• ই-পেপার

১৬ আগস্ট কটিয়াদী যাবেন প্রধানমন্ত্রী

বন্যাকবলিত লোহাগাড়ায় গুরুতর অসুস্থ গর্ভবতী নারীকে উদ্ধার

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
বন্যাকবলিত লোহাগাড়ায় গুরুতর অসুস্থ গর্ভবতী নারীকে উদ্ধার
ছবি: কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ভয়াবহ বন্যায় গত ২-৩ দিন থেকে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বিভিন্ন এলাকার অসংখ্য মানুষ। চারদিকে থইথই পানি, ঘর থেকে বের হওয়ার কোনো উপায় নেই। পানিবন্দি এসব পরিবারের কষ্টের যেন কোনো সীমা নেই। এমন চরম দুর্দশা ও দুর্যোগের মাঝেই মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের পশ্চিম আমিরাবাদ খৈয়ারকুল এলাকায় বন্যার পানিতে আটকে পড়া এক গর্ভবতী নারীকে কাঁধে করে উদ্ধার করে নিরাপদে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছেন তারা। এ সময় লোহাগাড়া প্রেস ক্লাবের সেক্রেটারি শাহাজাদা মিনহাজ গর্ভবতী নারীর ব্যাগ কাঁধে নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সঙ্গে হাসপাতালে পৌঁছে দেন। 

জানা গেছে, ওই এলাকায় একজন গর্ভবতী নারী বন্যার পানিতে নিজ বাড়িতে আটকা পড়ে চরম বিপাকে পড়েন। খবর পেয়ে লোহাগাড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাদা মিনহাজ উদ্ধারকাজে সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং ওই গর্ভবতী নারীকে পরম যত্নে কাঁধে তুলে বন্যার পানি পার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করার ব্যবস্থা করেন।

স্থানীয়রা বলছেন, বিপদের সময় ফায়ার সার্ভিসের এই মানবিক সেবাই সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় ভরসা। দুর্যোগ মোকাবেলায় এমন অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিসের সাহসী সদস্যদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।  

লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার জাহাঙ্গীর আলম জানান, লোহাগাড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাদা মিনহাজ আমাদের কাছে পানিবন্দি ওই গর্ভবতী নারীর খবরটি পৌঁছে দেন। খবর পেয়ে আমরা কালক্ষেপণ করিনি। আমাদের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে বন্যাকবলিত স্থান থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করে সুস্থ ও নিরাপদে হাসপাতালে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়।

জঙ্গি সন্দেহে সিঙ্গাপুর ফেরত ২ জন রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক
জঙ্গি সন্দেহে সিঙ্গাপুর ফেরত ২ জন রিমান্ডে
সংগৃহীত ছবি

জঙ্গি সন্দেহে সিঙ্গাপুর থেকে ফেরত পাঠানো গ্রেপ্তার দুই বাংলাদেশিকে তিন দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এ আদেশ দেন। আসামিরা হলেন সাহেদুল ইসলাম (৩৭) ও রিশাদ তায়ানী (২৫)।

এর আগে বুধবার (৮ জুলাই) বিমানবন্দর থানার জিডিমূলে তাদেরকে বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এদিন তাদেরকে আদালতে হাজির করে পাঁচদিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন বিমানবন্দর থানার এসআই আশরাফুল আলম।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, সিঙ্গাপুর অবস্থানকালে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার সন্দেহে সিঙ্গাপুর পুলিশ তাদেরকে আটক করে। এরপর বিমানযোগে সিঙ্গাপুর পুলিশ বাংলাদেশে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঢাকায় ইমিগ্রেশনের কর্তব্যরত অফিসারের কাছে প্রেরণ করে। পরবর্তীতে বিষয়টি সিটিটিসির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মারফত সংবাদ পেয়ে ঢাকায় ইমিগ্রেশনে ডিউটি অফিসারের কক্ষে উপস্থিত হয়ে তাদেরকে হেফাজতে নেওয়া হয়। তাদের কাছ থেকে ৩টি মোবাইল ও ৩টি পাসপোর্ট জব্দ তালিকা মূলে জব্দ করা হয়।

আসামিদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা সিঙ্গাপুর অবস্থানকালে বিভিন্ন নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানা যায়। আসামিরা বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুর গিয়ে ধর্তব্য অপরাধে জড়িত থাকার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে তথ্য-প্রমাণ পাওয়ায় সিঙ্গাপুর পুলিশ তাদের আটক করে। পরে জিডিমূলে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়। আসামিদের যেকোনো সময় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে জঙ্গি হামলা করার সম্ভবনা বিদ্যমান।

আবেদনে আরো বলা হয়, আসামিরা বাংলাদেশের কোনো নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে জড়িত কিনা, কোনো ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস ব্যবহার করে নিষিদ্ধ কার্যক্রম পরিচালনা করে কিনা এবং জঙ্গি কার্যক্রমের অর্থের জোগানদাতা কে বা কারা তা জানা, বাংলাদেশে তাদের অস্তিত্ব আছে কিনা এবং আন্তর্জাতিক নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের সঙ্গে জড়িত আছে কিনা তা জানার জন্য পাঁচদিনের পুলিশ রিমান্ডের প্রয়োজন।

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধ এলাকায় বন্ধ থাকবে প্রাথমিক বিদ্যালয়

অনলাইন ডেস্ক
চট্টগ্রামে জলাবদ্ধ এলাকায় বন্ধ থাকবে প্রাথমিক বিদ্যালয়
সংগৃহীত ছবি

কয়েকদিনের টানা বর্ষণে চট্টগ্রামে যেসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ, মাঠ কিংবা বিদ্যালয়ে যাতায়াতের রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, সেসব বিদ্যালয়ে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, সেগুলোতেও আশ্রয়কেন্দ্র চালু থাকা পর্যন্ত পাঠদান বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজ আহাম্মদ গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

এর আগে বুধবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের এক নির্দেশনায় বলা হয়, সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টিতে যেসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ, মাঠ ও চলাচলের রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, সেসব বিদ্যালয়ে আবশ্যিকভাবে শ্রেণি পাঠদান বন্ধ রাখতে হবে। ইতিমধ্যে যেসব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, সেগুলো আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার পুরো সময়জুড়েই শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

নির্দেশনায় আরো বলা হয়, কোনো অবস্থাতেই অতিউৎসাহী হয়ে জলমগ্ন বা ঝুঁকিপূর্ণ কোনো বিদ্যালয়ে পাঠদান চালু রাখা যাবে না।

নির্দেশনাটি চট্টগ্রাম জেলার সব উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে। তাদের আওতাধীন সব উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বিষয়টি অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, যেসব বিদ্যালয়ে জলাবদ্ধতা ও যাতায়াতের সমস্যা নেই সেসব বিদ্যালয়ে পাঠদান চালু থাকবে। 

সন্দ্বীপে আকস্মিক টর্নেডোর আঘাত

সন্দ্বীপ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
সন্দ্বীপে আকস্মিক টর্নেডোর আঘাত
ছবি: কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে আকস্মিক এক টর্নেডোর আঘাতে উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে উপজেলার মগধরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চর এলাকার বেড়িবাঁধে এই টর্নেডো আঘাত হানে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আনুমানিক ১ মিনিট স্থায়ী এই আকস্মিক টর্নেডোর তাণ্ডবে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। মুহূর্তের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি শুরু করেন। তাৎক্ষণিকভাবে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে মাত্র ১ মিনিটের এই ঝড়ে স্থানীয় বেশ কিছু ঘরবাড়ি, দোকানপাট এবং গাছপালা উপড়ে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। বেশ কিছু ঘরবাড়ি ও দোকান ঘরের চাল উড়ে গেছে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী কৃষক হানিফ জানান, হঠাৎ করেই দুপুরের দিকে প্রচণ্ড বেগে বাতাস ঘুরতে ঘুরতে এসে বেড়িবাঁধ এলাকায় আঘাত হানে। ১ মিনিটের মতো স্থায়ী ছিল এটা, কিন্তু এর মধ্যেই বেশকিছু ঘরবাড়ি ও দোকানপাটের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে।

মগধরা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. ইলিয়াস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আজ দুপুরে হঠাৎ করেই ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চর এলাকায় একটি টর্নেডো আঘাত হেনেছে। আমরা খবর পাওয়ার পর থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার খোঁজখবর নিচ্ছি এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণের কাজ করছি।