• ই-পেপার

ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের ২০ বছর পূর্তি উদযাপন

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ভর্তি পরীক্ষা শুরু আজ

অনলাইন ডেস্ক
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ভর্তি পরীক্ষা শুরু আজ
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর সরকারি সাত কলেজ নিয়ে গঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আজ শনিবার (১১ জুলাই) থেকে শুরু হচ্ছে। প্রথম দিনে কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত রাজধানীর নির্ধারিত সাত কলেজ কেন্দ্রে একযোগে এই পরীক্ষা নেওয়া হবে।

তবে বন্যা পরিস্থিতিতে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় শত শত ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী চরম অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় এবং সড়কপথ প্লাবিত হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীর পক্ষে সঠিক সময়ে ঢাকায় পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষা স্থগিত হবে কি না জানতে চাইলে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ট্রেজারার অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়টি সম্পূর্ণ উপাচার্য মহোদয়ের সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে এখন পর্যন্ত পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী যথাসময়েই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এবারের কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটে মোট আসন রয়েছে ৪ হাজার ৪৯৮টি। এই আসনগুলোর বিপরীতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে আবেদন করেছেন ২৩ হাজার ৩৬৫ জন শিক্ষার্থী। সেই হিসাবে প্রতিটি আসনের বিপরীতে লড়বেন প্রায় পাঁচজন ভর্তিচ্ছু। বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে তা তাদের শিক্ষাজীবনে বড় প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


 

ঢাবিতে ‘জুলাই দেখার দৃষ্টিকোণ : মত ও মতান্তর’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
ঢাবিতে ‘জুলাই দেখার দৃষ্টিকোণ : মত ও মতান্তর’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত
ছবি: কালের কণ্ঠ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর বেঙ্গল স্টাডিজের উদ্যোগে ‘জুলাই দেখার দৃষ্টিকোণ : মত ও মতান্তর’ শীর্ষক একটি বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজুল ইসলাম লেকচার হলে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেন্টার ফর বেঙ্গল স্টাডিজের পরিচালক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

সেমিনারে দেশের বিশিষ্ট লেখক, গবেষক ও সাংবাদিকরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বহুমাত্রিক দিক, এর সাফল্য, সংকট ও ভবিষ্যৎ আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আলোচনা করেন।

ডেইলি ওয়াদার ম্যানেজিং এডিটর ফয়সাল মাহমুদ জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ফ্যাসিস্ট রেজিমের বিরুদ্ধে একটি বৈপ্লবিক সামষ্টিক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ও সফল ঘটনা হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থান ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের চেতনা সমুন্নত রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য।

কবি ও লেখক হাসান রোবায়েত বলেন, জুলাই আন্দোলনে ঢাকার বুদ্ধিজীবীরা কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং জাতিগত সংকট সমাধানের প্রত্যাশা হতাশায় রূপ নিয়েছে। বাংলার বহুত্ববাদী মুসলমান পরিচয়কে রাষ্ট্র সমানভাবে ধারণ করতে না পারায়ও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সম্পাদক ও গবেষক ফয়সাল আহমেদ তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে বলেন, ‘ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান’ বলার মাধ্যমে একটি ক্ষমতাকেন্দ্রিক তুলনা তৈরি হয়েছে। উত্তর-ঔপনিবেশিক তাত্ত্বিক গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাকের বরাতে তিনি বলেন, জুলাইয়ের কর্তাসত্তা নিয়ে বিতর্কের মূল সংকট প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে নিহিত।

লেখক ও চিন্তক মওলবি আশরাফ জুলাই আন্দোলনকে ‘বিপ্লব’ ও ‘গণঅভ্যুত্থানে’র মাঝামাঝি একটি রূপান্তরকালীন অবস্থান হিসেবে ব্যাখ্যা করে বিগত সরকারকে জুলুম ও নৈতিক বিপর্যয়ের শাসনকাল বলে অভিহিত করেন।

আলোচনায় আরো অংশ নেন গবেষক ফজলুল হক তুহিন, জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী এহসান ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের।

বক্তারা জুলাইয়ের মূল আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

প্রাথমিক-মাধ্যমিকে ১৩৩ বই পরিমার্জন, আসছে চার নতুন বই

অনলাইন ডেস্ক
প্রাথমিক-মাধ্যমিকে ১৩৩ বই পরিমার্জন, আসছে চার নতুন বই

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তকে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। ১৩৩টি পাঠ্যবইয়ের পরিমার্জনসহ দুই শ্রেণিতে চার নতুন বই যুক্ত হচ্ছে। ইতিহাস, বাংলা, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়সহ বিভিন্ন বইয়ে নতুন বিষয় সংযোজন ও পুরোনো অংশ পুনর্বিন্যাসের কাজ চলছে।

