• ই-পেপার

প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য ভূমি সেবা সহজ করতে ভূমিমন্ত্রীর নির্দেশ

মাঠ পর্যায়ে হবে এনআইডি সংশোধন, সহজ হচ্ছে প্রবাসীদের নিবন্ধন

অনলাইন ডেস্ক
মাঠ পর্যায়ে হবে এনআইডি সংশোধন, সহজ হচ্ছে প্রবাসীদের নিবন্ধন

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা আরো সহজ ও বিকেন্দ্রীকরণ করতে একাধিক পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শিক্ষা সনদের ভিত্তিতে মাঠ পর্যায়েই জন্ম তারিখ সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া থেকে একটি ধাপ বাদ দিয়ে দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি অনলাইনে ভোটার এলাকা পরিবর্তন, এনআইডি নবায়নে পারিবারিক তথ্য সংযুক্তকরণ এবং কিছু সেবায় নির্ধারিত ফি চালুর প্রস্তাবও রয়েছে।

আজ মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের ১২তম সভাশেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় অন্য চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসির সিনিয়র সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইসি সচিব বলেন, এনআইডি সংশোধনের ব্যাপারে কিছু প্রস্তাবনা ছিল। যেটা আপনার মাইগ্রেশন (স্থানান্তর) করা, ভোটার এলাকা স্থানান্তর—এটা অনলাইনে করার পদ্ধতিটা আমরা বলছি যে, আপনারা অনলাইনে আবেদন করেন এবং এই মাইগ্রেশনের জন্য একটা সংশোধনী ফি দিতে হবে, যেটা আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক ফি আছে, সেটা নতুন করে আসবে।

তিনি আরো বলেন, আইনে আছে ১৫ বছর হলে এনআইডি নবায়নের ব্যাপার আছে। তো এই এনআইডি নবায়নের জন্য নির্ধারিত একটা ফরম থাকবে এবং সেই ফরমে কী কী তথ্য থাকবে—যেমন একটা ফ্যামিলি ট্রির কথা বলা হয়েছে যে আবেদনকারী বা এনআইডিধারী তার পরিবারের তথ্যটা দেবেন যাতে তথ্যের মিল আমরা রাখতে পারি। এ ক্ষেত্রেও একটা ন্যূনতম ফির ব্যাপার আছে।

মঠা পর্যায়ে ফের বয়স সংশোধনে ক্ষমতা দেওয়ার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, মাঠ পর্যায়ে জন্ম তারিখ সংশোধনের একটা বিষয় আমরা এনআইডিতে কেন্দ্রীয়ভাবে করে থাকি। এখন পাবলিক এক্সাম সার্টিফিকেটের (জেএসসি, এসএসসি ও পিএসসি) যেখানে জন্ম তারিখ আছে, সেই অনুযায়ী সংশোধনগুলো করতে পারবে। এটা মাঠ পর্যায়ে দেওয়া হবে।

প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধন দুই ধাপের একটি ব্যবস্থ ছিল। প্রবাসীরা ফরম জমা দেওয়ার পর বায়োমেট্রিক দেওয়ার পরে আমাদের এখানে তদন্তে আসত, তদন্ত পারফরম হওয়ার পরে সেটা আপলোড হতো। তো আমরা বলছি যে না, আপনারা আপলোড করে দিবেন বায়োমেট্রিকটা, আমরা এখানে তদন্তে যথার্থতা পেলে এখান থেকেই অনুমোদন করে দেব। এতে একটি ধাপ কমে যাবে।

ঢাবির উপাচার্যের সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাবির উপাচার্যের সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের বৈঠক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। বৈঠক শেষে হাইকমিশনার ও উপাচার্য যৌথভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগে পাকিস্তান হাইকমিশনের অর্থায়নে স্থাপিত একটি কম্পিউটার ল্যাব এবং সংস্কার করা শ্রেণিকক্ষের উদ্বোধন করেন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাবি উপাচার্যের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে শিক্ষা খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ, গবেষণায় অংশীদারি এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিনিময়ের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ‘পাকিস্তান-বাংলাদেশ নলেজ করিডর’ উদ্যোগের আওতায় দেওয়া আল্লামা ইকবাল স্কলারশিপে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আগ্রহের বিষয়টি উপাচার্যকে অবহিত করেন। উভয় পক্ষই মত প্রকাশ করেন যে, পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি, সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের জনগণের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করতে শিক্ষা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘১৯২১ সালের ১ জুলাই প্রতিষ্ঠিত উর্দু বিভাগটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বিভাগ। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বিভাগটি ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। তিনি উর্দু বিভাগের উন্নয়নে পাকিস্তান হাইকমিশনের সহযোগিতার প্রশংসা করেন।

হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বলেন, ‘এ উদ্যোগ শিক্ষা উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধ জোরদার এবং তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দুই দেশের অভিন্ন অঙ্গীকারের প্রতিফলন। ভাষাগত বৈচিত্র্য, সাহিত্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিশ্রুতির প্রতীক হিসেবে উর্দু বিভাগকে সংরক্ষণ ও বিকাশে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি।’

