• ই-পেপার

তিন দিনের সফরে রাশিয়া গে‌লেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নতুন বেতন কাঠামো

রূপরেখা চূড়ান্ত, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের চিন্তা

অনলাইন ডেস্ক
রূপরেখা চূড়ান্ত, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের চিন্তা

 

১ জুলাই থেকে জাতীয় বেতন কাঠামো (পে স্কেল) কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে সরকারের ভেতরে প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে একবারে নয়, বরং ধাপে ধাপে নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনাই বেশি অগ্রাধিকার পাচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সূত্রগুলো বলছে, অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং বাজেটের ওপর চাপ বিবেচনায় রেখে নতুন পে স্কেল তিনটি ধাপে কার্যকর করার প্রাথমিক রূপরেখা তৈরি হয়েছে। এতে করে একদিকে ব্যয়ের চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে, অন্যদিকে বেতন কাঠামো সংস্কারের কাজও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা আসেনি, তবু সম্ভাব্য সময়সীমা ঘিরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আগ্রহের পাশাপাশি কিছুটা অনিশ্চয়তাও রয়েছে। বিশেষ করে কবে থেকে এবং কিভাবে নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা কার্যকর হবে, তা নিয়ে পরিষ্কার নির্দেশনার অপেক্ষায় আছেন তারা।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মূল বেতনের একটি বড় অংশ বৃদ্ধি করার চিন্তা রয়েছে। পরবর্তী ধাপে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে বাকি অংশ সমন্বয় করা হতে পারে। আর তৃতীয় ধাপে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াতসহ অন্যান্য ভাতা নতুন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য করে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সূত্রগুলো আরো জানায়, নতুন কাঠামোতে বর্তমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে বেতনবৈষম্য কমানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের ব্যবধান কমিয়ে আনার বিষয়টি নীতিগতভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে।

আলোচনায় থাকা প্রস্তাব অনুযায়ী, নিম্ন গ্রেডের বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হতে পারে। একই সঙ্গে উচ্চ গ্রেডের বেতনও নতুন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সমন্বয় করা হবে। গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

নতুন পে স্কেলের সুবিধা শুধু কর্মরতদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, পেনশনভোগীরাও এর আওতায় আসতে পারেন। এতে করে দীর্ঘদিন ধরে স্বল্প আয়ের ওপর নির্ভরশীল অবসরপ্রাপ্তদের আর্থিক অবস্থায় কিছুটা স্বস্তি আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে বর্তমানে চালু থাকা ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতার ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়েও কাজ করছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষ কমিটি। নতুন কাঠামোর সঙ্গে এ ভাতা কিভাবে সমন্বয় করা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

অর্থনীতিবিদ ও প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরিজীবীদের আয় কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও সরকারি ঘোষণার পরই পুরো বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানা যাবে।

১১ মাসে ফল রপ্তানি করে ১২ কোটি ৩০ লাখ ডলার আয়

অনলাইন ডেস্ক
১১ মাসে ফল রপ্তানি করে ১২ কোটি ৩০ লাখ ডলার আয়
ফাইল ছবি

ফল রপ্তানি করে ১১ মাসে ১২ কোটি ৩০ লাখ ২০ হাজার ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। গেল ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে এ খাত থেকে আয় হয়েছিল ৬ কোটি ৭৫ লাখ ১০ হাজার ডলার। এক বছরের ব্যবধানে ফল রপ্তানি থেকে আয় ৮২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটিই ফল রপ্তানি থেকে দেশের সর্বোচ্চ আয় বলে জানিয়েছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি)।

সূত্র জানায়, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আম, পেয়ারা, কাঁঠালসহ বিভিন্ন দেশীয় ফলের চাহিদা বাড়ায় গত তিন অর্থবছর ধরে এ খাতে দ্রুত প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ফল রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ২ কোটি ৯২ লাখ ৪০ হাজার ডলার, যা ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছিল মাত্র ১০ লাখ ৬০ হাজার ডলার।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক খাদ্য নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণে উন্নতি, রপ্তানিমুখী ফল চাষের সম্প্রসারণ এবং বিদেশি বাজারে প্রবেশাধিকারের সুযোগ ফল রপ্তানি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, ‘বাদাম, তাজা বা শুকনো’ শ্রেণির পণ্য থেকে রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ এসেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে এ খাত থেকে আয় হয়েছে ১২ কোটি ২৮ লাখ ১৮ হাজার ডলার, যেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আয় ছিল ৬ কোটি ৬০ লাখ ৫০ হাজার ডলার।

এছাড়া হিমায়িত ফল ও বাদাম রপ্তানি থেকে আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৮২১ ডলারে। তাজা ফলের রপ্তানিও সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।

রপ্তানিকারকদের মতে, গ্রীষ্ম মৌসুমে আম এখনো দেশের প্রধান রপ্তানি ফল। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, কুয়েত, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে এর চাহিদা বেশি।

উন্নত মান ও প্রতিযোগিতামূলক দামের কারণে পেয়ারা ও কাঁঠালও জনপ্রিয়তা পেয়েছে। পাশাপাশি আনারস, লিচু, কলাসহ অন্যান্য মৌসুমি ফলের চাহিদাও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

বর্তমানে বাংলাদেশের ফল সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, কুয়েত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশসহ বিভিন্ন গন্তব্যে রপ্তানি হচ্ছে।

