিয়েছিলেন। তখন তো আইপিএল ছিল না। স্কুল ক্রিকেটে বন্ধু বিনোদ কাম্বলিকে নিয়ে ৬৬৪ রানের অবিচ্ছিন্ন পার্টনারশিপের বিশ্বরেকর্ড গড়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন সবাইকে। 

এইখানে একটু শঙ্কার কথা বলে লেখাটা শেষ করি। স্কুল ক্রিকেটে বিশ্বরেকর্ড গড়া দুই বন্ধু শচিন আর বিনোদ। বলা হতো, দুজনেই প্রতিভাবান। তবে বিনোদের মধ্যে সহজাত প্রতিভা বেশি ছিল। সেই প্রতিভার ঝলক ক্রিকেট বিশ্ব দেখেছেও কিছুটা। কিন্তু অল্পবয়সে পাওয়া নাম, যশ আর খ্যাতির আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়ে ক্রিকেটের আফসোস হয়ে আছেন বিনোদ। আর তার বন্ধু শচিন সেই আগুনে পুড়ে আরো খাঁটি হয়েছেন। নিজের প্রতিভার সাথে নিরলস পরিশ্রম, কঠোর অনুশীলন, আর ডিসিপ্লিনে শচিন নিজেকে পরিণত করেছেন আস্ত এক বিশ্ববিদ্যালয়ে। শচিনের ক্যারিয়ার থেকে শুধু ক্রিকেটার নয়, যে কোনো ক্রীড়াবিদ, ক্রীড়ামোদী, এমনকি সাধারন মানুষেরও অনেক কিছু শেখার আছে। 

শঙ্কাটা হলো বৈভব সূর্যবংশী বিনোদ হবেন না শচিন হবেন? বিনোদের মত ধূমকেতু হয়ে ফুরিয়ে যাবেন নাকি নিজের নামের মত সূর্যের আলোয় আলোকিত করবেন গোটা বিশ্বকে? আমার বাজি শচিনের পক্ষে; সূর্যই হবেন সূর্যবংশী, ধূমকেতু নয়।

শচিনের অভিষেক, তার বেড়ে ওঠা যারা দেখেছেন; তারা সৌভাগ্যবান। তেমনি আরেক সৌভাগ্যের সামনে দাড়ানোর সুযোগ আপনার সামনে। ৪ দিন পরেই শুরু হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া ইভেন্ট বিশ্বকাপ ফুটবল। ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত গোটা বিশ্বই মেতে থাকবে ফুটবল নিয়ে। এই সময়ে বৈভবের অভিষেক হলেও হয়তো তা একটু আড়ালেই থাকবে। তবে অনুরোধ, ফুটবলের ফাঁকে ফাঁকে বৈভবের দিকে একটু নজর রাখবেন। কারণ আপনি ইতিহাসের সাক্ষি হতে যাচ্ছেন।

র‍্যাঙ্কিংয়ের ৮৪তম দলের বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয় ইংল্যান্ডের

ক্রীড়া ডেস্ক
র‍্যাঙ্কিংয়ের ৮৪তম দলের বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয় ইংল্যান্ডের
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। তীব্র গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার মধ্যে ম্যাচে একমাত্র গোলটি করেন ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্যাম্পায় অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ছিল মূলত বিশ্বকাপের আগে খেলোয়াড়দের আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পরীক্ষা। ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল দুই অর্ধে ভিন্ন দুটি একাদশ খেলান এবং পুরো ম্যাচজুড়েই তার দল বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে।

প্রথমার্ধে বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও গোল পাচ্ছিল না ইংল্যান্ড। জন স্টোনস কর্নার থেকে পাওয়া হেডের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। অলিভার ওয়াটকিন্সও জর্ডান হেন্ডারসনের ফ্রি-কিক থেকে পাওয়া সুযোগ নষ্ট করেন।

বাম প্রান্তে মার্কাস রাশফোর্ড ছিলেন বেশ সক্রিয়। তার গতিময় আক্রমণ একাধিকবার নিউজিল্যান্ডের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করে। ৩৪তম মিনিটে তার ক্রস থেকে হ্যারি কেনের হেড দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক ম্যাক্স ক্রোকোম্ব।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে অবশেষে কাঙ্ক্ষিত গোল পায় ইংল্যান্ড। জেড স্পেন্সের নিখুঁত ক্রস থেকে দারুণ ফ্লিক হেডে বল জালে জড়ান কেন। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এটি ছিল তার ১১৩ ম্যাচে ৭৯তম গোল।

