• ই-পেপার

মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ

রাজধানীতে চলন্ত ট্রেন থেকে নামতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীতে চলন্ত ট্রেন থেকে নামতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর খিলগাঁওয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে নামতে গিয়ে চাকার নিচে কাটা পড়ে তন্ময় বর্মণ আকাশ (৩৩) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় খিলগাঁও পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন রেললাইনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত তন্ময় বর্মণ আকাশ গাজীপুর জেলার গাছা থানার বোর্ড বাজারের তাপস বর্মণের ছেলে। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন বড়। নয় মাস আগে তিনি বিয়ে করেছিলেন। তিনি ইনস্টিটিউট অব অ্যাপারেল রিসার্চ অ্যান্ড টেকনোলজির (আইএআরটি) অ্যাডভান্সড গার্মেন্টস প্রোডাকশন অ্যান্ড লিন ম্যানেজমেন্ট কোর্সের শিক্ষার্থী ছিলেন।

নিহতের ছোট ভাই তমাল বর্মণ জানিয়েছেন, বড় ভাই তন্ময় সকালে গাজীপুরের নিজ বাসা চাকরি পরীক্ষার ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিংয়ের জন্য ঢাকায় আসেন। ট্রেনটি খিলগাঁও এলাকা পার হওয়ার সময় গতি কমে যায়। সে সময় চলন্ত ট্রেন থেকে নামার সময় পা পিছলে পড়ে তার পা ট্রেনের চাকায় পিষ্ট হয়।

পরে পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে সোয়া ১১টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন মৃতদেহটি হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে থানায় অবগত করা হয়েছে।

‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপে এক ক্লিকেই মিলবে ঢাকা জেলা প্রশাসনের সেবা

নিজস্ব প্রতিবেদক
‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপে এক ক্লিকেই মিলবে ঢাকা জেলা প্রশাসনের সেবা
সংগৃহীত ছবি

ঢাকা জেলা প্রশাসনের সেবাকে আরো সহজ, দ্রুত ও জনবান্ধব করতে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা খানমের উদ্যোগে চালু হয়েছে ‘হ্যালো ডিসি’ মোবাইল অ্যাপ।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাপটির উদ্বোধন করা হয়। এর মাধ্যমে সাধারণ নাগরিক ঘরে বসেই জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন সেবা, অভিযোগ, আবেদন ও তথ্য এক প্ল্যাটফর্মে পাবেন।

প্রাথমিকভাবে এই অ্যাপটি থেকে ডাউনলোড করা যাবে৷ গুগল প্লে স্টোরে রিভিউ শেষে অ্যাপটি প্লে স্টোর এবং অ্যাপ স্টোর থেকেও ডাউনলোড করা যাবে৷ এছাড়া জেলা প্রশাসন ঢাকার অফিসিয়াল ফেইসবুক পেইজ থেকেও অ্যাপটি ডাউনলোড করে সেবা নেওয়া যাবে৷ এছাড়া  01961606060 নাম্বারটিতে সরাসরি সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত কল করা যাবে৷ 

জেলা প্রশাসন জানায়, ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকরা সরাসরি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। ভূমি, আইনশৃঙ্খলা, ত্রাণ, সামাজিক নিরাপত্তা, লাইসেন্স, জনঅভিযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে আবেদন, অভিযোগ ও পরামর্শ পাঠানোর সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি আবেদনের অগ্রগতিও অ্যাপ থেকেই পর্যবেক্ষণ করা যাবে।

জানা গেছে, এখন থেকে এই অ্যাপের মাধ্যমেই জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করার এপোয়েন্ট পাওয়া যাবে, এনজিও এবং লাইসেন্সিং সেবা, মিউটেশন, অর্পিত সম্পত্তি, সহায়তা সহ নানা ধরনের নাগরিক সেবা এক অ্যাপেই মিলবে৷

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, ‘জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগের মাধ্যমে নাগরিকদের সময়, খরচ ও হয়রানি কমবে। জেলা প্রশাসনকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সেবামুখী করতেই 'হ্যালো ডিসি' অ্যাপ চালু করা হয়েছে।’

এ সময় ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞা বলেন, ‘নাগরিক সেবাকে সহজ, দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে 'হ্যালো ডিসি' অ্যাপ একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। এ ধরনের উদ্ভাবনী উদ্যোগ জেলা প্রশাসনের সেবাকে মানুষের আরও কাছে পৌঁছে দেবে এবং সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

তিনি বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে জনগণের ভোগান্তি কমানো এবং সেবার মান উন্নয়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। ‘হ্যালো ডিসি‘’ অ্যাপ সেই প্রচেষ্টারই একটি কার্যকর উদাহরণ। তিনি এ উদ্যোগ সফল করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

তিনি আরো বলেন, নাগরিকদের মতামত ও অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে একটি কার্যকর ডিজিটাল সেবাব্যবস্থা গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অ্যাপটি ধাপে ধাপে আরো সমৃদ্ধ করা হবে। ভবিষ্যতে নতুন সেবা সংযুক্ত করে এটিকে জেলা প্রশাসনের একটি সমন্বিত ডিজিটাল সেবা প্ল্যাটফর্মে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