ইপিবির পরিচালক কুমকুম সুলতানা বলেন, ‘বাংলাদেশে ফল চাষে, বিশেষ করে পার্বত্য জেলাগুলোতে, উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। পার্বত্য অঞ্চলে এক ধরনের ফল বিপ্লব ঘটছে। ড্রাগন ফল, কাজুবাদাম ও কফির মতো ফসলের চাষ দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে, যা সত্যিই আশাব্যঞ্জক।"

এ বিষয়ে ইপিবির সহসভাপতি মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, ‘ফল রপ্তানি দেশের অর্থনীতিতে বেশি অবদান রাখে, কারণ এ খাত মূলত দেশীয় কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীল। অন্যান্য অনেক খাতের মতো ফল উৎপাদনে আমদানিনির্ভর উপকরণের প্রয়োজন খুব বেশি হয় না।

আজ বায়ুদূষণের শীর্ষে কিনশাসা, ঢাকার অবস্থান কত

অনলাইন ডেস্ক
আজ বায়ুদূষণের শীর্ষে কিনশাসা, ঢাকার অবস্থান কত
সংগৃহীত ছবি

টানা কয়েক দিনের তাপদাহের পর ঢাকায় দেখা মিলেছে বৃষ্টির। তারপরও বাতাসের মানের উন্নতি হয়নি। রবিবার (৭ জুন) সকালে রাজধানী ঢাকার বাতাসের মান ‘সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর’ অবস্থায় রয়েছে।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের বৈশ্বিক তালিকায় আজ সকাল সোয়া ৮টায় দূষণের দিক থেকে বিশ্বের প্রধান শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থান পঞ্চম।

আইকিউএয়ারের লাইভ র‍্যাংকিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, আজ সকালে ঢাকার বায়ুমান সূচক বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) রেকর্ড করা হয়েছে ১২৯ পয়েন্ট। এই স্কোর অনুযায়ী বাতাসের মানকে সংবেদনশীল মানুষের জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়। অর্থাৎ, সাধারণ মানুষের জন্য এই বাতাস তুলনামূলক সহনীয় হলেও শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য তা যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ।

আজ সকালে বৈশ্বিক দূষণের এই তালিকায় ২১১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা। আইকিউএয়ারের মানদণ্ডে কঙ্গোর রাজধানীর বাতাস আজ ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে। এর পরেই ১৬৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা এবং ১৫৫ ও ১৫১ পয়েন্ট নিয়ে যথাক্রমে তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর ও চিলির সান্তিয়াগো।

তালিকার শীর্ষ দশে থাকা অন্য শহরগুলোর মধ্যে চীনের উহান ১২২ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ এবং সেনেগালের ডাকার ১১০ পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে প্রতিবেশী দেশ ভারতের কলকাতা ৯৬ পয়েন্ট, ইরাকের বাগদাদ ৮৬ পয়েন্ট এবং পাকিস্তানের করাচি ৮৬ পয়েন্ট নিয়ে বাতাসের মান ‘মাঝারি’ অবস্থায় রেখে তালিকার যথাক্রমে অষ্টম, নবম ও দশম স্থানে রয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, একিউআই স্কোর ১০১ থেকে ১৫০-এর মধ্যে থাকলে তা সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এই সময়ে ঘরের বাইরে যাওয়ার সময় মাস্ক ব্যবহার করা এবং বিশেষ করে ফুসফুসের রোগীদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

আজকের বৈশ্বিক চিত্রে যেখানে কিনশাসার বাতাস মারাত্মক উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে, সেখানে মাত্র ১৫ একিউআই স্কোর নিয়ে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক আজ বিশ্বের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন বাতাসের শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে।

দেশে ফিরেছেন ৩৭৪৩৫ হাজি, ৪৮ জনের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
দেশে ফিরেছেন ৩৭৪৩৫ হাজি, ৪৮ জনের মৃত্যু

হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে এখন পর্যন্ত ৩৭ হাজার ৪৩৫ হাজি দেশে ফিরেছেন। দেশটির বিভিন্ন হাসপাতালে মারা গেছেন ৪৮ জন। চিকিৎসাধীন ২২ জন।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালে আইটি হেল্প ডেস্ক প্রকাশিত দৈনিক বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

হজ বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ফেরা ৩৭ হাজার ৪৩৫ হাজির মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায়  ৩ হাজার ৩২৮ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩৪ হাজার ১০৭ জন রয়েছেন। আর ফিরতি যাত্রী পরিবহনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১৪ হাজার ৬০ জন, সৌদি এয়ারলাইন্স ১৪ হাজার ২৪১ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ৭ হাজার ৭০০ জন হাজি পরিবহন করেছে।

এ পর্যন্ত মোট ৮৯টি ফিরতি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৩৪টি, সৌদি এয়ারলাইন্স ৩৫টি এবং ফ্লাইনাস ২০টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।

অন্যদিকে, সৌদি আরবে এখন পর্যন্ত ৪৮ জন বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩২ জন পুরুষ ও ১৬ জন নারী। মারা যাওয়াদের মধ্যে মক্কায় ৩৫ জন, মদিনায় ১২ ও জেদ্দায় একজন মারা গেছেন। 

এছাড়া, সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতালে মোট ৩৯৮ জন হাজি চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ২২ জন হাজি।

এ বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজযাত্রীর কোটা নির্ধারণ করা হয়। হজযাত্রীদের সৌদি আরবগামী প্রথম ফ্লাইট ছিল ১৮ এপ্রিল এবং শেষ ফ্লাইট ২১ মে। অন্যদিকে ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম শুরু হয়েছে ৩০ মে থেকে, যা চলবে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত।