• ই-পেপার

২০২২ বিশ্বকাপ : পেনাল্টির রেকর্ড গড়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপের আগে নেইমারকে ছুঁলেন হ্যারি কেইন

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপের আগে নেইমারকে ছুঁলেন হ্যারি কেইন
নেইমার ও হ্যারি কেইন। ছবি : রয়টার্স

ফুটবলের দুই ভিন্ন মহাদেশ, দুই ভিন্ন ধাঁচের তারকা। একজন ব্রাজিলের সাম্বা ফুটবলের প্রতীক, অন্যজন ইংল্যান্ডের নির্ভরতার নাম। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের ঠিক আগে একটি জায়গায় এসে এক কাতারে দাঁড়িয়েছেন নেইমার ও হ্যারি কেইন।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে দুজনের গোলসংখ্যাই এখন ৭৯। ফলে ছেলেদের আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় যৌথভাবে দশম অবস্থানে রয়েছেন এই দুই তারকা।

ব্রাজিলের জার্সিতে ১২৮ ম্যাচে ৭৯ গোল করেছেন নেইমার। এই গোলসংখ্যা তাকে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতায় পরিণত করেছে। এর মাধ্যমে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন কিংবদন্তি পেলেকে। ব্রাজিলের জার্সিতে ৭৭ গোল করে দীর্ঘদিন সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে ছিলেন তিনি।

অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের হয়ে ৭৯ গোল করে ইতিমধ্যেই দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন হ্যারি কেইন। গত রাতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করে এই মাইলফলকে পৌঁছান তিনি। ম্যাচসংখ্যার বিচারে কেইনের সাফল্য আরো বেশি চোখে পড়ে, কারণ মাত্র ১১৩ ম্যাচ খেলেই তিনি এই উচ্চতায় পৌঁছেছেন।

দুই তারকার ক্যারিয়ারের পথ অবশ্য ভিন্ন। নেইমার বরাবরই ছিলেন সৃজনশীলতা, ড্রিবলিং ও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের প্রতীক। অন্যদিকে কেইন নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন নিখুঁত ফিনিশার এবং নির্ভরযোগ্য গোলমেশিন হিসেবে।

বাংলাদেশের শ্রীমঙ্গলের সমান কুরাসাও যেভাবে বিশ্বকাপে

ক্রীড়া ডেস্ক
বাংলাদেশের শ্রীমঙ্গলের সমান কুরাসাও যেভাবে বিশ্বকাপে
ছবি : রয়টার্স

৩২ দল থেকে বেড়ে যখন ৪৮ দলের বিশ্বকাপ হলো, তখন অনেকেই মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপ আমাদের এমন সব রূপকথা উপহার দিতে যাচ্ছে, যা ফুটবল ইতিহাসের সব সমীকরণ ওলটপালট করে দিয়েছে। 

আয়তনে মাত্র ১৭১ বর্গ মাইলের সমান ক্যারিবীয় অঞ্চলের পুচকে দেশ কুরাসাওয়ের জনসংখ্যা মাত্র ১ লাখ ৫৬ হাজার। এবার বিশ্বমঞ্চে পা রাখছে সেই পুচকে কুরাসাও। আইসল্যান্ডের রেকর্ড ভেঙে কুরাসাও এখন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম দেশ। যেখানে বাংলাদেশের শ্রীমঙ্গলের আয়তনও এর সমান। 

যোগ্যতা অর্জন পর্বের লড়াইয়ে সাবেক ফুটবল কিংবদন্তি ডোয়াইট ইয়র্কের দেশ ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো এবং স্টিভ ম্যাকক্লারেনের জ্যামাইকার মতো শক্তিশালী দলকে পেছনে ফেলে বিশ্বমঞ্চের টিকিট কেটেছে তারা। ২০১১ সালে ফিফার সদস্যপদ পাওয়া এই দেশটি মাত্র ১৫ বছরের ব্যবধানে খেলবে ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে।

