• ই-পেপার

কোটালীপাড়া

ভ্যানে বস্তায় নিয়ে যাচ্ছিলেন গাঁজা, পুলিশের তল্লাশিতে আটক চালক

কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় ২ এসআইসহ আহত ৫, আটক ৩

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় ২ এসআইসহ আহত ৫, আটক ৩
সংগৃহীত ছবি

কক্সবাজারের টেকনাফে একটি মামলার আসামিকে নিয়ে অভিযানে যাওয়ার সময় পুলিশের বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে একটি দ্রুতগতির কাভার্ড ভ্যান ধাক্কা দিলে দুই পুলিশ উপপরিদর্শক (এসআই)সহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় কাভার্ড ভ্যানচালক-হেলপারসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

রবিবার (৭ জুন) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে টেকনাফ-কক্সবাজার মহাসড়কের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের নোয়াপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

আটককৃতরা হলেন রুমান মিয়া (৪১), মাঈন উদ্দিন (৩৫) ও রাকিব (২৩)। তাদের বাড়ি যথাক্রমে নোয়াখালী, রংপুর ও নেত্রকোনা জেলায়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের পর তাকে নিয়ে পরবর্তী অভিযানে যাচ্ছিলেন টেকনাফ মডেল থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য। এ সময় হ্নীলা থেকে হোয়াইক্যংয়ের দিকে যাওয়ার পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির কাভার্ড ভ্যান সিএনজিটিকে সজোরে আঘাত করে। এতে এসআই জাফর আলম, এসআই মোরশেদ আলম, মামলার ভিকটিমের ভাই আলতাফ মোহাম্মদ খালেক, আটককৃত আসামি মো. মেহেদী এবং সিএনজি চালক মো. তৈয়ব আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তাদের মধ্যে জাফর আলম, আলতাফ মোহাম্মদ খালেক ও মো. মেহেদীর আঘাত গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এদিকে দুর্ঘটনার পর কাভার্ড ভ্যানটি ঘটনাস্থল ত্যাগের চেষ্টার খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়া ব্রিজ এলাকা থেকে গাড়িটি জব্দ করে। একই সঙ্গে চালক, হেলপারসহ তিনজনকে আটক করা হয়।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

চুনারুঘাটে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
চুনারুঘাটে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় বাবার পোলট্রি খামারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তাইবা আক্তার (৭) নামের এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার (৭ জুন) সকালে উপজেলার দিয়াগাঁও গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত তাইবা আক্তার স্থানীয় রুবেল মিয়ার মেয়ে এবং এজেডিটি মডেল একাডেমি অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ছিল।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সকালে বাড়ির পাশে বাবার পোলট্রি খামারে যায় তাইবা। এ সময় অসাবধানতাবশত ঝুলে থাকা একটি বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এসে সে গুরুতর আহত হয়।

আরো পড়ুন

‘কেন্দ্রিয় শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত সিজেপির আন্দোলন চলবে’

‘কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত সিজেপির আন্দোলন চলবে’

 

পরে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নান্দাইল

বর্ষা মৌসুমে স্তূপাকার পদ্ধতিতে শসা চাষ

আলম ফরাজী, ময়মনসিংহ
বর্ষা মৌসুমে স্তূপাকার পদ্ধতিতে শসা চাষ
জমিতে স্তূপাকার পদ্ধতিতে শসা চাষে ব্যস্ত কৃষক। রবিবার দুপুরে ময়মনসিংহের নান্দাইলের মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের কাদিরপুর গ্রামের একটি ক্ষেতে।

সালাদ তৈরির গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ শসা। অনেকের কাছে এ সবজি চৈত্রের খরতাপে ক্ষুধা ও তৃষ্ণা নিবারণের দারুণ টনিক হিসেবে কাজ করে। বাজারেও সবজিটির ব্যাপক চাহিদা। ফলে কৃষকও এই সবজি চাষ করে  লাভবান হচ্ছেন। 

ময়মনসিংহের নান্দাইল ও ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলের কৃষকের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে শসা চাষ।

রবিবার (৭ জুন) নান্দাইল উপজেলার খারুয়ার ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর, মোয়াজ্জেমপুরের কাদিরপুর, বীর বেতাগৈর, চর বেতাগৈর ইউনিয়নের চরাঞ্চল ও ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার, মগটুলা, রাজীবপুর ইউনিয়নের কিছু গ্রাম ঘুরে শসা চাষের এই চিত্র চোখে পড়ে।

নান্দাইল-দেওয়ানগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে দাঁড়িয়ে কথা হয় মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের কাদিরপুর গ্রামের কৃষক মো. আবুল হাসেমের সঙ্গে। তিনি জানান, প্রতি ১০ শতক (এক কাঠা) জমিতে শসা আবাদে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকার মতো খরচ পড়ে। ৪০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে ফলন উঠতে শুরু করে। বিক্রি হয় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মতো। রাজধানীর কারওয়ান বাজারের পাইকাররা এখানে এসে শসা কিনে নিয়ে যান। তিনি  বলেন, পুরো মাস ধরে শসা বিক্রি করা হয়। তাই সবজিটি কৃষকদের কাছে লাভজনক হয়ে উঠছে।