রাজধানীতে গ্যাস লিকেজের আগুনে দগ্ধ ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীতে গ্যাস লিকেজের আগুনে দগ্ধ ৩

রাজধানীর ভাটারা নতুন বাজার এলাকার একটি বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে আগুনে একই পরিবারের শিশুসহ ৩ জন দগ্ধ হয়েছেন। দগ্ধরা হলেন–কাপড়ের দোকান কর্মচারী মো. শাহীন (২৪), তার স্ত্রী মোছা. ফাহিমা আক্তার (২১) ভাগ্নি হাফছা (৮)। 

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দগ্ধ অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান।

হাসপাতালে নিয়ে আসা দগ্ধ শাহিনের সহকর্মী মো. জসিম জানিয়েছেন, শাহিন নতুন বাজার এলাকায় একটি ছয়তলা ভবনের নিচতলায় ভাড়া থাকেন। ভোরে ঘুমন্ত অবস্থায় ছিল, রুমে হঠাৎ বিকট শব্দে আগুন ধরে গেলে তারা দগ্ধ হন। পরে তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ইউনিটে নিয়ে আসি।

তিনি আরো বলেন, গ্যাসলাইন লিকেজ আগুন লাগতে পারে। বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং ঘরে আগুন ধরে যায়। পরে তাদের দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা হয়।

চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান বলেন, দগ্ধ শাহীনের শরীরের ৫০ শতাংশ, তার স্ত্রী ফাহিমার ৪৫ শতাংশ এবং তাদের ভাগ্নি হাফছার ৪০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাদের  অবস্থান আশঙ্কাজনক।

রাজধানীর ১২০ মোড়ে বসছে সেমি-অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল

বাসস
রাজধানীর ১২০ মোড়ে বসছে সেমি-অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর ১২০টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে আগামী ছয় মাসের মধ্যে সেমি-অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ইতোমধ্যে ১২টি পয়েন্টে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। আগামী মাসখানেকের মধ্যে এ সংখ্যা ৬০ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছে ট্রাফিক বিভাগ।

একই সঙ্গে যানজট কমাতে গত প্রায় এক বছরে নগরীর ৭৫টি পয়েন্টে সড়ক ডাইভারশন ও প্রকৌশলগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। ভবিষ্যতে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) ভিত্তিক ট্রাফিক নজরদারিসহ প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থা আরও আধুনিক করার পরিকল্পনা রয়েছে ডিএমপির।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে ডিএমপি ট্রাফিকে প্রায় ৪ হাজার ১০০ সদস্য কর্মরত রয়েছেন। তবে ছুটি, প্রশিক্ষণ ও অসুস্থতার কারণে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার ৭০০ সদস্য রাজধানীর ৬৬৮টি ট্রাফিক পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে প্রায় ২৫টি পয়েন্টে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করতে হয়। এসব পয়েন্টে তিন পালায় ডিউটি চলে। বাকি অধিকাংশ পয়েন্টে দুই পালায় দায়িত্ব পালন করা হয়।

আনিছুর রহমান বলেন, সীমিত জনবল দিয়েই রাজধানীর যানজট কমাতে গত প্রায় এক বছরে ৭৫টি পয়েন্টে ডাইভারশন ও বিভিন্ন ধরনের মডিফিকেশন করা হয়েছে। কোথাও ডাইভারশন দেওয়া হয়েছে, কোথাও সড়কের চলাচল ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এসব পরিবর্তনের পর এখন পর্যন্ত কোথাও বড় ধরনের যানজট বা নতুন কোনো জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে এমন কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। বরং মাঠপর্যায়ে যানজট কমার ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্তে আসাদ গেটের ওপাশে চার রাস্তার মোড়ে আগে প্রায়ই যানজট লেগে থাকত এবং সেখানে ট্রাফিক সদস্য মোতায়েন করতে হতো। পরে ওই মোড়ে সরাসরি চলাচল বন্ধ করে বাম দিকে ঘুরে অল্প দূরে ইউটার্ন নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে বাম লেন সব সময় সচল থাকছে এবং যানবাহনের চাকা আর থেমে থাকছে না। ওই জংশন পরিচালনায় ৮ জন পর্যন্ত সদস্য কমানো সম্ভব হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, একই ধরনের ডাইভারশন ও মডিফিকেশন মোহাম্মদপুরের বসিলা, বনানীর কাকলী, মিরপুরের ইসিবি চত্বর ও কালশী ফ্লাইওভারের নিচেও করা হয়েছে। তার মতে, রাজধানী ঢাকা একটি অত্যন্ত জনবহুল মেগাসিটি। এখানে শুধু ট্রাফিক সদস্যের সংখ্যা বাড়িয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সড়কের নকশা বিশ্লেষণ করে বৈজ্ঞানিকভাবে ডাইভারশন ও মডিফিকেশন করা গেলে সেটিই সবচেয়ে বেশি কার্যকর হয়। এ কারণে ৭৫টি স্থানে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সামনে আরও কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। সেগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে বর্তমান জনবল দিয়েই আরও ভালো সেবা দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, কোথায় কখন যানজট বেশি হয়, সে বিষয়ে ট্রাফিক বিভাগের অভিজ্ঞতা রয়েছে। কোথাও পিক আওয়ার, কোথাও অফ-পিক আওয়ার। সে অনুযায়ী সদস্য মোতায়েন করা হয়। তবে শুধু ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে দীর্ঘদিন ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এ ব্যবস্থার সঙ্গে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে যুক্ত করতে হবে। সেটিই হবে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই সমাধান।

