• ই-পেপার

ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর, পরমাণু শক্তি অর্জনে যাত্রা শুরু সৌদির

সৌদির পরমাণু চুক্তি যে শর্তে কার্যকর হবে

অনলাইন ডেস্ক
সৌদির পরমাণু চুক্তি যে শর্তে কার্যকর হবে
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি যুগান্তকারী পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সৌদি আরব। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজণার মধ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সৌদির এই চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। 

এ বিষেয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি তখনই কার্যকর হবে, যখন দেশটি আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেবে।

একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই চুক্তির আওতায় সৌদি আরবকে কোনো ধরনের পারমাণবিক উপাদান সমৃদ্ধকরণে ইউরেনিয়াম ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না।

বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ ও সৌদি আরবের মধ্যে যে বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তি হচ্ছে, তা শুধুমাত্র অসামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য। তবে এর প্রধান শর্ত হলো সৌদি আরবকে অত্যন্ত সম্মানিত ও সফল আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও আরও কয়েকটি দেশের মতো সৌদি আরবও এ ধরনের সুবিধা পেতে পারে, তবে এতে পারমাণবিক উপাদান সমৃদ্ধকরণের সুযোগ থাকবে না।’

আব্রাহাম চুক্তি ২০২০ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কোসহ কয়েকটি আরব দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরবকেও এই চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছে।

তবে সৌদি আরব এখন পর্যন্ত আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি।

নতুন কৌশলে যুদ্ধে নামতে প্রস্তুত ইরান

অনলাইন ডেস্ক
নতুন কৌশলে যুদ্ধে নামতে প্রস্তুত ইরান
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের অবকাঠামো ও উপকূলীয় এলাকায় হামলা চালিয়ে যেতে থাকে, তাহলে যুদ্ধের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে নিজেদের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।

নতুন সামরিক কৌশল বাস্তবায়নের হুঁশিয়ারি দিয়ে দেশেটির সংবাদ মাধ্যম মেহের নিউজকে এসব কথা জানিয়েছেন ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া।

যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) লঙ্ঘন করায় সংঘাত এখন নতুন ধাপে প্রবেশ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইরানের অবকাঠামো ও উপকূলীয় অঞ্চলে মার্কিন হামলা চলতে থাকলে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর পাল্টা অভিযানও অব্যাহত থাকবে।

হুঁশিয়ারি দিয়ে আকরামিনিয়া বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে বুঝতে হবে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘদিন এভাবে চলতে পারে না। তারা যদি আমাদের দেশের দক্ষিণাঞ্চলে আগ্রাসন চালিয়ে যায়, তাহলে আমরা অবশ্যই নতুন পদক্ষেপ নেব।’

স্পষ্ট ভাষায় তিনি আরো বলেন, ‘নতুন নতুন সামরিক পরিকল্পনা ও কৌশল প্রস্তুত করা হয়েছে এবং শত্রুকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে নিরুৎসাহিত করতে আমরা ভিন্ন উপায়ে মাঠে নামব। যুদ্ধের নতুন ক্ষেত্র উন্মুক্ত করাও ইরানের কৌশলগত বিকল্পগুলোর একটি। এছাড়া আরো কিছু সামরিক পরিকল্পনা রয়েছে, যা উপযুক্ত সময়ে প্রকাশ করা হবে।’

যুদ্ধবিরতির সময়কে কাজে লাগিয়ে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী নিজেদের যুদ্ধ প্রস্তুতি আরো জোরদার করেছে বলে দাবি করেন সেনাবাহিনীর মুখপাত্র। তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে বিমানবাহিনী ও বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিটের মনোবল, সক্ষমতা ও প্রস্তুতি আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে।’

সম্ভাব্য স্থল অভিযান প্রসঙ্গে আকরামিনিয়া বলেন, ‘ইরান কোনো ধরনের শত্রু আগ্রাসনকে অসম্ভব মনে করে না এবং প্রতিটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে।’

