• ই-পেপার

ছাত্রলীগ ভেবে জামায়াত নেতার মাছ লুট বিএনপি কর্মীর

হবিগঞ্জে বজ্রাঘাতে ৩ জনের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
হবিগঞ্জে বজ্রাঘাতে ৩ জনের মৃত্যু

হবিগঞ্জে পৃথক স্থানে বজ্রাঘাতে নারীসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন আরো ৪ জন। রবিবার (৭ জুন) সন্ধ্যায় শায়েস্তাগঞ্জ, চুনারুঘাট ও বানিয়াচং উপজেলার পৃথক স্থানে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে।

হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন ও শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি মো. আবুল কালাম হতাহতের ঘটনা নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, রবিবার সন্ধ্যায় শায়েস্তাগঞ্জের কাজীরগাঁও গ্রামে বাড়ির পাশে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই ওই নারীর মৃত্যু হয়। অপরদিকে বোনের বাড়িতে বেড়াতে চুনারুঘাটে এসেছিলেন রিংকু দেবনাথ। বিকেলে তিনি তার ভাগিনা পিযুষ দেবনাথকে সঙ্গে নিয়ে একটি বাড়ির ছাদে উঠে পানির ট্যাংকি পরিষ্কার করছিলেন।

এসময় বৃষ্টি শুরু হয় এবং হঠাৎ বজ্রাঘাতে তারা দুজনই ছাদ থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্বজনরা তাদের চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রিংকু দেবনাথকে মৃত ঘোষণা করেন।

আহত পিযুষ দেবনাথ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া একই সময়ে বানিয়াচং উপজেলার শ্রীমঙ্গলকান্দি গ্রামে বজ্রপাতে চার যুবক আহত হন। পরে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মধ্যে সুজন মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।

পঞ্চগড়ে পুকুরে গোসল করতে নেমে দুই ছাত্রের মৃত্যু

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
পঞ্চগড়ে পুকুরে গোসল করতে নেমে দুই ছাত্রের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

পঞ্চগড়ের সদর উপজেলায় পুকুরের পানিতে গোসল করতে নেমে আব্দুর রহিম (১৪) ও রাজিব হোসেন লাবিব (১৬) নামে দুই মাদরাসা ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (৭ জুন) দুপুরে উপজেলার সাতমেরা ইউনিয়নের দক্ষিণ সাহেবীজোত দশমাইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

নিহত আব্দুর রহিম ইউনিয়নের শিতলীহাসনা এলাকার মৃত জাকির হোসেনের ছেলে এবং লাবিব ইউনিয়নের সাহেবীজোত এলাকার আশরাফুল ইসলামের ছেলে। তারা ওই ইউনিয়নের দশমাইল নুরানি মাদরাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র।

সাতমেরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম রবি বলেন, রবিবার দুপুরে পঞ্চগড়ের সদর উপজেলার দক্ষিণ সাহেবীজোত দশমাইল এলাকায় সাড়ে ১২টার দিকে একটি পুকুরে গোসল করতে যায়। একপর্যায়ে তারা সাঁতার না জানায় পুকুরের গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতা পুকুরের গভীর পানি থেকে ডুবন্ত অবস্থায় তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।  

সদর থানার ওসি আশরাফুল ইসলাম পুকুরের পানিতে গোসল করতে গিয়ে দুই মাদরাসা ছাত্রের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

রাজশাহীতে ৫ দশকে কমেছে বৃষ্টিপাত, বাড়ছে তাপমাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
রাজশাহীতে ৫ দশকে কমেছে বৃষ্টিপাত, বাড়ছে তাপমাত্রা
সংগৃহীত ছবি

