• ই-পেপার

টেকনিক্যাল শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

ফ্যাসিবাদী শাসন শিক্ষাব্যবস্থাকেও ধ্বংস করে দিয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
ফ্যাসিবাদী শাসন শিক্ষাব্যবস্থাকেও ধ্বংস করে দিয়েছে : প্রধানমন্ত্রী
ছবি ভিডিও থেকে নেওয়া

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘ফ্যাসিবাদী শাসন শুধু মানুষের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নেয়নি বরং শিক্ষাব্যবস্থাকেও ধ্বংস করে দিয়েছে।’

রবিবার (৭ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চীন মৈত্রী সম্মেলনে জাতীয় বিশ্ববদ্যালয়ের কর্মমুখী শিক্ষা অন্তর্ভুক্তিকরণ কর্মসূচিতে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে এবার আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা। সামনের সম্ভাবনা দেখলে আমাদের মনোবল আরও বেড়ে যায়। আমাদের একটি জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ে তুলতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্বের কর্মক্ষেত্রে দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির বিস্তারের ফলে একদিকে কিছু প্রচলিত পেশা ঝুঁকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। এ বাস্তবতায় শিক্ষার্থীদের শুধু সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ব্যবহারিক ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনে গুরুত্ব দিতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের দুই হাজারের বেশি অধিভুক্ত কলেজে বর্তমানে ৪০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। ফলে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষতাভিত্তিক উচ্চশিক্ষা বিস্তারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, ফরেনসিক বিজ্ঞান, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ডিজিটাল যোগাযোগ, নেতৃত্ব, উপস্থাপনা দক্ষতা এবং আর্থিক সচেতনতার মতো বিষয়গুলো এখন আধুনিক শিক্ষার অপরিহার্য অংশ। পাশাপাশি জেনেটিক প্রকৌশল, জীবপ্রযুক্তি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, শিল্পভিত্তিক ইন্টারনেট অব থিংস, ন্যানোপ্রযুক্তি, ত্রিমাত্রিক মুদ্রণ এবং পঞ্চম প্রজন্মের বেতার প্রযুক্তি সম্পর্কেও শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জন করতে হবে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও প্রায়োগিক দক্ষতা অর্জন করতে পারেন না। এ কারণে শিক্ষানবিশ কার্যক্রম এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা চাকরির জন্য অপেক্ষা না করে নিজেরাই উদ্যোক্তা হয়ে অন্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবেন।’

দীর্ঘ ছুটি শেষে স্কুল-কলেজ খুলছে আজ

অনলাইন ডেস্ক
দীর্ঘ ছুটি শেষে স্কুল-কলেজ খুলছে আজ

পবিত্র ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশের টানা ১৬ দিনের ছুটি শেষে আজ রবিবার (৭ জুন) থেকে সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ফের শুরু হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম। 

২০২৬ সালের শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, গত ২৪ মে থেকে এসব প্রতিষ্ঠানে ছুটি শুরু হয়েছিল।

অন্যদিকে দেশের আলিয়া, দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল স্তরের মাদরাসাগুলোতে ছুটি আরও দীর্ঘ। মাদরাসা শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের ছুটি চলবে আগামী ১১ জুন পর্যন্ত। এরপর ১২ ও ১৩ জুন সাপ্তাহিক ছুটি শেষে ১৪ জুন থেকে মাদরাসাগুলোতে ফের শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হবে।

এদিকে, ঈদ ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও ছুটি দেওয়া হয়। বেশির ভাগ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামীকাল সোমবার থেকেই ক্লাস কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

শিক্ষা-সংশ্লিষ্টদের আশা, দীর্ঘ ছুটির পর শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আবারও প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠবে। তবে গরমের কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জাবিপ্রবির নতুন উপাচার্য বাকৃবির অধ্যাপক ড. আমির হোসেন

বাকৃবি প্রতিনিধি
জাবিপ্রবির নতুন উপাচার্য বাকৃবির অধ্যাপক ড. আমির হোসেন
অধ্যাপক ড. মো. আমির হোসেন। সংগৃহীত ছবি

জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আমির হোসেন। শনিবার (৬ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব মো. শাহ আলম সিরাজ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১৭ (সংশোধিত-২০২৫) এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী এ নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ড. আমির হোসেন তার যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর অথবা অবসর গ্রহণের তারিখের মধ্যে যেটি আগে ঘটবে, সেই সময় পর্যন্ত উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করবেন।

নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, তিনি তাঁর বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা পাবেন এবং বিধি অনুযায়ী পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাঁকে সার্বক্ষণিকভাবে ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে।

এ ছাড়া প্রয়োজনবোধে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।

জাবির নতুন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
জাবির নতুন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। সংগৃহীত ছবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলামকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শনিবার (৬ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩-এর ১৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। 

নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, যোগদানের তারিখ থেকে তিনি চার বছর এ দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময়ে তিনি তার বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা এবং বিধি অনুযায়ী অন্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। 

এ ছাড়া তাকে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধি, আইন ও বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

ড. নজরুল ইসলাম বর্তমানে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)-এর যুগ্ম মহাসচিব এবং জাবি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ঢাকা বিভাগের মনিটর হিসেবেও দায়িত্বে রয়েছেন। 

বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও তার রয়েছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। ২০০২ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি সহকারী প্রক্টর ও হাউস টিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সাল থেকে তিনি ফজিলাতুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধ্যক্ষ কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। 

বর্তমানে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত সিনেট সদস্য (২০১৭ সাল থেকে) এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত সিনেট সদস্য (২০২৫ সাল থেকে) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। 

এ ছাড়া প্রায় ১৭ বছর ধরে তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। পাশাপাশি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানেও তিনি সামনের সারি থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।