• ই-পেপার

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ এড়াতে টসে জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

ফিফার পক্ষপাতিত্বের ইস্যুতে অবশেষে মুখ খুললেন স্কালোনি

ক্রীড়া ডেস্ক
ফিফার পক্ষপাতিত্বের ইস্যুতে অবশেষে মুখ খুললেন স্কালোনি
ছবি : রয়টার্স

চলতি বিশ্বকাপে ফুটবল অঙ্গনে এখন জোর গুঞ্জন, আর্জেন্টিনাকে নাকি বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে ফিফা! বিশ্বমঞ্চে রেফারিং নিয়ে তৈরি হওয়া এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে এবারই প্রথম বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন আলবিসেলেস্তেদের কোচ লিওনেল স্কালোনি। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে মেগা কোয়ার্টার ফাইনালের আগে সংবাদ সম্মেলনে এসে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে তিনি জানান, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার কারণেই আসলে অনেকেই আর্জেন্টিনার হার দেখতে মুখিয়ে আছেন। আর সে কারণেই ছড়ানো হচ্ছে ভিত্তিহীন সব গালগল্প।

শেষ ষোলোর রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-২ গোলের অবিশ্বাস্য জয়ের পর থেকেই মূলত রেফারিং এবং ভিএআর সিদ্ধান্ত নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। মিসরের কোচিং স্টাফ ও ফুটবল ফেডারেশন মাঠের কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক নালিশও ঠুকেছে। এমনকি অনেকেই দাবি তুলছেন, মহাতারকা লিওনেল মেসিকে টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখতেই আর্জেন্টিনাকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো চাক্ষুষ প্রমাণ মেলেনি।

এসব সমালোচনার তীরের জবাবে স্কালোনি বলেন, ‘আজ থেকে ৪০ বছর আগে, ১৯৮৬ সালেও লোকে বলেছিল আমাদের নাকি বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। তাই এ ধরণের গুঞ্জন আমাদের জন্য নতুন কিছু নয়। আমার যতদূর মনে পড়ে, আর্জেন্টিনা সবসময়ই বিশ্বমঞ্চে আলোড়ন সৃষ্টি করা দলগুলোর একটি। প্রতিপক্ষ বা একদল মানুষ কখনোই চাইবে না অন্য কোনো দল জিতুক, এটাই তো স্বাভাবিক।’

ভিএআর সিদ্ধান্তে মিসরের একটি গোল বাতিল হওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে আর্জেন্টাইন বস বলেন, ‘বিশ্বকাপের আসর শুরুর আগেই রেফারিরা সব নিয়মের ব্যাখ্যা স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। সেই আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই মাঠে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়গুলো তিলকে তাল করে দেখা হয়, কিন্তু এই আধুনিক ফুটবলে পক্ষপাতিত্বের সুযোগ এখন একেবারেই কম।’

সংবাদ সম্মেলনে লিওনেল মেসির সাম্প্রতিক সময়ের পেনাল্টি মিসের খরা নিয়েও প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় স্কালোনিকে। দলের প্রাণভোমরার প্রতি অগাধ বিশ্বাস রেখে কোচ বলেন, ‘লিও যদি পেনাল্টি নিতে চায়, তবে সে ই নেবে। আমাদের দলে পেনাল্টি নেওয়ার মতো অন্য খেলোয়াড়ও আছে, তবে মেসি নিজে নিতে চাইলে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার অধিকার কেবল তারই।’

চলতি বিশ্বকাপে মেসি তার নেওয়া দুটি পেনাল্টিই মিস করেছেন। এমনকি ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে আর্জেন্টিনার জার্সিতে নেওয়া শেষ সাতটি পেনাল্টির মধ্যে মাত্র চারটিতে জালের দেখা পেয়েছেন তিনি। তবুও স্কালোনির মতে, মেসির ক্যারিয়ারের বিশাল অর্জন ও সাম্প্রতিক দুর্দান্ত পারফরম্যান্স তাকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে।