নিউজিল্যান্ড ম্যাচে খুব কমই আক্রমণে যেতে পেরেছে। তাদের একমাত্র উল্লেখযোগ্য সুযোগ আসে ম্যাট গারবেটের শটে, যা ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড।

দ্বিতীয়ার্ধে জুড বেলিংহ্যাম, আইভান টনি, টিনো লিভরামেন্তো ও তরুণ রিও এনগুমোহাকে মাঠে নামান টুখেল। ইংল্যান্ড আক্রমণের গতি বাড়ালেও ব্যবধান আর বাড়াতে পারেনি।

ড্যান বার্নের একটি হেড অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। অন্যদিকে আইভান টনি ফাউলের শিকার হয়ে পেনাল্টির দাবি তুললেও অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়।

বিশ্বকাপের আগে ইংল্যান্ডের আরেকটি প্রস্তুতি ম্যাচ রয়েছে কোস্টা রিকার বিপক্ষে। এরপর ১৭ জুন ডালাসে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান। 
 

ইরানের খেলোয়াড়রা ভিসা পেলেও আটকে দেওয়া হলো কর্মকর্তাদের

ক্রীড়া ডেস্ক
ইরানের খেলোয়াড়রা ভিসা পেলেও আটকে দেওয়া হলো কর্মকর্তাদের
ছবি : রয়টার্স

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র কয়েকদিন আগে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভিসা ইস্যু। ইরান অভিযোগ করেছে, জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের ভিসা দিলেও দলের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ও কারিগরি স্টাফদের একটি বড় অংশকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা দেওয়া হয়নি।

শুক্রবার (৫জুন) যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেন যে, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য ইরানের সব খেলোয়াড় এবং প্রয়োজনীয় সহায়ক স্টাফদের ভিসা দেওয়া হয়েছে। তবে একইসঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেন, এই প্রক্রিয়ার অপব্যবহার করে কাউকে ‘ভুয়া পরিচয়ে সন্ত্রাসী’ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

এরপরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় ইরান। তুরস্কে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘খেলাধুলায় রাজনৈতিক পক্ষপাতমূলক হস্তক্ষেপের’ অভিযোগ তোলে। তাদের দাবি, দলের ব্যবস্থাপনা ও নির্বাহী পর্যায়ের অনেক কর্মকর্তা এবং কারিগরি উপদেষ্টাদের ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি, সহ-সভাপতি ও মিডিয়া পরিচালকসহ অন্তত ১৫ জন প্রশাসনিক কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাননি।

ইরানি দল ইতোমধ্যে তুরস্কে তাদের অনুশীলন ক্যাম্প শেষ করে মেক্সিকোর উদ্দেশে রওনা হয়েছে, যেখানে তারা বিশ্বকাপকালীন বেস ক্যাম্প স্থাপন করবে। প্রায় ২০ ঘণ্টার যাত্রা শেষে দলটির আজ স্থানীয় সময় ভোরে মেক্সিকো পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

মেক্সিকোয় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, দেওয়া ভিসার শর্ত অনুযায়ী ম্যাচের দিনই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ এবং ম্যাচ শেষে একই দিনে দেশ ছাড়তে হবে ইরানি ফুটবলারদের।

এক বিবৃতিতে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণাকে ‘সত্য গোপনের চেষ্টা’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তারা বলেছে, ‘ইরানের ফুটবল দলের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত ও বৈষম্যমূলক আচরণকে আপনারা এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছেন।’

এ ঘটনায় ফিফার হস্তক্ষেপও কামনা করেছে ইরান। দেশটির কূটনৈতিক কর্মকর্তারা বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে বিষয়টি তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।

আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে শুরু হবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। ইরান তাদের প্রথম ম্যাচ খেলবে ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। এরপর ক্যালিফোর্নিয়ায় বেলজিয়াম এবং সিয়াটলে মিশরের মুখোমুখি হবে তারা।