• ই-পেপার

রেকর্ড ভাঙার ‘বুলডোজার’ বৈভবের অপেক্ষায় ক্রিকেটবিশ্ব

বিশ্বকাপের আগে নেইমারকে ছুঁলেন হ্যারি কেইন

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপের আগে নেইমারকে ছুঁলেন হ্যারি কেইন
নেইমার ও হ্যারি কেইন। ছবি : রয়টার্স

ফুটবলের দুই ভিন্ন মহাদেশ, দুই ভিন্ন ধাঁচের তারকা। একজন ব্রাজিলের সাম্বা ফুটবলের প্রতীক, অন্যজন ইংল্যান্ডের নির্ভরতার নাম। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের ঠিক আগে একটি জায়গায় এসে এক কাতারে দাঁড়িয়েছেন নেইমার ও হ্যারি কেইন।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে দুজনের গোলসংখ্যাই এখন ৭৯। ফলে ছেলেদের আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় যৌথভাবে দশম অবস্থানে রয়েছেন এই দুই তারকা।

ব্রাজিলের জার্সিতে ১২৮ ম্যাচে ৭৯ গোল করেছেন নেইমার। এই গোলসংখ্যা তাকে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতায় পরিণত করেছে। এর মাধ্যমে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন কিংবদন্তি পেলেকে। ব্রাজিলের জার্সিতে ৭৭ গোল করে দীর্ঘদিন সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে ছিলেন তিনি।

অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের হয়ে ৭৯ গোল করে ইতিমধ্যেই দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন হ্যারি কেইন। গত রাতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করে এই মাইলফলকে পৌঁছান তিনি। ম্যাচসংখ্যার বিচারে কেইনের সাফল্য আরো বেশি চোখে পড়ে, কারণ মাত্র ১১৩ ম্যাচ খেলেই তিনি এই উচ্চতায় পৌঁছেছেন।

দুই তারকার ক্যারিয়ারের পথ অবশ্য ভিন্ন। নেইমার বরাবরই ছিলেন সৃজনশীলতা, ড্রিবলিং ও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের প্রতীক। অন্যদিকে কেইন নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন নিখুঁত ফিনিশার এবং নির্ভরযোগ্য গোলমেশিন হিসেবে।

বাংলাদেশের শ্রীমঙ্গলের সমান কুরাসাও যেভাবে বিশ্বকাপে

ক্রীড়া ডেস্ক
বাংলাদেশের শ্রীমঙ্গলের সমান কুরাসাও যেভাবে বিশ্বকাপে
ছবি : রয়টার্স

৩২ দল থেকে বেড়ে যখন ৪৮ দলের বিশ্বকাপ হলো, তখন অনেকেই মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপ আমাদের এমন সব রূপকথা উপহার দিতে যাচ্ছে, যা ফুটবল ইতিহাসের সব সমীকরণ ওলটপালট করে দিয়েছে। 

আয়তনে মাত্র ১৭১ বর্গ মাইলের সমান ক্যারিবীয় অঞ্চলের পুচকে দেশ কুরাসাওয়ের জনসংখ্যা মাত্র ১ লাখ ৫৬ হাজার। এবার বিশ্বমঞ্চে পা রাখছে সেই পুচকে কুরাসাও। আইসল্যান্ডের রেকর্ড ভেঙে কুরাসাও এখন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম দেশ। যেখানে বাংলাদেশের শ্রীমঙ্গলের আয়তনও এর সমান। 

যোগ্যতা অর্জন পর্বের লড়াইয়ে সাবেক ফুটবল কিংবদন্তি ডোয়াইট ইয়র্কের দেশ ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো এবং স্টিভ ম্যাকক্লারেনের জ্যামাইকার মতো শক্তিশালী দলকে পেছনে ফেলে বিশ্বমঞ্চের টিকিট কেটেছে তারা। ২০১১ সালে ফিফার সদস্যপদ পাওয়া এই দেশটি মাত্র ১৫ বছরের ব্যবধানে খেলবে ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে।

ডিক অ্যাডভোকাটের রেকর্ড ও ‘পারিবারিক’ প্রত্যাবর্তন
কুরাসাওর এই রূপকথার মাস্টারমাইন্ড ৭৮ বছর বয়সী ডাচ কোচ ডিক অ্যাডভোকাট। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ কোচ হিসেবে ডাগআউটে দাঁড়াতে যাচ্ছেন তিনি। তবে তার এই বিশ্বকাপ যাত্রা সহজ ছিল না। দলকে বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করানোর পর গত ফেব্রুয়ারিতে অসুস্থ মেয়ের পাশে থাকতে কোচের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন অ্যাডভোকাট।

তার অনুপস্থিতিতে ফ্রেড রুটেন দায়িত্ব নিলেও প্রীতি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ও চীনের কাছে বিধ্বস্ত হয় দল। এরপর মেয়ের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় গত মে মাসে আবারও ‘দ্য ব্লু ফ্যামিলি’ খ্যাত এই দলের ডাগআউটে ফিরে আসেন অ্যাডভোকাট। আর তাতেই স্বস্তি ফিরেছে পুরো শিবিরে।