তার ভাষায়, ‘শত্রু যদি স্থলপথে হামলার চেষ্টা করে, তাহলে তাদের দুর্বলতা আকাশপথ বা দূরপাল্লার হামলার তুলনায় অনেক বেশি হবে। স্থলযুদ্ধে শত্রুর ওপর আরো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহত ঘটানোর সুযোগ থাকবে এবং সে ক্ষেত্রে আমাদের কার্যকারিতা অনেক বেশি হবে।’

বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বলেন, ইরানের নিহত সেনা সদস্য এবং নিহত সর্বোচ্চ নেতার রক্তের প্রতিশোধ নেওয়া এখন দেশের জনগণের দাবি ও জাতীয় অঙ্গীকারে পরিণত হয়েছে। সে লক্ষ্যেই সশস্ত্র বাহিনী তাদের পরিকল্পনা সাজিয়েছে।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়ার পর দুই দেশের মধ্যে আবারও হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে তেহরান ঘোষণা দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করায় ইরানও ওই সমঝোতার অধীনে নিজেদের সব প্রতিশ্রুতি স্থগিত করেছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরো বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শিশু-কিশোরদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করল ফ্রান্স

অনলাইন ডেস্ক
শিশু-কিশোরদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করল ফ্রান্স
সংগৃহীত ছবি

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রথম দেশ হিসেবে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করল ফ্রান্স। 

মঙ্গলবার দেশটির পার্লামেন্টে বিপুল সমর্থনে বিলটি পাস করেন আইন প্রণেতারা। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁখোর জোরালো সমর্থন পাওয়া এই বিলে এখন তার স্বাক্ষরের পর এটি আইনে পরিণত হবে বলে জানায় মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন

বিলটি পাস হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আইন প্রণেতাদের ধন্যবাদ জানিয়ে ম্যাঁখো বলেন, ‘নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকেই ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধ থাকবে।’ 

এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে এক ভিডিও বার্তায় ম্যাঁখো বলেছিলেন, ‘আমাদের শিশু ও কিশোরদের মস্তিষ্ক বিক্রির জন্য নয়। তাদের আবেগও বিক্রির জন্য নয় কিংবা তা মার্কিন প্ল্যাটফর্ম বা চীনা অ্যালগরিদমের মাধ্যমে প্রভাবিত হওয়ার জন্যও নয়।’

আগামী সেপ্টেম্বরে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই আইন কার্যকর করতে সরকারকে দ্রুত সংসদীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন ম্যাঁখো। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীদের বয়স কীভাবে যাচাই করা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফরাসি সরকার জানিয়েছে, আইন কার্যকর করতে বয়স যাচাইয়ের নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা চালু করা হবে।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত বছরের শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে এমন আইন কার্যকর করে। 

এ ছাড়া যুক্তরাজ্য আগামী বছর থেকে একই ধরনের বিধিনিষেধ চালুর ঘোষণা দিয়েছে। স্পেন, গ্রিস ও ডেনমার্কও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে ন্যূনতম বয়সসীমা নির্ধারণের পরিকল্পনা করছে।

ইউক্রেনের খাদ্য কারখানায় রুশ হামলা, তিনজনের প্রাণহানি

অনলাইন ডেস্ক
ইউক্রেনের খাদ্য কারখানায় রুশ হামলা, তিনজনের প্রাণহানি
ছবি : রয়টার্স

ইউক্রেনের পাভলোহরাদ শহরে একটি খাদ্য শিল্প কারখানায় রাশিয়ার হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আঞ্চলিক গভর্নর ওলেক্সান্ডার হানজা।

ওলেক্সান্ডার হানজা জানিয়েছেন,হামলার পরপরই শিল্প কারখানাটিতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। খবর রয়টার্স

ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, হামলাটিতে গাইডেড এরিয়াল বোম ব্যবহার করা হয়েছে।

আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, পাভলোহরাদ শহরটি ফ্রন্টলাইনের কাছাকাছি চলে আসায় বাসিন্দাদের সতর্ক হওয়া ও নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সময় অনেকটাই কমে গেছে। উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় প্রশাসন বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ পরিমাণ নিরূপণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।