মাঠে পজিশন পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও মেসিকে কোনো শৃঙ্খলে বাঁধেননি স্কালোনি। মিসরের বিপক্ষে সেই ৩-২ গোলের থ্রিলারে ম্যাচের শেষদিকে ডানপ্রান্তে সরে গিয়ে আক্রমণ তৈরি করেছিলেন মেসি, যা দলের জন্য দারুণ কার্যকর প্রমাণিত হয়েছিল।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে স্কালোনি বলেন, ‘এখন সে মাঠের বেশিরভাগ সময় মাঝমাঠে কাটায়, তবে পুরো দল আসলে খেলে তার গতিবিধি লক্ষ করে। খেলার স্বাভাবিক ছন্দেই এমনটা হয়েছে এবং দলও বুঝতে পেরেছে যে সে ওই দিক থেকে কতটা বিপজ্জনক আক্রমণ তৈরি করতে সক্ষম।’

উল্লেখ্য, মিসরের বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে একটি দুর্দান্ত অ্যাসিস্ট করার পাশাপাশি দলের সমতাসূচক গোলটিও এসেছিল খুদে জাদুকরের পা থেকে। চলতি টুর্নামেন্টে ৪১০ মিনিট মাঠে কাটিয়ে ইতিমধ্যেই ১৫টি সুবর্ণ সুযোগ তৈরির পাশাপাশি ৮টি গোল ও ১টি অ্যাসিস্ট নিজের ঝুলিতে পুরেছেন মেসি। এমনকি শেষ দুই বিশ্বকাপ মিলিয়ে তার গোল সংখ্যা এখন ১৫ এবং অ্যাসিস্ট ৪টি।

৩৯ বছর বয়সেও মেসির ফিটনেস নিয়ে বিন্দুমাত্র শঙ্কা দেখছেন না স্কালোনি। আলবিসেলেস্তেদের কোচ বলেন, ‘লিও আগের মতোই মাঠে দৌড়ায়। খুব বেশি বা কম নয়। পার্থক্য হলো, এখন ওর প্রতিটি পদক্ষেপ ও মুভমেন্ট আগের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর ও ধারালো।’

মেসির পাশাপাশি দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়েও বেশ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্কালোনি। কোয়ার্টার ফাইনালের আগে শিষ্যদের আত্মবিশ্বাসের পারদ বাড়িয়ে তিনি যোগ করেন, ‘কেপ ভার্দের বিপক্ষে আমরা জয়ের যোগ্য দল হিসেবেই জিতেছি, যদিও ম্যাচটি ১২০ মিনিট পর্যন্ত গড়িয়েছিল। আর মিসরের বিপক্ষে আমরা আরও গোছানো ফুটবল খেলেছি। আমরা অনেক সুযোগ তৈরি করতে পেরেছি এবং আমাদের ভুলও ছিল যৎসামান্য।’ 
 

আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণে নিয়ে হ্যাকাররা লিখল, ‘চুরি করে জিতেছে’

ক্রীড়া ডেস্ক
আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণে নিয়ে হ্যাকাররা লিখল, ‘চুরি করে জিতেছে’
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-২ গোলের সেই অবিশ্বাস্য ও রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক যেন কিছুতেই থামছে না। এবার সেই মাঠের বিতর্কের রেশ এসে লাগল সাইবার দুনিয়াতেও। 

গত মঙ্গলবার আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচের রেফারিংয়ের তীব্র সমালোচনা করে আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) অফিশিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে সাংবাদিকদের কাছে কিছু মেইল পাঠানো হয়। তবে আর্জেন্টাইন ফুটবল কর্তৃপক্ষ দ্রুতই পুরো বিষয়টি পরিষ্কার করে জানিয়েছে, তারা এক ভয়াবহ সাইবার হামলার শিকার হয়েছে এবং বিতর্কিত ওই মেইলগুলো তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য নয়।

0

মিসরের বিপক্ষে ম্যাচের একপর্যায়ে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার চরম শঙ্কায় পড়েছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু শেষ মুহূর্তের অবিশ্বাস্য ও দুর্দান্ত এক প্রত্যাবর্তনে ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেরা। 