ডিক অ্যাডভোকাটের রেকর্ড ও ‘পারিবারিক’ প্রত্যাবর্তন
কুরাসাওর এই রূপকথার মাস্টারমাইন্ড ৭৮ বছর বয়সী ডাচ কোচ ডিক অ্যাডভোকাট। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ কোচ হিসেবে ডাগআউটে দাঁড়াতে যাচ্ছেন তিনি। তবে তার এই বিশ্বকাপ যাত্রা সহজ ছিল না। দলকে বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করানোর পর গত ফেব্রুয়ারিতে অসুস্থ মেয়ের পাশে থাকতে কোচের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন অ্যাডভোকাট।

তার অনুপস্থিতিতে ফ্রেড রুটেন দায়িত্ব নিলেও প্রীতি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ও চীনের কাছে বিধ্বস্ত হয় দল। এরপর মেয়ের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় গত মে মাসে আবারও ‘দ্য ব্লু ফ্যামিলি’ খ্যাত এই দলের ডাগআউটে ফিরে আসেন অ্যাডভোকাট। আর তাতেই স্বস্তি ফিরেছে পুরো শিবিরে।

মাঠের কৌশল ও শক্তি

ফুটবল মহলে কুরাসাও পরিচিত ‘দ্য ব্লু ফ্যামিলি’ বা ‘ব্লু ওয়েভ’ নামে। দলটির সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের অটুট একতা। মাঠের কৌশলে তারা মূলত রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলে থাকে। চূড়ান্ত বাছাইপর্বের শেষ ৬ ম্যাচে তারা গোল হজম করেছে মাত্র ৩টি।

গভীর রক্ষণভাগ, সুশৃঙ্খল মাঝমাঠ এবং কাউন্টার অ্যাটাকে উইং ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করাই অ্যাডভোকাটের মূল মন্ত্র। প্রতিপক্ষের শক্তি বিবেচনা করে দলটিকে ৪-৫-১ অথবা ৫-৪-১ ফর্মেশনে খেলতে দেখা যেতে পারে।

দুর্বলতা ও আভিজাত্যের অভাব

কুরাসাও দলের অধিকাংশ খেলোয়াড়ই নেদারল্যান্ডসের ঘরোয়া লিগে খেলেন। কিছু খেলোয়াড়ের প্রিমিয়ার লিগে খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও, বিশ্বমানের ‘এলিট’ ঘরোয়া পারফর্মারের অভাব রয়েছে এই স্কোয়াডে। আর এই অভিজ্ঞতার ঘাটতিই কাল হতে পারে জার্মানির মতো পরাশক্তির বিপক্ষে তাদের উদ্বোধনী ম্যাচে।

নজর থাকবে যাদের ওপর

বাছাইপর্বে কুরাসাওর হয়ে সর্বোচ্চ ২০টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন মিডফিল্ডার জুনিনহো বাকুনা। বার্মিংহাম সিটি ও রেঞ্জার্সের সাবেক এই তারকাকে ‘ফলস নাইন’ হিসেবেও ব্যবহার করতে পারেন কোচ।

এছাড়া আছেন দলের অধিনায়ক এবং জুনিনহোর বড় ভাই লিয়ান্দ্রো বাকুনা। অ্যাস্টন ভিলা ও কার্ডিফ সিটির হয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে প্রায় ১০০ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে তার।

এদিকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড অ্যাকাডেমির গ্র্যাজুয়েট তাহিত চং ২৬ সদস্যের স্কোয়াডের একমাত্র ফুটবলার, যার জন্ম কুরাসাওতে। দেশের হয়ে ৫ ম্যাচে ৩ গোল ও ১টিতে সহায়তা করে দারুণ ফর্মে আছেন তিনি।

চমকে দেওয়ার মতো তথ্য

কাতার বিশ্বকাপে হ্যাজার্ড (বেলজিয়াম), মিলিনকোভিচ-সাভিচ (সার্ভিয়া) এবং আইয়ু (ঘানা) ভাইদের জুটি দেখা গিয়েছিল। এবার কুরাসাওর হয়ে মাঠ মাতাবেন বাকুনা ভাইয়েরা (লিয়ান্দ্রো ও জুনিনহো)।