শিক্ষকদের বদলির তদবিরের ভিড়ে অফিসে ঢুকতে পারি না : শিক্ষামন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
শিক্ষকদের বদলির তদবিরের ভিড়ে অফিসে ঢুকতে পারি না : শিক্ষামন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলির তদবিরে ‌‘অতিষ্ঠ’ বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তার ভাষ্য, ‘বদলির তদবির নিয়ে শিক্ষকরা এত বেশি ভিড় করেন যে আমি এবং প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ আমাদের অফিস রুমে ঢুকতেই পারি না।’

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ঢাকা জেলার আওতাধীন প্রাথমিকের সব স্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলির ক্ষমতা উপজেলা পর্যায়ে দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় সব শিক্ষকই ঢাকায় বদলি হয়ে আসতে চান। তাদের কথা শুনলে মনে হয়, যেন সব বিদ্যালয়ই ঢাকায় অবস্থিত।’ এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই বদলির বিষয়টি উপজেলা পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আইন প্রণয়ন ও স্থায়ী কমিটি গঠনে বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ

সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সংসদীয় চর্চা ক্ষুণ্ন হচ্ছে : টিআইবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সংসদীয় চর্চা ক্ষুণ্ন হচ্ছে : টিআইবি
সংগৃহীত ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়ন ও সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে কার্যপ্রণালি বিধি ও দীর্ঘদিনের সংসদীয় চর্চা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। টিআইবি বলেছে, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকারি দল সংসদে একচ্ছত্র ক্ষমতার অপব্যবহারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। একই সঙ্গে সংসদীয় কমিটির ক্ষমতা ও কার্যকারিতা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে নতুন আইন প্রণয়নেরও আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “কার্যপ্রণালি বিধির ৭৭ বিধি অনুযায়ী কোনো বিল উত্থাপনের পর সেটি স্থায়ী কমিটি, বাছাই কমিটি বা জনমত যাচাইয়ের জন্য পাঠানোর সুযোগ রয়েছে। সংসদীয় চর্চা অনুযায়ী অধিকাংশ বিলই স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কিন্তু ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন-২০২৬’-এর ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। বিলের ওপর বিরোধী দলের জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাবও বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। এমনকি সংশোধনী প্রস্তাব দেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়নি। সংসদ সদস্যদের কাছে বিলের কপি উত্থাপনের ঠিক আগমুহূর্তে সরবরাহ করা হয়। অথচ প্রচলিত রেওয়াজ অনুযায়ী অন্তত তিন দিন আগে বিলের অনুলিপি দেওয়ার কথা। ফলে সংসদ সদস্যদের বিলটি পর্যালোচনার বাস্তবসম্মত সুযোগ না দিয়েই কার্যপ্রণালি বিধি লঙ্ঘনের মাধ্যমে আইনটি পাস করা হয়েছে।’

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল, ২০২৬ এবং পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) (সংশোধন) বিল, ২০২৬ পূর্ব নোটিশ ছাড়াই সম্পূরক কার্যসূচির মাধ্যমে সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া বিরোধী দলের আপত্তি উপেক্ষা করে দ্রুততার সঙ্গে আরো কয়েকটি বিল সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে পাস করা হয়েছে। এ ধরনের একতরফা আইন প্রণয়ন সাংবিধানিক ও সংসদীয় বিধির পরিপন্থী। এতে প্রশ্ন উঠছে, কর্তৃত্ববাদী আমলের সংসদের সঙ্গে বর্তমান সংসদের পার্থক্য কোথায়।

সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে টিআইবি। কার্যপ্রণালি বিধির ১৮৮ বিধির উল্লেখ করে সংস্থাটি বলেছে, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রীকে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়েছে। মন্ত্রিসভার একজন সদস্য অন্য মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের ওপর কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারেন না। এতে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠনের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নব্বই-পরবর্তী কোনো সংসদে এ ধরনের নজির ছিল নেই।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, স্বার্থসংশ্লিষ্ট বা বিতর্কিত ব্যক্তিদের কমিটির সদস্য বা সভাপতি করা হলে সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কমিটিগুলোর কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তিনি আরো বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদের ২৪ নম্বর ধারায় ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোট একমত হয়েছিল যে সরকারি হিসাব কমিটি, বিশেষ অধিকার কমিটি, অনুমিত হিসাব কমিটি ও সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির সভাপতির পদ বিরোধী দলের সদস্যদের দেওয়া হবে। পাশাপাশি সংসদে আসন সংখ্যার অনুপাতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রায় ২৬ শতাংশ সভাপতির পদও বিরোধী দলের সদস্যদের কাছে যাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে যে প্রক্রিয়ায় কমিটি গঠন করা হয়েছে, তাতে শুধু জুলাই সনদের অঙ্গীকারই নয়, ক্ষমতাসীন দলের ৩১ দফা ও নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিও অর্থহীন হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

বিতর্কিত কমিটিগুলো পুনর্গঠন এবং বাকি কমিটিগুলো ঘোষিত নীতির আলোকে গঠনের আহ্বান জানিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, সংসদীয় কমিটির ক্ষমতা ও কার্যকারিতা বাড়াতে অবিলম্বে সব অংশীজনকে সম্পৃক্ত করে নতুন আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি জুলাই জাতীয় সনদে উল্লেখিত চারটি সংসদীয় কমিটিতে অন্তত একজন করে এবং সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সব নারী সংসদ সদস্যকে অন্তত একটি করে সংসদীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করারও আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।