সরেজমিনে আরো দেখা যায়, শসা বীজ লাগানো হয়েছে জমির সমতল মাটি থেকে প্রায় এক-দেড় ফুট উঁচুতে। এই উচ্চতা তৈরি করা হয়েছে জমির মাটি কেটে স্তূপ করে। 

কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অসময়ে বৃষ্টি হলে বা  বর্ষাকালে জমিতে পানি জমে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এতে গোড়া পচে শসা গাছ মরে যায়। তাই মাটি কেটে স্তূপ করে এই উচ্চতা তৈরি করা হয়েছে। আবার খরতাপে মাটি শুকিয়ে গেলে জমে থাকা বা সেচের পানি কাজে লাগানো যায়। 

কৃষক আবুল হাসেমের বোন হালিমা আক্তার (৪০) জানান, দিনে একবার হলেও তিনি জমি দেখতে আসেন। তার ভাই ৩০ শতক জমিতে শসা আবাদ করেছেন। গত বছর এই ক্ষেত থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকার শসা বিক্রি করা হয়েছিল।

নান্দাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাঈমা সুলতানা কালের কণ্ঠকে বলেন, চাষাবাদের ক্ষেত্রে কৃষকেরা অনেকটা কৌশলী হয়ে উঠছেন। তারা নিচু জমিতে ধান চাষের পাশপাশি মওসুমভিত্তিক সবজি আবাদ করে লাভবান হচ্ছেন। উৎপাদিত ফসল বিক্রির জন্য তারা ক্রেতাকে উৎপাদনস্থলে টেনে আনছেন। এতে বোঝা যায়, কৃষকরা নিত্যনতুন কৃষিপ্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন। 

কৃষি কর্মকর্তা আরো বলেন, নান্দাইলে ১০ হেক্টর জমিতে নিরাপদ সবজি আবাদের লক্ষ্য সেখানে এর প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে। তারা বেশ মনোযোগী হয়ে শসা চাষ করছেন। এতে ধানের চেয়ে লাভ হবে বেশি।

ময়মনসিংহে চতুর্থ দিনের মতো চলছে ১৪৪ ধারা

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ময়মনসিংহে চতুর্থ দিনের মতো চলছে ১৪৪ ধারা
ছবি: কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার খারুয়া বাজারে দুই পক্ষের সংঘর্ষ থামাতে জারি করা ১৪৪ ধারা চতুর্থ দিনের মতো অব্যাহত রয়েছে। দুই-তিনটি ওষুধের দোকান ছাড়া বাজারের সব দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে উপস্থিতিও কম।

এর আগে গত ৪ জুন খারুয়া ও নরেন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ, দোকান ভাঙচুর ও মালপত্র লুটপাট শুরু হয়। পরে থানা-পুলিশ ও র‌্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে আট রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে বাজার ও তৎসংলগ্ন এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করেন নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাতেমা জান্নাত।

ওই সংঘর্ষের ঘটনায় নান্দাইল মডেল থানার পুলিশ বাদী হয়ে ৭০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতপরিচয় চার-পাঁচ শত লোককে অভিযুক্ত করে একটি মামলা করে। ওই মামলায় গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় অনেকেই গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে। অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি জানান, তারা ঘটনার দিন খারুয়া বাজারে ছিলেন না। তার পরও তাদের আসামি করা হয়েছে।

আরো পড়ুন
বগুড়ায় ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি

বগুড়ায় ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি

 

স্থানীয় একটি ফার্মেসির মালিক মো. ফারুক মিয়া জানান, মানুষের কখন কোন ওষুধের প্রয়োজন হয়, সে কারণে তিনি ফার্মেসি খোলা রেখেছেন। কিন্তু বেচাকেনা নেই বললেই চলে। মানুষ ভয়ে বাজারে আসে না বলে জানান তিনি। 

খারুয়া বাজারের কয়েকজন ফলের দোকানি বলেন, গত ৪ জুন থেকে দোকান বন্ধ থাকায় দোকানের ফল নষ্ট হয়ে গেছে। কিছু ফল বাড়িতে নিয়ে পরিবারের সদস্যদের খাইয়েছি। বাকিগুলো ফেলে দিতে হয়েছে।

খারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. শামছুন্নাহার বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ে ৩৮০ জন শিক্ষার্থী। ১৪৪ ধারা জারির খবরে গ্রামের বাসিন্দা তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে রাজি হচ্ছে না। শনিবার দিন মাত্র ৬৮ জন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে এসেছিল।’

খারুয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া মহিলা মাদরাসা ও কওমি মাদরাসায় শিক্ষার্থী উপস্থিতি কমে গেছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।

চা বিক্রেতা বাবুল মিয়া বলেন, ‘পরিবারে ৬ সদস্য আমার ওপর নির্ভর করে। এই আয় দিয়ে সংসার চলে। কিন্তু গত পাঁচ দিন ধইর‌্যা কোনো আয় নাই। বড় বেকায়দায় আছি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাতেমা জান্নাত বলেন, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। পুলিশের থেকে সবুজ সংকেত পাওয়া গেলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।