• ই-পেপার

বিসিবি নির্বাচনে ভোট দিলেন তামিম

বিশ্বকাপে নিয়ম না মেনে পতাকা ওড়ালে ৪ লাখ টাকা জরিমানা!

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপে নিয়ম না মেনে পতাকা ওড়ালে ৪ লাখ টাকা জরিমানা!
সংগৃহীত ছবি

দুয়ারে কড়া নাড়ছে বিশ্বকাপ। ফুটবল বা ক্রিকেটের মেগা আসর মানেই বিশ্বজুড়ে সমর্থকদের উম্মাদনা। প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতে বাড়ির ছাদ, বারান্দা কিংবা জানালায় প্রিয় দেশের জাতীয় পতাকা ওড়ানো এখন খুবই পরিচিত দৃশ্য। তবে অতি-উৎসাহী হয়ে আবেগের বশে নিয়ম না মেনে পতাকা ওড়ালে কিন্তু কপালে জুটতে পারে বড় অঙ্কের জরিমানা! আইনের মারপ্যাঁচে এই খেসারতের পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় সর্বোচ্চ প্রায় ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

ইংল্যান্ডে যারা বসবাস করছেন, তাদের জন্য আইনসংগতভাবে পতাকা ওড়ানোর ক্ষেত্রে রয়েছে বেশ কিছু কড়া নিয়ম। তবে সাধারণ কিছু নিয়ম জানলেই এই বিশাল অঙ্কের জরিমানা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব।

ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী, পতাকাটি যদি বাড়ির ছাদে লাগানো থাকে, তবে যেকোনো আকারের পতাকাই ওড়ানো যাবে। এতে জরিমানার কোনো ঝুঁকি নেই। তবে শর্ত একটাই—পতাকাটি যেন নিরাপদভাবে এবং ভালো অবস্থায় টানানো থাকে, যাতে পথচারী বা প্রতিবেশীদের কোনো ক্ষতি না হয়।

আসল ঝামেলাটা বাধে অন্য জায়গায়। যুক্তরাজ্যের ‘টাউন অ্যান্ড কান্ট্রি প্ল্যানিং রেগুলেশনস (২০০৭)’-এর নিয়ম অনুযায়ী, পতাকাটি যদি ছাদ ছাড়া বাড়ির অন্য কোনো অংশে—যেমন জানালা বা দেওয়ালে ঝুলানো হয়, তবে তার সর্বোচ্চ আকারের ওপর কিছু আইনি বিধিনিষেধ রয়েছে। আইনের এই সূক্ষ্ম পার্থক্যের বিষয়টি না জানার কারণেই মূলত সাধারণ ফুটবলপ্রেমীরা বড় বিপদে পড়েন।

এমনকি পতাকাটি যদি কোনো নির্দিষ্ট পতাকাদণ্ডে ওড়ানো হয়, তবুও সেটি যে দেশের পতাকাই হোক না কেন, তার আকার কোনোভাবেই দুই মিটারের বেশি হতে পারবে না। নিয়ম অনুযায়ী, স্থানীয় কাউন্সিল যদি নিয়মবহির্ভূত কোনো পতাকা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয় এবং বাড়ির মালিক যদি তা অমান্য করেন, তবে তাৎক্ষণিকভাবে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ পাউন্ড জরিমানা করা হতে পারে।

ঝামেলা এখানেই শেষ নয়; নির্দেশ অমান্য করে পতাকাটি ঝুলিয়ে রাখলে, যতদিন না সেটি সরানো হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত প্রতিদিনের জন্য গুনতে হবে আলাদা জরিমানা। এই দৈনিক জরিমানার পরিমাণ মূল ২,৫০০ পাউন্ডের ওপর প্রতিদিন আরো অতিরিক্ত ২৫০ পাউন্ড করে যোগ হতে পারে। সাধারণ একজন সমর্থকের জন্য এটি বিশাল এক আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।

তবে, বিশ্বকাপ চলাকালীন হুট করেই যুক্তরাজ্যের স্থানীয় কাউন্সিল আপনার দরজায় কড়া নেড়ে ২,৫০০ পাউন্ডের জরিমানার রসিদ ধরিয়ে দেবে না। এই প্রক্রিয়াটি আদালত পর্যন্ত পৌঁছাতে বেশ কিছুটা সময় লাগে। আর এর যেকোনো ধাপে যদি পতাকাটি নামিয়ে ফেলা হয় বা নিয়মের মধ্যে এনে ছোট কোনো পতাকা লাগানো হয়, তবে কোনো ঝামেলাই পোহাতে হবে না।