কাকতালীয়ভাবে, ২০১৮-১৯ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ মৌসুমে কার্ডিফ সিটি ও হাডার্সফিল্ড টাউনের হয়ে দুই ভাই একই মৌসুমে রেলিগেশনের স্বাদ পেয়েছিলেন।

‘গ্রুপ অব ডেথ’-এ পড়েছে এই পুচকে দ্বীপরাষ্ট্রটি। গ্রুপ পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি, ইকুয়েডর এবং আইভরি কোস্ট। এই তিন প্রতিপক্ষের মিলিত জনসংখ্যা যেখানে ১৩ কোটি ৫০ লাখের বেশি, সেখানে কুরাসাওর জনসংখ্যা মাত্র দেড় লাখ!

তবে কোচ ডিক অ্যাডভোকাটের কণ্ঠে আত্মবিশ্বাস, তিনি জানান, ‘টিভি স্ক্রিনে যাদের খেলা দেখি, তাদের বিপক্ষে লড়তে যাওয়াটা দারুণ কিছু। বিশ্বকাপে যেকোনো দল চমকে দিতে পারে। কুরাসাও কেন নয়? আমরা সেটাই চেষ্টা করব।’ 

রেকর্ড ভাঙার ‘বুলডোজার’ বৈভবের অপেক্ষায় ক্রিকেটবিশ্ব

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
রেকর্ড ভাঙার ‘বুলডোজার’ বৈভবের অপেক্ষায় ক্রিকেটবিশ্ব
বৈভব সূর্যবংশী। ছবি : বিসিসিআই

ক্রিকেট শুদ্ধতায় বিশ্বাসী অনেকে আইপিএল ফলো করেন না, টি-টোয়েন্টির নাম শুনলেও নাক সিটকান অনেকেই। আইপিএল ফলো করুন আর না-ই করুন, এমনকি ক্রিকেট নিয়ে বিন্দুমাত্র আগ্রহ না থাকলেও আপনি নিশ্চয়ই বৈভব সূর্যবংশীর নাম শুনেছেন ইতিমধ্যেই। এমনকি ক্রিকেটের ক না জানলেও হয়তো সূর্যবংশীর নাম আপনার কানের পোকা নাড়িয়ে দিয়েছে। বছর দুয়েক ধরে ফিসফাস হলেও মাস দুয়েক ধরে আইপিএলে সূর্যবংশী যা করেছেন, কানে তুলো দিয়ে রাখলেও আপনি তাকে এড়াতে পারবেন না। তারপরও যদি কোনোভাবে বৈভব সূর্যবংশী নামটি আপনি না শুনে থাকেন, তবে নিজের কান এবং মনকে তৈরি করে রাখুন। আগামী অনেক বছর অনলাইনে, অফলাইনে, গুগলে, চ্যাট জিপিটিতে, মাঠে-ময়দানে আপনাকে এই নামটি বারবার শুনতে হবে।

অথচ বৈভবের দল এবার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়নি, আসলে ফাইনালেই ওঠেনি। ফাইনালে না ওঠা দলের সদস্য সূর্যবংশী এবারের আইপিএলে ৫টি পুরস্কার জিতেছেন। মানুষটা ছোট, জিতেছেন বড় বড় সব পুরস্কার। সবচেয়ে বেশি রান (৭৭৬), সুপার স্ট্রাইকার অব দ্য সিজন (স্ট্রাইক রেট ২৩৭.৩০ ), সবচেয়ে বেশি ছক্কা (৭২)। 

মজাটা হলো, সবচেয়ে বেশি ছক্কার রেকর্ডটা শুধু এবারের নয়। আইপিএলে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ছক্কা মারতে গিয়ে তিনি ভেঙেছেন কিংবদন্তি ক্রিস গেইলের ৫৯ ছক্কার রেকর্ড। আইপিএল শুরুর পরে জন্ম নেওয়া বৈভব ছক্কার রেকর্ডকে আকাশে তুলে নিয়েছেন গেইলের চেয়ে অনেক কম বল খেলে। এরপরের দুটি পুরস্কার আরো ইন্টারেস্টিং। একই সঙ্গে বৈভব এবারের আইপিএলের সবচেয়ে মূল্যবান খেলোয়াড় এবং সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ও। গাড়ি চালানোর লাইসেন্স পেতে আরো তিন বছর লাগবে। কিন্তু এখনই তার গ্যারেজে তিনটি বিলাসবহুল গাড়ি জায়গা করে নিয়েছে। 

