• ই-পেপার

চীনের দুই চিপ নির্মাতার দাপট, চাপে হুয়াওয়ে-অ্যাপলও

অন্য প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে ঢুকে পড়ল ওপেনএআইয়ের এআই

অনলাইন ডেস্ক
অন্য প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে ঢুকে পড়ল ওপেনএআইয়ের এআই
ছবিঃ রয়টার্স

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, ততই এর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এবার পরীক্ষামূলক একটি সাইবার নিরাপত্তা মূল্যায়নের সময় ওপেনএআইয়ের দুটি উন্নত এআই মডেল অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষামূলক সিস্টেমে প্রবেশ করেছে। এ ঘটনাকে ঘিরে প্রযুক্তি বিশ্বে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) ভারতের সংবাদমাধ্যম দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক্সপ্লয়েট জিম নামে একটি নিয়ন্ত্রিত নিরাপত্তা পরীক্ষায় ওপেনএআইয়ের এআই মডেলগুলোকে বিভিন্ন সাইবার দুর্বলতা খুঁজে বের করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। বাস্তব পরিস্থিতিতে মডেলগুলো কিভাবে কাজ করে, তা দেখতে পরীক্ষার সময় কিছু নিরাপত্তা সীমাবদ্ধতা সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছিল।

এ সময় দুটি এআই মডেল নিজ থেকেই ইন্টারনেটে তথ্য খুঁজতে শুরু করে। একপর্যায়ে তারা এআই প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেস–এর পরীক্ষামূলক সিস্টেমে প্রবেশ করে। সেখানে তারা চুরি হওয়া লগ ইন তথ্য ব্যবহার, অতিরিক্ত অনুমতি নেওয়ার চেষ্টা এবং অজানা নিরাপত্তা ত্রুটি খুঁজে বের করার মতো বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে।

তবে হাগিং ফেস জানিয়েছে, তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দ্রুত বিষয়টি শনাক্ত করে। এরপর সঙ্গে সঙ্গে এআই মডেলগুলোর কার্যক্রম থামিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় কোনো ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁস হয়নি। প্ল্যাটফর্মের প্রকাশ্য এআই মডেল বা সফটওয়্যার সেবাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

ওপেনএআই জানিয়েছে, এটি ছিল সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত একটি গবেষণা ও নিরাপত্তা পরীক্ষা। ভবিষ্যতে আরো শক্তিশালী এআই মডেল বাস্তব পরিস্থিতিতে কিভাবে কাজ করতে পারে এবং কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, তা বোঝার জন্যই এই পরীক্ষা চালানো হয়েছিল।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে যে উন্নত এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের আগে আরো শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এআইকে নিরাপদ রাখতে কার্যকর নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার গুরুত্বও নতুন করে সামনে এসেছে।

১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক মাধ্যমে পোস্টে নিষেধাজ্ঞা আনছে ভিয়েতনাম

অনলাইন ডেস্ক
১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক মাধ্যমে পোস্টে নিষেধাজ্ঞা আনছে ভিয়েতনাম
ছবিঃ রয়টার্স

ভিয়েতনাম সরকার ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা, মন্তব্য করা এবং অন্যের পোস্টে প্রতিক্রিয়া (রিঅ্যাক্ট) দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা করছে। এ বিষয়ে একটি খসড়া ডিক্রি তৈরি করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।

প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট অভিভাবক বা আইনগত অভিভাবকের তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। পাশাপাশি শিশু কী ধরনের কনটেন্ট দেখছে এবং কত সময় সামাজিক মাধ্যমে কাটাচ্ছে, তা তদারকির দায়িত্ব থাকবে অভিভাবকের।

 

এ ছাড়া সামাজিক মাধ্যমগুলোকে প্রযুক্তির মাধ্যমে শিশুর বয়স শনাক্ত করতে হবে, বয়স উপযোগী কনটেন্ট দেখাতে হবে এবং শিশুদের জন্য সর্বোচ্চ গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সহিংসতা, পর্নোগ্রাফি, জুয়া, মাদক, আত্মহত্যা ও অন্যান্য ক্ষতিকর কনটেন্ট শনাক্ত করে সতর্কতা দেওয়া এবং সেগুলোর প্রবেশাধিকার বন্ধ করার ব্যবস্থাও রাখতে হবে।

ভিয়েতনামের উপ-সংস্কৃতিমন্ত্রী ফান তাম বলেন, শিশুদের সামাজিক মাধ্যম থেকে পুরোপুরি দূরে রাখা নয়, বরং তারা যেন নিরাপদ ও বয়স উপযোগী পরিবেশে এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারে, সেটিই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