সাধারণত প্রতিবেশীদের কাছ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়ার পর স্থানীয় কাউন্সিল একটি আনুষ্ঠানিক অনুরোধ বা ‘এনফোর্সমেন্ট নোটিশ’ পাঠায়। যেখানে অবৈধ পতাকাটি সরিয়ে ফেলতে বা তার আকার ছোট করার নির্দেশ দেওয়া হয়। আপনি যদি সেই নির্দেশ মেনে নেন, তবে কোনো জরিমানা ছাড়াই বিষয়টি সেখানেই মিটে যাবে।
 

পেলের জন্য থেমেছিল গৃহযুদ্ধ!

ক্রীড়া ডেস্ক
পেলের জন্য থেমেছিল গৃহযুদ্ধ!

ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত কিংবদন্তিগুলোর একটি হলো—সর্বকালের সেরা ফুটবলার পেলের জন্য নাকি একসময় থেমে গিয়েছিল নাইজেরিয়ার গৃহযুদ্ধ। বহু বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এই গল্প প্রায় সত্য ঘটনা হিসেবেই প্রচারিত হয়েছে। বলা হয়েছে, পেলের ক্লাব সান্তোসের খেলা দেখার জন্য যুদ্ধরত দুই পক্ষ সাময়িকভাবে অস্ত্র নামিয়ে রেখেছিল।

কিন্তু ইতিহাসের ধুলো ঝেড়ে বেরিয়ে আসা নতুন তথ্য বলছে, বহুল প্রচারিত এই গল্পের পেছনে বাস্তবের চেয়ে কিংবদন্তির অংশই হয়তো বেশি।

১৯৬৭ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত চলা নাইজেরিয়ার গৃহযদ্ধ ছিল আফ্রিকার ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ সংঘাত। বিআফ্রার স্বাধীনতার দাবিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে লাখো মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং ব্যাপক মানবিক বিপর্যয় দেখা দেয়।

এমন এক অস্থির সময়েই ১৯৬৯ সালে আফ্রিকা সফরে বের হয় সান্তোস। সে সময় পেলে, কৌতিনিও ও পেপেদের নিয়ে গড়া দলটি ছিল বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্লাবগুলোর একটি। বিশ্বজুড়ে প্রদর্শনী ম্যাচ খেলে বিপুল দর্শক টানত তারা।

প্রচলিত গল্প অনুযায়ী, সান্তোস নাইজেরিয়ায় পৌঁছানোর পর যুদ্ধরত পক্ষগুলো সাময়িকভাবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে, যাতে মানুষ পেলের খেলা দেখতে পারে।

সান্তোসের কয়েকজন সাবেক খেলোয়াড়ও পরে এমন দাবি করেছিলেন। তাদের ভাষ্য ছিল, ম্যাচ শেষে বিমান উড্ডয়ন করার পর আবার নিচে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়।

সাবেক তারকা লিমা একবার বলেছিলেন, ‘একটি যুদ্ধ থামাতে পেরেছিলাম, এটিও ছিল আমাদের শ্রেষ্ঠত্বের আরেকটি প্রমাণ।’

এমনকি ২০০৫ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মার্কিন সাময়িকী টাইমও উল্লেখ করেছিল যে, যেখানে কূটনীতিকরা দুই বছরেও যুদ্ধ থামাতে পারেননি, সেখানে পেলের আগমন কয়েক দিনের জন্য সংঘাত বন্ধ করে দিয়েছিল।

তবে যুক্তরাজ্যভিত্তিক নাইজেরীয় গবেষক ও লেখক ওলাওজো আইয়েগবায়ো আর্কাইভ ঘেঁটে ভিন্ন চিত্র খুঁজে পান।

তার গবেষণায় দেখা যায়, সান্তোসের সফরের সময়কার স্থানীয় সংবাদপত্রগুলোতে কোথাও আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির উল্লেখ নেই। অথচ এমন একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটলে তা বড় শিরোনাম হওয়ার কথা ছিল।

