আবারও তেল উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে ওপেক প্লাস। সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র জানিয়েছে, জোটটি রবিবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে জুলাই মাস থেকে তেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করবে। টানা চার মাস ধরে উৎপাদন বৃদ্ধির ধারা চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওপেক প্লাস হলো ওপেকভুক্ত দেশগুলো এবং রাশিয়াসহ তাদের মিত্র তেল উৎপাদনকারীদের একটি জোট। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এই জোটের বড় প্রভাব রয়েছে। তবে বর্তমানে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং যুদ্ধজনিত সংকটের কারণে জোটের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে।
সূত্রগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে পরিস্থিতি অস্থির হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এই প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ। সেখানে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে।
এই পরিস্থিতির কারণে সৌদি আরবসহ ওপেক প্লাসের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দেশ ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে তাদের গ্রাহকদের পূর্ণ চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করতে পারছে না বলে জানা গেছে।
এদিকে প্রায় ছয় দশক সদস্য থাকার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় জোটটির ভেতরে চাপ আরো বেড়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
ওপেক প্লাসের সাতটি প্রধান সদস্য দেশ- সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত, আলজেরিয়া, কাজাখস্তান, রাশিয়া এবং ওমান এর আগে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে দৈনিক উৎপাদন কোটায় প্রায় ৬ লাখ ব্যারেল করে বৃদ্ধি করেছিল।
তবে বাস্তবে উপসাগরীয় দেশগুলোর রপ্তানি কমে যাওয়ায় মোট উৎপাদন সেই অনুপাতে বাড়েনি। ওপেকের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে জোটের গড় উৎপাদন ছিল দৈনিক ৩ কোটি ৩১ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল। অথচ ফেব্রুয়ারিতে এই উৎপাদন ছিল প্রায় ৪ কোটি ২৭ লাখ ৭৭ হাজার ব্যারেল।
সূত্রগুলো আরো জানিয়েছে, রবিবারের বৈঠকে জুলাই মাসের জন্য দৈনিক প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল উৎপাদন বাড়ানোর প্রস্তাব উঠতে পারে। এটি জুন মাসে নেওয়া বৃদ্ধির সমান হবে। তবে জুনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কিছু সমন্বয় করা হয়েছিল।
এর আগে এপ্রিল ও মে মাসে উৎপাদন বৃদ্ধির হার ছিল তুলনামূলক বেশি, প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল।
তবে এখনো পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে সব সূত্রই। তারা বলেছে, বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং বৈঠকের ফলাফলের ওপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।
রবিবারের বৈঠকে ওপেক প্লাসের ২১ সদস্যের মধ্যে এই সাতটি প্রধান দেশ অংশ নেবে। একই দিনে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী পর্যায়ের আরেকটি বৈঠকও হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, ওই বৈঠকে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা খুব কম।




