• ই-পেপার

কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য বড় সুখবর

ডেঙ্গু মোকাবেলায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
ডেঙ্গু মোকাবেলায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
সংগৃহীত ছবি

ডেঙ্গু মোকাবিলায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। রবিবার (৭ জুন) বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ডেঙ্গুর চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে কর্মশালায় তিনি এ আহ্বান জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু মোকাবেলা করতে হবে। যদিও তা মোকাবেলা করা সহজ হবে না। এজন্য সারা দেশের নালা-খাল পরিষ্কার করতে হবে। এটা বিরাট কর্মযজ্ঞ।

মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ডেঙ্গুর চিকিৎসা পদ্ধতি শুনে ভয় পেয়েছি। প্লাজমার লিকেজ ঠেকাতে ডাক্তারদের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করতে হবে।

তিনি বলেন, সবার প্রচেষ্টায় আমরা দেশটাকে যেভাবে স্বাধীন করেছি, ঠিক সেভাবে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারবে ডেঙ্গু মোকাবেলা করতে।

তিনি আরো বলেন, জলে-স্থলে-ছাদে তিনটি স্থানেই সমান নজর রাখতে হবে। এ কাজে সিটি করপোরেশনগুলোকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। একটা ভুল সব কিছুকেই ব্যর্থ করে দিতে পারে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কর্মপরিকল্পনার কথা জানালেন মাহদী আমিন

অনলাইন ডেস্ক
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কর্মপরিকল্পনার কথা জানালেন মাহদী আমিন
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি টেকসই, বাস্তবসম্মত ও যুগান্তকারী কর্মপরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা  বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

রবিবার (৭ জুন) সকালে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাবিষয়ক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মাহদী আমিন বলেন, দেশের সর্ববৃহৎ উচ্চশিক্ষা নেটওয়ার্ক হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ডিগ্রি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হয়ে থাকবে না; বরং জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সুনাগরিক তৈরির অন্যতম সূতিকাগারে পরিণত হবে। এটাই সরকারের সংকল্প।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘গত সাড়ে তিন মাসে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যে কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে, তার ভিত্তি প্রধানমন্ত্রীর সুদূরপ্রসারী ভিশন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো। আমরা বিশ্বাস করি, উচ্চশিক্ষাকে শুধু সনদনির্ভর না করে কর্মমুখী, দক্ষতাভিত্তিক এবং জীবনঘনিষ্ঠ করতে হবে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণ, ক্যারিয়ার সেন্টার ও জব প্লেসমেন্ট কার্যক্রম চালু, ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কলাবোরেশন শক্তিশালীকরণ, এপ্রেন্টিসশিপ ও ইন্টার্নশিপের সুযোগ বৃদ্ধি, ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার প্রতিষ্ঠা ও তৃতীয় ভাষা শিক্ষার প্রসার, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচি, ‘ওয়ান স্টুডেন্ট ওয়ান ট্রি’ উদ্যোগ এবং পরিবেশ ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে খাল খননসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের উদ্দেশ্য একটি যোগ্য, দায়িত্বশীল এবং আত্মনির্ভরশীল তরুণ প্রজন্ম গড়ে তোলা।’

প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে মাহদী আমিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন।

মাহদী আমিন বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অতি স্বল্প সময়ে যে অগ্রগতি ও অর্জনের স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়েছে, তা অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই পরিবর্তনের বার্তা নতুন আশার সঞ্চার করছে এবং উচ্চশিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক সংস্কারের অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে এই অগ্রযাত্রা আরো বেগবান হবে।’

তিনি বলেন, প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক, নির্বাচিত সরকারের কাছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপ্তি ও বিস্তৃতির মধ্যে। দেশের সর্বাধিক শিক্ষার্থী, অর্থাৎ ৩০ লাখেরও বেশি ছাত্র-ছাত্রী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ ২,২৮৫টি কলেজে অধ্যয়ন করে। নারীর ক্ষমতায়নকে প্রস্ফুটিত করে, শুধু এই বছরে বিভিন্ন কলেজে ভর্তি হয়েছে ৪ লাখের বেশি ছাত্রী। প্রতিবছর সর্বাধিকসংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েট হিসেবে বের হয়ে আসে। এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সেই গ্র্যাজুয়েটদের বড় একটি অংশ কর্মসংস্থান খুঁজে পায় না, ফলে শিক্ষিত বেকারত্বের বেড়াজালে বন্দি হয়ে পড়ে। তাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবর্তন মানে শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তন নয়; বরং সমগ্র বাংলাদেশের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং লাখ লাখ পরিবারের ভাগ্যের পরিবর্তন। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পুরো জাতির বিনির্মাণ ও অগ্রগতির প্রশ্ন।