আইয়েগবায়োর মতে, সান্তোসের আফ্রিকা সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল মানবিক উদ্যোগ নয়, বরং প্রদর্শনী ম্যাচের মাধ্যমে আয় করা। সেই সফরের অংশ হিসেবেই দলটি কঙ্গো, নাইজেরিয়া, মোজাম্বিক, ঘানা ও আলজেরিয়া সফর করেছিল।


মজার বিষয় হলো,  পেলে নিজেও বিভিন্ন সময়ে ঘটনাটি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত তার আত্মজীবনী ‘মাই লাইফ অ্যান্ড দ্য বিউটিফুল গেম’-এ কোথাও যুদ্ধবিরতির কথা উল্লেখ ছিল না। তবে ২০০৭ সালে প্রকাশিত ‘পেলে: দ্য অটোবায়োগ্রাফি’ বইয়ে তিনি লেখেন, নাইজেরীয়রা নিশ্চিত করেছিল যেন বিআফ্রার বাহিনী তাদের অবস্থানকালে লাগোসে আক্রমণ না করে।

সেখানে পেলে স্মরণ করেন, শহরের রাস্তাজুড়ে ছিল ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি এবং তাদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিল সেনাবাহিনী ও পুলিশ।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, সান্তোসের এক কর্মকর্তা খেলোয়াড়দের আশ্বস্ত করেছিলেন যে ম্যাচের জন্য যুদ্ধ থামিয়ে দেওয়া হবে। তবে পেলে নিজে কোথাও নিশ্চিতভাবে বলেননি যে তিনি যুদ্ধবিরতি প্রত্যক্ষ করেছিলেন।

অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে গল্পটি নানা রূপ পেয়েছে। কেউ বিশ্বাস করেন, পেলের জনপ্রিয়তা অন্তত কয়েক ঘণ্টার জন্য হলেও যুদ্ধ থামিয়ে দিয়েছিল। অন্যদের মতে, এটি পরবর্তীকালে তৈরি হওয়া এক ফুটবলীয় মিথ, যা বারবার পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে ‘সত্য’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।

আজ পর্যন্ত এমন কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যা নিশ্চিতভাবে বলে যে পেলের খেলা দেখার জন্য নাইজেরিয়ার গৃহযুদ্ধে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি হয়েছিল।

যুদ্ধ সত্যিই থেমেছিল কি না, তার চূড়ান্ত উত্তর হয়তো আর কখনো জানা যাবে না। তবে একটি বিষয় নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই—পেলের জনপ্রিয়তা ছিল অসাধারণ। পৃথিবীর যেখানেই তিনি খেলতে গেছেন, হাজার হাজার মানুষ তাকে এক নজর দেখার জন্য ভিড় করেছে।

হয়তো তিনি যুদ্ধ থামাননি। কিন্তু তিনি এমন এক বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন, যিনি ভাষা, দেশ ও রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে কোটি মানুষকে এক সুতোয় গেঁথেছিলেন। যিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের মানুষকে কিছুক্ষণের জন্য হলেও ফুটবলের আনন্দে একত্রিত করতে পেরেছিলেন।

আর সেই কারণেই, সত্য হোক বা কিংবদন্তি—পেলের নামের সঙ্গে আজও জড়িয়ে আছে সেই অবিশ্বাস্য গল্প,  একজন ফুটবলারের জন্য নাকি থেমে গিয়েছিল যুদ্ধ।

বিশ্বকাপের আগে নেইমারকে ছুঁলেন হ্যারি কেইন

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপের আগে নেইমারকে ছুঁলেন হ্যারি কেইন
নেইমার ও হ্যারি কেইন। ছবি : রয়টার্স

ফুটবলের দুই ভিন্ন মহাদেশ, দুই ভিন্ন ধাঁচের তারকা। একজন ব্রাজিলের সাম্বা ফুটবলের প্রতীক, অন্যজন ইংল্যান্ডের নির্ভরতার নাম। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের ঠিক আগে একটি জায়গায় এসে এক কাতারে দাঁড়িয়েছেন নেইমার ও হ্যারি কেইন।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে দুজনের গোলসংখ্যাই এখন ৭৯। ফলে ছেলেদের আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় যৌথভাবে দশম অবস্থানে রয়েছেন এই দুই তারকা।

