• ই-পেপার

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেবে সরকার : কৃষিমন্ত্রী

টানা বৃষ্টিতে রাঙামাটিতে পাহাড় ধসের শঙ্কা

জানমাল রক্ষায় মাঠে আনসার ও ভিডিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
টানা বৃষ্টিতে রাঙামাটিতে পাহাড় ধসের শঙ্কা

পাহাড়ি জেলা রাঙামাটিতে কয়েকদিনের টানা বর্ষণে দেখা দিয়েছে আকস্মিক বন্যা এবং পাহাড় ধসের মারাত্মক ঝুঁকি। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।

দুর্যোগের ঘনঘটা দেখা দেওয়ার আগেই, গত ২৯ জুন রাঙামাটি জেলা কমান্ড্যান্টের কার্যালয়ে উপজেলা কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের ভাতাভোগী ও স্বেচ্ছাসেবী সদস্যদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি পাহাড়ি ঢালু ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারী সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

দুর্যোগের মেঘ ঘনীভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জেলা প্রশাসনের চিহ্নিত করা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে তৎপর হয়ে ওঠেন আনসার ও ভিডিপির তৃণমূল সদস্যরা। চলমান ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ার কয়েকদিন পূর্ব থেকেই পাহাড়ি জনপদগুলোতে দল বেঁধে সতর্কতামূলক প্রচারণা চালান তারা। স্থানীয় প্রশাসন ও উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশনায় বাহিনীটির সদস্যরা ঘরে ঘরে গিয়ে পাহাড় ধসের ভয়াবহতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে বোঝাতে শুরু করেন। একই সঙ্গে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সবাইকে দ্রুত নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়।

ভারি বর্ষণ শুরু হলে মাঠপর্যায়ে কাজের গতি আরো বাড়িয়ে দেয় আনসার ও ভিডিপি। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সমন্বয় করে বাহিনীটির সদস্যরা দুর্গম পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে আনার কাজ শুরু করেন। ঝড়ো হাওয়া আর কর্দমাক্ত পথ মাড়িয়ে শিশু, বৃদ্ধ ও নারীদের পিঠে করে কিংবা হাত ধরে পরিস্থিতি অনুযায়ী বিভিন্ন উপায়ে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছে দেন তারা। উপজেলা পর্যায়ে চলমান এই উদ্ধার ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম সফল করতে নিয়মিত বিরতিতে ভাতাভোগী সদস্যদের নিয়ে জরুরি বৈঠক এবং ব্রিফিং করেন উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তারা, যা মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করেছে।

উদ্ভুত পরিস্থিতি পর্যালোচনায় গত ১০ জুলাই বিকেল ৫টায় দেশের সব জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশেষ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেই নির্দেশনার আলোকেই রাঙামাটি জেলা সদরের প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ যেন আতঙ্কিত না হয় এবং পরবর্তী সরকারি নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত নিরাপদেই আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করে, তা নিশ্চিত করতে আনসার ও ভিডিপির সদস্যরা সেখানে দিনরাত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। বিপন্ন মানুষের পাশে থেকে তাদের জানমালের নিরাপত্তা দিতে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতেই রাত জাগছেন বাহিনীর সদস্যরা।

পাহাড় ধস ও আকস্মিক বন্যার চরম ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও এখনো যারা নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে আসতে দ্বিধাবোধ করছেন, তাদের জীবন বাঁচাতে শেষ মুহূর্তের চেষ্টা চালাচ্ছেন আনসার ও ভিডিপির সদস্যরা। তীব্র দুর্যোগের মধ্যেই কাঁধে হ্যান্ড মাইক নিয়ে তারা ছুটে যাচ্ছেন পাহাড়ের পাদদেশে থাকা প্রতিটি ঘরে ঘরে। অনতিবিলম্বে ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে আসার জন্য বাসিন্দাদের পুনরায় অনুরোধ ও উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। জানমালের চূড়ান্ত ক্ষতি এড়াতে কোনো ধরনের শিথিলতা না দেখিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো থেকে প্রতিটি মানুষকে সরিয়ে নিতে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন আনসার-ভিডিপির মাঠপর্যায়ের সদস্যরা।

যেকোনো ধরনের জরুরি ও আকস্মিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতির পাশাপাশি বিশেষ টিমও গঠন করা হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে যেকোনো মুহূর্তে যৌথ টহল ও উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়ার জন্য ‘আনসার ব্যাটালিয়ন’-এর বিশেষ দক্ষ টিমকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যেকোনো দুর্গম এলাকায় তাৎক্ষণিক উদ্ধারকাজ পরিচালনা কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই বিশেষ টিমটি ব্যাকআপ ফোর্স হিসেবে কাজ করবে, যা স্থানীয় প্রশাসনের দুর্যোগ মোকাবেলা কার্যক্রমকে আরো শক্তিশালী করেছে।