মাহদী আমিন বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় রাজধানীকেন্দ্রিক কোনো প্রতিষ্ঠান নয়; এটি সারা দেশজুড়ে বিস্তৃত একটি বিশাল উচ্চশিক্ষা নেটওয়ার্ক। শহর থেকে মফস্বল, জেলা থেকে উপজেলা, একেবারে তৃণমূল পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়নের অন্যতম প্রধান বাহন হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করে যাচ্ছে। তাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শক্তিশালীকরণ মানে  প্রধানমন্ত্রীর যে রাজনৈতিক দর্শন, অর্থাৎ তৃণমূলের শক্তিশালীকরণ, স্থানীয় সম্ভাবনার বিকাশ এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার পথকে সুদৃঢ় করা।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, জনগণের সরকার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং মানসম্মত শিক্ষার সম্প্রসারণে বেশ কিছু যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ও ফলাফল প্রক্রিয়ায় ডিজিটাইজেশন এবং বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে নিরাপদ ক্যাম্পাসে সেশনজট অপসারণকে প্রাধান্য দিয়ে একটি গৌরবময়, আধুনিক ও মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যার ইতিবাচক ফল শিগগিরই পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও পরিকল্পনায় আমরা এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা বিনির্মাণ করতে চাই, যেখানে উদ্দীপ্ত শিক্ষার্থীরা একদিকে যেমন দেশপ্রেম, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং মানুষের প্রতি মমত্ববোধে উদ্বুদ্ধ হবে; অন্যদিকে কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা, সক্ষমতা ও ব্যাবহারিক জ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে। প্রতিষ্ঠানসমূহে শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে ক্লাবভিত্তিক সহশিক্ষা কার্যক্রম যেমন-বিতর্ক, বিজ্ঞানমেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সাহিত্যচর্চাকে উৎসাহিত করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি খেলাধুলায় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিতকরণে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও টুর্নামেন্ট নিয়মিত আয়োজন করা হবে। শিক্ষা শুধু সার্টিফিকেট অর্জনের মাধ্যম হবে না; বরং তা হবে প্রশিক্ষিত, কর্মদক্ষ, সৃজনশীল ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক তৈরির প্রধান ভিত্তি।

তিনি বলেন, ‘মানবসম্পদ উন্নয়নের সেই পথযাত্রায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের কাছে শুধুই একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; বরং গণমানুষের আবেগ, আকাঙ্ক্ষা ও অনুভূতির প্রতীক। কারণ, ১৯৯২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য ছিল উচ্চশিক্ষাকে দেশের প্রতিটি প্রান্তে, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, শিক্ষায় বৈষম্যহীনতার মাধ্যমে সমতা নিশ্চিত করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মাধ্যমে জাতির অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করা। দেশনেত্রীর পরিকল্পনার যথার্থতা আমরা আশপাশের দেশগুলোর দিকে তাকালেই দেখতে পাই।’

তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন দেশের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি তাদের ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট-এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। যেমন অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর, সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ন্যাশনাল তাইওয়ান ইউনিভিার্সিটি কিংবা ন্যাশনাল অটোনোমাস ইউনিভার্সিটি অব মেক্সিকো-এই প্রতিটি প্রতিষ্ঠান নিজ-নিজ দেশের জ্ঞানচর্চা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের অগ্রভাগে অবস্থান করছে। ন্যাশনাল শব্দটি সেখানে শুধু নামের অংশ নয়; বরং জাতীয় উৎকর্ষ, চরিত্র গঠন ও নেতৃত্বের প্রতীক।

তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ সময়ে রাষ্ট্র কাঠামোর অন্যান্য অংশের মতো শিক্ষা ব্যবস্থাকেও ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, ধুলিস্যাৎ করা হয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্যকেও। দেশের সর্ববৃহৎ এ বিশ্ববিদ্যালয়কে এমনভাবে অবহেলা করা হয়েছে, যেখান থেকে কর্মসংস্থান ও স্বনির্ভরতার সুযোগ ছিল অনেকটাই বিচ্ছিন্ন ও হতাশাজনক। সেই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে-জাতীয় ঐতিহ্য, তারুণ্যের অপার সম্ভাবনা ও গণমানুষের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে-জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে গণতান্ত্রিক বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রীর রয়েছে একটি টেকসই, বাস্তবসম্মত ও যুগান্তকারী কর্মপরিকল্পনা। আমরা বিশ্বাস করি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নতুনভাবে তার ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করবে। দেশের প্রান্তিক জনপদ থেকে উঠে আসা লাখ লাখ শিক্ষার্থী শুধু ডিগ্রিধারী নয়; বরং কর্মদক্ষ, সৃজনশীল, প্রযুক্তিবান্ধব ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলবে। তারা হবে আগামীর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং জাতীয় সমৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি।’

মাহদী আমিন বলেন, ‘এই শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়; এটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপান্তরের অভিযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষকদের হাত ধরেই দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে সক্ষম হব, যারা জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি জীবন ও কর্মক্ষেত্রে সফল হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও সক্ষমতা অর্জন করবে।’

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর প্রথম ৩০ দিন, ৬০ দিন ও ১০০ দিনের যে অবিস্মরণীয় অর্জন, সেটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। অনেকেই যে পরিবর্তনকে দীর্ঘমেয়াদি কর্মযজ্ঞ বলে মনে করেছিলেন, তার বাস্তবায়ন ও গণপ্রত্যাশার পূরণ ভোটদানের কালি শুকানোর আগেই দৃশ্যমান হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত প্রধান অঙ্গীকারগুলোর প্রায় সবগুলোরই দ্রুততম অগ্রগতি জাতির সামনে নতুন আশা ও সফলতার মানদণ্ড স্থাপন করেছে।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন—শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের  উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ প্রমুখ।

নতুন বেতন কাঠামো

রূপরেখা চূড়ান্ত, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের চিন্তা

অনলাইন ডেস্ক
রূপরেখা চূড়ান্ত, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের চিন্তা

 

১ জুলাই থেকে জাতীয় বেতন কাঠামো (পে স্কেল) কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে সরকারের ভেতরে প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে একবারে নয়, বরং ধাপে ধাপে নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনাই বেশি অগ্রাধিকার পাচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সূত্রগুলো বলছে, অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং বাজেটের ওপর চাপ বিবেচনায় রেখে নতুন পে স্কেল তিনটি ধাপে কার্যকর করার প্রাথমিক রূপরেখা তৈরি হয়েছে। এতে করে একদিকে ব্যয়ের চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে, অন্যদিকে বেতন কাঠামো সংস্কারের কাজও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা আসেনি, তবু সম্ভাব্য সময়সীমা ঘিরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আগ্রহের পাশাপাশি কিছুটা অনিশ্চয়তাও রয়েছে। বিশেষ করে কবে থেকে এবং কিভাবে নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা কার্যকর হবে, তা নিয়ে পরিষ্কার নির্দেশনার অপেক্ষায় আছেন তারা।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মূল বেতনের একটি বড় অংশ বৃদ্ধি করার চিন্তা রয়েছে। পরবর্তী ধাপে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে বাকি অংশ সমন্বয় করা হতে পারে। আর তৃতীয় ধাপে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াতসহ অন্যান্য ভাতা নতুন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য করে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সূত্রগুলো আরো জানায়, নতুন কাঠামোতে বর্তমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে বেতনবৈষম্য কমানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের ব্যবধান কমিয়ে আনার বিষয়টি নীতিগতভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে।

আলোচনায় থাকা প্রস্তাব অনুযায়ী, নিম্ন গ্রেডের বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হতে পারে। একই সঙ্গে উচ্চ গ্রেডের বেতনও নতুন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সমন্বয় করা হবে। গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

