• ই-পেপার

প্রথমবার ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের সিনেমা

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে রাজনৈতিক রং দেওয়া উচিত নয় : সালমান

বিনোদন ডেস্ক
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে রাজনৈতিক রং দেওয়া উচিত নয় : সালমান
সংগৃহীত ছবি

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বলিউড সুপারস্টার সালমান খান। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে ‘অত্যন্ত গুরুতর’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে রাজনৈতিক রং দেওয়া উচিত নয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে সালমান খান আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। 

একই সঙ্গে তিনি বলেন, দেশের তরুণদের উন্নত শিক্ষাব্যবস্থার দাবিতে একত্রিত হওয়া ইতিবাচক একটি বার্তা।

সালমান খান লিখেছেন, ‘এটি ছিল অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ একটি আন্দোলন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, শেষ পর্যন্ত এটি সহিংস রূপ নিয়েছে। যেসব শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা আহত হয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা। প্রশ্নপত্র ফাঁস অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। আমাদের দেশের তরুণেরা উন্নত শিক্ষাব্যবস্থার দাবিতে একজোট হয়েছে এবং তাঁদের অভিভাবকেরাও পাশে দাঁড়িয়েছেন, এটি দেখে আমি আনন্দিত।’

তিনি আরো বলেন, সততা, নিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ গড়ার যে প্রত্যয় শিক্ষার্থীরা দেখিয়েছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে।

তাঁর কথায়, ‘আন্দোলন বা প্রতিবাদ গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ। শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবেই তাদের দাবি জানিয়েছে। শিক্ষা নিয়ে উৎসাহী এই প্রজন্ম একদিন ভারতের মুখ উজ্জ্বল করবে।’

আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে ব্যাখ্যা না করার আহ্বান জানিয়ে পোস্টের শেষাংশে সালমান খান লেখেন, ‘এটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষাব্যবস্থার বিষয়। একে রাজনৈতিক রং দেওয়া উচিত নয়। এই কৃতিত্ব দেশের শিক্ষার্থীদেরই প্রাপ্য। আমার বিশ্বাস, সরকারও তাঁদের পাশে থাকবে এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। যারা শিক্ষিত হতে চায়, ঈশ্বর তাদের সবার মঙ্গল করুন।’

সম্প্রতি বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়ম এবং শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে দিল্লিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের একপর্যায়ে সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা ঘিরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। 

অভিযোগ রয়েছে, লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। যদিও এ ঘটনার জন্য উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে।
 

চিরকুটের সঙ্গে কাজ করতে চায় বিশ্বখ্যাত ওয়ার্নার ব্রাদার্স

বিনোদন প্রতিবেদক
চিরকুটের সঙ্গে কাজ করতে চায় বিশ্বখ্যাত ওয়ার্নার ব্রাদার্স
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশের সংগীতের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে পারে একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ সংগীত প্রতিষ্ঠান ওয়ার্নার ব্রাদার্স মিউজিক এবার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড চিরকুটের সঙ্গে কাজ করার। প্রতিষ্ঠানটির আমন্ত্রণে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে তাদের আন্তর্জাতিক কার্যালয়ে বৈঠক করেছেন চিরকুটের প্রতিষ্ঠাতা ও ভোকাল শারমিন সুলতানা সুমী।

গত ২১ জুলাই ম্যানহাটনে অবস্থিত ওয়ার্নার ব্রাদার্স মিউজিকের আন্তর্জাতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জশ সারুবিন। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী আলোচনায় চিরকুটের সংগীত, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য যৌথ কাজের নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়।

সুমীর ভাষ্য, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম পরিচিত ও আন্তর্জাতিকভাবে সক্রিয় ব্যান্ড হিসেবে দেড় দশকের বেশি সময় ধরে চিরকুটের ধারাবাহিক কাজের স্বীকৃতি হিসেবেই এই আমন্ত্রণ এসেছে।

বৈঠকের সময় ওয়ার্নার ব্রাদার্সের প্রতিনিধিরা সুমীর উপস্থিতিতেই চিরকুটের পাঁচ থেকে ছয়টি গান শোনেন। এর আগে তারা ব্যান্ডটির সংগীত নিয়ে গবেষণাও করেছিলেন। গান শোনার পর তাদের মন্তব্য ছিল, ‘অল অব ইয়োর সংস আর ইউনিক, ইউ আর ভেরি ইউনিক!’