এদিকে এমন নাটকীয় হারের পর ক্ষুব্ধ মিসরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছে ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারি ও অফিশিয়ালদের বিশ্বকাপ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কারের আনুষ্ঠানিক দাবি জানায়। তাদের স্পষ্ট অভিযোগ, ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে এবং তার দল মাঠে আর্জেন্টিনার পক্ষে নগ্ন পক্ষপাতিত্ব করেছেন।

এরই মধ্যে আগুনের ঘি ঢেলে নতুন বিতর্ক উসকে দেয় আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ‘লা কায়ে’। তারা এক প্রতিবেদনে ফাঁস করে, ম্যাচের পর এএফএর অফিশিয়াল মেইল অ্যাকাউন্ট থেকে সাংবাদিকদের কাছে বেশ কিছু মেইল পাঠানো হয়। যেখানে অবিশ্বাস্যভাবে লেখা ছিল—‘চুরি করে জিতেছে’ এবং এই ফলাফল আসলে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত রেফারিংয়ের ফসল’! সংবাদমাধ্যমটি আরো জানায়, এএফএর অভ্যন্তরীণ সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে মিসরীয় বংশোদ্ভূত একদল হ্যাকার এই সাইবার হামলার পেছনে কলকাঠি নেড়েছে। বিতর্কিত ওই মেইলগুলোতে মিসরের ফুটবলারদের পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসাও করা হয়েছিল।

পরিস্থিতি বেগতিক ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে দ্রুত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামে আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। বিবৃতিতে এএফএ জানায়, ‘আমরা সবাইকে জানাতে চাই যে, আমাদের একটি প্রাতিষ্ঠানিক অ্যাকাউন্ট থেকে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ই-মেইল পাঠানোর ঘটনা আমরা শনাক্ত করেছি। এই মেইলগুলো আমাদের দলের কেউ তৈরি করেনি এবং এর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদনও ছিল না।’

একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে এএফএ আরো বলেছে, ‘সম্প্রতি আমাদের অ্যাকাউন্ট থেকে পাঠানো যেকোনো অস্বাভাবিক বার্তা, বিশেষ করে যাতে কোনো লিংক, ফাইল কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া হয়েছে—তা এড়িয়ে চলার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। আমাদের অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করা হয়েছে বলে আমরা শঙ্কা প্রকাশ করছি। আমরা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছি এবং প্রয়োজনীয় সাইবার নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করছি।’

আটলান্টার সেই হাইভোল্টেজ ম্যাচে ইয়াসের ইব্রাহিম ও মোস্তফা জিকোর জোড়া গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে রূপকথা লেখার দ্বারপ্রান্তে ছিল মিসর। কিন্তু ম্যাচের মাত্র ১১ মিনিট বাকি থাকতে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো গোল করে আর্জেন্টিনার হয়ে ব্যবধান কমান। এর ঠিক পাঁচ মিনিট পর জাদুকরী এক গোলে দলকে সমতায় ফেরান মহাতারকা লিওনেল মেসি। আর ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ জাল কাঁপিয়ে আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক ও রোমাঞ্চকর জয় নিশ্চিত করেন। এই নাটকীয় জয়ের ফলে আগামীকাল বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।
 

রোনালদোকে নিয়ে নিজের পরিকল্পনা জানালেন পর্তুগালের নতুন কোচ

ক্রীড়া ডেস্ক
রোনালদোকে নিয়ে নিজের পরিকল্পনা জানালেন পর্তুগালের নতুন কোচ
ছবি : রয়টার্স

রবার্তো মার্তিনেজ অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে নতুন কোচের হাতে দায়িত্ব তুলে দিল পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন। ঘরের মাঠে ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে পর্তুগাল জাতীয় ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন হোর্হে হেসুস। ৭১ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ পর্তুগিজ মাস্টারের সঙ্গে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত চার বছরের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করেছে দেশটির ফুটবল বোর্ড। 