বয়স মাত্র ১৫। এখনো ভারতের মূল দলে খেলার সুযোগ পাননি। কিন্তু আইপিএল, বয়সভিত্তিক ক্রিকেট, ঘরোয়া ক্রিকেটে বৈভব যা করেছেন, তাতেই লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে রেকর্ডের খাতার অনেক পাতা। বৈভব যেন ‘বুলডোজার’ নিয়ে মাঠে নামেন একের পর এক রেকর্ড ভেঙে চুরমার করার জন্য। 

এই ছেলে কোথায় গিয়ে থামবে, তা নিয়েই সবাই হিসাব কষছেন। ব্র্যাডম্যানের রেকর্ড আর শচিনের মোট রানের রেকর্ড ছাড়া আর কোনো রেকর্ডকেই নিরাপদ মনে হচ্ছে না। সব রেকর্ডের কথা লিখলে এই লেখা পড়ার ধৈর্য থাকবে না আপনাদের। এবারের আইপিএলে বৈভবের সবগুলো ইনিংসই ছিল দুর্দান্ত, তাক লাগানো। আইপিএলকে যারা গোনায় ধরেন না, তারা যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৮০ বলে ১৭৫ রানের ইনিংসটা দেখতে পারেন।

ভারতের সবচেয়ে কম বয়সী লিস্টে এ খেলোয়াড়, সবচেয়ে কম বয়সে আইপিএল খেলা, সবচেয়ে কম বয়সে আইপিএল সেঞ্চুরি- রেকর্ডের আসলে কোনো শেষ নেই। কনিষ্ঠতা নিয়েই তো অনেক রেকর্ড। 

এবার গড়তে যাচ্ছে, আরো একটি বিশ্বরেকর্ড। ১৫ বছর বয়সী বৈভব ডাক পেয়েছেন ভারতের জাতীয় দলে। আগামী ২৬ জুন থেকে ১১ জুলাই আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফর করবে ভারত। সেই সফরে ভারত দলের সঙ্গী হবেন বৈভব সূর্যবংশী। ১৫ বছর বয়সী এই বালককে দেখেশুনে রাখার জন্য সফরে যাবেন বৈভবের বাবা-মাও, তা-ও বোর্ডের খরচে। এমন প্রতিভার পেছনে টাকা খরচ করেও শান্তি। বৈভবের জাতীয় দলে ডাক পাওয়াটা সময়ের ব্যাপার ছিল মাত্র। ভারতের নির্বাচকরা তো আর ভিনগ্রহের বাসিন্দা নন। বৈভব যে ‘বুলডোজার’ নিয়ে সব লণ্ডভণ্ড করে দিচ্ছে, তা তো তারা নিজের চোখেই দেখেছেন। 

সমস্যা হলো, বৈভবের রেকর্ডের খাতার দিকে তাকালে বয়সের দিকে তাকানোর ফুরসত মেলে না। আবার চেহারায় সারল্য আর বয়সজনিত চপলতা দেখলে রেকর্ড বিশ্বাস হতে চায় না। ভারতের মানুষ ক্রিকেটে খায়, ক্রিকেটে ঘুমায়, ক্রিকেটে স্বপ্ন দেখে। প্রায় দেড়শ কোটি মানুষের প্রত্যাশা তো আছেই, গোটা ক্রিকেটবিশ্বই এখন বৈভবে বুঁদ। কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের মুখে বৈভব বন্দনার প্রতিযোগিতা। ভাববেন না, সবাই বৈভবের রান করা দেখে বুঝি মুগ্ধ। আসল কারণ যেভাবে রান করেন, সেই ধরনটা। ব্যাপারটা মোটেই এমন নয় যে, অল্পবয়সী একটা ছেলে, গায়ে জোর বেশি, সেই জোরে বল পিটিয়ে সীমানা পার করে। বরং বিশ্বের সেরা সব বোলারদের পাড়ার বোলার বানিয়ে ফেলা বৈভবের প্রতিটি শটই নিখুঁত ক্রিকেটিং শট। কখনো কখনো বৈভবের সৃষ্টিশীলতায় যেন ক্রিকেটের চেয়েও বেশি কিছু। বৈভবের ব্যাটিং দেখা তাই একইসঙ্গে উত্তেজনা এবং আনন্দের। বৈভবের বয়সটা কম্পিউটার গেমস খেলার। এই খেয়ালী কিশোর যেন ক্রিকেট মাঠকেই বানিয়ে ফেলেছে ভার্চুয়াল গেমসের স্ক্রিন।