ব্রাজিলের জার্সিতে ১২৮ ম্যাচে ৭৯ গোল করেছেন নেইমার। এই গোলসংখ্যা তাকে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতায় পরিণত করেছে। এর মাধ্যমে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন কিংবদন্তি পেলেকে। ব্রাজিলের জার্সিতে ৭৭ গোল করে দীর্ঘদিন সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে ছিলেন তিনি।

অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের হয়ে ৭৯ গোল করে ইতিমধ্যেই দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন হ্যারি কেইন। গত রাতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করে এই মাইলফলকে পৌঁছান তিনি। ম্যাচসংখ্যার বিচারে কেইনের সাফল্য আরো বেশি চোখে পড়ে, কারণ মাত্র ১১৩ ম্যাচ খেলেই তিনি এই উচ্চতায় পৌঁছেছেন।

দুই তারকার ক্যারিয়ারের পথ অবশ্য ভিন্ন। নেইমার বরাবরই ছিলেন সৃজনশীলতা, ড্রিবলিং ও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের প্রতীক। অন্যদিকে কেইন নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন নিখুঁত ফিনিশার এবং নির্ভরযোগ্য গোলমেশিন হিসেবে।

বাংলাদেশের শ্রীমঙ্গলের সমান কুরাসাও যেভাবে বিশ্বকাপে

ক্রীড়া ডেস্ক
বাংলাদেশের শ্রীমঙ্গলের সমান কুরাসাও যেভাবে বিশ্বকাপে
ছবি : রয়টার্স

৩২ দল থেকে বেড়ে যখন ৪৮ দলের বিশ্বকাপ হলো, তখন অনেকেই মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপ আমাদের এমন সব রূপকথা উপহার দিতে যাচ্ছে, যা ফুটবল ইতিহাসের সব সমীকরণ ওলটপালট করে দিয়েছে। 

আয়তনে মাত্র ১৭১ বর্গ মাইলের সমান ক্যারিবীয় অঞ্চলের পুচকে দেশ কুরাসাওয়ের জনসংখ্যা মাত্র ১ লাখ ৫৬ হাজার। এবার বিশ্বমঞ্চে পা রাখছে সেই পুচকে কুরাসাও। আইসল্যান্ডের রেকর্ড ভেঙে কুরাসাও এখন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম দেশ। যেখানে বাংলাদেশের শ্রীমঙ্গলের আয়তনও এর সমান। 

যোগ্যতা অর্জন পর্বের লড়াইয়ে সাবেক ফুটবল কিংবদন্তি ডোয়াইট ইয়র্কের দেশ ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো এবং স্টিভ ম্যাকক্লারেনের জ্যামাইকার মতো শক্তিশালী দলকে পেছনে ফেলে বিশ্বমঞ্চের টিকিট কেটেছে তারা। ২০১১ সালে ফিফার সদস্যপদ পাওয়া এই দেশটি মাত্র ১৫ বছরের ব্যবধানে খেলবে ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে।

ডিক অ্যাডভোকাটের রেকর্ড ও ‘পারিবারিক’ প্রত্যাবর্তন
কুরাসাওর এই রূপকথার মাস্টারমাইন্ড ৭৮ বছর বয়সী ডাচ কোচ ডিক অ্যাডভোকাট। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ কোচ হিসেবে ডাগআউটে দাঁড়াতে যাচ্ছেন তিনি। তবে তার এই বিশ্বকাপ যাত্রা সহজ ছিল না। দলকে বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করানোর পর গত ফেব্রুয়ারিতে অসুস্থ মেয়ের পাশে থাকতে কোচের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন অ্যাডভোকাট।

তার অনুপস্থিতিতে ফ্রেড রুটেন দায়িত্ব নিলেও প্রীতি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ও চীনের কাছে বিধ্বস্ত হয় দল। এরপর মেয়ের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় গত মে মাসে আবারও ‘দ্য ব্লু ফ্যামিলি’ খ্যাত এই দলের ডাগআউটে ফিরে আসেন অ্যাডভোকাট। আর তাতেই স্বস্তি ফিরেছে পুরো শিবিরে।