এবারের বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নেয় পর্তুগাল। দলের এমন ভরাডুবির পর ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে দায়িত্বে থাকা কোচ রবার্তো মার্তিনেজ পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তার বিদায়ের পর হেসুসের কাঁধেই দেওয়া হলো ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোদের দায়িত্ব।

হেসুস সর্বশেষ মৌসুমে রোনালদোর ক্লাব আল নাসরের ডাগআউট সামলেছেন। তার অধীনেই সৌদি প্রো লিগে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে আল নাসর, যা মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে সিআরসেভেনের প্রথম লিগ শিরোপা। 

বিশ্বকাপ থেকে পর্তুগালের বিদায়ের পর রোনালদো আগেই স্পষ্ট করেছিলেন, বিশ্বমঞ্চে এটিই ছিল তার শেষ আসর। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে পুরোপুরি বুট জোড়া তুলে রাখার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। অন্যদিকে, আল নাসরের সঙ্গে ২০২৭ সাল পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে তার।

গত শুক্রবার পর্তুগালের কোচ হিসেবে হেসুসের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে ঘুরেফিরেই আসে রোনালদো প্রসঙ্গ। জাতীয় দলে রোনালদোর ভবিষ্যৎ নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে জেসুস রোনালদোকে পর্তুগাল ফুটবলের ‘প্রতীক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘সে যত দিন খেলবে এবং জাতীয় দলে খেলার মতো অবস্থায় থাকবে, তত দিন আমি তাকে দলে নেব। তবে অবশ্যই কিছু সীমার মধ্যে এবং জাতীয় দলের জন্য যেটা আমি সবচেয়ে ভালো মনে করব, সেটাই করব।’

রোনালদোর সঙ্গে তার বোঝাপড়া যে দারুণ, তা মনে করিয়ে দিয়ে হেসুস আরো বলেন, ‘এখনো রোনালদোর সঙ্গে আমার (নতুন দায়িত্ব নিয়ে) কথা হয়নি। সে কখনোই জাতীয় দলের জন্য সমস্যা হবে না। জাতীয় দলের জন্যও নয়, আমার জন্যও নয়। গত এক বছর তার সঙ্গে কাজ করে আমি দারুণ আনন্দ পেয়েছি। তার সঙ্গে কাজ করা খুবই সহজ।’

আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর উয়েফা নেশনস লিগের গ্রুপ ‘ডি’-র উদ্বোধনী ম্যাচে ওয়েলসের মুখোমুখি হবে পর্তুগাল। আর এই ম্যাচ দিয়েই হেসুস অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। চার বছর পর স্পেন ও মরক্কোর সঙ্গে যৌথভাবে ২০৩০ বিশ্বকাপ আয়োজন করবে পর্তুগাল। ঘরের মাঠের সেই মেগা ইভেন্টকে রাঙানোই এখন হেসুসের মূল লক্ষ্য।

সৌদি আরবে আসার আগে পর্তুগাল ও ব্রাজিলেও কোচিং করানোর বিশাল অভিজ্ঞতা রয়েছে হেসুসের। তার অধীনে ২০১০, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে পর্তুগিজ লিগের শিরোপা জিতেছিল বেনফিকা। এ ছাড়া ২০১৯ সালে ফ্লামেঙ্গোর দায়িত্বে থাকার সময় এক বছরেই জিতেছিলেন পাঁচটি শিরোপা, যার মধ্যে ছিল দক্ষিণ আমেরিকার ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর কোপা লিবার্তাদোরেসের ট্রফিও। এবার চেনা আঙিনায় পর্তুগালকে কতদূর নিয়ে যেতে পারেন এই মাস্টারমাইন্ড, সেটাই এখন দেখার বিষয়। 
 