বয়সভিত্তিক ক্রিকেট খেলার বয়স ফুরোবার আগেই জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন। আয়ারল্যান্ড বা ইংল্যান্ডে কোনো ম্যাচে খেলার সুযোগ পেলেই ১৬ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা প্রথম ভারতীয় ক্রিকেটার হিসেবে ইতিহাস গড়বেন সূর্যবংশী। ভারতের ক্রিকেট ‘দেবতা’ শচিন টেন্ডুলকারের টেস্ট ও ওয়ানডে অভিষেক হয়েছিল যথাক্রমে ১৬ বছর ২০৫ দিন ও ১৬ বছর ২৩৮ দিন বয়সে। আয়ারল্যান্ড-ইংল্যান্ড সফরে বৈভবের অভিষেক নিয়ে কোনো সংশয় নেই। তাই ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন তিনি এটা বলাই যায়। চাইলে আপনি সেই ইতিহাসের সাক্ষী হতে পারেন। 

বৈভব সূর্যবংশীর নামের আগে ‘প্রডিজি’ বা ‘বিস্ময়বালক’ বিশেষণ ব্যবহার করা হয়। তার আগে এই বিশেষণের সার্থক ব্যবহার হয়েছিল, যার রেকর্ড তিনি ভাঙতে যাচ্ছেন সেই শচিন টেন্ডুলকারের নামের আগে। ১৯৮৯ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে পাকিস্তান সফরে গিয়ে ক্রিকেটবিশ্বকে নিজের জাত চিনিয়েছিলেন শচিন। তারপর টানা ২৪ বছর বিশ্ব ত্রিকেটকে শাসন করেছেন, গড়েছেন একের পর এক অবিশ্বাস্য রেকর্ড। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা দেওয়ার আগে শচিনও বৈভবের মতো হৈচৈ ফেলে দিয়েছিলেন। তখন তো আইপিএল ছিল না। স্কুল ক্রিকেটে বন্ধু বিনোদ কাম্বলিকে নিয়ে ৬৬৪ রানের অবিচ্ছিন্ন পার্টনারশিপের বিশ্বরেকর্ড গড়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন সবাইকে। 

এইখানে একটু শঙ্কার কথা বলে লেখাটা শেষ করি। স্কুল ক্রিকেটে বিশ্বরেকর্ড গড়া দুই বন্ধু শচিন আর বিনোদ। বলা হতো, দুজনেই প্রতিভাবান। তবে বিনোদের মধ্যে সহজাত প্রতিভা বেশি ছিল। সেই প্রতিভার ঝলক ক্রিকেট বিশ্ব দেখেছেও কিছুটা। কিন্তু অল্পবয়সে পাওয়া নাম, যশ আর খ্যাতির আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়ে ক্রিকেটের আফসোস হয়ে আছেন বিনোদ। আর তার বন্ধু শচিন সেই আগুনে পুড়ে আরো খাঁটি হয়েছেন। নিজের প্রতিভার সাথে নিরলস পরিশ্রম, কঠোর অনুশীলন, আর ডিসিপ্লিনে শচিন নিজেকে পরিণত করেছেন আস্ত এক বিশ্ববিদ্যালয়ে। শচিনের ক্যারিয়ার থেকে শুধু ক্রিকেটার নয়, যেকোনো ক্রীড়াবিদ, ক্রীড়ামোদী, এমনকি সাধারণ মানুষেরও অনেক কিছু শেখার আছে। 