শিক্ষার্থীদের শারীরিক, মানসিক ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে নতুন চারটি বই। আইসিটি বইয়ে প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন অধ্যায় সংযোজন হচ্ছে। নবম ও দশম শ্রেণির বাংলা বইয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা একটি প্রবন্ধ সংযোজন হচ্ছে। পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের ‘আমাদের স্মরণীয় নেতা’ অধ্যায়ে বর্তমান চার নেতার পাশাপাশি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জীবন ও অবদান যুক্ত হচ্ছে বলে সমকাল এক প্রতিবেদনে জানায়।

এনসিটিবি সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক স্তরের ৩৬টি পাঠ্যবই পরিমার্জনের কাজ শেষ পর্যায়ে। মাধ্যমিকের মোট পাঠ্যবই ৯৯টি। এর মধ্যে ৯৭টি পরিমার্জন করা হয়েছে। প্রাথমিকের পাঠ্যবই ১৬০ জন বিষয় বিশেষজ্ঞ এবং মাধ্যমিকের বইয়ের ক্ষেত্রে ২৫০ জন পরিমার্জন কাজে যুক্ত ছিলেন।  

সূত্র জানায়, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রায় ৩০ কোটি ৮৩ লাখের বেশি পাঠ্যবই মুদ্রণ করা হবে। এরমধ্যে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য আট কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩০ কপি এবং মাধ্যমিক, মাদরাসা ও কারিগরি স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য ২১ কোটি ২৭ লাখ ২৮ হাজার ৩৩২ কপি বই ছাপানো হবে। আগস্টের প্রথম সপ্তাহে বই ছাপার কাজ শুরু হয়ে নভেম্বরের মাঝামাঝি শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ বিষয়ে এনসিটিবি চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বলেন, ‘এ পর্যন্ত ১৩৩টির পরিমার্জন ও ইনডিজাইন সম্পন্ন হয়েছে। চারটি বই নতুন সংযোজন হওয়ায় সেগুলোর বিষয়বস্তু ও কাঠামো চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।’ 

তিনি বলেন, ‘চার শতাধিক বিশেষজ্ঞ, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক, সম্পাদক ও কারিগরি বিশেষজ্ঞ বই প্রস্তুতের কাজে যুক্ত রয়েছেন। প্রতিটি বই একাধিক ধাপে পর্যালোচনা করা হয়েছে। আমরা চাই, শিক্ষার্থীরা নির্ভুল, মানসম্মত ও সময়োপযোগী বই হাতে পাক। সময়মতো শিক্ষার্থীদের কাছে বই পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি।

১০০ স্কুলে চালু হচ্ছে খান একাডেমির গণিত শিক্ষা প্রকল্প

অনলাইন ডেস্ক
১০০ স্কুলে চালু হচ্ছে খান একাডেমির গণিত শিক্ষা প্রকল্প
সংগৃহীত ছবি

দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের গণিত শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে প্রথম ধাপে ৭টি জেলার মোট ১০০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১ বছর মেয়াদে ‘খান একাডেমি বাংলাদেশ’র কার্যক্রম বাস্তবায়নের অনুমোদন দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি।

সম্প্রতি মাউশির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উইং থেকে জারি করা এক স্মারকে এ তথ্য জানানো হয়। সাজেদা ফাউন্ডেশনের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও পঞ্চগড়—এই ৭টি জেলার নির্বাচিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে। সাজেদা ফাউন্ডেশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মাউশি এই কর্মসূচির নীতিগত অনুমোদন ও সম্মতি জ্ঞাপন করেছে।

তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মাউশি বেশ কিছু কঠোর শর্তারোপ করেছে। শর্তানুযায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই কার্যক্রম পরিচালনাকালে জাতীয় ও ধর্মীয় চেতনা পরিপন্থি কোনো কাজ করা যাবে না। শ্রেণি কার্যক্রমে বা সাধারণ ক্লাস চলায় কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটানো যাবে না। জেলা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারদের সহায়তায় বিদ্যালয়গুলো নির্বাচন করতে হবে এবং চূড়ান্ত তালিকার জন্য মাউশির অনুমোদন নিতে হবে।

এছাড়া প্রতি তিন মাস পর পর এবং বার্ষিক অগ্রগতি প্রতিবেদন মাউশি অধিদপ্তরে জমা দিতে হবে। মাউশি কর্তৃপক্ষ চাইলে যেকোনো সময় এই কার্যক্রম বাতিল করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করে। একই সঙ্গে প্রকল্প চলাকালীন সরকারকে দেওয়া স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করতেও বলা হয়েছে।