রাঙামাটিসহ দেশের সব বন্যা কবলিত এলাকার সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে তাদের সাধ্যের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে দুর্গত মানুষের উদ্ধার, সতর্কীকরণ এবং সর্বাত্মক সহায়তা করা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আদেশ দিয়েছেন। এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমকে গতিশীল রাখতে ব্যাটালিয়ন পরিচালক, জেলা কমান্ড্যান্ট এবং উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তারা নিজেরা সরাসরি উপদ্রুত এলাকায় উপস্থিত থেকে সার্বক্ষণিক তদারকি ও সমন্বয় করে যাচ্ছেন।

চলমান এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপন্ন মানুষের জীবন রক্ষা করতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী এখন একতাবদ্ধ। একদিকে প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট মানবিক নির্দেশনা, অন্যদিকে বাহিনীর মহাপরিচালকের আন্তরিক ও মানবিক আহ্বান—এই দুইয়ের সমন্বয়ে বাহিনীর প্রতিটি স্তরের সদস্য নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই কঠিন ক্ষণে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং একটি প্রাণও যেন অকালে ঝরে না যায়, সেই লক্ষ্যেই দিনরাত অবিচলভাবে লড়াই করে যাচ্ছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।

কুমেকে দায়িত্ব, প্রাইভেট হাসপাতালে সময় কাটে চিকিৎসকের

জাহিদ পাটোয়ারী, কুমিল্লা
কুমেকে দায়িত্ব, প্রাইভেট হাসপাতালে সময় কাটে চিকিৎসকের

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে অফিস চলাকালীন সময়ে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে প্রাইভেট হাসপাতালে সময় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রেডিওলজিস্ট ডা. শিব্বির আহমেদের বিরুদ্ধে। এতে প্রতিদিন শত শত রোগী বঞ্চিত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা থেকে। এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সেবাপ্রত্যাশীরা।

অভিযুক্ত চিকিৎসককে কুমেক পরিচালক ও বিভাগীয় প্রধানের পক্ষ থেকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও গত দেড় বছর ধরে তিনি অফিস ফাঁকি দিয়ে একাধিক প্রাইভেট হাসপাতালে সময় দিচ্ছেন।      

সরেজমিন কুমেক হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা সেবা নিতে কুমিল্লা, ফেনী, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা থেকে হাজার হাজার রোগী আসেন এ চিকিৎসালয়ে। এদের অনেকে রোগ নির্ণয়ের জন্য আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষা করাতে হয়। দুঃখের বিষয় হলো এ বিভাগে দৈনিক ২০ জন রোগীর বেশি আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষার সিরিয়াল নেওয়া হয় না। পরে রোগীদের কৌশলে তালের মাধ্যমে কুমেকের বাইরে অবস্থিত নির্দিষ্ট দুটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো হয় এবং বলা হয় সেখানে গেলে ডা. শিব্বির আহমেদকে দিয়ে পরীক্ষা করানো যাবে। 

গত সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় কুমেকের রেডিওলজি বিভাগে গিয়ে অভিযুক্ত ডা. শিব্বির আহমেদকে পাওয়া যায়নি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুপুর ১২টার দিকে কুমেক হাসপাতালের বিপরীতে অবস্থিত ইউনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে ডা. শিব্বিরের সন্ধান মেলে। সেখানে কয়েকজন রোগী দেখে, ঠিক আধা ঘণ্টা পর হেলথ ভিউ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসাউন্ড করতে দেখা যায় তাকে।

এ সময় তিনি এ প্রতিবেদকের উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত ডায়াগনস্টিক সেন্টার ত্যাগ করে সরকারি হাসপাতালে প্রবেশ করেন। এক পর্যায়ে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে প্রতিবেদকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে সংবাদ প্রকাশ না করতে অনুরোধ জানান। পরে একাধিক বহিরাগত দিয়ে ফোন করে অর্থনৈতিক প্রস্তাব করেন।  

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগে একাধিক ব্যক্তি জানান, ডা. শিব্বির আহমেদ বেশির ভাগ সময় সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে হসপিটালে আসেন। এরপর হাজিরা দিয়েই তিনি প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টার গিয়ে আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষা করেন। পুনরায় সাড়ে ১০টার হাসপাতালে প্রবেশ করে কয়েকজন রোগী দেখে আবারও প্রাইভেটে গিয়ে রোগী দেখেন। এভাবে গত দেড় বছর যাবত তিনি প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ বার ডিউটি রেখে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যান। বিষয়টি হাসপাতালে এখন ওপেন সিক্রেট। তিনি কুমিল্লার স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় হওয়ায় কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পান।    

চাঁদপুর থেকে আসান নাঈমা জান্নাত নামে এক সেবাগ্রহীতা বলেন, সকাল সোয়া ১১টায় আল্ট্রাসাউন্ডের টিকিটের জন্য গেলে সেখান থেকে বলা হয় ২০ জন জন হয়ে গেছে আর আল্ট্রা করানো যাবে না। তবে ইউনিক ও হেলথ ভিউ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গেলে ডা. শিব্বির আহমেদকে দিয়ে আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষা করা যাবে। পরে বাধ্য হয়ে হেলথ ভিউ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে ডা. শিব্বিরের মাধ্যমে আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষা করি।  