চিরকুটের প্রশংসা করে জশ সারুবিন বলেন, ব্যান্ডটির স্বকীয় সংগীতধারা এবং সৃষ্টিশীলতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

জশ সারুবিন যুক্তরাষ্ট্রের সংগীত অঙ্গনের একজন অভিজ্ঞ এঅ্যান্ডআর (আর্টিস্টস অ্যান্ড রিপার্টোয়ার) নির্বাহী। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি কলাম্বিয়া রেকর্ডস, অ্যারিস্তা রেকর্ডস, আইল্যান্ড ডেফ জ্যাম, ভার্জিন রেকর্ডস এবং সনি/এটিভি মিউজিক পাবলিশিংয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। 

তাঁর তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত অ্যালবামের বিশ্বব্যাপী বিক্রি ৪ কোটির বেশি কপি। লেডি গাগাকে সাইন করার পাশাপাশি লিওনেল রিচি, কার্লোস স্যান্টানা, পিঙ্ক, এভরিল ল্যাভিন, জন ম্যাকলাফলিন ও পিক্সি লটসহ বহু আন্তর্জাতিক শিল্পীর সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি।

চিরকুটের সঙ্গে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়টিকে নিজেদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, সৃষ্টিশীলতা ও ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন সুমী। তাঁর বিশ্বাস, এটি বাংলাদেশের সংগীতকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যেতে সহায়ক হবে।

সুমী বলেন, ‘সারা পৃথিবীর কিংবদন্তি শিল্পীদের নিয়ে কাজ করা এমন মানুষেরা যখন আমন্ত্রণ জানান, তখন সেটি ভীষণ অনুপ্রেরণার এবং সম্মানের। ওই ঐতিহাসিক অফিসে ঢোকার পর অদ্ভুত এক অনুভূতি কাজ করছিল। বারবার মনে হচ্ছিল, সেই খুলনা থেকে, সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে আজ আবার বিশ্বসংগীতের এক গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানা ম্যানহাটনে, শতবর্ষী ওয়ার্নার ব্রাদার্সের অফিসে দাঁড়িয়ে আছি। ব‍্যান্ড মেম্বারদের মিস করছিলাম। আমি এবং চিরকুট স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, আমাদের জীবনে এমন আরেকটি সুন্দর দিন দেওয়ার জন্য। আশা করি সামনে ভালো এবং নতুন কিছু অপেক্ষা করছে।’

দীর্ঘ ২৪ বছরের পথচলায় চিরকুট ‘আহারে জীবন’, ‘মরে যাব’, ‘যাদুর শহর’, ‘দুনিয়া’, ‘কানামাছি’, ‘উধাও’ ও ‘দামী’র মতো মৌলিক গান দিয়ে দেশ-বিদেশে নিজস্ব পরিচিতি গড়ে তুলেছে। 

ব্যান্ডটি ইংল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন, পর্তুগাল, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কনসার্ট, আন্তর্জাতিক সংগীত উৎসব ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছে। এছাড়া নরওয়ে ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের শিল্পী ও ব্যান্ডের সঙ্গে তাদের একাধিক আন্তর্জাতিক কোলাবোরেশনও রয়েছে।

চিরকুটের বিশ্বাস, ওয়ার্নার ব্রাদার্স মিউজিকের মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্ভাব্য এই সহযোগিতা শুধু ব্যান্ডটির জন্যই নয়, বাংলাদেশের সংগীতশিল্পের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে। একই সঙ্গে এটি দেশের সংগীতশিল্পী এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাবে।

আন্দোলনে পুলিশের ভ্যান থামিয়ে ভাইরাল হওয়া কে এই মডেল?

বিনোদন ডেস্ক
আন্দোলনে পুলিশের ভ্যান থামিয়ে ভাইরাল হওয়া কে এই মডেল?
সংগৃহীত ছবি

ভারতের নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এখন ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। দিল্লির যন্তর মন্তরের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় মুম্বাইয়েও রাস্তায় নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। আর সেই আন্দোলনের মাঝেই পুলিশের ভ্যানের সামনে দাঁড়িয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ২৭ বছর বয়সী অভিনেত্রী ও মডেল রিয়া আহির।

মুম্বাইয়ের শিবাজী পার্ক এলাকায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একটি পুলিশ ভ্যানে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎই ভ্যানটির সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন রিয়া। 

তিনি দাবি জানান, আটক শিক্ষার্থীদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। মুহূর্তেই সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এক রাতের মধ্যেই রিয়া পরিণত হন আলোচিত এক মুখে।

Just women leading from the front. More power to you Rhiya Ahir. This is  truly one of the defining image from the protests

দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী সেই রাতের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে রিয়া বলেন, ‘সে রাতে আমি একটানা জেগে ছিলাম। এক মুহূর্তের জন্যও ঘুমাইনি। ২৩শে জুলাই ভোর সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত আমি জেগে ছিলাম।’

রিয়ার দাবি, পুলিশের কাছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের আটক করার কোনো বৈধ নির্দেশ ছিল না। 