ব্রাজিলের বিদায়ে ক্ষমা চেয়ে যা বললেন ভিনিসিয়ুস

ক্রীড়া ডেস্ক
ব্রাজিলের বিদায়ে ক্ষমা চেয়ে যা বললেন ভিনিসিয়ুস
ছবি : রয়টার্স

মিশন ছিল ‘হেক্সা’ পূর্ণ করে বিশ্বসেরার মুকুট মাথায় পরা। সেই হেক্সা জয়ের স্বপ্ন আর বুকভরা আশা নিয়ে এবারও বিশ্বমঞ্চে পা রেখেছিল লাতিন পরাশক্তি ব্রাজিল। কিন্তু সেলেসাওদের সেই সোনালি স্বপ্ন এবারও চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে টুর্নামেন্টের শেষ ষোলোর মঞ্চেই। নরওয়ের গোলমেশিন আর্লিং হালান্ডের বিধ্বংসী জোড়া গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আর এই নির্মম হারে ব্রাজিলের বিশ্বজয়ের অপেক্ষা এখন দীর্ঘায়িত হয়ে ঠেকেছে দীর্ঘ ২৮ বছরে।

দলের এমন হতাশাজনক ও আকস্মিক বিদায়ে কোটি সমর্থকের হৃদয় ভেঙে চুরমার। সমর্থকদের সেই বুকভাঙা কষ্ট ছুঁয়ে গেছে দলের অন্যতম প্রাণভোমরা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকেও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তায় সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা ফরোয়ার্ড।

আসলে এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের শুরুটাই হয়েছিল চোটের এক অভিশাপ নিয়ে। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই চোটের থাবায় স্কোয়াড থেকে ছিটকে যান আক্রমণভাগের দুই মূল স্তম্ভ—রদ্রিগো ও এস্তেভাও। এরপর টুর্নামেন্ট চলাকালীন চোটের দীর্ঘ তালিকায় একে একে যোগ হন রাফিনিয়া ও লুকাস পাকেতা।

এত সব তারকা সতীর্থকে হারিয়ে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের পুরো জোয়াল একাই কাঁধে তুলে নিতে হয়েছিল ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে। সেই গুরুদায়িত্ব তিনি বেশ বীরত্বের সঙ্গেই সামলেছেন। দলের হয়ে ৫ ম্যাচে করেছেন ৪টি নজরকাড়া গোল ও ১টি অ্যাসিস্ট। কিন্তু শেষ ষোলোর বাঁচা-মরার লড়াইয়ে নরওয়ের বিপক্ষে একা আর দলকে টেনে তুলতে পারেননি। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের সেই তীব্র ধাক্কা ও মানসিক যন্ত্রণা কাটিয়ে উঠতে চার দিন সময় নিয়েছেন ভিনিসিয়ুস।

হারের চার দিন পর নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এক দীর্ঘ আবেগঘন পোস্টে ভিনিসিয়ুস লিখেছেন, ‘বিশ্বকাপের আরেকটি হতাশাজনক অধ্যায় রচনার পর এখন কী লিখব, তা ভেবেই কূল পাচ্ছি না। সবাইকে আমাদের সমর্থন করতে এবং আমাদের স্বপ্নকে আগলে রাখতে দেখেছি। তাই এই মুহূর্তে চুপ করে থাকাটা অন্যায় হবে। তবে বিষয়টি ভাবার জন্য আমার কয়েকটা দিন সময় দরকার ছিল।’

সমর্থকদের উদ্দেশ্যে সেলেসাও তারকা আরো লিখেছেন, ‘জাতীয় দলের ঐতিহ্যবাহী এই জার্সি গায়ে জড়ানো আমার জীবনের সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয়। বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে এভাবে ছিটকে যাওয়ার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমি জানি আমি এই আসরের জন্য কতটা নিঁখুত প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, কতটা মনোযোগী ছিলাম। আপনাদের এবং আমার নিজের পরিবারের জন্য বিশ্বকাপ জিততে চেয়েছিলাম। আমি প্রচণ্ড হতাশ। টুর্নামেন্টের আরও অনেক দূর যাওয়ার মতো শক্তিশালী দল আমাদের ছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমরা তা পারিনি। আমি আপনাদের সবার কাছে ক্ষমা চাইছি। আবারও ব্রাজিল দলকে বিশ্বসেরার সিংহাসনে বসানোর জন্য আমি লড়াই চালিয়ে যাব।’