• ই-পেপার

তারেক রহমানের মঞ্চে ছাত্রদল নেতার ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, ভিডিও ভাইরাল

আর্জেন্টিনার জার্সি পরে ভাইরাল হওয়া রুনা গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক
আর্জেন্টিনার জার্সি পরে ভাইরাল হওয়া রুনা গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

আর্জেন্টিনার জার্সি পরে ভাইরাল হওয়া যশোরের রুনা পারভীনকে অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

যশোরের শার্শায় অনলাইন বেটিং ও জুয়ার বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল।

গত রবিবার (১৯ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়নের সাতমাইল মোড়লপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে রুনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

সোমবার (২০ জুলাই) তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রুনা পারভীন ওই গ্রামের নুরুল আমিনের মেয়ে।

ডিবি পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, সাতমাইল এলাকার দেলবার মণ্ডলের বাড়িকে কেন্দ্র করে একটি চক্র ই-ট্রানজেকশন ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে নিষিদ্ধ অনলাইন বেটিং সাইট পরিচালনা করছে। পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের উপপরিদর্শক (এসআই) জয়নুল আবেদীনের নেতৃত্বে সেখানে অভিযান চালানো হয়।

অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের কয়েকজন সদস্য পালিয়ে যায়। তবে ঘটনাস্থল থেকে রুনাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এ সময় অনলাইন জুয়ার কাজে ব্যবহৃত দুটি দামি স্মার্টফোন ও বিভিন্ন আইএমইআই নম্বরযুক্ত সিম জব্দ করা হয়।

ডিবি পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রুনা পারভীন দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ার কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

এ ঘটনায় এসআই জয়নুল আবেদীন বাদী হয়ে শার্শা থানায় জুয়া আইন ও ডিজিটাল অপরাধ-সংক্রান্ত প্রযোজ্য ধারায় মামলা করেন। সোমবার দুপুরে রুনাকে যশোরের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের উপপরিদর্শক (এসআই) জয়নুল আবেদীন জানিয়েছেন, অনলাইন জুয়ার এই চক্রের সঙ্গে জড়িত পলাতক সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

ভাত চাওয়ায় চোরের অপবাদ দিয়ে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক
ভাত চাওয়ায় চোরের অপবাদ দিয়ে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

ঢাকার সাভারে অটোরিকশা চুরির অপবাদ দিয়ে এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। নিহত আবুল খায়ের পাটোয়ারী (৩০) চাঁদপুর জেলার সদর থানার কল্যাণপুর দাসাদী গ্রামের লোকমান পাটোয়ারীর ছেলে।

বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার সকাল ৯টার দিকে সাভারের উলাইল আল ইসলাম গার্মেন্টসের পেছনের এলাকা থেকে অটোরিকশা চোরের অপবাদে আবুল খায়েরকে আটক করা হয়। বেলা ১১টা পর্যন্ত সেখানে তাকে কয়েক দফায় পেটানো হয়। সেখান থেকে অটোরিকশার মালিক নুরুজ্জামানের গ্যারেজে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও তার ওপর আবারও কয়েক দফা নির্যাতন চালানো হয়। পরে দুপুর ১টার দিকে গ্যারেজ মালিক নুরুজ্জামান আরেকজন অটোরিকশাচালকের সহযোগিতায় আবুল খায়েরের মরদেহ সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফেলে পালিয়ে যান।

উলাইল আল ইসলাম গার্মেন্টসের পেছনের এলাকার একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ঘটনার দিন এক অটোরিকশাচালক তার ছোট ছেলেকে অটোরিকশা পাহারায় রেখে বাসায় খেতে যান। তখন আবুল খায়ের শিশুটিকে বলেন, দুই দিন ধরে ভাত খাইনি। ভাত নিয়ে আসো। শিশুটি বাসায় গিয়ে তার বাবাকে বিষয়টি জানায়। পরে অটোরিকশাচালক এসে দেখেন, ওই ব্যক্তি রিকশার হ্যান্ডেল ধরে বসে আছেন। তিনি তাকে অটোরিকশা চোর মনে করলে মুহূর্তের মধ্যে লোকজন জড়ো হয়ে গণপিটুনি শুরু করেন। বেলা ১১টা পর্যন্ত মারধরের পর তাকে গ্যারেজ মালিক নুরুজ্জামানের গ্যারেজে নিয়ে যাওয়া হয়।

মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে উলাইল এলাকার কোটঘর মহল্লায় অবস্থিত নুরুজ্জামানের অটোরিকশা গ্যারেজটিতে গিয়ে দেখা যায়, শুরুতে সেখানে তার পরিবারের নারী সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তবে তারা কোনও কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন। এর কিছুক্ষণ পর গ্যারেজ মালিক নুরুজ্জামান সেখানে আসেন।

ঘটনার বিষয়ে গ্যারেজ মালিক নুরুজ্জামান  বলেন, আমার অটোরিকশাটি চালাচ্ছিলেন শুভ। অটোরিকশাটি চুরির সময় শুভ ও স্থানীয়রা তাকে আটক করে প্রথমে মারধর করেন। সকাল ১১টার দিকে তাকে আমার গ্যারেজে আনা হলে আমি তাকে বসিয়ে রাখি। তখন অন্যান্য অটোরিকশাচালকরা তাকে আবারও মারধর করেন। আমি মারধর করিনি, আমি হার্টের রোগী। পরে দুপুর ১টার দিকে একজন চালকের সহযোগিতায় আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যাই এবং ভয়ে সেখান থেকে চলে আসি।

