চিড়িয়াখানার খাঁচার ভেতরে দুর্ঘটনাবশত পড়ে গিয়েছিল একটি ছোট রবিন পাখির ছানা। খাঁচায় থাকা বিশাল আকৃতির বানরটি ছানাটির কোনো ক্ষতি তো করেইনি, উল্টো পরম মমতায় তাকে আগলে রেখেছে নিজের সন্তানের মতো। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর ‘এবিকিউ বায়োপার্ক’ চিড়িয়াখানায় ঘটে যাওয়া এমন এক বিরল ও হৃদয়স্পর্শী ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনদের মন জয় করে নিয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘পিপল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে মাসের শেষের দিকে ওড়ার চেষ্টা করতে গিয়ে একটি আমেরিকান রবিন পাখির ছানা ভুল করে ‘ইভ’ নামের এক নারী সিয়ামাং বানরের খাঁচায় ঢুকে পড়ে। চিড়িয়াখানার প্রাইমেট কেয়ার টিমের সদস্য মেগান অ্যাজেনা জানান, সাধারণত ভিন্ন প্রজাতির প্রাণীদের মধ্যে এমন আচরণ দেখা যায় না। তিনি প্রথমে ভয় পেয়েছিলেন যে ইভ হয়তো পাখিটির ক্ষতি করবে। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে ইভ ছানাটিকে আলতো করে কোলে তুলে নেয়।
ইভ নিজেও এক সন্তানের মা হওয়ায় পাখিটিকে দেখেই তার ভেতরের মাতৃত্ব জেগে ওঠে। সে ছানাটির গা পরিষ্কার করে দেয় এবং আদর করে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করে। এমনকি নিজের সন্তানের মতো তাকে বুকের দুধ খাওয়ানোরও চেষ্টা করে সে। খাঁচায় থাকা অন্য দুইটি সিয়ামাং বানর যাতে পাখিটির কোনো ক্ষতি করতে না পারে, সেজন্য ইভ ছানাটিকে নিয়ে তার ঘরের একদম ভেতরে চলে যায়।
চিড়িয়াখানার কর্মীরা পাখিটিকে উদ্ধার করার জন্য সঠিক সুযোগের অপেক্ষায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন। পরদিন সকালে ইভ যখন সকালের নাস্তা খাওয়ার জন্য পাখিটিকে আলতো করে একপাশে নামিয়ে রেখে বাইরে আসে, ঠিক তখনই রক্ষীরা ছানাটিকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় দেখা যায়, রবিন ছানাটি সম্পূর্ণ সুস্থ ও অক্ষত আছে। পরে সেটিকে চিড়িয়াখানার বাইরে তার আসল পাখির মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সিয়ামাং হলো গিবন প্রজাতির সবচেয়ে বড় বানর, যারা মূলত পরিবার বা দলবদ্ধভাবে বাস করে। ইভও এই চিড়িয়াখানায় তার সঙ্গী ‘ওয়ায়ান’ ও কন্যাসন্তান ‘রাহসিয়া’র সাথে থাকে। কেয়ারটেকার মেগান অ্যাজেনা বলেন, ‘ইভ কেন এমন আচরণ করেছিল তা নির্দিষ্ট করে বলা মুশকিল। তবে আমাদের চিড়িয়াখানার সিয়ামাংদের মধ্যে ইভ সবচেয়ে শান্ত স্বভাবের। তাকে এভাবে একটি ছোট্ট পাখির ছানার যত্ন নিতে দেখাটা সত্যিই এক অসাধারণ ও চোখ জুড়ানো অভিজ্ঞতা।’