শুধু সামাজিক মাধ্যম নয়, অনলাইন গেমেও নতুন বিধি-নিষেধ আনার পরিকল্পনা করছে দেশটি। প্রস্তাব অনুযায়ী, গেম কম্পানিগুলোকে ব্যবহারকারীর বয়স যাচাই করতে হবে এবং ১৬ বছরের কম বয়সীদের প্রতিদিন একই প্রতিষ্ঠানের গেম সর্বোচ্চ ৬০ মিনিট খেলার সুযোগ দিতে হবে।

এ খসড়া ডিক্রি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। অনুমোদনের আগে এতে পরিবর্তন আনা হতে পারে।

এআইয়ের চাহিদা বাড়ায় চীনের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করছে ইন্টেল-এএমডি

অনলাইন ডেস্ক
এআইয়ের চাহিদা বাড়ায় চীনের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করছে ইন্টেল-এএমডি
ছবি : রয়টার্স

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের কারণে সার্ভার প্রসেসরের চাহিদা বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের দুই শীর্ষ চিপ নির্মাতা ইন্টেল ও এএমডিচীনের গ্রাহকদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তি করছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এআই ডেটা সেন্টারের সংখ্যা বাড়ায় শুধু এনভিডিয়ার জিপিইউ নয়, সার্ভারে ব্যবহৃত সিপিইউয়ের চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে। এসব সিপিইউ সার্ভার, স্টোরেজ, নেটওয়ার্কিং ও এআই সেবা পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন চুক্তিতে সাধারণত কত পরিমাণ চিপ কেনা হবে, তা আগে থেকেই নির্ধারণ করা হচ্ছে। তবে দাম আগেই ঠিক করা হচ্ছে না। বেশির ভাগ চুক্তির মেয়াদ এক বছর, যদিও কিছু গ্রাহকের সঙ্গে দুই বছর বা তার বেশি সময়ের চুক্তি নিয়েও আলোচনা চলছে।

এআইচালিত চাহিদা বাড়ায় চীনে সার্ভার সিপিইউর দামও দ্রুত বাড়ছে। কিছু পণ্যের দাম এ বছর ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। আবার কিছু সিপিইউর দাম মাসে ১০ শতাংশেরও বেশি বাড়ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

এর আগে রয়টার্স জানায়, ইন্টেল ও এএমডি চীনের গ্রাহকদের সতর্ক করেছিল যে কিছু সার্ভার প্রসেসর পেতে ছয় মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, সার্ভার সিপিইউর এই সংকট চীনের ক্লাউড সেবা ও ইন্টারনেট কোম্পানিগুলোর এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণের গতি কমিয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে তাদের খরচও বাড়বে।

বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সার্ভার বাজারগুলোর একটি হলো চীন। দেশটিতে দ্রুত ডেটা সেন্টার, এআই কম্পিউটিং ক্লাস্টার এবং জাতীয় কম্পিউটিং অবকাঠামো গড়ে তোলায় ইন্টেল ও এএমডির প্রসেসরের চাহিদা আরো বেড়ে চলেছে।

নোটিশ ছাড়াই চালকদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে পারবে উবার-লিফট

অনলাইন ডেস্ক
নোটিশ ছাড়াই চালকদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে পারবে উবার-লিফট
ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির নতুন একটি আইনের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন একটি ফেডারেল আদালত। এই আইনে উবার ও লিফটকে চালকদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ বা বরখাস্ত করার আগে ১৪ দিনের নোটিশ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

ম্যানহাটনের যুক্তরাষ্ট্রের জেলা বিচারক গ্রেগরি উডস বলেন, এই আইন সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই মামলার চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত এটি কার্যকর করা যাবে না।

আইনটি অনুযায়ী, উবার ও লিফট কোনো চালকের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার আগে ১৪ দিনের নোটিশ দেবে। তবে গুরুতর অসদাচরণের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। এ ছাড়া ২০১৯ সালের পর শুধু নোটিশ না দিয়ে যাদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছিল, তাদের আবার কাজে ফেরানোর সুযোগও রাখা হয়েছিল।

আদালতে উবার ও লিফটের দাবি ছিল, এই আইন তাদের যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষমতা কমিয়ে দেবে। এমনকি যৌন হয়রানিসহ গুরুতর অভিযোগ থাকা চালকরাও দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় থাকতে পারেন, যা যাত্রীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

রায়ের পর লিফট জানায়, আদালত নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছে, এতে তারা সন্তুষ্ট। উবারও বলেছে, চালকদের প্রতি ন্যায্য আচরণ এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা—দুই বিষয়ই একসঙ্গে নিশ্চিত করা সম্ভব।

উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল চলতি বছরের জানুয়ারিতে আইনটি পাস করে। তবে সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামস এতে ভেটো দিয়েছিলেন। পরে সিটি কাউন্সিল সেই ভেটো বাতিল করে আইনটি অনুমোদন করে। আইনটি ২৮ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।