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. সালাউদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, ডা. শিব্বির আহমেদকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে তিনি যেন অফিস চলাকালীন সময়ে বাহিরে প্রাইভেটে প্র্যাকটিস না করেন। কারণ এটি সরকারি চাকরিবিধি ও নিয়মমালার  কাজ। তার নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. শাহজাহান বলেন, ‘কয়েকদিন আগে রেডিওলোজী বিভাগে দায়িত্ব প্রাপ্তদের অফিস টাইমে বাহিরে গিয়ে রোগী না দেখার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। এরপরও যেহেতু ডা. শিব্বির আহমেদের বিরুদ্ধে বাহিরে গিয়ে রোগী দেখার অভিযোগ উঠেছে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পটিয়ায় ছিনতাইচক্রের ‘মূল হোতা’ বাদশা গ্রেপ্তার

ছিনতাইকৃত ১১ স্মার্টফোন ও ছোরা উদ্ধার

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
পটিয়ায় ছিনতাইচক্রের ‘মূল হোতা’ বাদশা গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম নগরীতে বাসে উঠে যাত্রীদের ছোরা দেখিয়ে মোবাইল ফোন ছিনতাইকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মূল হোতা হিসেবে পটিয়ার চিহ্নিত ছিনতাইকারী সাইফুল ইসলাম প্রকাশ বাদশাকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। অভিযানে তার কাছ থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি ছোরা এবং বিভিন্ন সময়ে ছিনতাই করা ১১টি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ফোনগুলোর মধ্যে ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোনটিও রয়েছে।

পটিয়া উপজেলার কোলাগাঁও ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের এম্পুমিয়ার বাড়ির বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম প্রকাশ বাদশা (৩৬)। তিনি ওই এলাকার শামসুল আলমের ছেলে বলে জানিয়েছেন পুলিশ। 

কোতোয়ালি থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ জুলাই সকালে চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানা এলাকায় যাত্রীবেশে একটি বাসে উঠে কয়েকজন ছিনতাইকারী ছোরা দেখিয়ে এক যাত্রীর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে কোতোয়ালি থানায় মামলা করা হয়। মামলার পর কোতোয়ালি থানার একটি বিশেষ টিম তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ছিনতাই চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে অভিযান শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৯ জুলাই বিকেলে পটিয়া উপজেলার কোলাগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের মূল হোতা সাইফুল ইসলামকে আটক করা হয়। পরে তার হেফাজত থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি ছোরা এবং ১১টি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক, চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন অপরাধে ২১টি মামলা রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সংঘবদ্ধ ছিনতাইচক্রের সক্রিয় সদস্য হিসেবে চট্টগ্রাম মহানগরীর নিউ মার্কেট, স্টেশন রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসায়ী, পথচারী এবং বাসযাত্রীদের টার্গেট করে ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে, পটিয়ার সাইফুল ইসলাম প্রকাশ বাদশা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর সংঘবদ্ধ ছিনতাইচক্রের মূল হোতা হিসেবে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্য করছেন অনেকেই। 

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু জায়েদ মো. নাজমুন নুর বলেন, গ্রেপ্তার চিহ্নিত ছিনতাইকারী বাদশার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনগুলো প্রকৃত মালিকদের কাছে ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

কৃষকদের সঙ্গে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর মতবিনিময়, হিমাগার ও বিপণন কেন্দ্রের আশ্বাস

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
কৃষকদের সঙ্গে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর মতবিনিময়, হিমাগার ও বিপণন কেন্দ্রের আশ্বাস
ছবি : কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনের সংসদ সদস্য ও তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে হিমাগার (কোল্ড স্টোরেজ), আধুনিক বিপণনকেন্দ্র স্থাপন এবং গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছেন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যায় নান্দাইল উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের কালিয়াপাড়া বাজারে স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ আশ্বাস দেন।

সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, নান্দাইলে উৎপাদিত শসা একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। এর উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হলে কৃষকরা আরো লাভবান হবেন। কৃষকদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মতবিনিময় সভায় কৃষকরা জানান, উৎপাদিত শসা সংরক্ষণ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এলাকায় একটি হিমাগার ও আধুনিক বিপণন কেন্দ্র স্থাপন জরুরি। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বাজারে দ্রুত কৃষিপণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে গ্রামীণ সড়ক সংস্কারের দাবিও জানান তারা।

জবাবে প্রতিমন্ত্রী কালিয়াপাড়া বাজার এলাকায় হিমাগার ও বিপণনকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে গ্রামীণ সড়ক টেকসইভাবে সংস্কারের আশ্বাস দেন।

এর আগে দুই দিনের সফরে নিজ নির্বাচনী এলাকায় এসে তিনি বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিদর্শন করেন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় অংশ নেন।