ঘটনার পর পুলিশ তার কাছে এসেছিল কিনা জানতে চাইলে নুরুজ্জামান দাবি করেন, সোমবার বিকাল ৪টার দিকে পুলিশ এসে আমার সঙ্গে সাড়ে চার ঘণ্টা কথা বলেছে। আমি কোনও দোষ করিনি, তাই আমাকে থানায় নেয়নি।

এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, এ ঘটনায় জড়িত অটোরিকশাচালক সবুজ ওরফে শুভকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ সাড়ে চার ঘণ্টা কথা বলার পরও গ্যারেজ মালিক নুরুজ্জামানকে কেন আটক করা হয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নুরুজ্জামানকে নিয়ে আসার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই রফিকুল ইসলামকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাকে কেন আগে থানায় আনা হয়নি, সেই বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় নিহতের ভাই শাহ পরাণ পাটোয়ারী বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে এ ঘটনায় গ্যারেজ মালিক নুরুজ্জামান ও অটোরিকশা মালিক সবুজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নিহতের প্রতিবেশী আব্দুল মোতালেব হোসেন বলেন, আবুল খায়ের মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। গত রবিবার ফজরের নামাজের পর তিনি চাঁদপুরের গ্রামের বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এরপর থেকে স্বজনেরা তার সন্ধান করছিলেন। 

তিনি আরো জানান, সোমবার রাতে সাভার থানা থেকে ফোন করে জানানো হয়, হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। থানায় গিয়ে স্বজনেরা মরদেহের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন নিহতের প্রতিবেশীরা।

সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কামরুন্নাহার জানান, সোমবার দুপুর ১টার দিকে দুজন লোক অটোরিকশায় করে এক ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন এবং ফেলে পালিয়ে যান। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

শিবচরে শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ, মাদরাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার

মাদারীপুর প্রতিনিধি
শিবচরে শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ, মাদরাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তার শিক্ষক মোস্তাক হোসেন

মাদারীপুরের শিবচরে ৮ বছর বয়সি এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদরাসার এক শিক্ষক মোস্তাক হোসেনকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রবিবার রাতে ওই মাদরাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার মোস্তাক হোসেনের (৩০) বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায়।

শিবচর থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে তিনি শিবচরের ওই মাদরাসার শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। গত কয়েক দিন মাদরাসায় ক্লাস শেষে শিশুটিকে শিক্ষক মোস্তাক তার কক্ষে নিয়ে যান। গত রবিবার ক্লাস শেষে মোস্তাক তার কক্ষে নিয়ে তাকে বলাৎকার করার অভিযোগ করা হয়েছে। পরে শিশুটি বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনা জানায়।

ঘটনাটি জানাজানি হলে রবিবার সন্ধ্যায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ওই মাদরাসায় গিয়ে মোস্তাক হোসেনকে আটক করে মারধর করেন। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ওই রাতে মাদরাসা থেকে মোস্তাক হোসেনকে আটক করে শিবচর থানায় নিয়ে আসে।

পরে শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে শিবচর থানায় মামলা করা হয়। সোমবার তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন বলেন, ঘটনার দিনই অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করেছি। পরে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করলে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

বন্ধ কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ, ববি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
বন্ধ কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ, ববি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
প্রতীকী ছবি

বন্ধ ঘরের দরজা। আর বাইরে ছড়িয়ে পড়া তীব্র দুর্গন্ধ। সেই দুর্গন্ধ ধরে এগোতেই বেরিয়ে এলো বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) এক শিক্ষার্থীর মরদেহ।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন খালপাড় এলাকার একটি তিনতলা ভবনের নিচতলার মেস থেকে উচ্ছ্বাস কর্মকার নামে ওই শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

উচ্ছ্বাস বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, উদ্ধার করার অন্তত দুই দিন আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

মেসের অন্য বাসিন্দারা জানান, কয়েকদিন ধরেই উচ্ছ্বাসের ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। মঙ্গলবার রাতে ঘরটি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে সবার সন্দেহ হয়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানো হলে বরিশাল মেট্রোপলিটন বন্দর থানা পুলিশের একটি দল বন্ধ দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর থেকে উচ্ছ্বাসের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্যাম্পাসের প্রক্টরিয়াল বডি, ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা মেস প্রাঙ্গণে জড়ো হন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ও প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্য ড. গাজী মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, ‘খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পায়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করছে।’

প্রাথমিকভাবে পুলিশ ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে।

বরিশাল বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল বলেন, ‘মরদেহের সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে ধারণা করা হচ্ছে অন্তত দুই দিন আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এবং তদন্তের পরই মৃত্যুর আসল কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

তারেক রহমানের মঞ্চে ছাত্রদল নেতার ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, ভিডিও ভাইরাল | কালের কণ্ঠ