মাঠের কৌশল ও শক্তি

ফুটবল মহলে কুরাসাও পরিচিত ‘দ্য ব্লু ফ্যামিলি’ বা ‘ব্লু ওয়েভ’ নামে। দলটির সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের অটুট একতা। মাঠের কৌশলে তারা মূলত রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলে থাকে। চূড়ান্ত বাছাইপর্বের শেষ ৬ ম্যাচে তারা গোল হজম করেছে মাত্র ৩টি।

গভীর রক্ষণভাগ, সুশৃঙ্খল মাঝমাঠ এবং কাউন্টার অ্যাটাকে উইং ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করাই অ্যাডভোকাটের মূল মন্ত্র। প্রতিপক্ষের শক্তি বিবেচনা করে দলটিকে ৪-৫-১ অথবা ৫-৪-১ ফর্মেশনে খেলতে দেখা যেতে পারে।

দুর্বলতা ও আভিজাত্যের অভাব

কুরাসাও দলের অধিকাংশ খেলোয়াড়ই নেদারল্যান্ডসের ঘরোয়া লিগে খেলেন। কিছু খেলোয়াড়ের প্রিমিয়ার লিগে খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও, বিশ্বমানের ‘এলিট’ ঘরোয়া পারফর্মারের অভাব রয়েছে এই স্কোয়াডে। আর এই অভিজ্ঞতার ঘাটতিই কাল হতে পারে জার্মানির মতো পরাশক্তির বিপক্ষে তাদের উদ্বোধনী ম্যাচে।

নজর থাকবে যাদের ওপর

বাছাইপর্বে কুরাসাওর হয়ে সর্বোচ্চ ২০টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন মিডফিল্ডার জুনিনহো বাকুনা। বার্মিংহাম সিটি ও রেঞ্জার্সের সাবেক এই তারকাকে ‘ফলস নাইন’ হিসেবেও ব্যবহার করতে পারেন কোচ।

এছাড়া আছেন দলের অধিনায়ক এবং জুনিনহোর বড় ভাই লিয়ান্দ্রো বাকুনা। অ্যাস্টন ভিলা ও কার্ডিফ সিটির হয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে প্রায় ১০০ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে তার।

এদিকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড অ্যাকাডেমির গ্র্যাজুয়েট তাহিত চং ২৬ সদস্যের স্কোয়াডের একমাত্র ফুটবলার, যার জন্ম কুরাসাওতে। দেশের হয়ে ৫ ম্যাচে ৩ গোল ও ১টিতে সহায়তা করে দারুণ ফর্মে আছেন তিনি।

চমকে দেওয়ার মতো তথ্য

কাতার বিশ্বকাপে হ্যাজার্ড (বেলজিয়াম), মিলিনকোভিচ-সাভিচ (সার্ভিয়া) এবং আইয়ু (ঘানা) ভাইদের জুটি দেখা গিয়েছিল। এবার কুরাসাওর হয়ে মাঠ মাতাবেন বাকুনা ভাইয়েরা (লিয়ান্দ্রো ও জুনিনহো)।

কাকতালীয়ভাবে, ২০১৮-১৯ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ মৌসুমে কার্ডিফ সিটি ও হাডার্সফিল্ড টাউনের হয়ে দুই ভাই একই মৌসুমে রেলিগেশনের স্বাদ পেয়েছিলেন।

‘গ্রুপ অব ডেথ’-এ পড়েছে এই পুচকে দ্বীপরাষ্ট্রটি। গ্রুপ পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি, ইকুয়েডর এবং আইভরি কোস্ট। এই তিন প্রতিপক্ষের মিলিত জনসংখ্যা যেখানে ১৩ কোটি ৫০ লাখের বেশি, সেখানে কুরাসাওর জনসংখ্যা মাত্র দেড় লাখ!

তবে কোচ ডিক অ্যাডভোকাটের কণ্ঠে আত্মবিশ্বাস, তিনি জানান, ‘টিভি স্ক্রিনে যাদের খেলা দেখি, তাদের বিপক্ষে লড়তে যাওয়াটা দারুণ কিছু। বিশ্বকাপে যেকোনো দল চমকে দিতে পারে। কুরাসাও কেন নয়? আমরা সেটাই চেষ্টা করব।’ 

২০২২ বিশ্বকাপ : পেনাল্টির রেকর্ড গড়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্ক
২০২২ বিশ্বকাপ : পেনাল্টির রেকর্ড গড়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা
ছবি : রয়টার্স

কাতার বিশ্বকাপ ২০২২ ছিল আর্জেন্টিনার জন্য স্বপ্নপূরণের মঞ্চ। দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় আলবিসেলেস্তেরা। এই আসরেই দীর্ঘ ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা ঘুচিয়ে বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা মেসিও। তবে এই শিরোপা জয়ের পথে তারা গড়েছিল একটি অনন্য রেকর্ডও।