আনিছুর রহমান বলেন, রাজধানীতে পর্যায়ক্রমে সেমি-অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। বর্তমানে ১২টি পয়েন্টে এ ব্যবস্থা রয়েছে। আগামী মাসখানেকের মধ্যে তা ৬০টি পয়েন্ট অতিক্রম করবে। এরপর আগামী ছয় মাসে রাজধানীর প্রধান ১২০টি পয়েন্টকে এ ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সিগন্যালগুলো ম্যানুয়ালি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। প্রয়োজন অনুযায়ী সিগন্যালের সময় পরিবর্তন করা সম্ভব। তবে উন্নত দেশগুলোতে একটি অ্যালগরিদমের মাধ্যমে পুরো সিস্টেম পরিচালিত হয়। একটি সিগন্যাল আরেকটি সিগন্যালের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কতটি যানবাহন এসেছে, তার ভিত্তিতে ৪০, ৬০, ৮০ সেকেন্ড বা  কতক্ষণ সিগন্যাল চালু থাকবে, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত হয় এবং পাশের জংশনের সঙ্গেও সমন্বয় করা হয়।

বর্তমানে সেমি-অটোমেটিক ব্যবস্থা চালুর কারণ ব্যাখ্যা করে আনিছুর রহমান বলেন, উন্নত দেশগুলোর সড়ক অত্যন্ত বৈজ্ঞানিকভাবে পরিকল্পিত ও প্রকৌশলগতভাবে নির্মিত। কোথায় কীভাবে মোড় হবে, কত ডিগ্রি কোণে বাঁক থাকবে, কোথায় উঁচু বা নিচু হবেÑসবই পরিকল্পনা অনুযায়ী করা হয়। বাংলাদেশের সড়কব্যবস্থা শুরু থেকেই সে ধরনের পরিকল্পনায় গড়ে ওঠেনি। তাই উন্নত দেশের মডেল পুরোপুরি এখানে প্রয়োগ করা সম্ভব নয়।

বর্তমান ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আনিছুর রহমান বলেন, গত দুই মাসে নগরবাসীর কাছ থেকে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সহযোগিতা পাওয়া গেছে। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ট্রাফিক আইন মেনে চলছেন, সিগন্যাল অনুসরণ করছেন এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখছেন। এর ফলে আগের তুলনায় দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকার ঘটনা অনেকাংশে কমেছে।

তবে তিনি বলেন, ঢাকার সব সমস্যা শেষ হয়ে যায়নি। ভারী বৃষ্টিপাত হলেই এখনো সড়ক অচল হয়ে যায়। আবার সড়ক অবরোধ করে মিছিল, মিটিং ও বিক্ষোভও যান চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। তাই ঢাকার যানজটকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। তেজগাঁওয়ের সমস্যা মতিঝিলকে, আবার মিরপুরের সমস্যা ওয়ারীকেও প্রভাবিত করে।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, ভারী বৃষ্টিপাতের সময়ও অনেক ক্ষেত্রে অটোমেটিক সিস্টেম কার্যকরভাবে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। তখন ম্যানুয়ালি সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। তবে ভবিষ্যতে পুরোপুরি অটোমেটিক ব্যবস্থায় যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রস্তুতি চলছে। তবে এর বাস্তবায়ন রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর নির্ভর করবে বলেও জানান তিনি।

যানজট নিরসনে শুধু ট্রাফিক পুলিশের উদ্যোগ যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে আনিছুর রহমান বলেন, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা এবং সড়ক ব্যবহারকারী প্রত্যেক মানুষেরই দায়িত্ব রয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দেশের বড় সমস্যা বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব। অনেক সময় প্রয়োজনীয় সমন্বয় ছাড়াই রাতারাতি রাস্তা কেটে উন্নয়নকাজ শুরু করা হয়। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো অনেক ক্ষেত্রে ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে আগাম যোগাযোগও করে না।

তিনি বলেন, অনেক সময় সকালে দেখা যায়, রাতের বেলায় রাস্তা কেটে রাখা হলেও দিনের বেলায় সেখানে কোনো কাজই হচ্ছে না। এতে যান চলাচলে বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়। আবার বিভিন্ন সংস্থা কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় ট্রাফিক সিগন্যালের কেবল কেটে ফেলায় পুরো সিগন্যাল ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উন্নয়ন কাজের পাশাপাশি কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করাও জরুরি।