• ই-পেপার

মরুভূমির দেশ হয়েও কেন বালু আমদানি করে সৌদি আরব?

মার্কিন কর্মকর্তাদের নতুন আতঙ্ক ইসরায়েলের গুপ্তচরবৃত্তি

অনলাইন ডেস্ক
মার্কিন কর্মকর্তাদের নতুন আতঙ্ক ইসরায়েলের গুপ্তচরবৃত্তি
সংগৃহীত ছবি

সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে বাড়ছে মতবিরোধ। ঠিক এমন সময়ে মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি চালানের অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। দেশটির ‘নিয়ন্ত্রণহীন’ গোয়েন্দা কার্যক্রমের তীব্রতায় এখন নতুন আতঙ্ক তৈরি হয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরে। ফলে তেলআবিবের এসব তৎপরতার বিরুদ্ধে কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স বা পাল্টা গোয়েন্দা ঝুঁকির মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করেছে পেন্টাগন।

ইরান ও লেবানন যুদ্ধকে ঘিরে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে ক্রমবর্ধমান মতপার্থক্যের প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে, পেন্টাগনের ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (ডিআইএ) সম্প্রতি ইসরায়েলের হুমকির মাত্রা ‘উচ্চ’ থেকে ‘সংকটজনক’ পর্যায়ে উন্নীত করেছে।

এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আঞ্চলিক সংঘাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংবেদনশীল নীতিনির্ধারণী আলোচনা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে বলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

গোয়েন্দা তৎপরতা

গালফ নিউজ বলছে, সাত পৃষ্ঠার একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এমন কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে, যা মার্কিন প্রতিরক্ষা মহলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, ইসরায়েলের কিছু গোয়েন্দা তৎপরতা মিত্র দেশের মধ্যে সাধারণত যে মাত্রার গোয়েন্দা কার্যক্রম দেখা যায়, তার চেয়েও বেশি আক্রমণাত্মক ছিল।

অন্যদিকে, নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, ইরান-সংক্রান্ত আলোচনায় যুক্ত মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, পেন্টাগনের নীতিবিষয়ক প্রধান এলব্রিজ কোলবি এবং মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মাইকেল ডিমিনো সম্ভাব্য নজরদারির লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন বলে ধারণা করা হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্বেগ

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পেন্টাগনের ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (ডিআইএ) এক পর্যালোচনায় কয়েকটি কথিত গুপ্তচরবৃত্তির ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে ইসরায়েলে অবস্থানরত মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মীরা তাদের ডিভাইসে যোগাযোগ পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম সফটওয়্যার শনাক্ত করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া অতীতের আরো কিছু ঘটনাকে মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ইসরায়েলের আক্রমণাত্মক গোয়েন্দা তৎপরতার প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করছেন।

একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, বর্তমান প্রশাসনের সময়ে ইসরায়েলের গোয়েন্দা কার্যক্রমের তীব্রতা ছিল ‘নিয়ন্ত্রণহীন’।

পোলার্ডকাণ্ড

এই অভিযোগ নতুন করে ১৯৮৫ সালের বহুল আলোচিত ‘জনাথন পোলার্ড’ গুপ্তচরবৃত্তি কেলেঙ্কারির স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। মার্কিন নৌবাহিনীর গোয়েন্দা বিশ্লেষক পোলার্ড ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার হন এবং পরে ৩০ বছর কারাভোগ করেন। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গুপ্তচরবৃত্তি কেলেঙ্কারি হিসেবে বিবেচিত হয়।

তবে এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুমকির মাত্রা বাড়ানো হলেও দুই দেশের মধ্যে চলমান গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এখনো বন্ধ করা হয়নি। বরং মার্কিন কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা সতর্কতা জোরদার করাই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

অভিযোগ অস্বীকার

তবে এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে হোয়াইট হাউস ও ইসরায়েল। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এনবিসি নিউজকে বলেন, ‘পুরো প্রতিবেদনটি মিথ্যা এবং এমন একজন সূত্রের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যার প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই।’

ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি দূতাবাসও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দূতাবাসের এক মুখপাত্র বলেন, ‘ইসরায়েল কোনো মার্কিন প্রতিষ্ঠান বা সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে না। আমাদের গোয়েন্দা কার্যক্রম শত্রুদের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়, মিত্রদের বিরুদ্ধে নয়।’

সম্পর্কের নতুন উত্তেজনা

সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে মতবিরোধ বাড়ছে। ঠিক এরই মধ্যে এমন অভিযোগগুলো সামনে এসেছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ট্রাম্প যেখানে ইরানের সঙ্গে বৃহত্তর সমঝোতার জন্য কূটনৈতিক আলোচনায় গুরুত্ব দিচ্ছেন, সেখানে নেতানিয়াহু আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ, ইরানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত হামলা এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর চাপ অব্যাহত রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

সম্প্রতি লেবানন ইস্যুতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে উত্তপ্ত ফোনালাপের বিষয়টিও প্রকাশ্যে আসে। যদিও ট্রাম্প দাবি করেন, মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও দুই নেতা একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন।

সাম্প্রতিক ইরান ও লেবানন ইস্যুতে দুই মিত্র দেশের অবস্থান যত ভিন্নমুখী হচ্ছে, গোয়েন্দাসংক্রান্ত অবিশ্বাসও ততই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের নতুন উত্তেজনার কারণ হয়ে উঠছে।

তিয়ানআনমেনের সেই ট্যাংকম্যান

নিষিদ্ধ ইতিহাসের দরজায় কড়া নাড়ছে চীনের নতুন প্রজন্ম

অনলাইন ডেস্ক
নিষিদ্ধ ইতিহাসের দরজায় কড়া নাড়ছে চীনের নতুন প্রজন্ম

১৯৮৯ সালে তিয়ানআনমেন স্কয়ারের হত্যাকাণ্ড নিয়ে চীন সরকারের ইতিহাস লুকোচুরি আবারও নতুন করে কৌতূহলের কেন্দ্রে আনল চীনের নতুন প্রজন্মকে। তিয়ানআনমেনের সেই ম্যসাকারের ইতিহাস রাস্ট্রের সেসন্সরের কোপে বই থেকে মুছে গেছে। তবে সেটি বেঁচেছিল গোপনে, থেকেছে ফাইলের ভেতর, তালা দেওয়া আলমারিতে, আর কখনো কখনো ডিলিট বাটনের আশেপাশে। রাষ্ট্র যখন ভাবে, ‘এই ঘটনা মানুষ ভুলে যাক তখন মানুষকে ভুলিয়ে দেওয়ার জন্য সে পাঠ্যবই পাল্টায়, ইন্টারনেট ছেঁটে দেয়, শব্দ নিষিদ্ধ করে, ছবিকে অদৃশ্য করে। কিন্তু মুশকিল হলো, সত্য জিনিসটি বড় জেদি। তাকে যত চাপা দাও, সে তত নিত্যনতুন দরজা খুঁজে বের হয়।

১৯৮৯ সালের তিয়ানআনমেন স্কয়ারের আন্দোলন চীনের আধুনিক ইতিহাসে এক বড় মোড়। ঘটনাটি শুরু হয়েছিল শোক দিয়ে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়ে উঠেছিল রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে এক বিশাল গণ-আন্দোলন। ১৫ এপ্রিল ১৯৮৯ সালে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক নেতা হু ইয়াওবাং মারা যান। তিনি দলের ভেতরে তুলনামূলক উদারপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অনেক ছাত্র তরুণ তাঁকে পরিবর্তনের আশার সঙ্গে মিলিয়ে দেখত। তাঁর মৃত্যুর পর বেইজিংয়ের তিয়ানআনমেন স্কয়ারে ছাত্ররা জড়ো হতে শুরু করে। প্রথমে উদ্দেশ্য ছিল শ্রদ্ধা জানানো। কিন্তু রাষ্ট্রে যখন জমে থাকা অসন্তোষ থাকে, তখন শোকসভাও কখনো কখনো দাবির সভা হয়ে যায়। হয়েছিলও তাই। ছাত্রদের দাবিগুলো অযুক্তিক বা অন্যয্য ছিল না। তারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়েছিল। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চেয়েছিল। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা চেয়েছিল। রাজনৈতিক ব্যবস্থায় কিছুটা খোলামেলা ভাব চেয়েছিল। আন্দোলন শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। শ্রমিক, শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী এবং সাধারণ মানুষও এতে যুক্ত হন। মে মাসে ছাত্রদের অনশন আন্দোলন পরিস্থিতিকে আরো তীব্র করে তোলে। সেই সময় সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচেভ চীন সফরে ছিলেন। ফলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের চোখও তখন বেইজিংয়ের দিকে ছিল।