পুরো টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনা পেয়েছিল পাঁচটি পেনাল্টি, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে এক আসরে কোনো দলের সর্বোচ্চ পেনাল্টি পাওয়ার রেকর্ড। এর আগে একক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ চারটি পেনাল্টি পাওয়ার রেকর্ড ছিল পর্তুগাল (১৯৬৬) এবং নেদারল্যান্ডসের (১৯৭৮)।

কাতারে আর্জেন্টিনার পাঁচটি পেনাল্টির সবকটিই নিয়েছিলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। সৌদি আরব, নেদারল্যান্ডস, ক্রোয়েশিয়া এবং ফ্রান্সের বিপক্ষে চারটি পেনাল্টি থেকে গোল করেন তিনি। শুধু পোল্যান্ডের বিপক্ষে একটি পেনাল্টি মিস করেছিলেন তিনি।

বিশেষ করে নকআউট পর্বে এই পেনাল্টিগুলো আর্জেন্টিনার জন্য হয়ে ওঠে বড় সহায়ক। কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে, সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে এবং ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে পাওয়া পেনাল্টিগুলো ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে অনেক দলই পেনাল্টির সুবিধা পেয়েছে, কিন্তু কোনো দলই এর আগে এক আসরে পাঁচবার স্পট কিকের সুযোগ পায়নি। সেই রেকর্ড গড়ে আর্জেন্টিনা শুধু শিরোপাই জেতেনি, বরং বিশ্বকাপের পরিসংখ্যানেও নিজেদের নাম লিখিয়েছে নতুনভাবে।

অনেকের মতে, কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি ছিল গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোকে কাজে লাগানোর ক্ষমতা। আর সেই মুহূর্তগুলোর বড় অংশই এসেছে  স্পট কিক থেকে।

তাই ২০২২ বিশ্বকাপের গল্প বলতে গেলে শুধু মেসির জাদু, মার্তিনেজের দুর্দান্ত সেভ কিংবা বাকিদের লড়াই নয়, মনে রাখতে হবে আরেকটি পরিসংখ্যানও, পাঁচ পেনাল্টির রেকর্ড গড়ে ইতিহাসের পাতায় নিজেদের বিশ্বজয়কে আরো স্মরণীয় করে তুলেছিল আর্জেন্টিনা।

চোটে ব্রাজিলের ‘ভরসার’ বিশ্বকাপ শেষের শঙ্কা

ক্রীড়া ডেস্ক
চোটে ব্রাজিলের ‘ভরসার’ বিশ্বকাপ শেষের শঙ্কা
ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া

বিশ্বকাপের মহোৎসব শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে বড়সড় এক ধাক্কা খেল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। মিশরের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে মাত্র ১৬ মিনিট মাঠে খেলেই ইনজুরির কারণে মাঠ ছাড়তে হয়েছে সেলেসাওদের প্রধান রাইট-ব্যাক ওয়েসলি ফ্রান্সাকে। 

বাঁ পায়ের কুঁচকির চোটে পড়ে ম্যাচ চলাকালীনই মাঠের বাইরে চলে যান ২২ বছর বয়সী তারকা। তার বদলে মাঠে নামেন অভিজ্ঞ দানিলো। ম্যাচটি ২-১ জিতলেও সেলেসাও শিবিরে এখন শুধুই অস্বস্তির ছায়া।

নিজেদের রক্ষণভাগকে পরখ করে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে শনিবার ক্লিভল্যান্ডে মিশরের মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল। কিন্তু ম্যাচের শুরুতেই ঘটে এই বিপর্যয়। দলের প্রধান রাইট-ব্যাক ওয়েসলি যখন মাঠ ছেড়ে বেঞ্চে গিয়ে বসেন, তখন তাকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। তার এই কান্না স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, চোটটি মোটেও সাধারণ কোনো ‘নক’ বা হালকা আঘাত নয়। 

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের রক্ষণভাগের অন্যতম ভরসা মনে করা হচ্ছিল এই তরুণকে। কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরুর এই অন্তিম মুহূর্তে এমন চোট দলের পুরো পরিকল্পনাকেই ওলটপালট করে দিয়েছে। এখন স্ক্যান রিপোর্টের জন্য চাতক পাখির মতো অপেক্ষা করছে ব্রাজিলের মেডিকেল টিম।

কোচ আনচেলত্তির জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হলো ফিফার নিয়ম। আগামী ১৩ জুন ব্রাজিলের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হচ্ছে। আর নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম ম্যাচের ২৪ ঘণ্টা আগ পর্যন্ত চোটাক্রান্ত খেলোয়াড়ের পরিবর্তে প্রাথমিক স্কোয়াড থেকে নতুন কাউকে নেওয়া যায়। 

যদি ওয়েসলি শেষ পর্যন্ত ছিটকে যান, তবে ব্রাজিলের ৫৫ জনের প্রাথমিক তালিকায় থাকা রাইট-ব্যাকদের দিকে তাকাতে হবে কোচকে। তবে সেখানে বিকল্পের সংখ্যা খুবই সীমিত। এই পজিশনে ব্যাক-আপ হিসেবে কেবল ভাস্কো দা গামার পাওলো হেনরিকে এবং বোটফোগোর ভিতিনহো রেডি আছেন।