মাঠের কৌশল ও শক্তি

ফুটবল মহলে কুরাসাও পরিচিত ‘দ্য ব্লু ফ্যামিলি’ বা ‘ব্লু ওয়েভ’ নামে। দলটির সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের অটুট একতা। মাঠের কৌশলে তারা মূলত রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলে থাকে। চূড়ান্ত বাছাইপর্বের শেষ ৬ ম্যাচে তারা গোল হজম করেছে মাত্র ৩টি।

গভীর রক্ষণভাগ, সুশৃঙ্খল মাঝমাঠ এবং কাউন্টার অ্যাটাকে উইং ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করাই অ্যাডভোকাটের মূল মন্ত্র। প্রতিপক্ষের শক্তি বিবেচনা করে দলটিকে ৪-৫-১ অথবা ৫-৪-১ ফর্মেশনে খেলতে দেখা যেতে পারে।

দুর্বলতা ও আভিজাত্যের অভাব

কুরাসাও দলের অধিকাংশ খেলোয়াড়ই নেদারল্যান্ডসের ঘরোয়া লিগে খেলেন। কিছু খেলোয়াড়ের প্রিমিয়ার লিগে খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও, বিশ্বমানের ‘এলিট’ ঘরোয়া পারফর্মারের অভাব রয়েছে এই স্কোয়াডে। আর এই অভিজ্ঞতার ঘাটতিই কাল হতে পারে জার্মানির মতো পরাশক্তির বিপক্ষে তাদের উদ্বোধনী ম্যাচে।

নজর থাকবে যাদের ওপর

বাছাইপর্বে কুরাসাওর হয়ে সর্বোচ্চ ২০টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন মিডফিল্ডার জুনিনহো বাকুনা। বার্মিংহাম সিটি ও রেঞ্জার্সের সাবেক এই তারকাকে ‘ফলস নাইন’ হিসেবেও ব্যবহার করতে পারেন কোচ।

এছাড়া আছেন দলের অধিনায়ক এবং জুনিনহোর বড় ভাই লিয়ান্দ্রো বাকুনা। অ্যাস্টন ভিলা ও কার্ডিফ সিটির হয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে প্রায় ১০০ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে তার।

এদিকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড অ্যাকাডেমির গ্র্যাজুয়েট তাহিত চং ২৬ সদস্যের স্কোয়াডের একমাত্র ফুটবলার, যার জন্ম কুরাসাওতে। দেশের হয়ে ৫ ম্যাচে ৩ গোল ও ১টিতে সহায়তা করে দারুণ ফর্মে আছেন তিনি।

চমকে দেওয়ার মতো তথ্য

কাতার বিশ্বকাপে হ্যাজার্ড (বেলজিয়াম), মিলিনকোভিচ-সাভিচ (সার্ভিয়া) এবং আইয়ু (ঘানা) ভাইদের জুটি দেখা গিয়েছিল। এবার কুরাসাওর হয়ে মাঠ মাতাবেন বাকুনা ভাইয়েরা (লিয়ান্দ্রো ও জুনিনহো)।

কাকতালীয়ভাবে, ২০১৮-১৯ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ মৌসুমে কার্ডিফ সিটি ও হাডার্সফিল্ড টাউনের হয়ে দুই ভাই একই মৌসুমে রেলিগেশনের স্বাদ পেয়েছিলেন।

‘গ্রুপ অব ডেথ’-এ পড়েছে এই পুচকে দ্বীপরাষ্ট্রটি। গ্রুপ পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি, ইকুয়েডর এবং আইভরি কোস্ট। এই তিন প্রতিপক্ষের মিলিত জনসংখ্যা যেখানে ১৩ কোটি ৫০ লাখের বেশি, সেখানে কুরাসাওর জনসংখ্যা মাত্র দেড় লাখ!

তবে কোচ ডিক অ্যাডভোকাটের কণ্ঠে আত্মবিশ্বাস, তিনি জানান, ‘টিভি স্ক্রিনে যাদের খেলা দেখি, তাদের বিপক্ষে লড়তে যাওয়াটা দারুণ কিছু। বিশ্বকাপে যেকোনো দল চমকে দিতে পারে। কুরাসাও কেন নয়? আমরা সেটাই চেষ্টা করব।’