নতুন পে স্কেলের সুবিধা শুধু কর্মরতদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, পেনশনভোগীরাও এর আওতায় আসতে পারেন। এতে করে দীর্ঘদিন ধরে স্বল্প আয়ের ওপর নির্ভরশীল অবসরপ্রাপ্তদের আর্থিক অবস্থায় কিছুটা স্বস্তি আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে বর্তমানে চালু থাকা ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতার ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়েও কাজ করছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষ কমিটি। নতুন কাঠামোর সঙ্গে এ ভাতা কিভাবে সমন্বয় করা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

অর্থনীতিবিদ ও প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরিজীবীদের আয় কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও সরকারি ঘোষণার পরই পুরো বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানা যাবে।

১১ মাসে ফল রপ্তানি করে ১২ কোটি ৩০ লাখ ডলার আয়

অনলাইন ডেস্ক
১১ মাসে ফল রপ্তানি করে ১২ কোটি ৩০ লাখ ডলার আয়
ফাইল ছবি

ফল রপ্তানি করে ১১ মাসে ১২ কোটি ৩০ লাখ ২০ হাজার ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। গেল ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে এ খাত থেকে আয় হয়েছিল ৬ কোটি ৭৫ লাখ ১০ হাজার ডলার। এক বছরের ব্যবধানে ফল রপ্তানি থেকে আয় ৮২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটিই ফল রপ্তানি থেকে দেশের সর্বোচ্চ আয় বলে জানিয়েছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি)।

সূত্র জানায়, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আম, পেয়ারা, কাঁঠালসহ বিভিন্ন দেশীয় ফলের চাহিদা বাড়ায় গত তিন অর্থবছর ধরে এ খাতে দ্রুত প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ফল রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ২ কোটি ৯২ লাখ ৪০ হাজার ডলার, যা ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছিল মাত্র ১০ লাখ ৬০ হাজার ডলার।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক খাদ্য নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণে উন্নতি, রপ্তানিমুখী ফল চাষের সম্প্রসারণ এবং বিদেশি বাজারে প্রবেশাধিকারের সুযোগ ফল রপ্তানি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, ‘বাদাম, তাজা বা শুকনো’ শ্রেণির পণ্য থেকে রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ এসেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে এ খাত থেকে আয় হয়েছে ১২ কোটি ২৮ লাখ ১৮ হাজার ডলার, যেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আয় ছিল ৬ কোটি ৬০ লাখ ৫০ হাজার ডলার।

এছাড়া হিমায়িত ফল ও বাদাম রপ্তানি থেকে আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৮২১ ডলারে। তাজা ফলের রপ্তানিও সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।

রপ্তানিকারকদের মতে, গ্রীষ্ম মৌসুমে আম এখনো দেশের প্রধান রপ্তানি ফল। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, কুয়েত, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে এর চাহিদা বেশি।

উন্নত মান ও প্রতিযোগিতামূলক দামের কারণে পেয়ারা ও কাঁঠালও জনপ্রিয়তা পেয়েছে। পাশাপাশি আনারস, লিচু, কলাসহ অন্যান্য মৌসুমি ফলের চাহিদাও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

বর্তমানে বাংলাদেশের ফল সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, কুয়েত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশসহ বিভিন্ন গন্তব্যে রপ্তানি হচ্ছে।

ইপিবির পরিচালক কুমকুম সুলতানা বলেন, ‘বাংলাদেশে ফল চাষে, বিশেষ করে পার্বত্য জেলাগুলোতে, উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। পার্বত্য অঞ্চলে এক ধরনের ফল বিপ্লব ঘটছে। ড্রাগন ফল, কাজুবাদাম ও কফির মতো ফসলের চাষ দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে, যা সত্যিই আশাব্যঞ্জক।"

এ বিষয়ে ইপিবির সহসভাপতি মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, ‘ফল রপ্তানি দেশের অর্থনীতিতে বেশি অবদান রাখে, কারণ এ খাত মূলত দেশীয় কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীল। অন্যান্য অনেক খাতের মতো ফল উৎপাদনে আমদানিনির্ভর উপকরণের প্রয়োজন খুব বেশি হয় না।