চীনা সরকার শুরুতে দ্বিধায় থাকলেও পরে আন্দোলনকে রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে দেখতে শুরু করে। ২০ মে ১৯৮৯ সালে বেইজিংয়ে সামরিক আইন জারি করা হয়। এরপর জুন রাত থেকে জুন ভোর পর্যন্ত সেনাবাহিনী তিয়ানআনমেন স্কয়ার এবং আশপাশের এলাকায় অভিযান চালায়। ট্যাংক সশস্ত্র সেনা শহরে প্রবেশ করে। আন্দোলন দমন করা হয় কঠোর শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে। বহু মানুষ নিহত আহত হন। মৃত্যুর সঠিক সংখ্যা আজও নিশ্চিত নয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে কয়েকশ থেকে কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে। চীনা সরকার পরে এই ঘটনার আলোচনা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। মূল ভূখণ্ড চীনে তিয়ানআনমেন প্রসঙ্গ আজও অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং সেন্সরকৃত বিষয়।

এই নির্মম ইতিহাসের মধ্যে সবচেয়ে স্মরণীয় হয়ে আছেন এক অচেনা মানুষ। পৃথিবী তাঁকে চেনেট্যাংকম্যান নামে। জুন ১৯৮৯ সালে, দমন অভিযানের পরের দিন, বেইজিংয়ের চাংআন এভিনিউতে ট্যাংকের একটি সারি এগিয়ে যাচ্ছিল। সেই সময় সাদা শার্ট পরা এক সাধারণ মানুষ, হাতে বাজারের ব্যাগ নিয়ে, ট্যাংকের সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। তিনি নেতা ছিলেন না। তাঁর হাতে কোনো মাইক্রোফোন ছিল না। তাঁর পেছনে কোনো বাহিনী ছিল না। তিনি কোনো বড় বক্তৃতাও দেননি। তিনি শুধু দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু ইতিহাসে কখনও কখনও দাঁড়িয়ে থাকাটাই সবচেয়ে বড় কথা হয়ে যায়। ট্যাংকগুলো তাঁকে পাশ কাটাতে চাইলে তিনিও সরে গিয়ে আবার সামনে দাঁড়ান। এক মানুষ বনাম রাষ্ট্রীয় সামরিক শক্তি দৃশ্যটি ছিল অবিশ্বাস্য। ট্যাংক থেমে যায়। অল্প সময়ের জন্য হলেও এক সাধারণ নাগরিক যুদ্ধযন্ত্রের গতি আটকে দেন। তাঁর পরিচয় আজও জানা যায়নি। তাঁর পরিণতি নিয়েও নিশ্চিত তথ্য নেই।

তিয়ানআনমেন হত্যাযজ্ঞ রাজনৈতিক দমন-পীড়নের ইতিহাস। কিন্তু নাম না জানা সেই ট্যাংক ম্যান ইতিহাসে আরেকটি অধ্যায় যোগ করেছেন। তিনি দেখিয়েছিলেন, ক্ষমতার সামনে প্রতিবাদ সব সময় মিছিল করে আসে না। কখনও তা আসে একা, হাতে বাজারের ব্যাগ নিয়ে, রাস্তার মাঝখানে নীরবে দাঁড়িয়ে।

১৯৮৯ সালের জুনতিয়ানআনমেন স্কয়ার হত্যাকাণ্ড চীনের সরকারি ভাষায় যার অস্তিত্ব প্রায় নেই, আর সাধারণ মানুষের স্মৃতিতে যার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত সেই ইতিহাসই এখন নতুন প্রজন্মের কাছে ফিরে আসছে বিচিত্র পথে। কখনো এক অলিম্পিক চ্যাম্পিয়নের বাবার গল্পে, কখনো লাইভস্ট্রিমের হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া পর্দায়, কখনো কোনো শিক্ষকের বন্ধ দরজার ভেতরকার নীরব পাঠে।

চীনা কর্তৃপক্ষ বহু বছর ধরে তিয়ানআনমেনের গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলন দমন-পীড়নের স্মৃতি মুছে দিতে সচেষ্ট। এখন সেই কাজে যুক্ত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাও। ইন্টারনেটে কোনো শব্দ, ছবি বা ইঙ্গিত যদি জুনের স্মৃতির দিকে একটু আঙুল তোলে, সঙ্গে সঙ্গে সেটি অদৃশ্য হয়ে যায়। যেন ইতিহাস নয়, চোরাবালি। কিন্তু তবু কৌতূহল বলে একটি জিনিস আছে। সেটাকে সেন্সর করা কঠিন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিগার স্কেটার অ্যালিসা লিউ মিলানে অলিম্পিকে স্বর্ণজয় করলে চীনা সামাজিক মাধ্যমে তার বাবাকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। অ্যালিসার বাবা আর্থার লিউ ১৯৮৯ সালের তিয়ানআনমেন আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। পরে তিনি পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। চীনা সামাজিক মাধ্যমে কেউ তাকে বলল বিশ্বাসঘাতক, কেউ বলল সংগ্রামী বাবা। কিন্তু  ফিগার স্কেটার অ্যালিসা লিউ এর বাবাকে নিয়ে তরুণদের একটি অংশের মাথায় প্রশ্ন ঢুকে গেললোকটি আসলে কী করেছিলেন?

প্রশ্নটাই বিপজ্জনক। কারণ প্রশ্নের নিজের পা আছে। সে হাঁটতে হাঁটতে ইতিহাসের কাছে চলে যায়।

চীনের নিজস্ব সামাজিক মাধ্যম রেডনোটে একজন জানতে চেয়েছিলেন, আর্থার লিউ এত বিতর্কিত কেন। উহানের ২০ বছর বয়সী এক কলেজছাত্রী অন্যদের তার অতীত খুঁজে দেখতে বলেন। পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মন্তব্যটি মুছে যায়। অথচ তিনি সরাসরি জুন কথাটিও লেখেননি। আজকাল না বলা কথারও বিপদ আছে। চীনে নীরবতারও সাবটাইটেলও পড়ে ফেলা হয়।

থ্রেডসে এক চীনা ব্যবহারকারী আর্থার লিউ সম্পর্কে পড়ে খোঁজ করতে শুরু করেন। পরে তিনি লেখেন, তিনি বিস্মিত; এত বড় একটি আন্দোলনের কথা তার জানা ছিল না। এটাই সেন্সরশিপের অদ্ভুত ব্যর্থতা। যে দরজা বন্ধ করা হয়, মানুষ আগে সেই দরজাতেই কড়া নাড়ে।

বিশ্লেষকেরা বলেন, তিয়ানআনমেন নিয়ে অতিরিক্ত সেন্সরশিপ উল্টো কৌতূহল বাড়িয়ে দিয়েছে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে। প্রযুক্তি দিয়ে নজরদারি যতই নিখুঁত করা হোক, মানুষের প্রশ্ন করার অভ্যাসকে পুরোপুরি থামানো যায় না। বিশেষ করে যখন রাজনীতি ঢুকে পড়ে বিনোদনের ভেতর। একটি অলিম্পিক পদক, একটি আইসক্রিম কেক, একটি লাইভস্ট্রিম- হঠাৎ সেগুলো ইতিহাসের দরজা খুলে দেয়।

চীনের পাঠ্যবইয়ে বা  শ্রেণিকক্ষে এই ঘটনা প্রায় নেই। কোথাও থাকলেও তারাজনৈতিক অস্থিরতা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। যেন ছাত্রদের প্রশ্ন ছিল না, মানুষের স্বপ্ন ছিল না, শুধু বাইরের ষড়যন্ত্র ছিল। ইতিহাসকে যখন রাষ্ট্র নিজের ভাষায় লিখতে চায়, তখন মানুষের মুখ থেকে শব্দ কেড়ে নেওয়া হয়।

তিয়ানআনমেন স্কয়ারে হত্যাকাণ্ড নিয়ে হংকং একসময় ছিল স্মরণের জায়গা। ভিক্টোরিয়া পার্কে মোমবাতি জ্বলত, মানুষ নীরবে দাঁড়াত। কিন্তু ২০২০ সালের জাতীয় নিরাপত্তা আইনের পর সেই পরিসরও বন্ধ হয়ে গেছে। স্মরণসভা নেই, জাদুঘর নেই, প্রকাশ্য আলোচনা নেই। যে জায়গায় শোক ছিল, সেখানে এখন দেশপ্রেমের বাজার বসে। ইতিহাসের ওপর পসরা সাজানোর এও এক অভিনব পদ্ধতি।

তবু কিছু গল্প থেকে যায়। ২০২২ সালের জুন চীনের এক কিশোরী জনপ্রিয় লাইভস্ট্রিমার লি জিয়াচির অনুষ্ঠান দেখছিল। সেখানে ট্যাংকের আকৃতির একটি আইসক্রিম কেক দেখানোর পর অনুষ্ঠানটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। কেন বন্ধ হলো? এই সামান্য প্রশ্ন থেকেই সে উত্তর খুঁজতে শুরু করে। ফায়ারওয়াল পেরিয়ে সে জানতে পারে ১৯৮৯ সালের তিয়ানআনমেন স্কয়ারে কথা। পরে সে জানায়, সত্য জানার পর তার দীর্ঘদিনের বিশ্বাস ভেঙে পড়েছিল।

এই ভাঙন শুধু রাজনৈতিক নয়; ব্যক্তিগতও। যে রাষ্ট্রকে তুমি শৈশব থেকে একরকম চিনেছ, হঠাৎ দেখলে তার আয়নায় অন্য মুখ। তখন মানুষ শুধু ইতিহাস শেখে না, নিজেকেও নতুন করে পড়তে শুরু করে।

মলি নামের আরেক তরুণী হাইস্কুলে পড়ার সময় তিয়ানআনমেনের কথা জানতে পারেন। তার ইতিহাস শিক্ষক দরজা বন্ধ করে ঘটনাটি বলেছিলেন। দরজা বন্ধ করে ইতিহাস শেখানো এর চেয়ে করুণ দৃশ্য আর কী হতে পারে! যে সত্য শ্রেণিকক্ষে উচ্চস্বরে বলা যায় না, সে সত্য ছাত্রদের মনে আরও গভীরে গিয়ে বসে।

আজ অ্যালিসা লিউকে ঘিরে সেই ইতিহাস আবার কিছু তরুণের সামনে আসছে। তারা কী করবে? কেউ হয়তো পুরোনো বিশ্বাস আঁকড়ে ধরবে। কেউ হয়তো প্রশ্ন করবে। কেউ হয়তো চুপ থাকবে, কিন্তু মনে রাখবে।

রাষ্ট্র অনেক কিছু পারে। বই বদলাতে পারে, পোস্ট মুছে দিতে পারে, সার্চ ফলাফল লুকিয়ে ফেলতে পারে। কিন্তু মানুষের কৌতূহলকে পুরোপুরি বন্দি করা কঠিন। কারণ সত্যেরও একধরনের অভ্যাস আছে। সে কখনো খবরের ভেতর আসে, কখনো ক্রীড়ার ভেতর, কখনো কেকের আকৃতিতে, কখনো কোনো তরুণীর বিস্মিত চোখে।

তিয়ানআনমেন তাই শুধু একটি স্কয়ার নয়। এটি স্মৃতি বনাম বিস্মৃতির লড়াই। রাষ্ট্র বলছে, ‘ভুলে যাও। ইতিহাস বলছে, ‘একটু খুঁজে দেখো। আর তরুণরা ধীরে ধীরে, ফিসফিস করে হলেও সেই খোঁজ শুরু করেছে।

সূত্র : দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট

হরমুজ সংকটের মধ্যেই চতুর্থবার তেল উৎপাদন বাড়াচ্ছে ওপেক প্লাস

অনলাইন ডেস্ক
হরমুজ সংকটের মধ্যেই চতুর্থবার তেল উৎপাদন বাড়াচ্ছে ওপেক প্লাস
ছবি : রয়টার্স