তিনি বলেন, ‘আমি যখন পুলিশকে জিজ্ঞেস করলাম যে ভ্যানে থাকা ওই বাচ্চাদের আটক করার কোনো নির্দেশ তার কাছে আছে কি না, তিনি ইতস্তত করছিলেন। তখনই আমি বুঝলাম যে আমাকে কিছু একটা করতে হবে। আটক হওয়া এক প্রতিবাদকারী মেয়ের হাত ধরে ভ্যানটির পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়াটা বিপজ্জনক ছিল। তাই আমি সহজাত প্রবৃত্তিতেই ভ্যানটির সামনে ঝাঁপিয়ে পড়ি।’

রিয়ার এই পদক্ষেপের পর কয়েক মিনিটের মধ্যেই আশপাশে থাকা আরও অনেক তরুণ-তরুণী তাঁর পাশে এসে দাঁড়ান। তারা একসঙ্গে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে শুরু করেন।

Who is Rhiya Ahir? Model goes viral blocking Mumbai police van

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে রিয়া জানান, সেদিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি শিবাজী পার্কের দিকে যাচ্ছিলেন। তখন দেখতে পান, আন্দোলনকারী কয়েকজন শিক্ষার্থীকে একটি পুলিশ ভ্যানে তুলে নেওয়া হচ্ছে। তাঁর মনে হয়েছিল, অকারণেই তাদের আটক করা হচ্ছে। তাই কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই তিনি ভ্যানটির সামনে গিয়ে দাঁড়ান।

পুলিশের ভ্যান থামিয়ে দেওয়ার সেই ছবি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। আকস্মিক এই পরিচিতি প্রসঙ্গে রিয়া বলেন, তিনি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি এক ফৌজি পরিবার থেকে এসেছি। আমার বাবা সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়েছেন এবং তিনি এই প্রতিবাদে আমার অংশগ্রহণকে পুরোপুরি সমর্থন করেন। আমাদের তরুণদের সাথে যা ঘটছে, তার সাথে তিনি একমত নন।’

প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে রিয়া বলেন, ‘আমি কেবল আমার মতামত জানাতে ও আমার অধিকার প্রয়োগ করতে চেয়েছিলাম, এবং সারাদেশে চলমান এই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্ম হতে চেয়েছিলাম—শুধু দিল্লি বা মুম্বাইয়ে নয়, সর্বত্র। আমি যা করেছি, তা করতে আমাকে যা অনুপ্রাণিত করেছিল, তা হলো এই উপলব্ধি যে পুলিশ যা করছিল তা বেআইনি এবং তা সহ্য করা উচিত নয়।’

Rhiya Ahir: The 27 YO Who Stopped A Mumbai Police Van - Rediff.com

নিজেকে আন্দোলনের নায়ক হিসেবে দেখতে নারাজ রিয়া। তিনি বলেন, ‘আমি কল্পনাতেও ভাবিনি যে আমাকে এমন একজন হিসেবে চিত্রিত করা হবে যিনি একটি পুরো আন্দোলনকে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী। এই পুরো অভিজ্ঞতা আমাকে সম্মানিত ও বিনয়ী করেছে। মানুষ আমাকে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সঙ্গে তুলনা করছে, এবং এটা আমি মেনে নিতে পারি না। তাঁরা বুকে গুলি খেয়েছিলেন। আমি কোনো স্বাধীনতা সংগ্রামী নই। কিন্তু আমি সেদিন শহীদ হতে প্রস্তুত ছিলাম। এমনকি যদি তারা আমাকে গাড়ি চাপা দিত, তাহলেও আমি খুশি হতাম। ভগত সিং যেমন বলেন, সমাজে যা কিছু ঘটছে তা যদি আপনাকে ক্রুদ্ধ না করে, তবে আপনি ভারতীয় নন।’

ঘটনার পর নিজের ইনস্টাগ্রামেও ভাইরাল হওয়া ছবিটি শেয়ার করেন রিয়া।

রিয়া আহির পেশায় অভিনেত্রী, মডেল, উপস্থাপক ও উদ্যোক্তা। বিনোদন অঙ্গনের পাশাপাশি সামাজিক ও সমসাময়িক নানা বিষয়ে সরব থাকার জন্যও তিনি পরিচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও রয়েছে তাঁর উল্লেখযোগ্য জনপ্রিয়তা। অনলাইনে রিয়া আহির নামে পরিচিত হলেও তাঁর পারিবারিক নাম রিয়া যাদব। তিনি যাদব পরিবারের চার ভাইবোনের মধ্যে তৃতীয়। তার বাবা অবসরপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা। 