গত পাঁচ দশকে রাজশাহীতে বর্ষা মৌসুমের বৃষ্টিপাত প্রায় ৩৪ শতাংশ কমে গেছে। একই সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে তাপমাত্রা। পাশাপাশি নিচে নেমে যাচ্ছে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর। বৃষ্টিপাত কমার ফলে দেশের অন্যতম খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলে পানির সংকট আরো গভীর হচ্ছে এবং কৃষি, জীবিকা ও দীর্ঘমেয়াদি পানির নিরাপত্তা ক্রমেই বৃহত্ হুমকির মুখে পড়ছে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী ক্লিনার ওয়াটার-এ প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, কমে আসা বৃষ্টিপাত, ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহার এবং প্রাতিষ্ঠানিক অসহযোগিতার কারণে ২০৩২ সাল পর্যন্ত রাজশাহী অঞ্চলে মাঝারি থেকে তীব্র পানিসংকট অব্যাহত থাকতে পারে। গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের একদল গবেষক। গবেষণায় স্যাটেলাইট চিত্র, আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি তথ্য, ভূগর্ভস্থ পানির উপাত্ত এবং রাজশাহীর ১৩টি উপজেলার ৩৮৫টি পরিবারের ওপর পরিচালিত মাঠ জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা যায়, ১৯৭৮ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে রাজশাহীতে গড় বর্ষাকালীন বৃষ্টিপাত ছিল এক হাজার ৪০৬ মিলিমিটার। কিন্তু ২০১১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৯২৫ মিলিমিটারে। অর্থাত্ কয়েক দশকে বৃষ্টিপাত কমেছে প্রায় ৩৪ শতাংশ। প্রতিবছর গড়ে প্রায় ১২ মিলিমিটার করে বৃষ্টিপাত হ্রাস পাচ্ছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

গবেষকদের মতে, বরেন্দ্র অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার প্রবণতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা ও চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি। গবেষণার পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি শতাব্দীর শেষভাগে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কয়েক দফা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করতে পারে। ২০৮৮ সালের মধ্যে তা ৪৭.১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কাও রয়েছে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, গত ৩৫ বছরে রাজশাহীর ভূগর্ভস্থ পানির স্তর গড়ে ৩.৭৮ মিটার নিচে নেমে গেছে। ১৯৯০ সালে যেখানে ভূগর্ভস্থ পানির গড় গভীরতা ছিল ১১.৬৬ মিটার, ২০২৪ সালে তা বেড়ে হয়েছে ১৫.৪৪ মিটার। 

জরিপে অংশ নেওয়া ৯৫ শতাংশের বেশি মানুষ বলেছে, দৈনন্দিন ব্যবহারের পানি সংগ্রহ ও নিশ্চিত করতে তাদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। শতভাগ উত্তরদাতা বলেছেন, তারা ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ধারাবাহিকভাবে নিচে নেমে যেতে দেখছেন। তবে সংকট বাড়লেও প্রায় ৭৮ শতাংশ মানুষ জানিয়েছে, পানি ব্যবস্থাপনা বা সংকট মোকাবেলায় তারা কোনো ধরনের সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা পায়নি।

গবেষকরা বলছেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে রাজশাহীর পানির নিরাপত্তা আরো ঝুঁকির মুখে পড়বে। তারা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোতে এলাকাভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি সাশ্রয়ী সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, কৃত্রিমভাবে ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ, ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনে কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং খরা-সহনশীল ফসলের চাষ বাড়ানোর সুপারিশ করেছেন।

গবেষকদের মতে, পানিনির্ভর ধান চাষের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো এবং কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হলে রাজশাহীর ক্রমবর্ধমান পানিসংকট মোকাবেলায় কার্যকর অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হবে।

স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ, যুবক গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ, যুবক গ্রেপ্তার
প্রতীকী ছবি

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আনা হয়েছে।

রবিবার (৭ জুন) দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশের হেফাজতে ১৩ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থীকে ঢামেক হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) ও ফরেনসিক বিভাগে নেওয়া হয়।

গতকাল চট্টগ্রাম থেকে ওই কিশোরীকে উদ্ধারের পর অভিযুক্ত কামরুল ইসলাম নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।   

পুলিশ সূত্র জানায়, ভুক্তভোগী কিশোরী দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় মাতৃছায়া একাডেমির সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৮ মে সকালে স্কুলে যাওয়ার পর সে আর বাড়ি ফেরেনি। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় কামরুল ইসলাম (২৪) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি সাইফুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, মামলার আলামত সংগ্রহ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সংক্রান্ত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ভুক্তভোগীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢামেক হাসপাতালে আনা হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 

ছাত্রলীগ ভেবে জামায়াত নেতার মাছ লুট বিএনপি কর্মীর | কালের কণ্ঠ