আবারও তেল উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে ওপেক প্লাস। সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র জানিয়েছে, জোটটি রবিবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে জুলাই মাস থেকে তেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করবে। টানা চার মাস ধরে উৎপাদন বৃদ্ধির ধারা চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ওপেক প্লাস হলো ওপেকভুক্ত দেশগুলো এবং রাশিয়াসহ তাদের মিত্র তেল উৎপাদনকারীদের একটি জোট। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এই জোটের বড় প্রভাব রয়েছে। তবে বর্তমানে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং যুদ্ধজনিত সংকটের কারণে জোটের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে।

সূত্রগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে পরিস্থিতি অস্থির হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এই প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ। সেখানে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে।

এই পরিস্থিতির কারণে সৌদি আরবসহ ওপেক প্লাসের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দেশ ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে তাদের গ্রাহকদের পূর্ণ চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করতে পারছে না বলে জানা গেছে।

এদিকে প্রায় ছয় দশক সদস্য থাকার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় জোটটির ভেতরে চাপ আরো বেড়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

ওপেক প্লাসের সাতটি প্রধান সদস্য দেশ- সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত, আলজেরিয়া, কাজাখস্তান, রাশিয়া এবং ওমান এর আগে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে দৈনিক উৎপাদন কোটায় প্রায় ৬ লাখ ব্যারেল করে বৃদ্ধি করেছিল।

তবে বাস্তবে উপসাগরীয় দেশগুলোর রপ্তানি কমে যাওয়ায় মোট উৎপাদন সেই অনুপাতে বাড়েনি। ওপেকের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে জোটের গড় উৎপাদন ছিল দৈনিক ৩ কোটি ৩১ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল। অথচ ফেব্রুয়ারিতে এই উৎপাদন ছিল প্রায় ৪ কোটি ২৭ লাখ ৭৭ হাজার ব্যারেল।

সূত্রগুলো আরো জানিয়েছে, রবিবারের বৈঠকে জুলাই মাসের জন্য দৈনিক প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল উৎপাদন বাড়ানোর প্রস্তাব উঠতে পারে। এটি জুন মাসে নেওয়া বৃদ্ধির সমান হবে। তবে জুনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কিছু সমন্বয় করা হয়েছিল।

এর আগে এপ্রিল ও মে মাসে উৎপাদন বৃদ্ধির হার ছিল তুলনামূলক বেশি, প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল।

তবে এখনো পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে সব সূত্রই। তারা বলেছে, বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং বৈঠকের ফলাফলের ওপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।

রবিবারের বৈঠকে ওপেক প্লাসের ২১ সদস্যের মধ্যে এই সাতটি প্রধান দেশ অংশ নেবে। একই দিনে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী পর্যায়ের আরেকটি বৈঠকও হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, ওই বৈঠকে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা খুব কম।

‘কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত সিজেপির আন্দোলন চলবে’

অনলাইন ডেস্ক
‘কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত সিজেপির আন্দোলন চলবে’
ছবি : পিটিআই

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত থামবে না আন্দোলন বলে জানিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। রবিবার (৭ জুন) ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ আলটিমেন্টাম দেন তিনি। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় দীপকে আরো জানিয়েছেন, গত শনিবার নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপির ব্যানারে আয়োজিত প্রতিবাদটি সমাবেশটি সফল হয়েছে। যেখানে প্রায় সাত হাজারের বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করেছিল।

দাবিটি মেনে না নিলে আন্দোলনটি সারা দেশব্যাপী গড়ে তোলা হবে বলে যোগ করেন তিনি।

উল্লখ্য, নিট (চিকিৎসাবিদ্যাসংক্রান্ত পড়াশোনার জন্য প্রবেশিকা পরীক্ষা), সিবিএসই (সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশন), সিইউইটি (কমন ইউনিভার্সিটি এন্ট্রান্স টেস্ট) এবং এসএসসিসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে তরুণ প্রজন্ম। এতে যুব-নেতৃত্বাধীন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে একটি দল গড়ে তুলেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নামে।

এর আগে এমআইডিসি ওয়ালুজ এলাকায় নিজ বাসভবনে দীপকে পৌঁছালে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে স্বাগত জানান। পরে তিনি সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।