সিনেপ্লেক্সে একসঙ্গে মুক্তি পেল ৪ আলোচিত সিনেমা

বিনোদন প্রতিবেদক
সিনেপ্লেক্সে একসঙ্গে মুক্তি পেল ৪ আলোচিত সিনেমা
সংগৃহীত ছবি

দেশের সিনেমাপ্রেমীদের জন্য নতুন চমক নিয়ে এসেছে স্টার সিনেপ্লেক্স। আজ (২৪ জুলাই) থেকে পর্দায় একযোগে মুক্তি পেয়েছে চারটি ভিন্ন ঘরানার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র। হরর, সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার, অ্যানিমেশন এবং থ্রিডি কনসার্ট ফিল্ম—সব মিলিয়ে দর্শকদের জন্য বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতার আয়োজন করেছে দেশের অন্যতম মাল্টিপ্লেক্স চেইনটি।

মুক্তিপ্রাপ্ত চারটি সিনেমা হলো—‘এভিল ডেড বার্ন’, ‘প্যাসেঞ্জার’, ‘টাইম হোপার্স : দ্য সিল্ক রোড’ এবং ‘বিলি আইলিশ-হিট মি হার্ড অ্যান্ড সফট : দ্য ট্যুর’।

বিশ্বখ্যাত ‘এভিল ডেড’ ফ্র্যাঞ্চাইজির ষষ্ঠ কিস্তি ‘এভিল ডেড বার্ন’ পরিচালনা করেছেন সেবাস্তিয়ান ভানিচেক। স্যাম রাইমি ও রব ট্যাপার্ট প্রযোজিত এই অতিপ্রাকৃত হরর ছবিতে অভিনয় করেছেন সুহেইলা ইয়াকুব, হান্টার ডুহান ও লুসিয়ান বুকানন। স্বামীর মৃত্যুর পর এক তরুণীর নির্জন বাড়িতে আশ্রয় নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এগোয় গল্প। তবে ‘বুক অব দ্য ডেড’-এর অভিশপ্ত শক্তি জেগে ওঠার পর পারিবারিক পুনর্মিলন ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়।

সাইকোলজিক্যাল হররধর্মী ‘প্যাসেঞ্জার’ পরিচালনা করেছেন আন্দ্রে ওভ্রেডাল। জ্যাকব সিপিও, লু লোবেল ও মেলিসা লিও অভিনীত ছবির গল্পে দেখা যায়, ভ্যানে করে রোড ট্রিপে বের হওয়া এক দম্পতি পথিমধ্যে ভয়াবহ দুর্ঘটনার সাক্ষী হন। আহত এক ব্যক্তিকে সাহায্য করার পর থেকেই তাদের জীবনে নেমে আসে রহস্যময় আতঙ্ক। এক অদৃশ্য অতিপ্রাকৃত সত্তার মুখোমুখি হয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রামই ছবির মূল আকর্ষণ।

পরিবার ও শিশু-কিশোর দর্শকদের জন্য রয়েছে অ্যানিমেটেড সায়েন্স ফিকশন ‘টাইম হোপার্স : দ্য সিল্ক রোড’। ২০৫০ সালের প্রেক্ষাপটে নির্মিত ছবিটিতে ‘আকলি একাডেমি’র চার মেধাবী শিক্ষার্থী টাইম-ট্রাভেলের মাধ্যমে চলে যায় ৮২৫ খ্রিস্টাব্দের বাগদাদে। সেখানে ইতিহাস ও বিজ্ঞানের ভবিষ্যৎ রক্ষায় তাদের এক রোমাঞ্চকর অভিযানের গল্প তুলে ধরা হয়েছে।

সংগীতপ্রেমীদের জন্য বড় আকর্ষণ ‘বিলি আইলিশ-হিট মি হার্ড অ্যান্ড সফট : দ্য ট্যুর’। কিংবদন্তি নির্মাতা জেমস ক্যামেরনের থ্রিডি প্রযুক্তিতে নির্মিত এই কনসার্ট ফিল্মে উঠে এসেছে বিশ্বখ্যাত পপ তারকা বিলি আইলিশের ‘হিট মি হার্ড অ্যান্ড সফট’ বিশ্বভ্রমণের ম্যানচেস্টার কনসার্ট। অত্যাধুনিক চিত্রগ্রহণ ও ডলবি সাউন্ড প্রযুক্তির সমন্বয়ে দর্শকদের জন্য এটি হতে পারে কনসার্টের এক ভিন্নধর্মী সিনেমাটিক অভিজ্ঞতা।

একযোগে চারটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র মুক্তির বিষয়ে স্টার সিনেপ্লেক্সের মিডিয়া বিভাগের প্রধান মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা সবসময়ই বাংলাদেশের দর্শকদের একদম নতুন এবং আন্তর্জাতিক মানের সিনেমা উপহার দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই দিনে রোমাঞ্চ, ভয়, বিজ্ঞান এবং মিউজিকের এই রকম দুর্দান্ত কম্বিনেশন স্টার সিনেপ্লেক্সে আগে কখনো আসেনি। আমরা আশা করি দর্শক তাদের পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে এক অবিশ্বাস্য সিনেম্যাটিক সপ্তাহ কাটাবেন।’