• ই-পেপার

রাজধানীতে চলন্ত ট্রেন থেকে নামতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু

মাইলস্টোন দুর্ঘটনায় হতাহতদের স্মরণে বিমানবাহিনীর সব মসজিদে দোয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক
মাইলস্টোন দুর্ঘটনায় হতাহতদের স্মরণে বিমানবাহিনীর সব মসজিদে দোয়া

গত বছরের এই দিনে ঢাকার উত্তরায় অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় হতাহতদের স্মরণে বিমানবাহিনীর সব ঘাঁটি ও ইউনিটের মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে দুর্ঘটনায় নিহত কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষিকা, কর্মচারী, অভিভাবক এবং কর্তব্যরত অবস্থায় আত্মোৎসর্গকারী বৈমানিক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়।

একই সঙ্গে মহান আল্লাহর নিকট নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের জন্য ধৈর্য, মানসিক শক্তি ও এই অপূরণীয় শোক সহ্য করার তাওফিক কামনা করা হয়। এ ছাড়া দুর্ঘটনায় আহত যারা এখনো সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি, তাদের সবার দ্রুত আরোগ্য এবং সুস্থ, স্বাভাবিক ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

দোয়া ও মোনাজাতে বিমান বাহিনীর সব ঘাঁটি ও ইউনিটের সব কর্মকর্তা, বিমানসেনা এবং অন্যান্য পদবির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কিশোরী ও তরুণীদের ডিজিটাল সম্পৃক্ততা বিষয়ক গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন

অনলাইন ডেস্ক
কিশোরী ও তরুণীদের ডিজিটাল সম্পৃক্ততা বিষয়ক গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন

বাংলাদেশে কিশোরী ও তরুণীদের নিরাপদ, অর্থবহ ও সমতাভিত্তিক ডিজিটাল সম্পৃক্ততা নিশ্চিতের লক্ষ্যে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ‘ডিজিটাল এনগেজমেন্ট অ্যান্ড নর্মস বিটুইন অ্যাডোলেসেন্ট গার্লস অ্যান্ড ইয়াং উইমেন (এজিওয়াইইউ) অ্যান্ড দেয়ার ইনফ্লুয়েন্সার্স ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পের গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন এবং তা থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা বিনিময় সেমিনার।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাকার একটি হোটেলে এই গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন ও সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

বাংলাদেশে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পেলেও কিশোরী ও তরুণীরা এখনো ডিজিটাল প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার এবং অর্থবহ অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সামাজিক, অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের উদ্যোগে ‘ডিজিটাল জেন্ডার নরমস’ প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত গবেষণার উল্লেখযোগ্য ফলাফল সেমিনারে উপস্থাপন করা হয়।

গবেষণায় কিশোরী ও তরুণীদের ডিজিটাল সম্পৃক্ততায় প্রভাব বিস্তারকারী সামাজিক, আচরণগত ও কাঠামোগত বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করা হয়। পাশাপাশি নারীদের ডিজিটাল অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পাইলট প্রকল্পের বাস্তবায়িত বিভিন্ন উদ্যোগের কার্যকারিতা মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

সেমিনারে প্যানেল আলোচনায় ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘আমরা ডিজিটাল দুনিয়াতে প্রবেশ করেছি, যেখান থেকে আর পেছনে তাকানোর কোনো অবকাশ নেই। আজকের প্রেক্ষাপটে ডিজিটাল ডিভাইস বা মোবাইল হল নতুন যুগের বই। তাই আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য ডিজিটাল সেফটি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। শিশুদের ইন্টারনেট থেকে দূরে না রেখে বরং তাদের সঠিক ও নিরাপদ ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়ে আরো বেশি বিচক্ষণ ও পারদর্শী করে গড়ে তুলতে হবে।’

তিনি মনে করেন, ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের জন্য শক্ত আইন এবং নীতিমালার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে যখন কোনো শিক্ষার্থী বা নারীকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে হেনস্থা করা হয়, তখন তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তিনি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ওপর জোর দেন।

মন্ত্রণালয় বর্তমানে ‘ওপেন ডোর পলিসি’ অনুসরণ করছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন বা অন্য উন্নয়ন সহযোগীদের সফল ও পরীক্ষিত মডেলগুলো সরকারের কাছে উপস্থাপনের আহ্বান জানান। তিনি আশা করেন, সকলের চেষ্টায় সুস্থ ও নিরাপদ ডিজিটাল সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

প্যানেল আলোচনায় আরো অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির পরিচালক অধ্যাপক ড. বি এম মঈনুল হোসেন, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মিস কবিতা বসু, ইউএন উইমেন বাংলাদেশ কান্ট্রি অফিসের প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট দিলরুবা হায়দার এবং বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর মো. আল মামুন।

‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপে এক ক্লিকেই মিলবে ঢাকা জেলা প্রশাসনের সেবা

নিজস্ব প্রতিবেদক
‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপে এক ক্লিকেই মিলবে ঢাকা জেলা প্রশাসনের সেবা
সংগৃহীত ছবি

ঢাকা জেলা প্রশাসনের সেবাকে আরো সহজ, দ্রুত ও জনবান্ধব করতে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা খানমের উদ্যোগে চালু হয়েছে ‘হ্যালো ডিসি’ মোবাইল অ্যাপ।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাপটির উদ্বোধন করা হয়। এর মাধ্যমে সাধারণ নাগরিক ঘরে বসেই জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন সেবা, অভিযোগ, আবেদন ও তথ্য এক প্ল্যাটফর্মে পাবেন।

প্রাথমিকভাবে এই অ্যাপটি থেকে ডাউনলোড করা যাবে৷ গুগল প্লে স্টোরে রিভিউ শেষে অ্যাপটি প্লে স্টোর এবং অ্যাপ স্টোর থেকেও ডাউনলোড করা যাবে৷ এছাড়া জেলা প্রশাসন ঢাকার অফিসিয়াল ফেইসবুক পেইজ থেকেও অ্যাপটি ডাউনলোড করে সেবা নেওয়া যাবে৷ এছাড়া  01961606060 নাম্বারটিতে সরাসরি সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত কল করা যাবে৷ 

জেলা প্রশাসন জানায়, ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকরা সরাসরি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। ভূমি, আইনশৃঙ্খলা, ত্রাণ, সামাজিক নিরাপত্তা, লাইসেন্স, জনঅভিযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে আবেদন, অভিযোগ ও পরামর্শ পাঠানোর সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি আবেদনের অগ্রগতিও অ্যাপ থেকেই পর্যবেক্ষণ করা যাবে।

জানা গেছে, এখন থেকে এই অ্যাপের মাধ্যমেই জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করার এপোয়েন্ট পাওয়া যাবে, এনজিও এবং লাইসেন্সিং সেবা, মিউটেশন, অর্পিত সম্পত্তি, সহায়তা সহ নানা ধরনের নাগরিক সেবা এক অ্যাপেই মিলবে৷

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, ‘জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগের মাধ্যমে নাগরিকদের সময়, খরচ ও হয়রানি কমবে। জেলা প্রশাসনকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সেবামুখী করতেই 'হ্যালো ডিসি' অ্যাপ চালু করা হয়েছে।’

এ সময় ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞা বলেন, ‘নাগরিক সেবাকে সহজ, দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে 'হ্যালো ডিসি' অ্যাপ একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। এ ধরনের উদ্ভাবনী উদ্যোগ জেলা প্রশাসনের সেবাকে মানুষের আরও কাছে পৌঁছে দেবে এবং সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

তিনি বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে জনগণের ভোগান্তি কমানো এবং সেবার মান উন্নয়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। ‘হ্যালো ডিসি‘’ অ্যাপ সেই প্রচেষ্টারই একটি কার্যকর উদাহরণ। তিনি এ উদ্যোগ সফল করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

তিনি আরো বলেন, নাগরিকদের মতামত ও অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে একটি কার্যকর ডিজিটাল সেবাব্যবস্থা গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অ্যাপটি ধাপে ধাপে আরো সমৃদ্ধ করা হবে। ভবিষ্যতে নতুন সেবা সংযুক্ত করে এটিকে জেলা প্রশাসনের একটি সমন্বিত ডিজিটাল সেবা প্ল্যাটফর্মে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

রাজধানীতে গ্যাস লিকেজের আগুনে দগ্ধ ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীতে গ্যাস লিকেজের আগুনে দগ্ধ ৩

রাজধানীর ভাটারা নতুন বাজার এলাকার একটি বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে আগুনে একই পরিবারের শিশুসহ ৩ জন দগ্ধ হয়েছেন। দগ্ধরা হলেন–কাপড়ের দোকান কর্মচারী মো. শাহীন (২৪), তার স্ত্রী মোছা. ফাহিমা আক্তার (২১) ভাগ্নি হাফছা (৮)। 

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দগ্ধ অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান।

হাসপাতালে নিয়ে আসা দগ্ধ শাহিনের সহকর্মী মো. জসিম জানিয়েছেন, শাহিন নতুন বাজার এলাকায় একটি ছয়তলা ভবনের নিচতলায় ভাড়া থাকেন। ভোরে ঘুমন্ত অবস্থায় ছিল, রুমে হঠাৎ বিকট শব্দে আগুন ধরে গেলে তারা দগ্ধ হন। পরে তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ইউনিটে নিয়ে আসি।

তিনি আরো বলেন, গ্যাসলাইন লিকেজ আগুন লাগতে পারে। বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং ঘরে আগুন ধরে যায়। পরে তাদের দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা হয়।

চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান বলেন, দগ্ধ শাহীনের শরীরের ৫০ শতাংশ, তার স্ত্রী ফাহিমার ৪৫ শতাংশ এবং তাদের ভাগ্নি হাফছার ৪০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাদের  অবস্থান আশঙ্কাজনক।