বাংলাদেশে কিশোরী ও তরুণীদের নিরাপদ, অর্থবহ ও সমতাভিত্তিক ডিজিটাল সম্পৃক্ততা নিশ্চিতের লক্ষ্যে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ‘ডিজিটাল এনগেজমেন্ট অ্যান্ড নর্মস বিটুইন অ্যাডোলেসেন্ট গার্লস অ্যান্ড ইয়াং উইমেন (এজিওয়াইইউ) অ্যান্ড দেয়ার ইনফ্লুয়েন্সার্স ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পের গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন এবং তা থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা বিনিময় সেমিনার।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাকার একটি হোটেলে এই গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন ও সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
বাংলাদেশে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পেলেও কিশোরী ও তরুণীরা এখনো ডিজিটাল প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার এবং অর্থবহ অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সামাজিক, অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের উদ্যোগে ‘ডিজিটাল জেন্ডার নরমস’ প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত গবেষণার উল্লেখযোগ্য ফলাফল সেমিনারে উপস্থাপন করা হয়।
গবেষণায় কিশোরী ও তরুণীদের ডিজিটাল সম্পৃক্ততায় প্রভাব বিস্তারকারী সামাজিক, আচরণগত ও কাঠামোগত বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করা হয়। পাশাপাশি নারীদের ডিজিটাল অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পাইলট প্রকল্পের বাস্তবায়িত বিভিন্ন উদ্যোগের কার্যকারিতা মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
সেমিনারে প্যানেল আলোচনায় ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘আমরা ডিজিটাল দুনিয়াতে প্রবেশ করেছি, যেখান থেকে আর পেছনে তাকানোর কোনো অবকাশ নেই। আজকের প্রেক্ষাপটে ডিজিটাল ডিভাইস বা মোবাইল হল নতুন যুগের বই। তাই আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য ডিজিটাল সেফটি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। শিশুদের ইন্টারনেট থেকে দূরে না রেখে বরং তাদের সঠিক ও নিরাপদ ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়ে আরো বেশি বিচক্ষণ ও পারদর্শী করে গড়ে তুলতে হবে।’
তিনি মনে করেন, ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের জন্য শক্ত আইন এবং নীতিমালার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে যখন কোনো শিক্ষার্থী বা নারীকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে হেনস্থা করা হয়, তখন তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তিনি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ওপর জোর দেন।
মন্ত্রণালয় বর্তমানে ‘ওপেন ডোর পলিসি’ অনুসরণ করছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন বা অন্য উন্নয়ন সহযোগীদের সফল ও পরীক্ষিত মডেলগুলো সরকারের কাছে উপস্থাপনের আহ্বান জানান। তিনি আশা করেন, সকলের চেষ্টায় সুস্থ ও নিরাপদ ডিজিটাল সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
প্যানেল আলোচনায় আরো অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির পরিচালক অধ্যাপক ড. বি এম মঈনুল হোসেন, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মিস কবিতা বসু, ইউএন উইমেন বাংলাদেশ কান্ট্রি অফিসের প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট দিলরুবা হায়দার এবং বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর মো. আল মামুন।