শঙ্কাটা হলো বৈভব সূর্যবংশী বিনোদ হবেন না শচিন হবেন? বিনোদের মতো ধূমকেতু হয়ে ফুরিয়ে যাবেন নাকি নিজের নামের মত সূর্যের আলোয় আলোকিত করবেন গোটা বিশ্বকে? আমার বাজি শচিনের পক্ষে; সূর্যই হবেন সূর্যবংশী, ধূমকেতু নয়।

শচিনের অভিষেক, তার বেড়ে ওঠা যারা দেখেছেন; তারা সৌভাগ্যবান। তেমনি আরেক সৌভাগ্যের সামনে দাঁড়ানোর সুযোগ আপনার সামনে। ৪ দিন পরেই শুরু হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া ইভেন্ট বিশ্বকাপ ফুটবল। ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত গোটা বিশ্বই মেতে থাকবে ফুটবল নিয়ে। এই সময়ে বৈভবের অভিষেক হলেও হয়তো তা একটু আড়ালেই থাকবে। তবে অনুরোধ, ফুটবলের ফাঁকে ফাঁকে বৈভবের দিকে একটু নজর রাখবেন। কারণ আপনি ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছেন।

চোটে ব্রাজিলের ‘ভরসার’ বিশ্বকাপ শেষের শঙ্কা

ক্রীড়া ডেস্ক
চোটে ব্রাজিলের ‘ভরসার’ বিশ্বকাপ শেষের শঙ্কা
ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া

বিশ্বকাপের মহোৎসব শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে বড়সড় এক ধাক্কা খেল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। মিশরের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে মাত্র ১৬ মিনিট মাঠে খেলেই ইনজুরির কারণে মাঠ ছাড়তে হয়েছে সেলেসাওদের প্রধান রাইট-ব্যাক ওয়েসলি ফ্রান্সাকে। 

বাঁ পায়ের কুঁচকির চোটে পড়ে ম্যাচ চলাকালীনই মাঠের বাইরে চলে যান ২২ বছর বয়সী তারকা। তার বদলে মাঠে নামেন অভিজ্ঞ দানিলো। ম্যাচটি ২-১ জিতলেও সেলেসাও শিবিরে এখন শুধুই অস্বস্তির ছায়া।

নিজেদের রক্ষণভাগকে পরখ করে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে শনিবার ক্লিভল্যান্ডে মিশরের মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল। কিন্তু ম্যাচের শুরুতেই ঘটে এই বিপর্যয়। দলের প্রধান রাইট-ব্যাক ওয়েসলি যখন মাঠ ছেড়ে বেঞ্চে গিয়ে বসেন, তখন তাকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। তার এই কান্না স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, চোটটি মোটেও সাধারণ কোনো ‘নক’ বা হালকা আঘাত নয়। 

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের রক্ষণভাগের অন্যতম ভরসা মনে করা হচ্ছিল এই তরুণকে। কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরুর এই অন্তিম মুহূর্তে এমন চোট দলের পুরো পরিকল্পনাকেই ওলটপালট করে দিয়েছে। এখন স্ক্যান রিপোর্টের জন্য চাতক পাখির মতো অপেক্ষা করছে ব্রাজিলের মেডিকেল টিম।

কোচ আনচেলত্তির জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হলো ফিফার নিয়ম। আগামী ১৩ জুন ব্রাজিলের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হচ্ছে। আর নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম ম্যাচের ২৪ ঘণ্টা আগ পর্যন্ত চোটাক্রান্ত খেলোয়াড়ের পরিবর্তে প্রাথমিক স্কোয়াড থেকে নতুন কাউকে নেওয়া যায়। 

যদি ওয়েসলি শেষ পর্যন্ত ছিটকে যান, তবে ব্রাজিলের ৫৫ জনের প্রাথমিক তালিকায় থাকা রাইট-ব্যাকদের দিকে তাকাতে হবে কোচকে। তবে সেখানে বিকল্পের সংখ্যা খুবই সীমিত। এই পজিশনে ব্যাক-আপ হিসেবে কেবল ভাস্কো দা গামার পাওলো হেনরিকে এবং বোটফোগোর ভিতিনহো রেডি আছেন।