• ই-পেপার

স্ত্রী-সন্তান-জামাতাসহ পাপনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

আর্জেন্টিনাকে ব্যঙ্গ করে গান, ১৭ শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পেটালেন শিক্ষক

নওগাঁ প্রতিনিধি
আর্জেন্টিনাকে ব্যঙ্গ করে গান, ১৭ শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পেটালেন শিক্ষক
ছবি : কালের কণ্ঠ

নওগাঁ সদর উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলকে ব্যঙ্গ করে গান গাওয়াকে কেন্দ্র করে ১৭ জন শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। 

বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সদর উপজেলার নারচী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুস সালাম ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার রাতে বিদ্যালয়সংলগ্ন নারচী মোড়ে বিক্ষোভ করেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ী শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বুধবার বিদ্যালয় চলাকালে চতুর্থ শ্রেণির কক্ষে কোনো শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন না। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী আর্জেন্টিনা দলকে ব্যঙ্গ করে গান গাইছিল। গান শুনে সহকারী শিক্ষক আব্দুস সালাম শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন এবং ক্ষুব্ধ হয়ে বৈদ্যুতিক তার দিয়ে শিক্ষার্থীদের মারধর করেন। এতে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত ২৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে ছেলে ও মেয়ে উভয় শিক্ষার্থী রয়েছে।

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী শামীমা আক্তার জানায়, শিক্ষক আব্দুস সালাম আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক। দল হেরে যাওয়ার পর কয়েকজন মিলে ব্যঙ্গাত্মক গান গাইলে তিনি এসে তাদের মারধর করেন।

একই শ্রেণির শিক্ষার্থী আব্দুর রহমানের বলে, “‘আর্জেন্টিনা স্পেনের কাছে বাঁশ খাইছে’—এ কথা বলে আমরা গান গাইছিলাম। এরপর স্যার রেগে গিয়ে আমাদের পিঠে বেধড়ক মারধর করেন।”

স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর অযৌক্তিক নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষার্থী এ ধরনের ঘটনার শিকার না হয়।

অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুস সালাম শিক্ষার্থীদের মারধরের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করব।’

এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ছানাউল হাবিব বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

মাদরাসায় ছাত্রীদের ধর্ষণের অভিযোগ তুলে জামায়াত নেতাকে মারধর

আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
মাদরাসায় ছাত্রীদের ধর্ষণের অভিযোগ তুলে জামায়াত নেতাকে মারধর
সংগৃহীত ছবি

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে মাদরাসায় ছাত্রীদের ধর্ষণের অভিযোগ তুলে জামায়াতের এক নেতাকে মারধর করেন শামছুজ্জোহা স্বপন নামের এক ব্যক্তি। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বপনকে গণপিটুনির পর পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা। আহত জামায়াত নেতা এবং অভিযুক্ত দুজনই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পৌরসভা এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চক্রপাড়া ইটভাটা মোড় এলাকায় অবস্থিত আন-নূর মডেল মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে।

ওই জামায়াত নেতার নাম মো. ওয়ালিউল্লাহ। তিনি উপজেলার গোপিনাথপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি ও আন-নূর মডেল মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা। আর শামছুজ্জোহা স্বপনের বাড়ি উপজেলার তিলকপুরের কাচারিপাড়া এলাকায়।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ঘটনার সময় মাদরাসার অফিস কক্ষে অবস্থান করছিলেন ওয়ালিউল্লাহ। এ সময় শামছুজ্জোহা স্বপন সেখানে গিয়ে নিজেকে সচেতন নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি মাদরাসার ছাত্রীদের ধর্ষণের অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন, লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চান। এক পর্যায়ে তিনি এক লাখ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন ওয়ালিউল্লাহ। তার পরিচয় জানতে চাইলে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে শামছুজ্জোহা স্বপন তাকে বেধরক মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এতে ওয়ালিউল্লাহর নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ঘটনার পর আশপাশের লোকজন ও দোকানদাররা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে আক্কেলপুর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

আহত জামায়াত নেতা মো. ওয়ালিউল্লাহ বলেন, ‘আমি মাদরাসার অফিসে বসে ছিলাম। হঠাৎ একজন ব্যক্তি অফিসে ঢুকে ছাত্রীদের ধর্ষণের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন কাগজপত্র দেখতে চান। পরে তিনি আমার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন। তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে বেধরক মারধর করেন।’

