বাইরে টুপটাপ বৃষ্টি, আকাশজুড়ে ধূসর মেঘের আনাগোনা। বর্ষার স্নিগ্ধ আবহে গান, কবিতা, আবৃত্তি ও স্মৃতিচারণে মুখর হয়ে উঠল গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্স। বসুন্ধরা শুভসংঘের কলেজ শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘অনুভবে বর্ষা’।
বুধবার (২২ জুলাই) কলেজের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বাংলা সাহিত্য, সংগীত ও সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গের মাধ্যমে বর্ষার সৌন্দর্য ও অনুভূতি তুলে ধরা হয়।
বসুন্ধরা শুভসংঘ গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্স শাখার সভাপতি মুসলেমিনা সুলতানার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক লাবণ্য মল্লিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সংগীত, আবৃত্তি ও স্মৃতিচারণাসহ বিভিন্ন পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে লাবণ্য মল্লিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা ‘বর্ষার দিনে’ আবৃত্তি করেন। এরপর শঞ্চিতা সেতু পরিবেশন করেন রবীন্দ্রসংগীত ‘মন মোর মেঘের সঙ্গী’। তাঁর পরিবেশনায় বর্ষার আবেগ ও প্রকৃতির সৌন্দর্য ফুটে ওঠে।
আবৃত্তি পর্বে রুদাবা আনসারী পরিবেশন করেন ‘বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর’। এরপর লামিয়া সানজিদা পরিবেশন করেন ‘যাও বলো তারে, মেঘের ওপারে’ এবং আফিয়া সাড়া খান পরিবেশন করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বর্ষার গান ‘আজি ঝরো ঝরো মুখর বাদল দিনে’।
অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল ‘বর্ষার স্মৃতিচারণ’ পর্ব। এতে সভাপতি মুসলেমিনা সুলতানা বর্ষাকে ঘিরে তাঁর জীবনের বিভিন্ন স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এ সময় উপস্থিত সদস্যরাও নিজেদের অনুভূতি ভাগাভাগি করেন।
পরে লাবণ্য মল্লিক জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা ‘রক্তাম্বরধারিণী মা’ আবৃত্তি করেন। নারী জাগরণ, সাহস ও আত্মমর্যাদার বার্তা বহনকারী এ পরিবেশনা দর্শকদের প্রশংসা কুড়ায়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে উপস্থিত সবাই সম্মিলিতভাবে ‘পাগলা হাওয়ার বাদল-দিনে’ এবং ‘এই মেঘলা দিনে একলা’ গান পরিবেশন করেন। সমবেত সংগীতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় বর্ষাকে ঘিরে আয়োজিত এ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে লামিয়া সানজিদা, নাঈমা ইসলাম, তানিয়া তানজি, লামিয়া রওশন, জাকিয়া সুলতানা, নুরে জান্নাত, রাজমিন সুলতানা, সালমা হোসেন ইমু, আফনান নাবিলা, শাহানাজ পারভীন, সায়েবা সিদ্দিকী, মাহাবুবা মিতা, ফাহমিদা আঞ্জুম উনাইসা, আফিয়া সাড়া খান, বিপাশা বিথী, রুকাইয়া নাজাত, আফরিন নাহার নিঝু, শিমা রাণী সাহা, রুদাবা আনসারী, শঞ্চিতা সেতুসহ বসুন্ধরা শুভসংঘের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যরা জানান, সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক চর্চা, সৃজনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক সম্প্রীতি বৃদ্ধিতেও সংগঠনটি কাজ করছে। ‘অনুভবে বর্ষা’ তারই ধারাবাহিক আয়োজন।