অভিযুক্তের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘মাদরাসার পাশের লগুনপাড়া এলাকায় আমার ছেলের শ্বশুরবাড়ি। সে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে গিয়ে নানা বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকে। আজও সে ওই মাদরাসায় উপদেশ দিতে গিয়েছিল। বিষয়টি তাদের পছন্দ না হওয়ায় তাকে মারধর করা হয়েছে। আমার ছেলেকে এমনভাবে পিটিয়েছে যে, এখন শুধু প্রাণটাই আছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

আক্কেলপুর উপজেলা জামায়াতের আমির শফিউল হাসান দিপু বলেন, ‘অভিযুক্ত শামছুজ্জোহা স্বপন আগে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। জামায়াতে ইসলামীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে তিনি মাদরাসায় প্রবেশ করে ছাত্রীদের ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ তোলার চেষ্টা করেন এবং এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এতে ব্যর্থ হয়ে তিনি মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও জামায়াত নেতা মো. ওয়ালিউল্লাহর ওপর হামলা চালান।’

আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীন রেজা বলেন, গোপিনাথপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারিকে মারধর করে পালানোর সময় অভিযুক্তকে স্থানীয়রা আটক করে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় জামায়াত নেতার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘর থেকে ডেকে নিয়ে রাজমিস্ত্রিকে হত্যা, গ্রেপ্তার ১

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
ঘর থেকে ডেকে নিয়ে রাজমিস্ত্রিকে হত্যা, গ্রেপ্তার ১
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রাম থেকে কাজের কথা বলে ডেকে এনে হাত-পা বেঁধে চোখ, কপাল ও বুকে আঘাত এবং বুকে ও পুরুষাঙ্গে তামার তার পেঁচিয়ে নির্যাতন করে হত্যার পর মরদেহ ফেলে রাখা হয় গাজীপুরের একটি ধানক্ষেতে। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রায় ২১ মাস পর আসামি মো. নাজমুল হোসেনকে (২০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় গাজীপুর পুলিশ ব্যুারো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

এর আগে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নাজমুলকে ঢাকার আশুলিয়ার জিরানী বাজার এলাকার একটি ভাড়াবাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। নাজমুল হত্যাকাণ্ডে নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পিবিআই জানায়, ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর বিকেলে কাজের কথা বলে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানা এলাকার বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন নাঈম মাঝি। পাঁচ দিন পর গাজীপুর মহানগরীর সদর থানার সামান্তপুর এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে তার হাত-পা বাঁধা ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সদর থানায় মামলা হয়। পরবর্তীতে মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় গাজীপুর পিবিআইয়ের এসআই জামিল উদ্দিন রাশেদ। প্রযুক্তি ব্যবহার করে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাতে নাজমুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

গাজীপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার রকিবুল আক্তার জানান, নাঈমকে কিভাবে চট্টগ্রাম থেকে গাজীপুরে আনা হয়, কেন তাকে হত্যা করা হয়, হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী ও কতজন হত্যায় অংশ নিয়েছিল, সেসব বিষয়ে তদন্ত চলছে। নাজমুলকে গ্রেপ্তারের পর বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। আশা করা যাচ্ছে দ্রুত হত্যারহস্য উদঘাটন সম্ভব হবে।

কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে আসামির মৃত্যুদণ্ড

কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে আসামির মৃত্যুদণ্ড
ছবি: কালের কণ্ঠ

কুমিল্লার সদর দক্ষিণে শিশু ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে মফিজুল ইসলাম মফু (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন কুমিল্লার আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মো. ইয়াছিন আরাফাত এ রায় দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট আবদুল মোতালেব কালের কণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আদালত সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাজরিন সুলতানা ঝুমুর (৯) নামের ওই শিশুকে অপহরণ করা হয়। পরে সদর দক্ষিণ উপজেলার খেয়াশ ঠাকুরবাড়ি পুকুরের পশ্চিম পাড়ে একটি ধানক্ষেতে নিয়ে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। পরে এ ঘটনায় নিহত শিশুটির মা রাজিয়া আক্তার বাদী হয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তের একপর্যায়ে ২০২৪ সালের ১ মে র‍্যাব অভিযান চালিয়ে চাঁদপুর থেকে মফিজুল ইসলাম মফুকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

এ মামলায় মোট ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। শুনানি ও দীর্ঘ সাক্ষ্যপ্রমাণ বিচার-বিশ্লেষণ শেষে আদালত আসামির বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় মফিজুল ইসলাম মফুকে মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রদান করেন। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মাহবুবুল হক বলেন, ‘ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে’। এই রায় সমাজে অপরাধ দমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে তিনি মনে করেন।

স্ত্রী-সন্তান-জামাতাসহ পাপনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা | কালের কণ্ঠ